উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু



নিউজ ডেস্ক, বার্তা ২৪
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনার প্রকোপ কিছুটা কমে এলেও ডেঙ্গু এখন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়াচ্ছে। থামছে না ডেঙ্গু সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি। জুলাইয়ের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণের ঘরে পৌঁছে গেছে। গত ১৬ দিনেই এ রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫ হাজারের কাছাকাছি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত না হয়ে সময়মতো ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। জ্বর হওয়ার শুরুতেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা- নিরীক্ষা করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, চলতি মাসে ১৬ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার ৭০৯ জন। সব মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত সাড়ে ৮ মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬৫ জনে। শনাক্তের পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুও। চলতি বছর এ পর্যন্ত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্টেই মারা গেছেন ৩৪ জন। জুলাইতে ১২ এবং চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী জুন থেকে দেশে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়। ওই মাসে ২৭২ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। জুলাইয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ২ হাজার ২৮৬ জন। আর আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৬৯৮।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ২৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানীতে ১৮২ ও ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ৫২ জন। বর্তমানে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে ১ হাজার ২৪৭ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে রাজধানীতেই ১ হাজার ৪৭ জন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নির্দিষ্ট সময় নয়, মশা নিধনে সারা বছর কর্মসূচি চলমান থাকা উচিত। কিন্তু আমরা সেটা দেখছি না। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শুরু হলেই সিটি করপোরেশনকে নড়েচড়ে বসতে দেখা যায়। তবে এডিশ মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু সিটি করপোরেশনকে দায়ী করা উচিত হবে না। এজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। কারণ, ডেঙ্গুর উৎপত্তিস্থল বসতবাড়ি ও আঙ্গিনায় জমে থাকা পানি থেকেই বেশি হচ্ছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার গণমাধ্যমকে বলেছেন, চলতি বছর ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে এপ্রিল ও মে মাসে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি ছিল। তাছাড়া দেশে ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার বংশবৃদ্ধির উপযোগী তাপমাত্রা ছিল। তাছাড়া এডিস মশা নিধনে কার্যকর উদ্যোগও ছিল না। মশার প্রকোপ বাড়ার পর সিটি করপোরেশনকে তা নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তাছাড়া সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাবও লক্ষ্য করা যায়। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একার পক্ষে সচেতন হলে ডেঙ্গির প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।

গবেষণা বলছে, এ বছর অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগী ‘ডেনভি ৩’ ধরন দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই জটিলতাও বেশি। ডেঙ্গু জ্বর নানা রকম জটিলতা তৈরি করতে পারে। শুরু থেকেই সতর্ক ও সচেতন থাকলে মৃত্যুঝুঁকিসহ অন্যান্য জটিলতা কমে। তাই যেকোনো জ্বরকে আমলে এনে বাড়িতেই ডেঙ্গু রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন।