সংক্রমণের তোয়াক্কা না করে ঈদে ঘোরাঘুরি



নিউজ ডেস্ক, বার্তা ২৪
ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির তোয়াক্কা না করেই স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব ভেঙে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আনন্দে মেতে ওঠেছে মানুষ। বিশেষ করে ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে রাজধানী ঢাকার ধানমণ্ডি-হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন পার্ক, মানিকগঞ্জের বেউথা ব্রিজ এলাকা, চাঁদপুর বড় স্টেশন মোলহেডের ত্রি-নদীর মোহনা, টঙ্গীর বিনোদন কেন্দ্রসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছিলো দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। কারো মাঝেই ছিল না স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এমন ঘোরাঘুরিতে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ এতটাই বাড়তে পারে যে, হাসপাতালে রোগীদের স্থান সংকুলান হবে না। রীতিমতো বিনাচিকিৎসায় মানুষের মৃত্যু হতে পারে। তারা বলছেন, এতে সংক্রমণের গতিরোধ করা বহুগুণ কঠিন হয়ে পড়বে।

কোভিড-১৯ উপেক্ষা করে ঘুরতে আসার কারণ জানতে চাইলে নানান অজুহাত দিয়েছেন দর্শনার্থীরা। অজুহাতের বড় একটি জায়গা দখল করে ছিল আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া লকডাউন। দর্শনার্থীদের দাবি, কঠোর লকডাউনের মধ্যে বাসা থেকে তারা বের হতে পারবেন না। তাই লকডাউনের আগে একটু ঘোরাফেরা করতে চাচ্ছেন তারা।

ঢাকা: ঈদের দ্বিতীয় দিন বিকালে ধানমন্ডি ও হাতিরঝিল এলাকায় ভিড় করেছে নগরবাসী। ধানমন্ডি লেক এলাকার রবীন্দ্র সরোবর, ধানমন্ডি ৩২, ধানমণ্ডি ৮ নম্বর এলাকায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। এসব জায়গায় নারী, পুরুষ ও বৃদ্ধদের পাশাপাশি দেখা গেছে শিশুদেরও। হাতিরঝিলে ঈদের দিন বিকালে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছিল। একই চিত্র ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ছিলো। ঢাকাবাসীর ঘোরাঘুরির চিত্র দেখা গেছে বাবুবাজার ব্রিজ, মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউন, মিরপুর বেড়িবাঁধের দিয়াবাড়ি, কেরানীগঞ্জের বসিলা নতুন রাস্তা, কলাতিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায়।

মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের বেউথা ব্রিজ এলাকা ও নদীতে ঈদের দিন বিকেলে ও পরের দিন দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছিল। সকল বয়সের মানুষের সমান বিচরণ ছিলো জায়গাটিতে। ঈদের পরের দিন মানিকগঞ্জের নদীগুলো ছিল শত শত ইঞ্জিনচালিত নৌকার দখলে। নৌকাগুলো ছিল দলবাঁধা, ঝাঁকবাঁধা তরুণে পূর্ণ। ঈদের দ্বিতীয় দিনে শহর থেকে গ্রামে সর্বত্রই লোকজনের দলবেঁধে ঘোরাঘুরি ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুরের পর ভিড় জমে বিভিন্ন সেতু, নদীর তীরসহ বিভিন্ন এলাকায়।

গাজীপুর: ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে টঙ্গীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোররা দলবেঁধে ছুটে গিয়েছেন বিনোদন কেন্দ্রে। টঙ্গীর বনমালা-হায়দারাবাদ রোড, সাতাইশ গুটিয়া, নদী বন্দর পার্ক, মারুকা ঘাট কেন্দ্রগুলো ছিল জমজমাট। তবে বেশিরভাগ দর্শনার্থীকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি।

সিলেট: সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় পর্যটকেরা। ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর থেকেই সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পরিবার–পরিজন ও বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছেন অনেকেই। ঈদের জন্য বিধিনিষেধ শিথিল থাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটকদের বাধা দেওয়া হচ্ছে না। তবে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতন থাকতে ভিড় এড়িয়ে চলাচল এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে সচেতন করা হচ্ছে।

চাঁদপুর: কোনোপ্রকার স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে চাঁদপুরে তিন নদীর মোহনা বড়স্টেশন মোলহেডে দর্শনার্থীরা ভিড় জমায়। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মোলহেডে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষেধাজ্ঞা করে প্রশাসন। আর এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ মোহনায় ভিড় জমায়।

চলনবিল: করোনা মহামারিকে উপেক্ষা বিনোদনের জন্য বিলশা পয়েন্টে দর্শনার্থীরা ভিড় করছে। প্রশাসনের কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার মানুষ বিলশা পয়েন্টে জড়ো হয়েছে। যেন সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারকেও হার মানায়। এ যেন মিনি কক্সবাজার।

রংপুর: করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। তবে ঈদ আনন্দে ঘুরে বেড়ানো বন্ধ হয়নি। বরং করোনাভীতি ভুলে শিশু-কিশোর-তরুণরা ভিড় করছে নদীর তীরে। ঈদের দিনের মতো রংপুরে তিস্তা-ঘাঘট, যমুনেশ্বরী-করতোয়া নদী কেন্দ্রিক স্পটগুলোতে দ্বিতীয় দিনেও বিনোদনপ্রেমীর ঢল নেমেছে।

সমুদ্র সৈকত: প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও পবিত্র ঈদুল আজহায় দর্শনার্থীদের কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সৈকতে প্রবেশ ঠেকানো যায়নি। বিধিনিষেধ ভঙ্গ করেই সমুদ্র সৈকতসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। নজরদারি এড়িয়ে সমুদ্রেও নামছেন অনেকে।

কোভিড-১৯ বিপর্যয়ের কারণে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে দেশের বিনোদন কেন্দ্রগুল বন্ধ রাখা হয়েছে। এরপরও ঘর ছেড়ে বের হয়েছে মানুষ। জায়গা করে নিয়েছেন দেশের বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানগুলোতে। কিন্তু এসব উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা দেখা গেছে হাতে গোনা কিছু মানুষের মধ্যে। বেশিরভাগ তরুণ-তরুণীর মুখেই মাস্কের দেখা নেই। নেই সামাজিক দূরত্ব।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও কভিড-১৯ মোকাবেলায় সরকার গঠিত কারিগরি পরামর্শক কমিটির সিনিয়র সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম আক্ষেপ করে গণমাধ্যমকে বলেছেন, মানুষ যেন কেমন হয়ে গেছে! সবাই দেখছে হাসপাতালের কী অবস্থা! দিন-রাত ছুটছে করোনায় মৃতদের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স। অথচ মানুষ এসবে তোয়াক্কা করছে না ...। এটা রীতিমতো মানবিক-নৈতিক সংকট।