সিলেটে আমন ধানের আশাতীত ফলনের সম্ভাবনা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা কোনো বিপর্যয় না ঘটলে কৃষকদের আঙিনা এবার রোপা আমন ধানে ভরে উঠবে। মহামারির আর্থিক সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবেন সিলেটের কৃষকরা। ইতোমধ্যে বীজতলার লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে গেছে। ফলে রোপা আমন ধান চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এ বছর বন্যা না হওয়ায় এবং আবহাওয়া উপযোগী থাকায় আমন ধান নিয়ে নতুন আশা দেখা দিয়েছে।

সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর সিলেট বিভাগে আমনের ২০ হাজার ৯৬৪ হেক্টর বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে ২২ হাজার ৪২৪ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরী করেছেন কৃষকরা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি।

বিভাগের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সিলেট জেলায় ৭৫৬ হেক্টর বেশি জমিতে বীজতলা তৈরী করা হয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জে ২২৩ হেক্টর বেশি, মৌলভীবাজারে ২৩১ হেক্টর বেশি ও হবিগঞ্জে ১৫০ হেক্টর বেশি জমিতে বীজতলা তৈরী করেছেন কৃষকরা।

barta24

এদিকে, সিলেট বিভাগে এ বছর রোপা আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে প্রায় ৪ লাখ হেক্টর। গেল ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ৩ লাখ ৭৩ হাজার হেক্টর জমি। যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৫ ভাগ। সামনের দিনগুলোতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বেশি জমিতে আমন আবাদ হবে বলে ধারণা কৃষি কর্মকর্তাদের।

জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র সরকার বার্তা২৪.কমকে বলেন, গেল বছর তিন দফার বন্যায় কৃষকরা বীজতলা ঠিকমতো তৈরী করতে পারেননি। এবার অনুকূল আবহাওয়া থাকায় আউশ ধানের ফলন বাম্পার হয়েছে। কৃষকরা উৎসাহিত হয়ে আমন চাষে মনোযোগী হয়েছেন। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমনের আবাদ হবে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি।

কৃষকেরা জানান, আমনের বীজ তলা ও ধান রোপণের সময় এবার অতিবৃষ্টি হয়নি। ফলে ধান চাষে বাম্পার ফলনের আশা দেখা দিয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আমনের আবাদ হবে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে। কৃষকদের মতে, কার্তিকের শেষে অগ্রহায়নের শুরু থেকে রোপা আমন কাটা শুরু হবে এরমধ্যে যদি বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিপর্যয় না ঘটে তাহলে উৎপাদিত ধান লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক দিলীপ কুমার অধিকারী বার্তা২৪.কমকে বলেন, সিলেট বন্যার কারণে আমন ধানের আবাদ করা কঠিন হয়। তবে এবার বৃষ্টি কম থাকায় এবং বন্যা না হওয়ায় কৃষকরা ধান রোপনে ভালো সুযোগ পেয়েছেন। যদি পোকার আক্রমণ না হয় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি না হয়, তবে উৎপাদন অনেক বেশি হতে পারে।

তিনি আরও জানান, এ বছর উফশী জাতের ২ দশমিক ৭৪ এবং স্থানীয় জাতের ১ দশমিক ৩৭ গড় ফলনে বিভাগে ১০ লাখ ১৮ হাজার ৪৭৪ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।