নৌকার গলার কাঁটা বিদ্রোহী প্রার্থীরা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, লক্ষ্মীপুর
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তিন ইউপি নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন পেয়েও স্বস্তিতে নেই আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। মাঠে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দুঃশ্চিন্তা বেড়ে গেছে তাদের। মনোনয়নবঞ্চিত এসব বিদ্রোহী প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের গলারকাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

একাধিকবার বৈঠক করেও মনোনয়নবঞ্চিতদের সাথে সমঝোতায় ব্যর্থ হয়েছেন দলের দায়িত্বশীল নেতারা।

এলাকায় এসব বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপক জনসমর্থন থাকায় মাঠ ছাড়তে রাজি নয় তারা। আর তাতে নৌকার প্রার্থীরা অনেকটাই কোনঠাসা হয়ে পড়বেন বলে স্থানীয়দের ধারনা।

এসব এলাকার নির্বাচনী মাঠ ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। তবে বিদ্রোহী এসব প্রার্থী ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে নির্বাচনি মাঠ।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা চরমার্টিন ও চরলরেন্স ইউনিয়নে আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ইউপি নির্বাচন।

চরকাদিরা ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন পান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাগর। তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক চেয়ারম্যান আশ্রাফ উদ্দীন রাজু ও আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহীম বাবুল মোল্লা। এই দুই নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ভোট করছেন। দুজনই বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মিছিল মিটিং চালিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট চাচ্ছেন। এদের জনসমর্থনও রয়েছে এলাকাজুড়ে।

চরমার্টিন ইউনিয়নে নৌকার টিকেট পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান ইউছুফ আলী মিয়া। তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্বাস উদ্দিন। তিনিও এলাকার একজন জনপ্রিয় নেতা হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

তবে চরলরেন্স ইউনিয়নে নৌকার একক প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার নুরুল আমিন। ইতোমধ্যে ঋণখেলাপির দায়ে তার মনোনয়ন বৈধ হওয়া নিয়েও রয়েছে সংশয়। নির্বাচন করতে পারবে কিনা তা নিয়ে নেতাকর্মী ও ভোটারদের মাঝে রয়েছে নানা জল্পনা কল্পনা। তবে তার সাথে আওয়ামী লীগের কোন বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। ঋণখেলাপি বিষয়ক সমস্যার সমাধান করতে পারলে ওই ইউনিয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হবেন বলে অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

চরমার্টিন ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী ইউছুফ আলী বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় বিপাকে পড়েছি। তথাপি জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

একই এলাকার বিদ্রোহী প্রার্থী আব্বাস উদ্দিন বলেন, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড নৌকা মনোনয়ন দিতে যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। টাকার বিনিময়ে জনবিচ্ছিন্ন ও বিতর্কিত লোককে মনোনয়ন দেওয়ায় জনগন ও ভোটারদের অনুরোধে আমি প্রার্থী হয়েছি।

চরকাদিরা ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী নুরুল ইসলাম সাগর বলেন, দল আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়ে পাঠিয়েছে। কিন্তু মাঠে আরো দুইজন বিতর্কিত ব্যক্তি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে। নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করা মানে জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। তাই দল এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা রাখি।

ওই বিদ্রোহী প্রার্থী আশ্রাফ উদ্দীন রাজু বলেন, আমি নৌকার বিরুদ্ধে নই। বিগত নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়ে পাঠিয়েছিলেন। তখন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাগর নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করে আমাকে ও নৌকা মার্কাকে পরাজিত করেন। তাই এবার তিনি নৌকা প্রতীকে ভোট করায় দলের তৃনমুল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অনুরোধে আমি প্রার্থী হতে বাধ্য হয়েছি।

কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রাজু বলেন, কোন বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না। সবাই তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নৌকার প্রার্থীর ভোট করবে।

একই বক্তব্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার নুরুল আমিনের। তিনি বলেন, যারা নৌকার বিরুদ্ধে থাকবে, তাদেরকে দল থেকে চিরতরে বহিস্কার করা হবে।