‘শীত এলেই আমাগো কষ্ট বাড়ে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, টাঙ্গাইল
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

গরমের দিনে আখের রস ভালোই বিক্রি করি। তখন বেচাকিনি ভালো হওয়ায় প্রতিদিন ছয় থেকে আটশো টাকা লাভ থাকে। এ টাকা দিয়েই পরিবার নিয়ে কোন রকমে জীবন যাপন করি। তবে শীতের দিনে লোকজন আখের রস তেমন একটা খায় না। এতে বেচাবিক্রি একদমই কমে যায়। আয় রোজগার কম হওয়ায় অনেক কষ্টে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতে হয়। শীত এলেই আমাগো কষ্ট বাড়ে।

বৃহস্পতিবার ( ২৫ নভেম্বর) টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হলে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন আখের রস বিক্রেতা নূর মোহাম্মদ। বর্তমানে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে করটিয়াতে ভাড়া বাসায় থাকলেও আখের রস বিক্রি করতে প্রতিদিন বাসাইল আসেন। শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ছয়দিন একই স্থানে সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত আখ মাড়াই করে রস বিক্রি করেন।


নূর মোহাম্মদ বলেন, বোনদের বিয়ে দিতে গিয়ে জমিজমা বিক্রি করতে হয়েছে। কাজের সন্ধানে নিজের এলাকা ছেড়ে করটিয়াতে ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে চলে আসি। তিন বছর বাইপাস এলাকায় শ্রমিকের কাজ করেছি। পরে গত বছর কোন রকমে টাকা পয়সা ম্যানেজ করে আখের রসের মেশিনটি কিনেছি। যেভাবে পরিশ্রম করি সেভাবে আয় করতে পারি না। সকাল থেকে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আখের রস বিক্রি করে বাসায় আসি। তারপর আবার দুই আটি আখের উপরের অংশ পরিষ্কার করতে হয় রাত ১১টা পর্যন্ত।

টাঙ্গাইল সদর, মির্জাপুর উপজেলা, নাগরপুর উপজেলা, ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে আখ সংগ্রহ করি।বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জ ও হাটে-বাজারে গিয়ে  আখ মাড়াই করে রস বিক্রি করে থাকি। প্রতিটি আখ কিনতে হয় ৩০ টাকা করে। আখের দাম বেশি হওয়ায় লাভ হয় কম। আর যদি মেলা ও অনুষ্ঠান থাকে কোন জায়গায় সে জায়গায় গিয়েও আখের রস বিক্রি করে থাকি। এই শীতের সময় যদি সংসার চালাতে সরকারি কোন সহযোগিতা পাওয়া যেতো অনেক উপকার হতো।

সাজু নামের এক ব্যক্তি বলেন, ভ্যাপসা গরমের সময় প্রতিদিনই নূর মোহাম্মদের আখের রস খেতে আসি। তখন তার দোকানে বেচাকেনাও ভালো থাকে। তাছাড়া সে অনেক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে রস বিক্রি করে।

আরেক রস ক্রেতা আব্দুল হামিদ বলেন, নূর মোহাম্মদ অনেক ভালো আখ সরবরাহ করে রস বিক্রি করে। তারপরও শীতের দিনে চাহিদা কম থাকায় বিক্রি কম হয়। এতে আয় রোজগার কমে যাওয়ায় তার সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যায়।

এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহাদত হোসেন খান বলেন,নূর মোহাম্মদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে তাকে রাজস্ব তহবিল থেকে সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।