আরও মাসখানেক মিলবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম



হাবিবা বিনতে আবদুল্লাহ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
থোকায় থোকায় ঝুলছে আশ্বিনা জাতের ফ্রুট ব্যাগিং করা আম

থোকায় থোকায় ঝুলছে আশ্বিনা জাতের ফ্রুট ব্যাগিং করা আম

  • Font increase
  • Font Decrease

আরও মাসখানেক মিলবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রসালো আম আশ্বিনা। অন্যান্য বছরগুলোতে ভাদ্র মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে প্রায় শেষ হলেও চলতি বছর আরও এক মাস পাওয়া যাবে ঐতিহ্যবাহি কানসাটের আশ্বিনা আম। জেলার অন্য বাজার চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ভোলাহাট, গোমস্তাপুর এলাকায় এখন আম শূন্য আড়তগুলো। তবে তাঁর ব্যতিক্রম শুধু কানসাট বাজার। কানসাট বাজারে এখনও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখরিত হয়ে থাকছে।

সোমবার সকালে কানসাট বাজার ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে। প্রতিমণ আম বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭ হাজার টাকায়।

আম সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় ছয় মাস মেলে গ্রীষ্মের রসালো ফল আম। তবে মৌসুমের শেষ দিকের আম সারাদেশে নয়, চাষ হয় শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এখানকার মাটিতে নাবি জাতের আমচাষের জন্য উপযুক্ত। জেলার বিভিন্ন জায়গায় তাই এখনো ঝুলছে আশ্বিনা জাতের আম। এ আম থাকবে আরও মাসখানেক। আকারে বেশ বড় জাতের এ আম জেলার চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হচ্ছে সারাদেশে।

প্রতিমণ আম বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭ হাজার টাকায়

শিবগঞ্জ উপজেলার শহিদুল ইসলামের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, থোকায় থোকায় ঝুলছে আশ্বিনা জাতের ফ্রুট ব্যাগিং করা আম।

এ সময় তিনি বলেন, এ বছর আমার প্রায় ৬'শ মণ আম ছিল। গত ১৫ দিন আগে থেকেই কানসাট বাজারে বিক্রি শুরু করেছি। প্রথমে ১২'শ থেকে ১৫'শ টাকা মণ দরে বিক্রি করলেও এখন দ্বিগুণ দাম পাচ্ছি। বাগানে আরও প্রায় মাসখানেক আম থাকবে। এখনও ২০ মণ আম আছে। দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি করব।

চৌডালা এলাকার আমচাষি কেরামত আলী বলেন, আমি টাকার অভাবে এ বছর আমে ফ্রুট ব্যাগিং করতে পারিনি। এখন মনে হচ্ছে ভালোই করেছি। কারণ বাজারে ফ্রুট ব্যাগিং করা আমের চেয়ে নন-ফ্রুট ব্যাগিং আমের দামই বেশি। বর্তমানে বাগানে প্রায় ৪০ মণ আম আছে। আশা করছি এ আম বিক্রি করেই লাখ টাকার বেশি পাবো।

আরও মাসখানেক মিলবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম

শাহবাজপুর এলাকার আমচাষি নাইমুল ইসলাম জানান, মাত্র ৩০ মণ আশ্বিনা ফ্রুট ব্যাগিং করা আম নিয়ে বাগানে পড়ে আছি একটু বেশি দাম পাওয়ার আশায়। আরও ১০ দিন অপেক্ষা করবো। তাঁর দাবি-বাগানে আম টিকিয়ে রাখতে প্রচুর পরিমানে পরিচর্যা করতে হচ্ছে। এছাড়াও এখন বাগানে চোরের উপদ্রব বেড়েছে। ফলে রাত জেগে বাগান পাহারা দিতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, আমের সময় প্রায় শেষ। কিন্তু শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট উপজেলার কিছু বাগানে আশ্বিনা জাতের আম আছে। এ এলাকাগুলোর মাটি ভালো হওয়ায় আম নষ্ট কম হয়, তাই রাখা যায় বেশিদিন। এই আম বাজারে পাওয়া যাবে প্রায় আরও এক মাস। তবে এখন আমের বেশি দাম পেয়ে খুশি চাষিরা।

উল্লেখ্য এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে আড়াই লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।