ভূমিকম্পে প্রকম্পিত বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার সীমান্ত



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ভূমিকম্পে প্রকম্পিত বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার সীমান্ত

ভূমিকম্পে প্রকম্পিত বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার সীমান্ত

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম থেকে: শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) ভোরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার সীমান্ত। কম্পনের বিস্তারের ফলে ভৌগোলিকভাবে সংলগ্ন তিন দেশের বিরাট এলাকায় সৃষ্টি হয় কম্পন ও আতঙ্ক। দক্ষিণ এশিয়ার মিডিয়াগুলো ছাড়াও ভূমিকম্পের খবর প্রাধান্য পেয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে।

ভূমিকম্পের উৎসস্থল সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হলেও কম্পনের মাত্রা নিয়ে তিন দেশে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে। ভারতের জাতীয় ভূতাত্ত্বিক কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.১। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮, যা বাংলাদেশে অনুভূত হয়।

জানা গেছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত সংলগ্ন মিয়ানমারের চিন রাজ্যের রাজধানী হাখা শহরের ২০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠের ৪২ কিলোমিটার গভীরে এ কম্পনের সৃষ্টি হয়। নির্দিষ্ট কোন টেকটনিক প্লেট এই কম্পনের পিছনে রয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কিছু জানা যায়নি। তবে, ভূমিকম্পের বিস্তৃতির মধ্যকার দেশগুলোর কোথায়ও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

গোগল আর্থ সার্চে দেখা যায়, ভূমিকম্পের উৎসস্থল মিয়ানমারের চিন রাজ্যের রাজধানী হাখা শহর বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ১৫০ থেকে ১৭০ কিলোমিটার রেডিয়াসের মধ্যে। ফলে বৃহত্তর চট্টগ্রামে ভূকম্পনের স্থায়ীত্ব ও ব্যাপ্তি ছিল অনেক বেশি। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে চট্টগ্রামের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, 'তিনি জোর কম্পন অনুভব করেছেন।'

বার্তা২৪.কম'কে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকার অধিবাসীরা ভূমিকম্পের আতঙ্কজনক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। হিলভিউ এলাকার বাসিন্দা শামসুল ফয়েজ বলেন, 'ফজরের নামাজের পর পরই তীব্র ও অপেক্ষাকৃত দীর্ঘস্থায়ী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর ঝাঁকুনি ছিল তীব্র। অনেক মানুষ ভয়ে দিকবিদিক ছুটাছুটি শুরু করেন।'

নাসিরাবাদের কুতুবউদ্দিন আহমদ বলেন, 'কম্পনে বাসার সব আসবাবপত্র নড়তে থাকে। স্পষ্টভাবে টের পাওয়া গেছে ভূমিকম্প। অনেক ঘুমন্ত মানুষ ঝাঁকির ফলে আতঙ্কে জাগ্রত হয়ে পড়েন।'

ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ তীব্র ভূকম্পন অনুভব করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। অনেকেই স্পষ্ট ও দীর্ঘস্থায়ী ভূমিকম্পের বর্ণনা দিয়েছেন। চট্টগ্রামের মতোই ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে ঢাকা, কক্সবাজার, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, সিলেটের মতো জায়গা।

ভূমিকম্পের জেরে কেঁপে উঠে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তরবঙ্গ-সহ কলকাতাও। ভারতীয় মিডিয়ার মতে, শুক্রবার ভোর সওয়া ৫টা নাগাদ কলকাতায় অনুভূত হয় কম্পন। কম্পনের স্থায়িত্ব ছিল ৩০ সেকেন্ড। ভারতের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া ভবন জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎসস্থল ভারতের সীমান্তবর্তী মিজোরাম রাজ্যের থেনজল থেকে ৭৩ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে ১২ কিমি গভীরে অবস্থিত ছিল।

ভূমিকম্পের তীব্র প্রভাব পড়ে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন জনপদে। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজারের মতো ভারতের সীমান্তবর্তী আসাম, ত্রিপুরা রাজ্যেও অনুভূত হয়েছে বড় আকারের কম্পন। দক্ষিণ এশিয়ার মূলধারার সংবাদ মাধ্যম ও নেটমাধ্যমে সকাল থেকেই প্রাধান্য পাচ্ছে ভূমিকম্প প্রসঙ্গ।