পূর্ণ ডোজ টিকায় ৬ মাস পরও অ্যান্টিবডি: গবেষণা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনার দুই ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের ছয় মাস পরও এই ভাইরাস প্রতিরোধের মত অ্যান্টিবডির উপস্থিতি থাকে বলে চট্টগ্রামে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সাইয়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়- সিভাসু এ গবেষণা পরিচালনা করে। মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, যারা এক ডোজ টিকা নিয়েছেন তাদের প্রায় ৬২ শতাংশের দেহে ও যারা দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন তাদের প্রায় ৯৯ শতাংশের দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। এছাড়া টিকা না নিয়েও প্রায় অর্ধেক মানুষের দেহে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। আবার প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডির তুলনায় টিকার প্রথম ডোজ গ্রহীতাদের তিনগুণ ও দুই ডোজ গ্রহীতাদের শরীরে পাঁচগুণ বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।

সিভাসুর উপাচার্য অধ্যাপক গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে করোনাভাইরাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে শুরু থেকেই গবেষণা করা হচ্ছে। আমরা সম্মুখসারির যোদ্ধাদের মধ্যে টিকা গ্রহীতা ও যারা নেননি তাদের মধ্যে কেমন অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে তা নিয়ে গবেষণা করেছি।

গবেষণায় দেখা গেছে প্রথম ডোজগ্রহণকারীদের চেয়ে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া ব্যক্তিদের সুরক্ষা লেভেল অনেক ভালো এবং বিভিন্ন মাসের হিসেবে তা অনেক বেশি।

গবেষকরা জানান, গত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, রোগী, রোগীর সহযোগী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, পোশাকশ্রমিকসহ মোট ৭৪৬ জনের ওপর এ গবেষণা পরিচালিত হয়। তাদের মধ্যে ২২৩ জন প্রথম ডোজ ও ২৩১ জন টিকার দুই ডোজ নিয়েছেন। এছাড়া বাকি ২৯২ জন কোনো টিকা নেননি।

গবেষণা শেষে দেখা গেছে, যারা টিকা নেননি তাদের প্রায় অর্ধেকের দেহে প্রাকৃতিকভাবে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। যারা প্রথম ডোজ নিয়েছেন তাদের মধ্যে প্রায় ৬২ দশমিক ৩৩ শতাংশ ও যারা দুই ডোজ নিয়েছেন তাদের প্রায় ৯৯ দশমিক ১৩ শতাংশের শরীরে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, টিকা না নিয়েও মানুষের দেহে প্রাকৃতিকভাবে ৫৩ দশমিক ৭১ একক (ডিইউ/মিলি), এক ডোজ টিকা নিয়ে ১৫৯ দশমিক শূন্য আট একক ও টিকার দুই ডোজ নিয়ে ২৫৫ দশমিক ৪৬ একক অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে শরীরে।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, করোনা টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার প্রথম মাসে যে পরিমাণ অ্যান্টিবডি থাকে (১৭৫ দশমিক ১ একক), দ্বিতীয় মাসে এসে তা ২৫ শতাংশ কমে যায়। আবার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার দুইমাস পর যে পরিমাণ অ্যান্টিবডি থাকে (৩২৪ দশমিক ৪২ একক) চতুর্থ মাসে এসে তা ২১ শতাংশ হ্রাস পায়। এছাড়া ষষ্ঠ মাসে এসে চতুর্থ মাসের তুলনায় তিন দশমিক চার শতাংশ হ্রাস পায়।