দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় সেতু নয়, টানেল হবে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া এলাকায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর যে দাবি উঠেছে, সেটি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগে নদীর নাব্যতা কি হবে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি জানান, সরকার সেখানে সেতুর পরবর্তী আন্ডারপাস বা টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এখন থেকে সরকার সেতুর পরিবর্তে টানেলের দিকে নজর দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা শেখ হাসিনার উন্নয়নের সংগ্রাম, নিরবচ্ছিন্ন স্বপ্নের মহাসড়কে খুলনা থেকে চট্টগ্রাম’ শীর্ষক সেমিনারে অংশ নিয়ে এ কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে এই সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “নদী বাঁচাতে হবে, তা না হলে শ্যামল বাংলাদেশ থাকবে না। এতো ব্রিজ করার দরকার কি? পদ্মা সেতু একটা হয়েছে, এখন দাবি উঠেছে দৌলদিয়ায় আরেকটি সেতুর। দুটি সেতু হলে নদীর নাব্যতা কি হবে? এটা কিন্তু আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। কাজেই সেতু না করে আমরা আন্ডারপাস করার চিন্তা-ভাবনা করছি। দৌলদিয়া-পাটুরিয়া আমরা টানেল নির্মাণের চিন্তা ভাবনা করছি। ওইদিকে জামালপুরে দেওয়ানগঞ্জ থেকে গাইবান্ধা পর্যন্ত আরেকটি টানেল নির্মাণের পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় আমাদের টানেলের দিকে নজর দিতে হবে। চট্টগ্রামে কর্নফুলী নদীর তলে যে টানেল হচ্ছে সেটাও ৭৫ ভাগ কাজ হয়ে গেছে।”

নদীগুলোতে শুধু সেতু নির্মাণ করে এমনিতেই নাব্যতা নেই উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, সেতু যতো নির্মাণ করবেন নাব্যতা হারাবে। অনেক সেতু উদ্বোধন হয়েছে, আরও প্রায় ৫০টির মতো সেতু উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এ সময় যশোর-খুলনা মহাসড়কটি বারবার নষ্ট হচ্ছে কেন তা ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংস্কার করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, রাস্তা করে রক্ষণাবেক্ষণ না হলে তার সুফল পাওয়া যাবে না।

এ সময় চার লেনেরে সব রাস্তায় অবশ্যই সার্ভিস লেন রাখাতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং সেভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা মাওয়ার মতো এক্সপ্রেস ওয়ে ইউরোপের অনেক দেশেও নাই। প্রতিবেশি দেশ ভারতেও নেই। গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইল, এলেঙ্গা থেকে রংপুর, রংপুর থেকে যাবে পঞ্চগড় একটা আরেকটা বুড়িমাড়ী এগুলো আমাদের পরিকল্পনা। এর কাজ চলছে। খুলনা-মংলা-বাগেরহাট এগুলোও আমাদের কাজেরই অংশ। এখানে নতুন কোনো পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই। এগুলোর বাইরে ঢাকা সিলেট চার লেনের কাজ যতো দ্রুত শেষ করা যায়। আরেকটা হচ্ছে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার চার লেন। সেটাও প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। ওটাও দ্রুত শুরু করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। ফরিদপুর থেকে বরিশাল ফোর লেন করার জন্য এডিবির সাথে কথা হয়েছে।

আগামী বছর এদেশের সড়ক যোগাযোগের চেহারা পাল্টে যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, মেট্রোরেল, ম্যাস র‌্যাপিট ট্রানজিট, পদ্মা সেতু সব উদ্বোধন হবে। শেখ হাসিনা তার ভিশন বাস্তবায়নে সব পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন, মাস্টারপ্লান করেছেন এবং কাজ যখন যেটা করার দরকার সেটি করছেন। আমাদের ভিশন বিএনপির ভিশন নয়।

এ সময় গত নির্বাচনে বিএনপির ভিশন-২০৩০ এর কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটি হলো নির্বাচনকে সামনে রেখে পলিটিক্যালি স্ট্যান্ডবাজি। ওটা বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ আর আলোর মুখ দেখবে না। বিএনপি নির্বাচন করবে কি দিয়ে?

“আগামী বছর যখন এসব মেগা প্রকল্প উদ্বোধন হতে থাকবে, বিএনপি চোখে সর্ষের ফুল দেখবে। এমনিতেই নেতিবাচক রাজনীতি করে বিএনপি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নির্বাচন বর্জন করে আপনারা জনগণ থেকে আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন।”

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং উপ-কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর বলেন, “দেশে এ যাবৎকাল পর্যন্ত উত্তর-দক্ষিণ সংযোগকারী যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলেও পূর্ব-পশ্চিম সংযোগকারী সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। ফলে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থায় রাজধানী ঢাকার উপর চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। খুলনা অথবা বরিশাল থেকে কোন গাড়ি যদি চট্টগ্রাম বন্দরে যেতে চায় তবে ঢাকা ছাড়া তাদের যাওয়ার কোন সরাসরি ব্যবস্থা নেই। পূর্ব-পশ্চিম সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করতে পারলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ৪-লেন সড়কের উপর চাপ বহুলাংশে কমে যাবে।”

তিনি বলেন, “আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই সমগ্র সমুদ্র উপকূল জুড়ে তাদের রোড নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। ফলে বন্দর থেকে বন্দরে পণ্য পরিবহনে তাদের একটা সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। আমরা সমুদ্র উপকূল দিয়ে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারলে দেশের ব্লু-ইকোনমিতে একটা বিশাল প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ হয়ে উঠবে যোগাযোগের একটি হাব। সিঙ্গাপুরের মত বাংলাদেশও সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার একটা রোল মডেল হয়ে উঠবে।”

ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর বলেন, “দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের একটা নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। এখন বাংলাদেশের মানুষ বছরের বিভিন্ন সময় থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভারত ঘুরতে যায়, কিন্তু তখন ঘুরতে যাবে নোয়াখালি, সন্দীপ ও হাতিয়াসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন পর্যটন নগরীতে। শুধু দেশের নয় বিদেশি পর্যটকের দ্বারা এই অঞ্চলটি হবে মুখরিত। সম্ভাবনার দ্বার উমোচিত হবে ফরেন ডাইরেক ইনভেস্টমেন্ট এর যার ফলে দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি আরও শতকরা দুইভাগ বেড়ে যাবে বলে আমরা ধারনা করি।”

অনুষ্ঠানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য প্রফেসর ড. মো. হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন আইইবি'র ঢাকা কেন্দ্রের সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার কাজী খায়রুল বাশার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং উপ-কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার এ. এফ. এম. সাইফুল আমিন।