পারাপারের একমাত্র অবলম্বন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো



ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নীলফামারীর জলঢাকায় গোলমুন্ডা ধুম নদীতে যুগ যুগ ধরে পারাপারের একমাত্র অবলম্বন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো। এতে সেতুর অভাবে দুর্ভোগে আছেন দুই গ্রামের মানুষ।

নদীর উত্তর তীরে একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং একটি প্রাইমারি স্কুল, দক্ষিনে ব্যবসাকেন্দ্র গোলমুন্ডা বাজার ও উপজেলা প্রশাসন। স্কুল-কলেজ এবং হাসপাতাল যাতায়াতের জন্য পার হতে হয় ঝুকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো। এতে ৩ যুগের বেশি সময় ধরে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে গোলমুন্ডা শ্যামপুর পাড়া এবং ভাবঞ্চুর এলাকার মানুষ।

এছাড়াও প্রতিবার নামাজ আদায়ের জন্য শ্যামপুর পাড়ার মানুষকে পাড় হতে হয় এই বাঁশের সাঁকো। বর্ষাকালে ভেঙে গেলে পারাপারের জন্য বানাতে হয় কলা গাছের ভেলা।

ধুম নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো নির্মাণে গ্রাম বাসিকে পরতে হয় নানা জটিলতায়। ৬ মাস পর পর নির্মান করতে হয় বাঁশের সাঁকো। এতে বাঁশ সংগ্রহ অনেকটাই ভোগান্তির বিষয় বলে জানান এলাকাবাসী। তাদের দাবি যত দ্রুত সম্ভব ব্রিজ বাস্তবায়ন করা উচিত।

ছবি: বার্তা২৪.কম

শ্যামপুর পাড়ার নির্বাসি আকরাম ইসলাম বলেন, 'কোন মালামাল আনতে হলে ব্রিজটির জন্য প্রায় ২ থেকে ৩ মাইল পথ ঘুরে আসতে হয়। সাঁকোটিতো টিকে না। এছাড়াও বহুবার ছোট বাচ্চারা পরে গিয়েছিল। এদিকে বৃদ্ধ মানুষ এই সাঁকো দিয়ে হাটতে পারেনা। ব্রিজটি হলে আমাদের কষ্ট কমবে'।

আর্জিনা বেগম বলেন, 'গত বন্যায় আমি আমার বাচ্চাকে নিয়ে পার হচ্ছিলাম। হটাৎ আমার বাচ্চা পরে যায়, আমি হাত ধরে তাকে বাচাই। আমি না থাকলে সেদিন আমার বাচ্চা পানিতে পরে মারা যেত। আমরা যাতায়াত করতে পারিনা। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ এই ব্রিজটা তৈরি করার জন্য'।

গোলমুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সাবেক এমপি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা সংসদ সদস্য থাকা কালিন এই ব্রিজটির জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়। কিন্তু স্থাপন স্থান জটিলতায় ব্রিজটি স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা আব্দুর রউফের কাছে জানতে চাইলে সাক্ষাৎকার দিতে অনুমতি লাগে বলে এরিয়ে যান তিনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসানের সাথে কথা বললে তিনিও সাক্ষাৎকার না দিয়ে এরিয়ে যান।

কিন্তু যুগের পর যুগ ব্রিজ হবে এই স্বপ্নে দিন কেটে যাচ্ছে এই এলাকার মানুষের। কবে বাস্তবায়ন হবে বরাদ্দকৃত ব্রিজটির সেই আশাঙ্কা যেন থেকে যাচ্ছে এই এলাকার মানুষের।

নারায়ণগঞ্জে তালাক হওয়া স্বামীর ঘরে স্ত্রীর লাশ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নারায়ণগঞ্জ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সাবেক স্বামীর ঘর থেকে স্ত্রী ময়নার (১৯) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী রেজাউলকে আটক করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।

সোমবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চবটি বন বিভাগ সংলগ্ন ফয়সালের পরিত্যক্ত ইটভাটার একটি ঘর থেকে নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

নিহত ময়না বরগুনা জেলার আমতলী থানার চরগাছিয়ার মো. আলমের মেয়ে। তিনি গার্মেন্টকর্মী ছিলেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী ফতুল্লা মডেল থানার উপ পরিদর্শক রাসেদ জানান, নিহত ময়নার সাথে বেশ কয়েক মাস পূর্বে তার স্বামী রেজাউলের তালাক হয়। এরপর তারা আবার সংসার শুরু করেন। ৮-১০ দিন পূর্বে তাদের মধ্যে আবারও বিচ্ছেদ হয়। ময়না আগে থেকেই লোহার মার্কেট সংলগ্ন আরবি গার্মেন্টসে চাকরি এবং পাশেই একটি বাসায় ভাড়া থাকত।

অপর দিকে স্বামী রেজাউলও একজন গার্মেন্টসকর্মী এবং বন বিভাগ সংলগ্ন ফয়সালের পরিত্যক্ত ইট খোলার জায়গায় তার বাবাকে নিয়ে একটি ঘরে বসবাস করত। ফয়সালের বাবা স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে চাকরি করেন। সোমবার সকালে পিতা-পুত্র উভয়েই নিজ নিজ কর্মস্থলে চলে যায়। রেজাউলের বাবা দুপুরে খাবার খেতে এসে দেখেন ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচানো ময়নার ঝুলন্ত লাশ। পরে পুলিশে সংবাদ দিলে পুলিশ দুপুর তিনটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রেজাউলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

ফতুল্লা মডেল থানার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান জানান, সংবাদ পেয়ে গলায় ফাঁস লাগানো নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

;

দুই বছর স্কুল বন্ধ থাকায় প্রায় ৬৪ কোটি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা ভাইরাস মহামারি দেড় বছরের বেশি সময় স্কুল বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে। মহামারিকালে বিশ্বজুড়ে স্কুল সর্ম্পূণ বা আংশিক বন্ধ থাকার কারণে ৬৩ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইউনিসেফের এর জরিপে উঠে এসেছে। 

আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসে এবং কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর দুই বছর পূর্ণ হওয়ায় ইউনিসেফ শিশুদের পড়াশোনার ওপর মহামারির প্রভাব সম্পর্কে প্রাপ্ত সর্বশেষ উপাত্ত তুলে ধরেছে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ফের বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ২৩ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২ পর্যন্ত স্কুল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মি. শেল্ডন ইয়েট বলেন, ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলার ক্ষেত্রে স্কুল বন্ধ করতে হলে তা অবশ্যই শেষ অবলম্বন হিসেবে অস্থায়ী ভিত্তিতে করতে হবে। সংক্রমণের ঢেউ সামাল দিতে আমরা যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছি তার মধ্যে প্রতিষ্ঠান বন্ধের ক্ষেত্রে সবার শেষে এবং খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবার প্রথমে স্কুল থাকা উচিত।’

ইউনিসেফের শিক্ষা বিষয়ক প্রধান রর্বাট জনেকন্সি বলেন, ‘বৈশ্বিক শিক্ষা ব্যবস্থায় কোভিড-১৯ নামক বাঁধার দুই বছর পুর্ণ হবে আগামী মার্চে। খুব সহজভাবে বললে, আমরা শিশুদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে প্রায় অপূরণীয় মাত্রার ক্ষতি দেখতে পাচ্ছি, তবে পড়াশোনার ক্ষেত্রের এই প্রতিবন্ধকতার অবসান ঘটাতে হবে এবং শুধু স্কুল পুনরায় খুলে দেওয়াই এক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। পড়াশোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শিক্ষার্থীদের নিবিড় সহায়তা প্রয়োজন। শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য, সামাজিক বিকাশ এবং পুষ্টি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে স্কুলগুলোকে শুধু শেখানোর নির্ধারিত গন্ডির বাইরেও যেতে হবে।’

ইউনিসেফের জরিপে উঠে এসেছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে স্কুল বন্ধের কারণে পড়াশোনার ক্ষতি হওয়ায় ১০ বছর বয়সীদের ৭০ শতাংশই সহজ পাঠ্য পড়া বা বোঝার সক্ষমতা র্অজন করতে পারেনি, যা মহামারির আগের সময়ের তুলনায় ৫৩ শতাংশ বেশি।

ইউনিসেফ বলেছে, মহামারিকালে স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুরা গণনা ও স্বাক্ষরতার মৌলিক দক্ষতা হারিয়েছে। বৈশ্বিকভাবে পড়াশোনায় ব্যাঘাতের অর্থ হলো- লাখ লাখ শিশু শ্রেনীকক্ষে থাকলে যে একাডেমিক শিক্ষা অর্জন করতে পারতো তা থেকে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বঞ্চিত হয়েছে, যেখানে ছোট ও আরও বেশি প্রান্তিক শিশুরা সব চেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

ইথিওপিয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা স্বাভাবিক শিক্ষাবর্ষে যে পরিমাণ গণিত শিখতে পারতো তার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শিখতে পেরেছে বলে ধারণা করছে ইউনিসেফ।

ব্রাজিলের বেশ কয়েকটি প্রদেশ গ্রেডে ২-এর প্রতি ৪ শিশুর মধ্যে ৩ জন পড়ার দক্ষতা অর্জন থেকে বিচ্যুত হয়েছে। যা মহামারির আগে ছিল প্রতি ২ শিশুর মধ্যে একজন। দেশটিতে ১০-১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে ১ জন জানিয়েছে। তাদের স্কুল পুনরায় খুলে দেওয়ার পরে তারা আর স্কুলে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে না। টেক্সাস ২০২১ সালে গ্রেড ৩-এর দুই-তৃতীয়াংশ শিশুদের তাদের গ্রেডের জন্য গণিতে দক্ষতা কম ছিল। ২০১৯ সালে এই হার ছিল অর্ধেক শিশু।

যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, টেনেসি, উত্তর ক্যারোলিনা, ওহাইও, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডসহ অনেক অঙ্গরাজ্যে পড়াশোনার ক্ষতি পরিলক্ষিত হয়েছে। 

দক্ষিণ আফ্রিকায় স্কুলগামী শিশুদের শিক্ষাবর্ষে যে অবস্থানে থাকার কথা তার চেয়ে তারা ৭৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পিছিয়ে আছে। ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের জুলাইয়ের মধ্যবর্তী সময়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ শিক্ষার্থী স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে বলে জানা গেছে।

স্কুল বন্ধ থাকায় তা পড়াশোনার ক্ষতির পাশাপাশি শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করছে, তাদের নিয়মিত পুষ্টি প্রাপ্তির উৎস কমিয়ে দিয়েছে এবং তাদের নিগ্রহের শিকার হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

ইউনিসেফের গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিড-১৯ শিশু ও তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চ হারে উদ্বেগ ও বিষন্নতা সৃষ্টি করেছে, যার হার কিশোর-কিশোরী এবং গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী শিশুদের মধ্যে বেশী।

ইউনিসেফ আরও জানিয়েছে স্কুল বন্ধ থাকার সময়ে বিশ্বব্যাপী ৩৭ কোটিরও বেশী শিশু স্কুলের খাবার থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যা কিছু শিশুর জন্য খাবার ও দৈনিক পুষ্টি প্রাপ্তির একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস এবং তারা সেটা হারায়।

 

;

লাউয়াছড়া বন থেকে মানব কঙ্কাল উদ্ধার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মৌলভীবাজার
লাউয়াছড়া বন থেকে মানব কঙ্কাল উদ্ধার

লাউয়াছড়া বন থেকে মানব কঙ্কাল উদ্ধার

  • Font increase
  • Font Decrease

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়ার বন থেকে মানব কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয় চা শ্রমিক বৌন বাউরি লাউয়াছড়া বনের স্টুডেন্ট ডরমিটরির পাশের জঙ্গল থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যায়। এসময় সে আশপাশের কয়েকটি স্থানে মানুষের কঙ্কাল সাদৃশ্য বস্তু দেখে পুলিশে খবর দেয়।

কঙ্কালের পাশে গাছের সাথে পেঁচানো একটি শাড়ি পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ এসে হাড়গুলো উদ্ধার করে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে কঙ্কালগুলো মাধবপুর ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান আছিদ আলীর বোনের।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় সাড়ে চার মাস আগে আছিদ আলীর বোন নিখোঁজ হয়। শাড়ি দেখে তারা ধারণা করছেন কঙ্কালগুলো নিখোঁজ হওয়া আছিদ আলীর বোনের হতে পারে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সোহেল রানা বলেন, হাড়গুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হবে। এরপর কঙ্কালটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে। এবিষয়ে থানায় একটি ইউডি মামলা হবে বলেও তিনি জানান।

;

রাজশাহীতে করোনার সংক্রমণ ৭০ শতাংশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হারে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সংক্রমণের হার বাড়তে বাড়তে ৭০ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে। করোনার এমন ভয়ানক সংক্রমণেও মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা নেই বললেই চলে। সবখানেই অনেকটা গা-ছাড়া ভাব।

সোমবার রাজশাহীর দুটি পিসিআর ল্যাবে এ জেলার ৫৪৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩৮২টি নমুনাতেই করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় সংক্রমণের হার ৭০ দশমিক ০৯ শতাংশ। করোনা সংক্রমণের এই হার এত বেশি আগে আর কখনই হয়নি। দেশে করোনার অমিক্রন ধরন শনাক্তের পরই রাজশাহীতে প্রাণঘাতি এ ভাইরাসের সংক্রমণের এই রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাজশাহীর ১৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ৯৯টি করোনা পজিটিভ হয়েছে। এখানে সংক্রমণের হার ৫৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আর রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ৫৪৫টি নমুনার মধ্যে ৩৮২টিতে করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ৫৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। সংক্রমণের গড় হার ৭০ দশমিক ০৯ শতাংশ।

আগের দিন রোববার জেলার ৪৫৮টি নমুনা পরীক্ষা হয়। এতে ২২৮ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট হয়। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে করোনার সংক্রমণের হার ছিল ৬০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। কিন্তু একদিনের মধ্যে সংক্রমণ বেড়ে গেল ১০ শতাংশ। রাজশাহীতে করোনার ডেলটা ধরনের সময়ও এত দ্রুত সংক্রমণ বাড়েনি।

এদিকে সোমবার রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের ৯২ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ৬২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। সংক্রমণের হার হয় ৬৭ শতাংশ। ক্যাম্পাসেও করোনার এমন সংক্রমণে উদ্বিগ্ন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিশ^বিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান ড. তবিবুর রহমান বলেন, আমাদের এখানে করোনা সংক্রমণ খুবই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। যদি এভাবে ক্রমাগত বাড়তে থাকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া মুশকিল হবে। শিক্ষাথীদের উচিত হবে যাদের অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে তাদের বাড়ি চলে যাওয়া। অন্যথায় সবার মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। তিনি আরও বলেন, যারা এখনো টিকার আওতায় আসেনি তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনতে হবে। স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে শিক্ষাথীদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত।

এদিকে গোটা রাজশাহীতেই হু হু করে সংক্রমণ বাড়লেও এখনও পথে-ঘাটে মানুষ ঘুরছেন মাস্ক ছাড়া। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিন্দুমাত্র চেষ্টাও করছেন না কেউ। তবে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত সীমিত পরিসরে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর চেষ্টা করছে। সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালত ৭টি মামলায় সাতজনের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে। একজনকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। করোনা সচেতনতায় বিতরণ করা হয়েছে ১০৭পিস মাস্ক।

;