সাকার মাছের বিস্তাররোধে সংশোধন হচ্ছে মৎস্য আইন



তরিকুল ইসলাম সুমন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে কালছে কাঁটাযুক্ত একধরনের মাছ, যাকে আমরা সাকার ফিশ বা সাকার মাউথ ক্যাটফিশ। অনেকে আবার গ্লাস ক্লিনার হিসেবেও চিনে থাকি। যে কোনো পরিবেশে মানাতে পারে বলে বংশবৃদ্ধিও খুব বেশি। যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এখনই এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে আমাদের দেশিয় প্রজাতির মাছের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দেবে এই মাছ।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজ বার্তা২৪.কমকে বলেন, মাছটি আমাদের দেশ ও পরিবেশের জন্য ভালো নয়। আমরা আমাদের সকল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ নিয়েছি যেখানে এই মাছ পাওয়া যাবে সেখানেই এটি ধ্বংস করতে হবে। কোনো পুকুরে এ মাছ দেখা গেলে পুকুরের পানি নিষ্কাশন করে এই মাছ নিধন করতে হবে। পাশাপাশি মৎস্যচাষীদের এ মাছের কুফল সম্পর্কে সচেতন করার কাজ চলছে।

তিনি আরো বলেন, এই মাছ দেশ থেকে বিলুপ্ত বা মেরে ফেলার জন্য আমরা মৎস্য আইন ২০১১ সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছি। যেখানে বিদেশি মাছের ব্রিডিং, শাস্তি, ক্ষতিকর মাছ নিধনসহ বেশ কিছু সংযুক্তি আনা হবে।

তিনি আশা করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে।

মৎস্য বিজ্ঞানীরা জানান, এটি দক্ষিণ আমেরিকায় ব্যাপকভাবে দেখা যায়। আশির দশকে এটি অ্যাকুয়ারিয়ামের শেওলা ও ময়লা পরিষ্কার করতে এই মাছ বিদেশ থেকে আনা হয়। সাকার ফিশ দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য হুমকি, মাছটির শরীর অনেক খসখসে ও ধারালো। এর পাখনাগুলোও অনেক ধারালো।

১৬-১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হওয়া এই মাছ প্রচুর পরিমাণে খাবার খায়। বিশেষত জলাশয়ের সব শ্যাওলা খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। এছাড়া চিংড়ি ও ছোট শামুক জাতীয় শক্ত খোলের প্রাণী খেয়ে সাবাড় করে ফেলে। এদের লেজে ও পাখার আঘাতে অন্য মাছের দেহে ক্ষতের সৃষ্টি হয়।

এরা খুব দ্রুত বংশবিস্তার করে অন্যান্য মাছের আবাসস্থল দখল করে ফেলে। মাছটি পানি ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে। এদের মধ্যে লাফানোর প্রবণতা থাকায় তারা এক জলাশয় থেকে আরেক জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে আনায়াশেই। তবে আমাদের দেশে এটা কতোটা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তা নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন রয়েছে।

মৎস্য অধিদফতরের উপপরিচালক (মৎস্য চাষ) ড. মো. খালেদ কনক বার্তা২৪.কমকে জানান, দেশে প্রায় সব জেলাতেই এই মাছ ছড়িয়ে পরার শঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো আমারা নিশ্চিত নই, সব জেলায় ছড়িয়ে পরেছে কি না। তবে এটি বলার অপেক্ষা রাখে না, এটি দ্রুত ছড়িয়ে পরছে। এখনই বিস্তার রোধ করতে না পারলে আমাদের দেশীয় প্রজাতির জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দেবে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, সাকার ফিশ বিদেশ থেকে আনা হলেও এখন দেশের বিভিন্ন জলাশয়ে পাওয়া যাচ্ছে। সাকার মাছ দেশীয় প্রজাতির জন্য হুমকি, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

যে জলাশয় কিংবা নদীতে সাকার মাছ থাকবে, সেগুলো সেখানকার দেশীয় প্রজাতির মাছের খাবার ও আবাস স্থল নষ্ট করে দেবে, নষ্ট করে দেবে জলজ পরিবেশ। ফলে দেশীয় প্রজাতি মাছগুলো খাবার কম পাবে, এক পর্যায়ে হারিয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, আশির দশক থেকে এ পর্যন্ত এ মাছ নিয়ে আমাদের কোনো গবেষণা হয়নি। তবে গবেষণা প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।

ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলায় বিশ্বকে এক হয়ে কাজ করার ডাক প্রধানমন্ত্রীর



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভবিষ্যৎ মহামারী মোকাবিলায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সঙ্গত সাড়া প্রদানের জন্য ‘মহামারী চুক্তি’তে পৌঁছার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার পঁচাত্তরতম বিশ্ব স্বাস্থ্য অ্যাসেম্বলি’র উচ্চ পর্যায়ের অধিবেশনে সম্প্রচারিত একটি ভিডিও বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যত মহামারীগুলো মেকাবেলার লক্ষ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সঙ্গত সাড়া প্রদানের জন্য আমাদের অবশ্যই মহামারী চুক্তিতে পৌঁছাতে কাজ করতে হবে।’

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ২২-২৮ মে পর্যন্ত এ অ্যাসেম্বলি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারী শুরুর পর এটিই প্রথম ইন-পারসন স্বাস্থ্য বিষয়ক সমাবেশ।

শেখ হাসিনা বলেন, লাখ লাখ মানুষকে টিকাদানের প্রচেষ্টার বাইরে রেখে তারা টেকসইভাবে পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা নিশ্চিত করতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে, তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদন বাড়াতে প্রযুক্তি এবং কারিগরি জ্ঞান শেয়ার করা দরকার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী এখনও সারা বিশ্বে জীবন ও জীবিকার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে তার সরকার স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে মহামারীর হুমকি মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় সাপেক্ষ ২৮টি উদ্দীপনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি, যা আমাদের জিডিপির প্রায় ৬.৩ শতাংশ। আমরা প্রায় ৪০ মিলিয়ন ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নগদ ও অন্যান্য সহায়তা দিয়েছি। আমরা আমাদের জনগণকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ আশ্রয় শিবিরে মহামারী নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমার সরকার আমাদের জাতীয় বাজেট থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী কোভ্যাক্স-এর মাধ্যমে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন দান করার জন্য বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের লক্ষ্য অনুযায়ী জনসংখ্যার শতভাগেরও বেশি লোককে ইতিমধ্যে টিকা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ফ্রন্টলাইন পরিসেবা প্রদানকারীদের নিবেদিত কাজের জন্য কৃতজ্ঞ।’

বাংলাদেশ ওষুধ, পিপিই ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের পাঠিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে, ভ্যাকসিনকে বিশ্বব্যাপী গণসামগ্রী হিসাবে বিবেচনা করা উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়কে অবশ্যই ব্যাধির চাপের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের বিষয়ে বাড়তি মনোযোগ দিতে হবে।

অবহেলিত গ্রীষ্মম-লীয় রোগসহ চিকিৎসা গবেষণায় সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সকে সমন্বিতভাবে মোকাবেলা করতে হবে।

তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অসংক্রামক রোগের বিস্তারের বিষয়ে আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ক্যান্সার ও এবং ডায়াবেটিস রোগের বিষয়ে গবেষণা ও চিকিৎসার লাভের সুবিধার জন্য সকলকে আরও বিনিয়োগ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোকে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় জরুরি সাড়া প্রদানের অংশ হিসাবে সমাধান করা উচিত।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সড়ক দুর্ঘটনা, ডুবে মারা যাওয়া এবং অন্যান্য জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাই।’

প্রথাগত ওষুধের গবেষণা ও মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ভারত সরকার এবং ডব্লিউএইচও-কে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব বয়সের মানুষের জন্য সুস্থ জীবনযাপনের লক্ষ্যে এসডিজি-৩ অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, ‘আমরা ১৮ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে আমাদের জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা সেবা নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার সক্রিয়ভাবে শিশু পুষ্টি নিয়ে কাজ করছে এবং ২০০৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে স্টান্টিং এবং অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ২০২২ সালের শেষ নাগাদ দক্ষ ধাত্রীদের দ্বারা ৬৫ শতাংশ প্রসব এবং ২০২২ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ প্রসবপূর্ব-সেবা নিশ্চিত করা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য শাসনের ক্ষেত্রে ডব্লিউএইচও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাপালন করছে বলে উল্লেখ করে, তিনি বলেন, ‘আমাদেরক অবশ্যই ডব্লিওএইচওকে টেকসই অর্থায়ন করতে হবে এবং একে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সহায়তা দিতে এটিকে সক্ষম করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য এবং কূটনীতির জন্য আমাদের অগ্রাধিকারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তার ভূমিকা পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ফরাসী প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, কেনিয়া, বতসোয়ানা ও ক্রোয়াশিয়া প্রেসিডেন্টগণ, ইকুয়েডরের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘ মহাসচিব এ সময় বক্তৃতা করেন।

;

চাকরিজীবী থেকে এক ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী, অবশেষে গ্রেফতার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্র্তা২৪.কম, রাজশাহী
চাকরিজীবী থেকে এক ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী, অবশেষে গ্রেফতার

চাকরিজীবী থেকে এক ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী, অবশেষে গ্রেফতার

  • Font increase
  • Font Decrease

 

বাণিজ্যে স্নাতক শেষ করে একটা চাকরি করছিলেন ওয়াদুদ বুলবুল (৩৬)। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখেই কাটছিল দিন। মাস চারেক আগে শখ করে বন্ধুর সঙ্গে সেবন করেন ফেনসিডিল। এরপর ইয়াবা। তারপর আর এসব ছাড়তে পারেননি। নেশার জগতে ঢুকে টাকা জোগাড়ে তাঁকে এখন নামতে হয়েছে ছিনতাইয়ে। শনিবার রাতে বুলবুল গ্রেফতার হয়েছেন।

পুলিশ বলছে, বুলবুল এখন ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী। তাঁর বাড়ি রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়ায়। বুলবুলের বাবা গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ছিলেন। বাবার রেখে যাওয়া চারতলা বাড়ির একটি ফ্ল্যাটেই বাস করেন তিনি। গত শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক শাতিল সিরাজের স্ত্রী ইফফাত জাহান রিতার ভ্যানেটি ব্যাগ ছিনতাইয়ের পর শনিবার রাতে বুলবুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানা পুলিশ তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারেও পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ইফফাত জাহান রিকশায় চড়ে শহরের রেলগেট থেকে নিউমার্কেটের দিকে যাচ্ছিলেন। তখনই মোটরসাইকেল নিয়ে এসে ইফতারের ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে যান বুলবুল। পরে ক্লোজ সার্কিটের (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাঁকে শনাক্ত করা হয়। শনিবার রাতে লক্ষ্মীপুর মোড় থেকে তাকে গ্রেফতারও করা হয়। গ্রেপ্তারের সময়ই বুলবুল ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেন। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া ব্যাগ ও টাকা। তবে ইফফাতের মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়নি।

ওয়াদুদ বুলবুল জানান, তিনি একটি ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেনটিটিভ। চারমাস ধরে ফেনসিডিল ও ইয়াবায় আসক্ত। হাতে টাকা থাকলে তিনি ফেনসিডিল সেবন করেন। এক বোতল ফেনসিডিলের দাম দুই হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রতিদিন তার অন্তত ছয়টি ইয়াবা বড়ি লাগে। প্রতিটির দাম ২৫০ টাকা। নেশার টাকা জোগাড় করতেই তাকে ছিনতাই করতে হচ্ছে।

বুলবুল আরও জানান, এর আগেও তিনি এভাবে ছিনতাই করেছেন। ছিনতাই হওয়া মোবাইল ব্যবহার করলে কিংবা বিক্রি করলেও তাঁর ধরা পড়ার ভয় আছে। তাই ছিনতাই করা মোবাইল তিনি ড্রেনে ফেলে দেন। ইফফাত জাহানের মোবাইলটিও ফেলেছেন ড্রেনে।

ইফফাত জাহানের ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার সময় সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তাকে পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। বুলবুল জানান, জুমার নামাজ আদায়ের পর নেশার জন্য মাথা ব্যাথা করছিল। তখনই তিনি একটা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে বের হন। তবে ধরা পড়বেন তা ভাবেননি। এর আগেও ছিনতাই করলেও এবারই প্রথম তিনি ধরা পড়েছেন।

বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, নেশার টাকার জন্য অনেক ভাল পরিবারের সন্তানেরাও অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। বুলবুলও তাদেরই একজন। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুলবুল যেসব স্থান থেকে মাদক জোগাড় করতেন সেগুলোরও সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে অভিযান চালানো হবে।

;

ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি ১২’শ টাকা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, টাঙ্গাইল
ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি ১২’শ টাকা

ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি ১২’শ টাকা

  • Font increase
  • Font Decrease

ঘূর্ণিঝড়-রোদ ও বৃষ্টির মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে টাঙ্গাইলে কৃষকের স্বপ্নের সোনালী ফসল বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। জেলার ১২ উপজেলায় নিম্নাঞ্চল টানা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধান। আবার কয়েকটি উপজেলায় পাকা বোরো ধান পানিতে ডুবে পচেও গেছে। হাজার টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে চরম বিপাকে পড়েছেন ধান চাষিরা।

এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শ্রমিক সংকট হলেও উত্তরবঙ্গের ধান কাটা শ্রমিকরা দিন মজুর হিসেবে ধান কাটতে ভিড় করছেন জেলার সখীপুর, বাসাইল, মির্জাপুর, কালিহাতী ও দেলদুয়ার উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায়। এসব এলাকায় দলবদ্ধ হয়ে শ্রমিকরা ধান চাষিদের বাড়িতে চুক্তিতে ধান কাটতে যাচ্ছে।

রোববার (২২ মে) বিকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে শ্রমিক কেনা-বেচার দৃশ্য দেখা যায়। তিন থেকে ১২ জন করে গ্রুপ হয়ে ধান কাটতে আসেন তারা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শ্রমিক কেনা-বেচা হয়। এ হাটে শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য সর্বদা নজর রাখছেন স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা।

নাটোর থেকে আসা ধান কাটা শ্রমিক রহিজ মিয়া, রতন আলী ও করিম মন্ডল বলেন, কয়েকদিন আগে নিজের এলাকায় ধান কাটা শেষ হয়েছে। বাড়িতে বসে থেকে কী করব। জানতে পারলাম টাঙ্গাইলে ধানকাটা শ্রমিকের প্রতিদিন মজুরি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা। তাই এলাকার ৫ জনের একটি গ্রুপ এলেঙ্গায় শ্রমিক হাটে উঠেছি।

রংপুর থেকে আসা ধান কাটা শ্রমিক রমিজ আলী, রেজাউল করিম, হাফিজুর রহমান ও জয়নাল মন্ডল বলেন, রোববার দুপুর ২টায় এলেঙ্গায় আসছি। স্থানীয় অনেক গেরোস্থরা দাম-দর করছেন। তারমধ্যে কেউ কেউ ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা দিন মজুরি হিসেবে বলছেন। পরে ১১০০ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজে যাচ্ছি।

ধান কাটা শ্রমিক নিতে আসা ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইলের আমিনুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে পানি এলাকায় আসতে শুরু করেছে। যেকোনো সময় পানি এসে তলিয়ে যেতে পারে আমার ৫ বিঘা জমি। এলাকায় ধান কাটা শ্রমিক সংকট। এলেঙ্গায় ধান কাটা শ্রমিক কেনা-বেচা হয় শুনে এখানে আসছি। ১১৫০ টাকা করে ৬ জন শ্রমিক নিয়েছি। সঙ্গে ৩ বেলা খাবার দিতে হবে।

এলেঙ্গা থেকে শ্রমিক নিতে আসা সরাতৈল গ্রামের হাসান আলী বলেন, ইতোমধ্যে বৃষ্টির পানিতে পাকা ধান শুয়ে পড়েছে। ধানের গোড়া পচন শুরু হয়েছে। লোক পাওয়া যায় না। এলাকাতে যারা ধান কাটার কাজ করেন তারাও নিজেদের ধান কাটতে ব্যস্ত। আবার কেউ কেউ পানির কথা শুনে কাজ করতেও চান না। এ জন্য এলেঙ্গায় এসেছি উত্তরবঙ্গ থেকে আসা ধান কাটা শ্রমিক নিতে।

উত্তরবঙ্গ থেকে আসা ধান কাটা শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত এলেঙ্গায় শ্রমিকের হাট গড়ে উঠেছে। এরমধ্যে কোনো শ্রমিকদের নিরাপত্তার অবনতির ঘটনা ঘটেনি। তারপরেও আমরা সজাগ আছি, যাতে তাদের নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা না হয়। তারপরও যদি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

;

বস্তাবন্দি ফেনসিডিল উদ্ধার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুড়িগ্রাম
বস্তাবন্দি ফেনসিডিল উদ্ধার

বস্তাবন্দি ফেনসিডিল উদ্ধার

  • Font increase
  • Font Decrease

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ১০১ বোতল ফেনসিডিলসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়াও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি বাইক ও একটি অটোরিকশা জব্দ করেছে পুলিশ।

রোববার (২২ মে) সন্ধ্যায় উলিপুর পৌর শহরের পোস্ট অফিস মোড় সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আটককৃত বিপ্লব মজুমদার বিপু (৫০) উলিপুর পৌর এলাকার ৬ নং ওয়ার্ডের মৃত শচীন মজুমদারের পুত্র। তার বাড়ির সামনের উলিপুর-রাজারহাট সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটোরিকশার সামনের আসনের নিচে থেকে ১০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এর আগে তার নিকট থেকে ১ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিপ্লব মজুমদারের বাড়ির সামন থেকে তার ব্যবহৃত বাইক সহ এক বোতল ফেনসিডিলসহ হাতেনাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ওই স্থানে উদ্ধারকৃত এক বোতল ফেনসিডিলের সুত্র ধরে আশেপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটোরিকশার সামনের আসনের নিচে থেকে এক বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে আসামীকে হাজির করে তার উপস্থিতিতে ফেনসিডিলের বোতল গণনা করে ১০০ টি বোতল রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। পরে অটোরিকশাকে জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়। তবে অটোরিকশা চালক পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে অটোরিকশাটি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থেকে উলিপুরে ফেনসিডিল নিয়ে আসতে পারে।

উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবির জানান, আটককৃত ব্যক্তি বিপ্লব মজুমদারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

;