বরিশালে মোট ২৩ আ'লীগ নেতাকর্মীর জামিন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশের পৃথক দুইটি দায়ের করা মামলায় আরো দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে শর্তসাপেক্ষ জামিন দিয়েছেন আদালত। এ নিয়ে মোট ২৩ জন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী জামিন পেয়েছেন।

রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মাসুদ বিল্লাহ।

জামিনপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতারা হলেন- নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনির এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভির আহসান।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম মাসুদ বাবলুর জিম্মায় ১০ হাজার টাকার বন্ডে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন না দেওয়া পর্যন্ত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।

এর আগে আসামিরা পুলিশ হেফাজতে দীর্ঘদিন ঢাকার চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

জামিনের বিষয়টি বার্তা২৪.কমকে নিশ্চিত করে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস জানান, রবিবার দুপুরের দুইজনের জামিনের মধ্য দিয়ে দুটি মামলায় মোট ২৩ জনের জামিন হয়েছে৷ অর্থ্যাৎ ইউএনও ও পুলিশের মামলায় কোনো আসামির জামিন বাকি রইলো না।

তিনি আরো বলেন, মামলা দুটি তদন্তাধীন রয়েছেন । একটি পর্যায়ে প্রতিবেদন দাখিল শেষে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর সমাপ্তি হবে।

এছাড়া সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যে দুটি মামলা করা হয়েছে তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের কাছে তদন্তাধীন আছে।

জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানের সরকারি বাসভবনে হামলা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইউএনও ও পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় প্রথমে ২৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের ৯ নেতাকর্মী, এরপর গত ২ সেপ্টেম্বর ১২ নেতাকর্মী এবং সর্বশেষ রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) দুই জনসহ মোট ২৩ জনের জামিন দেন আদালত।

তাদের মধ্যে ২১ জনকে ঘটনার দিন থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থান হতে গ্রেফতার করেছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ আগস্ট রাতে বরিশাল সদর উপজেলা কম্পাউন্ডে ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনে হামলার অভিযোগে সিটি করপোরেশন ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর গুলিবর্ষণ করেন ইউএনওর নিরাপত্তারক্ষী আনসার সদস্যরা।

এ ঘটনার পর ইউএনওর সরকারি বাসভবনে হামলা এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে পুলিশ ও ইউএনও বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেন। দুটি মামলায় সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে প্রধান করে মোট ৬০২ জনকে আসামি করা হয়।

২২ আগস্ট ইউএনও এবং কোতোয়ালি থানার ওসিসহ ১০৯ জনের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। আদালত পিবিআইকে ওই মামলার তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।