অপারেশনের পর রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ছেড়ে পালালেন চিকিৎসক-নার্স



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, বগুড়া
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পায়ুপথে ফোঁড়া অপারেশন করাতে গিয়ে মশিউর রহমান মিলু (৫৫) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।

এঘটনায় রোগীর স্বজনদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিলে ক্লিনিকের ডাক্তার ও নার্স পালিয়ে যায়।

সোমবার (২৩ আগস্ট) রাত ১০ টার দিকে বগুড়া শহরের কলোনী এলাকায় রেইনবো কমিউনিটি হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

মশিউর রহমান মিলু বগুড়া শহরের সুলতানগঞ্জ পাড়ার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে। তিনি শহরের বড়গোলায় ঢেউটিনের ব্যবসা করেন।

barta24

সোমবার দুপুরের পর মিলুকে রেইনবো কমিউনিটি ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. জাফর সাদিক রোগীর পায়ু পথে ফোড়া অপারেশন করেন।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ডাক্তার অপারেশন করে চলে যাওযার পর রাত ৯ টার দিকে রোগীর অবস্থা অবনতি হতে থাকে। এসময় ক্লিনিকে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। এনিয়ে ক্লিনিকের কর্মচারীদের সাথে তর্ক বিতর্ক চলতে থাকে।

এক পর্যায় রোগীর অবস্থা আরো অবনতি হলে রোগীর লোকজন হৈচৈ শুরু করলে স্থানীয় লোকজন ক্লিনিকে ভীড় জমায়। এসময় ক্লিনিকের চিকিৎসক নার্স সেখান থেকে পালিয়ে যান। রাত ১০ টার দিকে রুপক নামে ক্লিনিকের একজন কর্মচারী অ্যাম্বুলেন্স ডেকে স্বজনদের সহযোগিতায় তড়িঘড়ি করে রোগীকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

সেখানে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে মৃত ঘোষনা করেন। এদিকে খবর পেয়ে বনানী ফাঁড়ি থেকে পুলিশ পৌঁছে বহিরাগতদের ক্লিনিক থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। রোগীর ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য ক্লিনিক কর্মচারী রুপকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন রোগীর ফাইল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

রোগী মারা যাওয়ার কারন জানার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাফর সাদিকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা হয়। কিন্তু তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখায় তার সাথে কথা বলা যায় নি। কর্মচারীরা জানান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাউছুল আজম সন্ধ্যার পর থেকে ক্লিনিকে থাকলে হৈচৈ শুরু হলে তিনি চলে যান। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

শহরের বনানী পুুলিশ ফাাঁড়ির সহকারি উপপরিদর্শক( এএসআই) আব্দুর রাজ্জাক বলেন আমরা ক্লিনিকে পৌছে ডাক্তার, নার্স কাউকে পাইনি। রোগীর লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে তড়িঘড়ি করে রোগীকে মেডিকেলেে পাঠানো হয়।