দেশে ফিরলো ভারতে পাচার ৩৭ বাংলাদেশি নারী-শিশু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, যশোর
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বিভিন্ন সময় ভালো কাজের প্রলোভনে ভারতে পাচার হওয়া ৩৭ বাংলাদেশি নারী, শিশুকে উদ্ধারের পর ফেরত পাঠিয়েছে কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের কর্মকর্তারা। ২ থেকে ৩ বছর আগে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পথে এসব নারী, শিশুরা ভারতে পাচারের শিকার হয়েছিলো।

সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬ টায় তাদের ভারতের পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ট্রাভেল পারমিটে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে হস্তান্তর করা হয়।

পাচার প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা এনজিও সংস্থ্যা জাস্টিস এন্ড কেয়ার, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবি সমিতি ও রাইটস যশোর নামের তিনটি এনজিও এসব শিশুদের আইনী সহয়তা আর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে পুলিশের কাছ থেকে গ্রহন করেছে।

কলকতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের (ফাস্ট সেক্রেটারী পলিটিক্যাল-১) শামিমা ইয়াসমিন স্মৃতি জানান, উদ্ধারের পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ৭টি সেভ হোমে এসব নারী ও শিশুরা ছিলো। ভালো কাজের প্রলোভনে এবং অবৈধ ভাবে সীমান্ত পথে ভারত প্রবেশ করে এরা আটক হয়েছিল। বাংলাদেশের এনজিও সংস্থার সদস্যদের কাছে নারী ও শিশুদের তুলে দেওয়া হচ্ছে। তারা এসব শিশুদের তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিবে।

জাস্টিস এন্ড কেয়ারের সিনিয়ার প্রোগ্রামার অফিসার মুহিত হোসেন জানান, সংসারে অভাব অনটনের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় ভালো কাজের কথা বলে দালালরা এদের ভারতে পাচার করে । পরে ভালো কাজ না দিয়ে বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করে। পরে ভারতীয় পুলিশ খবর পেয়ে তাদের পাচারকারীদের খপ্পর থেকে উদ্ধার করে আদালতে পাঠায়। সেখান থেকে তাদের আশ্রয় হয় ভারতীয় এনজিও সংস্থার শেল্টার হোমে। পরে উদ্ধারকৃতরা বাংলাদেশি কিনা তা যাচাই করে কাগজ পত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ট্রাভেল পারমিটে এরা ফিরে আসছে। এদেরকে আইনী সহয়তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কাজ করবে এনজিও সংস্থাগুলো।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি আহসান হাবিব জানান, ৩৭ শিশুকে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে বন্দর থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে ৩টি এনজিও শিশুদের আইনী সহয়তা দিতে গ্রহন করেছে।

ফেরত আসা ৩৭ নারী ও শিশুরা হলেন, কুমিল্লার সাহান হাওলাদার, খুলনার আনন্দ মন্ডোল, মুস্তাফিজুর রহমান, শিমুল শেখ, আবুল হাসান ও মোস্তফা গাজী, যশোরের আয়শা শেখ, জেসমিন বিবি, রুহুল হোসেন,রাকিব শেখ, শাকিল শেখ ও শাকিব হাসান, গোপালগঞ্জের জোবায়ের সরদার, বাগেরহাটের লাবনি আক্তার, রহিমা খান,রাকিব,শাহিল ফারাজি, আবু সালে শেখ,শহিদুল, রাকিব হাওলাদার, হাওলাদার,মন্সিগঞ্জের আরিন বাইদা, সাতক্ষীরার মাজেদা খাতুন, সুশান্ত মন্ডোল , হালিমা খাতুন, ঠাকুরগাওয়ের নিত্যনন্দ রায়, রাজবাড়ির প্রিয় বালা, সনামগঞ্জের আমেনা খাতুন, পিরোজপুরের মুক্তা আক্তার, নড়াইলের নিশা আক্তার, আবু বক্কর, বিদি খাতুন, রাজশাহীর রোমী খাতুন, ফরিদপুরের নারগিস খাতুন, বরিশালের জুয়েল সরদার ও কুড়িগ্রামের শাহজালাল।