বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা ২৪
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

আজ ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস। নাগরিকদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করে বরং সাইকেল, হাঁটা বা গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে গাড়িমুক্ত দিবসের সূচনা হয়।

বাংলাদেশে সরকারি উদ্যোগে দিবসটি পালন শুরু হয় ২০১৬ সালে। আজও দেশে পালিত হবে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস। করোনার কারণে এ বছর দিবসটি ভিন্নভাবে পালন করা হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য- 'হাঁটা ও সাইকেলে ফিরি, বাসযোগ্য নগর গড়ি'।

গণপরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে মানসম্মত গণপরিবহনের অভাবেই মূলত ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। এর ফলে প্রতিনিয়তই বাড়ছে যানজট। ব্যক্তিগত গাড়ি চলার জন্য যেমন জায়গা যায়, থামার জন্য তার চেয়ে বেশি জায়গার প্রয়োজন হয়। এ কারণেই পৃথিবীতে সবাই একমত যে ব্যক্তিগত গাড়িগুলোকে নিরুৎসাহ করতে হবে। এসব গাড়িই সড়কে যানজটের প্রধান কারণ।

ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীরা বলছে, গণপরিবহন উন্নত হলে ব্যক্তিগত গাড়ির এত চাহিদা থাকত না। মানসম্মত গণপরিবহনের অভাবে বাধ্য হয়েই তারা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছে।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা তিন লাখ ৭২ হাজার ১৩৭টি। এর মধ্যে ২০২০ সালে নিবন্ধন হয়েছে ১২ হাজার ৪০৩টি। আর চলতি বছরের মে পর্যন্ত নিবন্ধন নিয়েছে ছয় হাজার ১৯৬টি গাড়ি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছেন, ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে মুক্তি চাইলে একমাত্র বিকল্প হলো মানসম্মত গণপরিবহন। মেট্রো রেল মানসম্মত একটি গণপরিবহনব্যবস্থা। আশা করছি, মেট্রো রেল চালু হলে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কিছু কমে আসবে।

গত ১৮ সেপ্টম্বর ‘বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস ২০২১ : নগর পরিকল্পনায় ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের (নাসফ) সভাপতি হাফিজুর রহমান ময়না বলেন, ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ১৬০ বর্গফুট জায়গা নেয় এবং বাইরে যতক্ষণ থাকে, তার ৯০ শতাংশ সময় পার্ক করা থাকে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'নামবিও' কর্তৃক প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ট্রাফিক ইনডেক্স-২০১৯ এর তথ্য অনুযায়ী, যানজটের দিক দিয়ে ঢাকা প্রথম স্থানে রয়েছে। ২০১৮ সালে এর অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। মাত্র তিন বছর আগেও ঢাকা তৃতীয় স্থানে ছিল। যানজটের মূল কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধিকে দায়ী করা হচ্ছে।

ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এবার ৬২টি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস উদযাপন করা হবে। প্রতি বছরই দিবসটিকে কেন্দ্র করে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ের সামনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। তবে করোনা সংক্রমণের বিষয়টি মাথায় রেখে এ বছর দিবসটি উপলক্ষে কর্মসূচি সাজানো হয়েছে ভিন্নভাবে।

এবারের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ছাত্রছাত্রীদের হাঁটা ও সাইকেল চালানো এবং স্কুল বাসে চলাচলের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে রচনা প্রতিযোগিতা, সাইকেল র‌্যালি ও পদযাত্রা। দিবসটি উপলক্ষে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে ‘গণপরিবহনে ও হেঁটে চলি, ব্যক্তিগত গাড়ি সীমিত করি’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।