‘ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, এখনো করোনার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি ব‍্যবসায়ীরা। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। সরকারের দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি। বিশ্ব বাজারে বর্তমানে তেলের দাম কমেছে দেশেও দাম কমানো উচিত। জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে ডলারের মতো বিশ্ব বাজারের সঙ্গে মিলিয়ে দাম কমানো-বাড়ানো প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) মতিঝিলের এফবিসিসিআই আইকনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে এফবিসিসিআই প্রতিনিধি দলের যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

জসিম উদ্দিন বলেন, বিশ্বে এখন বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। সবাই আমাদের বড় বাজার হিসেবে মনে করছে। আমাদের এখানে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আগে আমাদের কোন ইকোনমিক জোন ছিল না, হাইটেক পার্ক ছিল না। বিনিয়োগের জন‍্য বিদেশি ব‍্যবসায়িদের আমন্ত্রণ জানাতে পারতাম না। কিন্তু এখন আমাদের ১০১টি ইকোনমিক জোন তেরি হচ্ছে। ইপিজেড রয়েছে ৮টি। আমরা বিদেশিদের এখন আমন্ত্রণ জানাতে পারছি তারা গ্রহণও করছে।

তিনি বলেন, ইউরোপে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রথম প্রজন্ম কষ্ট করেছে। তারা ছোট ছোট কাজ করেছে। তবে এখন দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্ম সেখানে আর ছোট কাজ করে না। তারা বড় বড় ব‍্যবসা করছে, চাকরি করছে। তবে তারা বাংলাদেশ সম্পর্কে তেমন একটা জানে না। আমরা তাদের টার্গেট নিয়েছি। তাদের মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশকে ব্র‍্যান্ডিং করাবো। ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি ও আমদানি বাড়াবো।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, এলডিসি গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ। ফলে আমাদের সামনে এখন দুটি চ‍্যালেঞ্জ রয়েছে। একটি হচ্ছে এফডিএ অন‍্যটি মধ‍্যম আয়ের দেশ হতে হলে ব‍্যবসায় পরিধি বাড়াতে হবে। বতর্মানে আমাদের রফতানি হয় ৫৫-৬০ বিলিয়ন ডলার সামনে এটা ৩০০ বিলিয়নে উন্নীত করতে হবে।

জিএসপি সুবিধা শেষ হলেও বাংলাদেশে তেমন প্রভাব পড়বে না দাবি করে তিনি বলেন, আমরা আমেরিকার বাজারে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছি না। তাই বলে আমাদের রফতানি থেমে নেই। করোনাকালীন সময়েও দেশটিতে আমাদের আয় বেড়েছে। এটা থেকে প্রমাণিত হয় আমরা সামনে কিছু সুযোগ সুবিধা হারালেও দেশের অর্থনীতিতে এর তেমন একটা প্রভাব পড়বে না।

ইউরোপের বাজারে ব‍্যবসা বাড়াতে হলে ব‍্যবসায়িদের আরও অগ্রসর চিন্তা ভাবনা করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ইউরোপের বাজারে আমরা গার্মেন্টস শিল্পের মাধ্যমে একটি অবস্থান তৈরি করতে পেরেছি। তবে ব‍্যবসায়ি মানুষের এখন রুচি পরিবর্তন হচ্ছে। তারা এখন স্পোর্টস কাপড় পড়ে অফিস করছে। এখন আর কেউ কোট-টাই পড়ছে না। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আমাদের পণ‍্য পরিবর্তন করতে হবে। যেমন ইউরোপে কেউ শাড়ি পড়ে না। এজন্য আমরা শাড়ির কাপড় থেকে তাদের পছন্দ অনুযায়ী অন‍্য একটি পোশাক তৈরি করতে পারি। এতে নতুন বাজার তৈরি হবে।

এই সফরে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ৬টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে এফবিসিসিআই।

সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই'র সিনিয়র সহ সভাপতি, সহ-সভাপতিবৃন্দ এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।