তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্র নিহত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ায় তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে আহত স্কুলছাত্র ফারুক হোসেন (১৫) মারা গেছেন।

মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফারুক মারা যায়।

এর আগে, গত ১১ নভেম্বর মালতিনগর হাইস্কুল চত্বরে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান শেষে স্কুল চত্বরে একই বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র হৃদয় (১৬) ফারুককে ছুরিকাঘাত করে।

নিহত ফারুক বগুড়া শহরের মালতিনগর নামাপাড়ার মজিবর রহমানের ছেলে। ফারুক মালতিনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলো।

জানাগেছে, ফারুক একই বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী মুন্নীকে গত জানুয়ারি মাসে বিয়ে করে। এরপর তাদের বাড়িতে ঘর সংসার করা কালে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। গত মে মাসে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর একই প্রতিষ্ঠানের ১০ম শ্রেণির ছাত্র হৃদয়ের সাথে মুন্নীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি মেনে নিতে পারছিল না ফারুক। এনিয়ে ফারুক মাঝে মধ্যেই মুন্নীর সাথে ঝগড়া বিবাদে জড়িয়ে পড়তো। ১১ নভেম্বর বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে হৃদয়ের সাথে মুন্নীকে দেখে ক্ষুব্ধ হয় ফারুক। এনিয়ে তাদের মধ্যে আবারও ঝগড়া হয়। এর জের ধরে অনুষ্ঠান শেষে হৃদয় ফারুককে ছুরিকাঘাত করে। তাকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ফারুক মারা যায়।

বগুড়া শহরের বনানী পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদ বলেন, ঘটনার পর থেকে হৃদয় পলাতক। মুন্নী তার বাড়িতেই আছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মুন্নীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে তাকে গ্রেফতার করা হবে।

পটুয়াখালীতে সংঘবদ্ধ গরু চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, পটুয়াখালী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

গতকাল ‍শুক্রবার রাত অনুমান সাড়ে দশটায় রাঙ্গাবালী থানাধীন চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরলক্ষী সাকিনস্থ মুসলিমপাড়া ফরেষ্টের বাগান হতে গরু চুরি করে ট্রলারযোগে পলায়নকালে স্থানীয় জনগনের সহায়তায় চরমোন্তাজ তদন্ত কেন্দ্রের অভিযানিক দল গ্রেফতার করে। 

অন্যান্য আসামিরা পালিয়ে গেলেও চরমোন্তাজ তদন্ত কেন্দ্রের ইচনচার্জ এসআই মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল হতে চুরি যাওয়া তিনটি গরু এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত ইঞ্জিন চালিত ট্রলার জব্দ করেন। আটককৃত গরু চোর মো. মিজানুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক আজ (২২ জানুয়ারি) পুলিশ সুপার, পটুয়াখালী মহোদয়ের নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অপর আসামি মো. কালাম হাওলাদার (৪০) ও মো. আনিচ মুসলমান (৩৫), গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতারকৃত আসামিগন সংঘবদ্ধ গরু চোর চক্রের সদস্য। তারা পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু চুরি করে গলাচিপার উলানিয়া বন্দরে রাতের আধাঁরে জবাই করে বিক্রি করে মর্মে তথ্য প্রদান করে যা যাচাই পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

;

শাবি শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন কর্মসূচি চলছে। এই সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবনে এ বৈঠক শুরু হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের বৈঠক শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুলসী সাহার নেতৃত্বে পাঁচজন শিক্ষক সাধারণ সম্পাদক মহিবুল আলম, ভৌত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক রাশেদ তালুকদার, ফলিত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন খায়রুল ইসলাম রুবেল এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে গত ১৩ জানুয়ারি রাত থেকে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ওই হলের কয়েক’শ ছাত্রী।

সেই আন্দোলনের এক পর্যায়ে জাফরিন আহমেদ পদত্যাগ করেন। এর মধ্যেই শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। নতুন দাবি যুক্ত করে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

গত ১৬ জানুয়ারি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে আইসিটি ভবন থেকে উপাচার্যকে উদ্ধার করে পুলিশ।

তবে ওই ঘটনার পর অজ্ঞাত কয়েক’শ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। সেই মামলা প্রত্যাহার এবং উপাচার্যের পদত্যাগের নতুন দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন শিক্ষার্থীরা।

;

উচ্ছেদ অভিযানে ভূমিহীন হল শত শত পরিবার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, পটুয়াখালী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পটুয়াখালীর লাউকাঠি নদীরপাড় সংলগ্ন খাস জমির সব স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন পটুয়াখালী।

শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে। পটুয়াখালী সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মো.শাহিন মাহমুদ এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব মোঃ মনিরুজ্জামান।

উচ্ছেদ অভিযানের ফলে শত শত পরিবার রাস্তার পাশে মাঠে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। করনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার ফলে নিম্নআয়ের মানুষ দের সামান্য ঘরে থাকা হলো না। ছোট ছোট শিশু ও বৃদ্ধ মানুষদের নিয়ে এই শীতের মধ্যে রাস্তার পাশে খোলা মাঠে অবস্থান করছে পরিবারগুলো।

লতা ইসলাম বলেন,আমার জন্মের পর থেকে দেখেছি এখানে আমাদের ঘরবাড়ি প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে, আর আমরা নিজেরা ঘর স্থাপন করে বসে আছি সেগুলো ভেঙ্গে রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছে। একদিন আগে মাইকিং করেছে আমাদের এখান থেকে চলে যেতে হবে। কোন নোটিশ দেয় নি এত জরুরি ভাবে ভেঙে আমাদের রাস্তায় কেন নামানো হলো আমরা সেটাই বুঝতে পারছি না। আমাদের পূর্ণবাসন করুন, আমাদের থাকার জায়গা দিন, আমাদের এই জায়গা ছাড়া কোথাও থাকার মত যায়গা নেই।

ফিরোজা বেগম বলেন, শেখ হাসিনা আপনি আমার বইন আমারে ঘরছাড়া কইরেন না, আপনার বাবার নাম শেখ মুজিব আমার বাবার নাম ও শেখ চেয়ারম্যান। আমি একদিন ছিলাম বড় ঘরের মেয়ে এখন নদীর পাড়ে ঘর উঠিয়ে থাকি। আপনি আমারে ঘরছাড়া কইরেন না।

তিনি আরোও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনার সহযোগিতা কামনা করছি, আপনি মানুষদের ঘর করে দিচ্ছেন আর আমাদেরকে কেন রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছেন। বছরের পর বছর আমরা এখানে ঘর উঠিয়ে থাকি আমাদের কেন এখান থেকে উঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমাদের থাকার জায়গা দিন আমরা সেখানে চলে যাব। এই শীতের মধ্যে আমরা কিভাবে রাত্রিযাপন করব। গরীব মানুষের জন্য আপনি ছাড়া কেউ নেই।

পরিবারগুলো আরও বলেন,এখানের ৫০০ বেশি পরিবার সদস্যরা ১৯৮৬ সাল থেকে জেলা প্রশাসন কর্তৃক বন্দোবস্ত নিয়ে বসবাস করেছেন ২০১২ সাল থেকে জেলা প্রশাসনের দেওয়া বন্ধবস্ত বন্ধ করে দেয়। আমাদের বন্দোবস্ত দিবে তো দূরের কথা আমাদের এখন উচ্ছেদ করছে। একটু খালি জায়গা দিল এই মাল-সামানা নিয়ে ঘর উঠিয়ে থাকতে পারি। রাস্তায় থাকা ছাড়া উপায় নেই

পটুয়াখালী সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা শাহিন মাহমুদ বলেন, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন এর নেতৃত্বে সরকারি খাস জমি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আমরা এর আগে তাদেরকে মাইকিং করে জানিয়ে দিয়েছি। এছাড়াও উচ্ছেদ অভিযান এর আগে তারা আমার অফিসে এসেছিল তখন আমি তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি সকল ধরনের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য। ইতিমধ্যে অনেক পরিবার তারা তাদের স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছে। বাকি যেগুলো আছে সেগুলো আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছি।

;

অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়েছি: আইভী



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নারায়ণগঞ্জ
ডা. সেলিনা হায়াত আইভী

ডা. সেলিনা হায়াত আইভী

  • Font increase
  • Font Decrease

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে টানা তিনবার নাসিক মেয়র নির্বাচিত হওয়া ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন,  নারায়গঞ্জের মানুষ প্রায় ৪০-৪৫ বছর ধরে জিম্মি ছিল। আমার চিন্তা ছিল সেইসব মানুষদের কথা বলানো শেখাতে হবে। সাহসী করতে হবে। শহরের মানুষ চেয়েছিল, একটা মানুষ অন্তত তাদের পাশে দাঁড়াক। ত্বকী হত্যা নিয়ে আমরা প্রচণ্ড আন্দোলন করেছি। আমরা একটা প্লাটফর্ম করেছি। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়েছি। আমি আমার অবস্থান থেকে কখনো পিছপা হয়নি আর কখনো হবো না।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) “সদ্য সমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন: জনপ্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং অভিজ্ঞতা” শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সংলাপে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বদিউল আলম মজুমদার, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন, সংসদ সদস্য আরোমা দত্ত ও রাশেদ খান মেনন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে নারায়ণগঞ্জের মানুষ আমাকে পছন্দ করে। এবারের ভোট খুবই ষড়যন্ত্রমূলক ছিল, আল্লাহর অশেষ রহমতে, মানুষের আস্থা ও ভালোবাসায় বের হতে পেরেছি। এবারের নির্বাচনটা আমার জন্য একটু কঠিন ছিল। ২০১১ ও ২০১৬ সালের ভোটও কঠিন ছিল। কিন্তু কোনো নিবার্চনেই ষড়যন্ত্রেরে বাইরে আমি ছিলাম না। অনেক প্রতিকূলতার মাঝে নির্বাচন করতে হয়েছে। যদিও আমার দল সরকারে আছে তারপরও অনেক বাধা-প্রতিকূলতার মধ্যে ভোট করতে হয়েছে। সাধারণ মানুষের আস্থাভাজন হয়ে জয়ী হয়েছি। আমার আস্থা ও ভরসার জায়গা জনগণ। আমি সবার সঙ্গে মিশি। সবার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি। ন্যায়সঙ্গত কাজ করেছি, কারও কাছ থেকে সুযোগ নিইনি। আমার ভোট কমে যাবে এমন চিন্তা করে কোনো কাজ করিনি।

তিনি আরও বলেন, আমি কোনো ভায়োলেন্স পছন্দ করি না। আমার কোনো বাহিনী নেই। অনেক বাধা-বিপত্তি এসেছে। এমনকি হকার ইস্যুতে আমাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। আমরা কর্মীরা মানব ঢাল তৈরি করে আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু কখনো আমি বাহিনী গড়িনি বা প্রতিশোধপরায়ণ হইনি। শান্তিপূর্ণভাবে নারায়গঞ্জের মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমাকে অনেকবার আঘাত করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই আমি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম।

নারায়ণগঞ্জে ভোট কমার কারণ উল্লেখ করে আইভী বলেন, ভোট কমেছে ইভিএমের কারণে। এমন না যে আমার ভোটাররা ভোট দিতে আসেননি। ইভিএম অনেক স্লো ছিল, নষ্ট ছিল। অনেকেই ভোট দিতে পারেননি। ফিঙ্গার মেলাতে পারেনি।

তিনি বলেন, তৈমূর আলম বিএনপি থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। কিন্তু উনার সব উইং কাজ করেছে। বিএনপি কাজ করবে এটা সত্য। কিন্তু বিহাইন্ডে তিনি যাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছিলেন, তারা ভোটে ভয়াবহ ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেছে। সেটা কাউন্সিলরদের মধ্যে বা নিজেদের মধ্যে করার চেষ্টা হয়েছে। এমনটি হলে স্থানীয় নিবার্চন আর উৎসবমুখর হবে না।

ধর্মীয় উসকানি দিয়েও অনেক অপপ্রচার করা হয়েছে উল্লেখ করে নাসিক মেয়র বলেন, আমি নাকি মসজিদের জায়গা ভেঙে দিয়েছি, আমি নাকি ‘জয় বাংলা’ পড়ে মরতে চাই, কালেমা পড়ে নয়- এসব কথা ছড়ানো হয়েছে। আমি মসজিদের জায়গা ভাঙিনি, বরং সাতটা মসজিদ নির্মাণ করে দিয়েছি। মন্দির করেছি, শ্মশান করেছি, গির্জা করেছি। আমি ঘোমটা কেন দিলাম না, এ নিয়েও অপপ্রচার হয়েছে। আমার কাছে অবাক লাগে- উনারা এত লেখাপড়া করা মানুষ, এত মিথ্যা কথা কিভাবে বলেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি নৌকা প্রতীকে বিপুল ভোটে জয় পান আইভী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, ১৯২টি কেন্দ্রে মোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ ভোট পেয়েছেন আইভী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাতি মার্কার তৈমূর আলম খন্দকার পেয়েছেন ৯২ হাজার ১৬৬ ভোট।

;