ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬০০ দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬০০ দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬০০ দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রতিবছরের মতো এবারও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের ছয় শতাধিক দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ১ হাজার ৬’শ কেজি কোরবানির মাংস বিতরণ করেছে আশ্রয় বিদ্যাপীঠ ও আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এক্স স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন নামে দুটি সামাজিক সংগঠন। ত্যাগের মহিমায় ঈদ উৎসব সিজন ৫ এর অধীনে নিজেদের অর্থায়নে ও বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে এই মাংস বিতরণ করে তারা। মাংস পেয়ে আনন্দে আত্মহারা অসহায় ও কোরবানি না দেওয়া লোকজন। আর তাদের কাছে এই মাংস পৌঁছে দিতে পেরে সন্তুষ্ট আয়োজকেরা।

বৃধবার (২১ জুলাই) বিকালে উপজেলার হাজী আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এই মাংস বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, দুদকের মহাপরিচালক ও আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এক্স স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহমুদুল হোসাইন খান, আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরবিন্দ বিশ্বাস, আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, আশ্রয় বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. জালাল হোসেন সাদ্দাম ও আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এক্স স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।

মাংস পেয়ে ৫০ বছর বয়সী নারী তাসলিমা বেগম জানান, এক সপ্তাহ আগে বাসায় গিয়ে টোকেন দিয়ে আসেন আয়োজকেরা। এরই ধারাবাহিকতায় ঈদের দিন আমাদের হাতে একটি মাংসের ব্যাগ তুলে দেন। আমরা অসহায় মানুষ মাংস কিনে আমরা খেতে পারি না। এমন আয়োজনের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।

আশ্রয় বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. জালাল হোসেন সাদ্দাম জানান, ২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছর কোরবানির ঈদের দিন আমরা তিন শতাধিক পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করে আসছি। দুই বছর যাবত আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এক্স স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা আমাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করায় এর পরিধি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই বছর যাবত আমরা ছয় শতাধিক পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করছি। অসহায় ও কোরবানি দিতে না পারা লোকজনের মুখে এক টুকরো মাংস তুলে দিতে আমাদের এই উদ্যোগ। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন বড় ভাইয়ের সহায়তায় একটি গরু কেনা হয় এবং পাশাপাশি ঈদের দিন আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কলোনি থেকে এই মাংস সংগ্রহ করে ছয় শতাধিক প্যাকেট করা হয়।

আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এক্স স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আক্তারুজ্জামান ইকবাল জানান, যারা সারাবছর মাংস খেতে পারে না এবং কোরবানি করতে পারে না তাদের জন্য আমাদের এই উদ্যোগ। আমরা প্রতিবছরই কোরবানির ঈদের দিন এই আয়োজন করে যাব ইনশাআল্লাহ।

দুদকের মহাপরিচালক ও আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এক্স স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, করোনার এই মহামারিতে অনেকেই আজ কর্মহীন। এমন খারাপ সময়ে দুস্থ ও অসহায়দের কথা বিবেচনা করে নিজেদের টাকায় গরু কেনা ও বিভিন্ন বাসা থেকে মাংস সংগ্রহ করে ছয় শতাধিক পরিবারের কাছে তুলে দেওয়ার এই আয়োজন খুবই প্রশংসনীয়।