ভাষাসৈনিক আহমদ রফিককে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের দাবি ১৮ লেখকের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভাষাসৈনিক আহমদ রফিককে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন জানিয়েছেন ১৮ জন লেখক-কবি।

আজ মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের মাধ্যমে লেখা এক চিঠিতে এই আবেদন জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়,খুব সম্প্রতি ৯৩তম জন্মদিন উপলক্ষে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বেচ্ছায় মৃত্যুর আইন চেয়েছেন। আমরা তার এই দাবির সঙ্গে তার বর্তমান অবস্থার সম্পৃক্ততা অনুভব করে বিচলিত বোধ করছি।

তিনি অত্যন্ত আত্মমর্যাদা সম্পন্ন মানুষ, কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তি মানুষের দান-খয়রাত গ্রহণ করতে একেবারেই প্রস্তুত নন। এমতাবস্থায় রাষ্ট্রীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য এই মানুষটিকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা একান্ত প্রয়োজন।

বঙ্গবন্ধু-কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে অনেক লেখকের কল্যাণে এগিয়ে এসেছেন। আশা করি, আহমদ রফিককে এককালীন ৩০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করে তার বাকি জীবনটাকে শান্তিপূর্ণ এবং মর্যাদাপূর্ণ করে তুলবেন। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

চিঠিতে আহমদ রফিক সম্পর্কে বলা হয়, ভাষাসংগ্রামী, লেখক, বুদ্ধিজীবী আহমদ রফিক অসুস্থ অবস্থায় অসহায় জীবন যাপন করছেন। তিনি আমাদের মহান মনীষী। ভাষা আন্দোলনে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেছেন। বাঙালির প্রতিটি আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সৃষ্টিশীল লেখা ও গবেষণা ছাড়াও তিনি জাতীয় ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন।

আরও বলা হয়, বাংলাভাষা, বাংলা সাহিত্যে তার অসামান্য অবদান রয়েছে। তিনি একাধারে কবি, কথাশিল্পী, সাহিত্য-সমাজ-রাজনীতি-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ে বহু গ্রন্থের লেখক, তিনি রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য।

পেশায় তিনি একজন ডাক্তার ছিলেন। জীবনভর দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। রবীন্দ্র চর্চা কেন্দ্র ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি। তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশ পদক পেয়েছেন। এ ছাড়া কলকাতার টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাকে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করেছে।

আহমদ রফিক জমানো বিশ লাখ টাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাস্ট করে খরচ করেছেন বলে জানানো হয় ওই চিঠিতে।

সরকারের কাছে এ আবেদন করেছেন শোয়াইব জিবরান, ওবায়েদ আকাশ, আহমাদ মোস্তফা কামাল, রাজীব নূর, শাহনাজ মুন্নী, লোপা মমতাজ, জোবাইদা নাসরিন, কবির হুমায়ূন, আলফ্রেড খোকন, শামীম রেজা, রেজা ঘটক, আফরোজা সোমা, পিয়াস মজিদ, মোজাফফর হোসেন, সাইমন জাকারিয়া, স্বকৃত নোমান, শাহেদ কায়েস ও সরকার আমিন।