ব্যালট পেপার আগুন, হাত দিবেন না: এসপি শাকিলুজ্জামান



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজবাড়ী
জেলা পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান

জেলা পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান

  • Font increase
  • Font Decrease

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে রাজবাড়ীর জেলা পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান বলেছেন, আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে যদি কেউ অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করে তাহলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচনে প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে। ব্যালট পেপার হচ্ছে আগুন। এটিতে কেউ হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে আগুনে হাত পুড়ে যাবে।

তিনি বলেন, ভোট কেন্দ্রে কোনও সহিংসতার ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না। ভোটের দিন সবাই আনন্দের সাথে ভোট দেবেন। আপনাদের আমরা সহযোগিতা করবো।

সোমবার (২২ নভেম্বর) উপজেলা পরিষদ হলরুমে বালিয়াকান্দি নির্বাচন অফিসের আয়োজনে ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থী, সাধারণ সদস্য প্রার্থীদের নিয়ে আচরণবিধি প্রতিপালন ও মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।

এ সময় পুলিশ সুপার বলেন, নির্বাচনে প্রতিযোগিতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে কেউ অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নামবেন না। মনে রাখবেন দিন শেষে কিন্তু আপনারাই। আমরা শুধু আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবো। কোন ধরনের উগ্রতা ও সহিংসতা কিন্তু আমরা মেনে নেব না। আপনাদের জন্যেই কিন্তু আমাদের এই সব আয়োজন। কয়েকদিন আগে দেখেছেন গোয়ালন্দের নির্বাচন। কতটা নিরপেক্ষ হয়েছে। বালিয়াকান্দিতেও তাই হবে।

জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী জেলা বিশেষ শাখার ডিআইও-১ সাইদুর রহমান খান, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) উপ-পরিচালক মো: শরিফুল ইসলাম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) হাসিবুল হাসান।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, প্রশাসনের প্রতি আপনারা আস্থা রাখুন। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য আমরা সব ধরনের আইন প্রয়োগ করবো। আপনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন। আমরা যেন একটি সুন্দর নির্বাচনের মডেল হতে পারি। আমাদের শতভাগ চেষ্টা থাকবে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার। কেউ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করবেন না।

প্রার্থীরা বলেন, বালিয়াকান্দিতে নির্বাচনী পরিবেশ এখন পর্যন্ত খুবই সুন্দর আছে। আমরা আশা করছি সুন্দর পরিবেশের মাধ্যমেই ভোট গ্রহণ হবে বালিয়াকান্দিতে।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, বালিয়াকান্দিতে তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে সাতটি ইউনিয়নে মোট ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮৬ হাজার ৪১৬ ও মহিলা ভোটার ৮৩ হাজার ১৬৮ জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৬৬। মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা ৪৫২টি। এ সকল কেন্দ্রে ৬৬ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৪৫২ জন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও ৯০৪ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবে।

উচ্ছেদ অভিযানে ভূমিহীন হল শত শত পরিবার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, পটুয়াখালী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পটুয়াখালীর লাউকাঠি নদীরপাড় সংলগ্ন খাস জমির সব স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন পটুয়াখালী।

শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে। পটুয়াখালী সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মো.শাহিন মাহমুদ এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব মোঃ মনিরুজ্জামান।

উচ্ছেদ অভিযানের ফলে শত শত পরিবার রাস্তার পাশে মাঠে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। করনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার ফলে নিম্নআয়ের মানুষ দের সামান্য ঘরে থাকা হলো না। ছোট ছোট শিশু ও বৃদ্ধ মানুষদের নিয়ে এই শীতের মধ্যে রাস্তার পাশে খোলা মাঠে অবস্থান করছে পরিবারগুলো।

লতা ইসলাম বলেন,আমার জন্মের পর থেকে দেখেছি এখানে আমাদের ঘরবাড়ি প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে, আর আমরা নিজেরা ঘর স্থাপন করে বসে আছি সেগুলো ভেঙ্গে রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছে। একদিন আগে মাইকিং করেছে আমাদের এখান থেকে চলে যেতে হবে। কোন নোটিশ দেয় নি এত জরুরি ভাবে ভেঙে আমাদের রাস্তায় কেন নামানো হলো আমরা সেটাই বুঝতে পারছি না। আমাদের পূর্ণবাসন করুন, আমাদের থাকার জায়গা দিন, আমাদের এই জায়গা ছাড়া কোথাও থাকার মত যায়গা নেই।

ফিরোজা বেগম বলেন, শেখ হাসিনা আপনি আমার বইন আমারে ঘরছাড়া কইরেন না, আপনার বাবার নাম শেখ মুজিব আমার বাবার নাম ও শেখ চেয়ারম্যান। আমি একদিন ছিলাম বড় ঘরের মেয়ে এখন নদীর পাড়ে ঘর উঠিয়ে থাকি। আপনি আমারে ঘরছাড়া কইরেন না।

তিনি আরোও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনার সহযোগিতা কামনা করছি, আপনি মানুষদের ঘর করে দিচ্ছেন আর আমাদেরকে কেন রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছেন। বছরের পর বছর আমরা এখানে ঘর উঠিয়ে থাকি আমাদের কেন এখান থেকে উঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমাদের থাকার জায়গা দিন আমরা সেখানে চলে যাব। এই শীতের মধ্যে আমরা কিভাবে রাত্রিযাপন করব। গরীব মানুষের জন্য আপনি ছাড়া কেউ নেই।

পরিবারগুলো আরও বলেন,এখানের ৫০০ বেশি পরিবার সদস্যরা ১৯৮৬ সাল থেকে জেলা প্রশাসন কর্তৃক বন্দোবস্ত নিয়ে বসবাস করেছেন ২০১২ সাল থেকে জেলা প্রশাসনের দেওয়া বন্ধবস্ত বন্ধ করে দেয়। আমাদের বন্দোবস্ত দিবে তো দূরের কথা আমাদের এখন উচ্ছেদ করছে। একটু খালি জায়গা দিল এই মাল-সামানা নিয়ে ঘর উঠিয়ে থাকতে পারি। রাস্তায় থাকা ছাড়া উপায় নেই

পটুয়াখালী সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা শাহিন মাহমুদ বলেন, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন এর নেতৃত্বে সরকারি খাস জমি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আমরা এর আগে তাদেরকে মাইকিং করে জানিয়ে দিয়েছি। এছাড়াও উচ্ছেদ অভিযান এর আগে তারা আমার অফিসে এসেছিল তখন আমি তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি সকল ধরনের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য। ইতিমধ্যে অনেক পরিবার তারা তাদের স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছে। বাকি যেগুলো আছে সেগুলো আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছি।

;

অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়েছি: আইভী



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নারায়ণগঞ্জ
ডা. সেলিনা হায়াত আইভী

ডা. সেলিনা হায়াত আইভী

  • Font increase
  • Font Decrease

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে টানা তিনবার নাসিক মেয়র নির্বাচিত হওয়া ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন,  নারায়গঞ্জের মানুষ প্রায় ৪০-৪৫ বছর ধরে জিম্মি ছিল। আমার চিন্তা ছিল সেইসব মানুষদের কথা বলানো শেখাতে হবে। সাহসী করতে হবে। শহরের মানুষ চেয়েছিল, একটা মানুষ অন্তত তাদের পাশে দাঁড়াক। ত্বকী হত্যা নিয়ে আমরা প্রচণ্ড আন্দোলন করেছি। আমরা একটা প্লাটফর্ম করেছি। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়েছি। আমি আমার অবস্থান থেকে কখনো পিছপা হয়নি আর কখনো হবো না।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) “সদ্য সমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন: জনপ্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং অভিজ্ঞতা” শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সংলাপে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বদিউল আলম মজুমদার, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন, সংসদ সদস্য আরোমা দত্ত ও রাশেদ খান মেনন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে নারায়ণগঞ্জের মানুষ আমাকে পছন্দ করে। এবারের ভোট খুবই ষড়যন্ত্রমূলক ছিল, আল্লাহর অশেষ রহমতে, মানুষের আস্থা ও ভালোবাসায় বের হতে পেরেছি। এবারের নির্বাচনটা আমার জন্য একটু কঠিন ছিল। ২০১১ ও ২০১৬ সালের ভোটও কঠিন ছিল। কিন্তু কোনো নিবার্চনেই ষড়যন্ত্রেরে বাইরে আমি ছিলাম না। অনেক প্রতিকূলতার মাঝে নির্বাচন করতে হয়েছে। যদিও আমার দল সরকারে আছে তারপরও অনেক বাধা-প্রতিকূলতার মধ্যে ভোট করতে হয়েছে। সাধারণ মানুষের আস্থাভাজন হয়ে জয়ী হয়েছি। আমার আস্থা ও ভরসার জায়গা জনগণ। আমি সবার সঙ্গে মিশি। সবার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি। ন্যায়সঙ্গত কাজ করেছি, কারও কাছ থেকে সুযোগ নিইনি। আমার ভোট কমে যাবে এমন চিন্তা করে কোনো কাজ করিনি।

তিনি আরও বলেন, আমি কোনো ভায়োলেন্স পছন্দ করি না। আমার কোনো বাহিনী নেই। অনেক বাধা-বিপত্তি এসেছে। এমনকি হকার ইস্যুতে আমাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। আমরা কর্মীরা মানব ঢাল তৈরি করে আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু কখনো আমি বাহিনী গড়িনি বা প্রতিশোধপরায়ণ হইনি। শান্তিপূর্ণভাবে নারায়গঞ্জের মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমাকে অনেকবার আঘাত করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই আমি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম।

নারায়ণগঞ্জে ভোট কমার কারণ উল্লেখ করে আইভী বলেন, ভোট কমেছে ইভিএমের কারণে। এমন না যে আমার ভোটাররা ভোট দিতে আসেননি। ইভিএম অনেক স্লো ছিল, নষ্ট ছিল। অনেকেই ভোট দিতে পারেননি। ফিঙ্গার মেলাতে পারেনি।

তিনি বলেন, তৈমূর আলম বিএনপি থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। কিন্তু উনার সব উইং কাজ করেছে। বিএনপি কাজ করবে এটা সত্য। কিন্তু বিহাইন্ডে তিনি যাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছিলেন, তারা ভোটে ভয়াবহ ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেছে। সেটা কাউন্সিলরদের মধ্যে বা নিজেদের মধ্যে করার চেষ্টা হয়েছে। এমনটি হলে স্থানীয় নিবার্চন আর উৎসবমুখর হবে না।

ধর্মীয় উসকানি দিয়েও অনেক অপপ্রচার করা হয়েছে উল্লেখ করে নাসিক মেয়র বলেন, আমি নাকি মসজিদের জায়গা ভেঙে দিয়েছি, আমি নাকি ‘জয় বাংলা’ পড়ে মরতে চাই, কালেমা পড়ে নয়- এসব কথা ছড়ানো হয়েছে। আমি মসজিদের জায়গা ভাঙিনি, বরং সাতটা মসজিদ নির্মাণ করে দিয়েছি। মন্দির করেছি, শ্মশান করেছি, গির্জা করেছি। আমি ঘোমটা কেন দিলাম না, এ নিয়েও অপপ্রচার হয়েছে। আমার কাছে অবাক লাগে- উনারা এত লেখাপড়া করা মানুষ, এত মিথ্যা কথা কিভাবে বলেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি নৌকা প্রতীকে বিপুল ভোটে জয় পান আইভী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, ১৯২টি কেন্দ্রে মোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ ভোট পেয়েছেন আইভী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাতি মার্কার তৈমূর আলম খন্দকার পেয়েছেন ৯২ হাজার ১৬৬ ভোট।

;

টাঙ্গাইলে হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, টাঙ্গাইল
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের ভুটিয়া এলাকায় পুলিশ সদস্যদের মারধর করে হাতকড়াসহ রিপন(৩৮) নামের এক আসামিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। 

শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রাতেই পুলিশ গিয়ে উক্ত আসামি রিপনসহ দুইজনকে গ্রেফতার করে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন-গোপালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সালাউদ্দিন ও কনস্টেবল মাখন চন্দ্র সূত্রধর।

গ্রেফতাকৃতরা হলেন-চিলাবাড়ি গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রিপন ও ভুটিয়া গ্রামের মৃত ইনতাজ আলীর ছেলে মিজানুর রহমান (৪০)। 

শনিবার (২২ জানুয়ারি) তাদেরকে টাঙ্গাইলে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, আসামি রিপনের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও অপহরণ মামলায় ওয়ারেন্ট ছিল। গোপালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সালাউদ্দিন ও কনস্টেবল মাখন তাকে ধরতে শুক্রবার রাতে ধোপাকান্দি ইউনিয়নের ভুটিয়া এলাকায় যান।

এ সময় রিপনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় ধোপাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের ভাই মিজানুর রহমান তার লোকজন নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ সদস্যদের মারধর করে হাতকড়াসহ আসামিকে নিয়ে যায় তারা। 

পরে পুলিশ আহত হওয়ার ঘটনায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পুনরায় হাতকড়াসহ আসামি রিপনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া মিজানুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

এদিকে হামলায় আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে এস আই সালাউদ্দিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কনস্টেবল মাখনকে ভর্তি রাখা হয়। 

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, রিপনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসার সময় মিজানুর ও তার লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাতকড়াসহ আসামি রিপন ও মিজানকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

;

বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার নাম পদ্মা সেতু: নৌপ্রতিমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

  • Font increase
  • Font Decrease

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, পদ্মা সেতু একটি আত্মমর্যাদার নাম, একটি সাহসের নাম, বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার নাম।

তিনি বলেন, পদ্মাসেতু আমাদেরকে অহংকার ও মর্যাদার জায়গায় নিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বব‍্যাংককে চ‍্যালেঞ্জ করে পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করেছেন। ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন।

শনিবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর কমলাপুরস্থ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোতে (আইসিডি) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আয়োজিত আইসিডির মেট শ্রমিক ও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি দেখে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী চক্রান্ত করছে। ষড়যন্ত্র হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সপ্তম নৌবিহার পাঠিয়েও বাংলাদেশের বিজয় আটকাতে পারেনি। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি মার্কিন -বৃটিশ বেনিয়াদের সহ‍্য হচ্ছে না। তারা টেনে ধরার ষড়যন্ত্র করছে। ষড়যন্ত্রকারীদের সম্পর্কে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র করছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সোনার বাংলা বিনির্মাণের লক্ষ‍্যে পৌঁছে গেছি। অপপ্রচার চালিয়ে অগ্রগতি থামানো যাবে না। আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে কিন্তু সংকট নাই। ২০৩০ সালের মধ‍্যে বাংলাদেশ ২৪তম অর্থনৈতিক উন্নয়ন দেশ হবে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পদ্মা সেতুর কানেক্টিং পয়েন্ট কমলাপুর ইনল‍্যান্ড কন্টেইনার ডিপোতে (আইসিডি) সংযুক্ত হলেও আইসিডি পরিচালনায় সমস‍্যা হবে না। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আইসিডি অন‍্য জায়গায় স্থানান্তর করা হলেও শ্রমিকদের কাজের কোন সমস‍্যা হবে না। আমরা আরও আইসিডি প্রতিষ্ঠা করব। সে সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ অহংকারের বিজয় অর্জন করেছে। সে বিজয় এবং অহংকার; অন্ধকারে হারিয়ে যায় স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে হত‍্যা করার মাধ‍্যমে। বঙ্গবন্ধুকে হত‍্যা করার পর বাংলাদেশ বিবর্ণ হয়ে যায়। সারা বিশ্বে পরিচয় পায় ক্ষুধা, দারিদ্র ও বন‍্যাকবলিত বাংলাদেশ। দেশে দারিদ্রতা বিক্রি করে বিভিন্ন জন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; নোবেল পুরস্কার পেয়েছে অথচ বাংলাদেশের মানুষের ভাগ‍্যের পরিবর্তন হয়নি। দারিদ্র বিমোচন হয়নি।

অনুষ্ঠানে অন‍্যান‍্যের মাঝে বক্তব‍্য রাখেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম‍্যান রায়ার এডমিরাল এম শাহজাহান, আইসিডির ম‍্যানেজার আহমাদুল করিম এবং আইসিডির শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তুষার খান বাবুল।

;