আপনার চোখকে ভালোবাসুন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা ২৪
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্ব দৃষ্টি দিবস আজ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হবে। প্রতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার দিবসটি পালন করা হয়। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

বিশ্বব্যাপী চোখের যত্ন নেওয়ার জন্য গণসচেতনতা তৈরি, চক্ষু রোগ নির্মূলে প্রভাবিত করা, চোখের যত্ন নেওয়ার তথ্য জনগণের কাছাকাছি আনাই হলো বিশ্ব দৃষ্টি দিবসের লক্ষ্য। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় 'আপনার চোখকে ভালোবাসুন'।

চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বে সাতটি কারণে মানুষ অন্ধ হয়। এর মধ্যে প্রথমটি হলো বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন, দ্বিতীয় হলো গ্লুকোমা, তৃতীয় হলো চোখের ছানি, যা প্রতিরোধযোগ্য, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি হলেও অন্ধত্ব হয়। এছাড়া আঘাতজনিত কারণ, ট্রাকোমা ও ভিটামিনের অভাব। এক সময় ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে দেশে অনেকেই অন্ধত্ব বরণ করত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ন্যাশনাল আই কেয়ারের ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সরবরাহ করায় রাতকানা রোগ কমে গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে সারাবিশ্বে প্রায় ৪ কোটি মানুষ নিবারণযোগ্য অন্ধত্বের শিকার। এ ছাড়া দৃষ্টিহীন মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৪ কোটি। চক্ষু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতি মিনিটে ১২ জন মানুষ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়ে পড়ছে। এর মধ্যে একজন শিশু। বাংলাদেশে ৭৫ লাখের বেশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার শিশু।

বাংলাদেশে ৮০ শতাংশ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার প্রধান কারণ ছানিজনিত। মানুষ সচেতন হলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও অন্ধত্ব কমানো সম্ভব। ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সালে দেশে অন্ধত্ব ও ক্ষীণ দৃষ্টি নিয়ে পরিচালিত অন্য এক জরিপে অন্ধত্বের প্রধান কারণ হিসেবে ছানিপড়া রোগকে দায়ী করা হয়। দেশে বছরে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ অন্ধত্বজনিত ছানির রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোখ মানব দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিন্তু এ বিষয়ে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত উদাসীন। কী কারণে অন্ধত্ব বরণ করতে হয়, সে সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা থাকলে দেশে অন্ধত্বের হার অনেকাংশে হ্রাস পেত।