মির্জা-মঞ্জু দ্বন্ধ, ফের উত্তপ্ত কোম্পানীগঞ্জ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, নোয়াখালী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আবারও উত্তপ্ত নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতি। উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা ও তার ভাগনে প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতা উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশীদ মঞ্জুর পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডেকেছেন। তবে তাদের মধ্যে মাদ্রাসা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ডাকা দলের দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ পন্ড করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে দুটি গ্রুপ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের রংমালা দারুস সুন্নাহ মডেল মাদ্রাসার কমিটিকে কেন্দ্র করে উপজেলার রংমালা বাজার এলাকায় একই স্থানে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকলে উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ পন্ড করে দেয়।

একই সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা চলছে। উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য রংমালা বাজার এলাকায় ভোর ৬টা থেকে অতিরিক্ত র‌্যাব- পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ফেসবুক লাইভে এসে মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা বলেন, আমাদের দলের সভাপতিকে অন্যায়ভাবে রংমালা মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি পদ থেকে বাদ দেওয়ায় রংমালা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আবদুল্লাহ আল মামুনকে কোম্পানীগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে রংমালা মাদ্রাসার বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বাদ যায়। একপর্যায়ে রংমালার মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করা হয় আমাকে। আমি প্রথমে এ পদে যেতে অনীহা প্রকাশ করি। অনেকের অনুরোধ রক্ষা করতে আমি এ পদে আসলে, এতেই কাদের মির্জার গাত্রদাহ শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৪৪ ধারা জারির ফলে রোববার সকাল থেকে মুছাপুর ইউনিয়নের রংমালা বাজার এলাকায় অনেকটা অঘোষিত হরতাল চলছে।  রংমালা বাজারে সাধারণ লোকজনের উপস্থিতি অনেক কম। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে র‌্যাব-পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সকাল থেকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা (ভূমি) কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছামিউল ইসলামের উপস্থিতিতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ রংমালা বাজার এলাকায় টহল দিচ্ছে। সেখানকার অধিকাংশ দোকান বন্ধ রয়েছে। সাধারণ লোকজনের উপস্থিতি অনেক কম। এ ছাড়াও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

তবে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ পন্ড হলেও সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই কাদের মির্জা তার অনুসারীদের উদ্দেশ্যে বসুরহাট পৌরসভা হলরুমে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ও কোম্পানীগঞ্জের চলমান রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.জিয়াউল হক মীর বলেন, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। রোববার সকাল থেকে রংমালা বাজার এলাকার এলাকার চারদিকে ৫ বর্গকিলোমিটারে পুলিশের কঠোর টহল রয়েছে। এ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ আদেশ চলাকালে কোন ব্যক্তি, সংগঠন, রাজনৈতিক দল, গণজমায়েত, সভা, সমাবেশ, মিছিল, র‌্যালি, শোভাযাত্রা, যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠান এবং রাজনৈতিক প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রংমালা বাজার এলাকায় চারজনের বেশি মানুষ জমায়েত হতে পারবে না।

শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার হলরুম থেকে রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলার রংমালা বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা। অপরদিকে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেতুমন্ত্রীর ভাগনে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু ফেসবুক লাইভে এসে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন পক্ষে একই বাজারের রংমালা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেন। এতে আইন শৃঙ্খলার অবনতি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং প্রাণহানি আশঙ্কা দেখা দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.জিয়াউল হক মীর রোববার ভোর ৬টা থেকে  সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের রংমালা বাজার এলাকার চারদিকে ৫ বর্গকিলোমিটারে ১৪৪ ধারা জারি ঘোষণা করেন।

জানা যায়, কাদের মির্জা অনুসারী উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুলকে রংমালা দারুস সুন্নাহ সিনিয়র মডেল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির পদ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে রংমালা বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা। অপরদিকে, রাত ৯টার দিকে সেতুমন্ত্রীর ভাগনে ও উপজেলা আ.লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু তাদের অনুসারী ওলামালীগ নেতা ও রংমালা দারুস সুন্নাহ সিনিয়ির মডেল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আবদুল্লাহ আল মামুনকে অপমানের প্রতিবাদে একই স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে গত আট মাস ধরে কোম্পানীগঞ্জে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে । এ দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রায় ২ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে এবং একজন স্থানীয় সাংবাদিকসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে।