দুই মাসে দুই ভাইকে হত্যা, নার্স আটক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, বগুড়া
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দুই মাস আগে শাহিন আলম (২৪) নামে এক যুবককে চেতননাশক ইনজেকশন পুশ করে হত্যার অভিযোগ উঠে নার্স সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে। সেই হত্যাকান্ড ধামাচাপা পড়ে যাওয়ায় একই কায়দায় শাহিনের বড় ভাই সেলিম হোসেনকে (২৭) হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এবার হাতে নাতে ধরা পড়েন সেবকের ছদ্মবেশী সাদ্দাম হোসেন (২৬)।

শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গ্রেফতারকৃত সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বড় ভাই আব্দুস সামাদ।

সাদ্দাম হোসেন বগুড়া সদরের পীরগাছা বাজারে অবস্থিত সালমা ডায়াগনেস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকের সেবক (নার্স)। আর নিহত সেলিম একই ক্লিনিকের ম্যানেজার। তারা দুজনেই ওই ক্লিনিকের ব্যবসায়ীক অংশীদার।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন, ক্লিনিকের ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে কৌশলে হত্যাকান্ডের পথ বেছে নেন সাদ্দাম হোসেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসাধীন সেলিম হোসেনকে চেতনা নাশক পুশ করার সময় সাদ্দামকে আটক করা হয়। চেতনানাশক পুশ করার ১০ মিনিটের মধ্যেই মারা যান সেলিম হোসেন।

নিহত সেলিম হোসেন গাবতলী উপজেলার আটবাড়িয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। আর গ্রেফতার কৃত সাদ্দাম হোসেন গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামের জিন্নাহ মিয়ার ছেলে।

নিহত সেলিমের বড় ভাই আব্দুস সামাদ জানান, ৭ জন পার্টনারে পীরগাছা বাজারে ৯ মাস আগে সালমা ডায়াগনেস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়। ৭ জনের মধ্যে তাদের পরিবারের ৪ জনের অর্থেক এবং সাদ্দামের একারই অর্ধেক শেয়ার ছিল। সাদ্দাম নিজেই ক্লিনিকে নার্সের(সেবক) দায়িত্বে এবং সেলিম ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করতেন।

বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে সেলিম ক্লিনিকে থাকা অবস্থায় অসুস্থ বোধ করেন। এসময় সাদ্দাম তার রক্তচাপ মেপে জানান উচ্চ রক্ত চাপ (হাই প্রেসার) হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া দরকার। অসুস্থতার খবর শুনে আব্দুস সামাদ তার ভাইকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।

এক ঘন্টা পর সাদ্দাম সেখানে সেলিম হোসেনকে দেখতে যান। এসময় সেলিম হোসেনের দেহে স্যালাইন চলছিল। সুযোগ বুঝে সাদ্দাম তার পকেট থেকে ইনজেকশন বের করে সেলিমের হাতে লাগানো ক্যানুলা দিয়ে পুশ করে দেন। এ সময় বড় ভাই সামাদ জানতে চাইলে সাদ্দাম জানায় গ্যাসের ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। ১০ মিনিটের মধ্যে সেলিম হোসেন মারা গেলে সাদ্দাম হোসেনকে সেখানেই আটক করা হয় এবং তার পকেট থেকে ব্যবহৃত চেতনা নাশক ইনজেকশনের এ্যাম্পুল উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

আব্দুস সামাদ আরো জানান, গত ৭ জুলাই তার আরেক ছোট ভাই শাহীন আলম অসুস্থ বোধ করলে পীরগাছা বাজারে তাদের ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্যালাইনের মাধ্যমে ইনজেকশন পুশ করার পর রাতে শাহীন মারা যান। পরে বলা হয় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। শাহীনের মৃত্যুর ঘটনায় সাদ্দামকে কেউ সন্দেহ করেনি। আর এই সুযোগ কাজোম লাগিয়ে সাদ্দাম কৌশলে হত্যা করে আরেক ভাইকে।

গ্রেফতারের পর সাদ্দাম জানায়, ক্লিনিকের পিছনে তার অবদান এবং পরিশ্রম সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সেলিম ও অন্য ভাই কোন কাজ না করে বসে থেকেই টাকার ভাগ পেয়ে থাকে। এছাড়াও ম্যানেজার হিসেবে হিসাব নিকাশ করে থাকেন সেলিম। ফলে হিসাবে গড় মিল করতে পারেনা সাদ্দাম। এই ক্ষোভ থেকে কৌশলে সেলিমকে হত্যা করেন তিনি। তবে দুই মাস আগে আরেক ভাই শাহিন আলমকে হত্যার ব্যাপারে জানতে চাইলে সাদ্দাম নিশ্চুপ থাকে।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। সেলিম হোসেন হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।'