সাকার মাছের বিস্তাররোধে সংশোধন হচ্ছে মৎস্য আইন



তরিকুল ইসলাম সুমন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে কালছে কাঁটাযুক্ত একধরনের মাছ, যাকে আমরা সাকার ফিশ বা সাকার মাউথ ক্যাটফিশ। অনেকে আবার গ্লাস ক্লিনার হিসেবেও চিনে থাকি। যে কোনো পরিবেশে মানাতে পারে বলে বংশবৃদ্ধিও খুব বেশি। যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এখনই এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে আমাদের দেশিয় প্রজাতির মাছের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দেবে এই মাছ।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজ বার্তা২৪.কমকে বলেন, মাছটি আমাদের দেশ ও পরিবেশের জন্য ভালো নয়। আমরা আমাদের সকল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ নিয়েছি যেখানে এই মাছ পাওয়া যাবে সেখানেই এটি ধ্বংস করতে হবে। কোনো পুকুরে এ মাছ দেখা গেলে পুকুরের পানি নিষ্কাশন করে এই মাছ নিধন করতে হবে। পাশাপাশি মৎস্যচাষীদের এ মাছের কুফল সম্পর্কে সচেতন করার কাজ চলছে।

তিনি আরো বলেন, এই মাছ দেশ থেকে বিলুপ্ত বা মেরে ফেলার জন্য আমরা মৎস্য আইন ২০১১ সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছি। যেখানে বিদেশি মাছের ব্রিডিং, শাস্তি, ক্ষতিকর মাছ নিধনসহ বেশ কিছু সংযুক্তি আনা হবে।

তিনি আশা করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে।

মৎস্য বিজ্ঞানীরা জানান, এটি দক্ষিণ আমেরিকায় ব্যাপকভাবে দেখা যায়। আশির দশকে এটি অ্যাকুয়ারিয়ামের শেওলা ও ময়লা পরিষ্কার করতে এই মাছ বিদেশ থেকে আনা হয়। সাকার ফিশ দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য হুমকি, মাছটির শরীর অনেক খসখসে ও ধারালো। এর পাখনাগুলোও অনেক ধারালো।

১৬-১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হওয়া এই মাছ প্রচুর পরিমাণে খাবার খায়। বিশেষত জলাশয়ের সব শ্যাওলা খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। এছাড়া চিংড়ি ও ছোট শামুক জাতীয় শক্ত খোলের প্রাণী খেয়ে সাবাড় করে ফেলে। এদের লেজে ও পাখার আঘাতে অন্য মাছের দেহে ক্ষতের সৃষ্টি হয়।

এরা খুব দ্রুত বংশবিস্তার করে অন্যান্য মাছের আবাসস্থল দখল করে ফেলে। মাছটি পানি ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে। এদের মধ্যে লাফানোর প্রবণতা থাকায় তারা এক জলাশয় থেকে আরেক জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে আনায়াশেই। তবে আমাদের দেশে এটা কতোটা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তা নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন রয়েছে।

মৎস্য অধিদফতরের উপপরিচালক (মৎস্য চাষ) ড. মো. খালেদ কনক বার্তা২৪.কমকে জানান, দেশে প্রায় সব জেলাতেই এই মাছ ছড়িয়ে পরার শঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো আমারা নিশ্চিত নই, সব জেলায় ছড়িয়ে পরেছে কি না। তবে এটি বলার অপেক্ষা রাখে না, এটি দ্রুত ছড়িয়ে পরছে। এখনই বিস্তার রোধ করতে না পারলে আমাদের দেশীয় প্রজাতির জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দেবে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, সাকার ফিশ বিদেশ থেকে আনা হলেও এখন দেশের বিভিন্ন জলাশয়ে পাওয়া যাচ্ছে। সাকার মাছ দেশীয় প্রজাতির জন্য হুমকি, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

যে জলাশয় কিংবা নদীতে সাকার মাছ থাকবে, সেগুলো সেখানকার দেশীয় প্রজাতির মাছের খাবার ও আবাস স্থল নষ্ট করে দেবে, নষ্ট করে দেবে জলজ পরিবেশ। ফলে দেশীয় প্রজাতি মাছগুলো খাবার কম পাবে, এক পর্যায়ে হারিয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, আশির দশক থেকে এ পর্যন্ত এ মাছ নিয়ে আমাদের কোনো গবেষণা হয়নি। তবে গবেষণা প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।

ধামরাইয়ে ৯ ইটভাটাকে ৫৮ লক্ষ টাকা জরিমানা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাভার (ঢাকা)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র না থাকায় অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে ঢাকার ধামরাইয়ে অভিযান চালিয়ে ৯টি ইটভাটাকে ৫৮ লক্ষ টাকা আর্থিক জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদফতরের ভ্রাম্যমান আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার জলসিন, কান্দাপাড়া, কালামপুর, ধাইরা ও ডাউটিয়া এলাকায় এই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদ।

এ সময় আর্থিক জরিমানাসহ ইটভাটা ভেঙ্গে ও পানি দিয়ে ভাটার চুলা নিভিয়ে দেয়া হয়। মোট ৮টি ইটভাটাকে ৫৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। হালিমা ব্রিকস এর মালিক পলাতক থাকায় ইট ভাটাটি সম্পূর্ণ ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিযানে মা ব্রিকসকে ছয় লক্ষ টাকা, পিওর ব্রিকসকে বিশ লক্ষ টাকা, মা স্টার ব্রিকস ছয় লক্ষ টাকা, জয় বাংলা ব্রিকস ছয় লক্ষ টাকা, এসবিএন ব্রিকস-১ দুই লক্ষ টাকা, এসবিএন ব্রিকস-২ ছয় লক্ষ টাকা, বিবিসি ব্রিকস ছয় লক্ষ টাকা, সান ব্রিকস ছয় লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদ জানান, পরিবেশ দূষণকারী ও অবৈধ ইটভাটা বন্ধে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ধামরাইয়ে ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়। ৮টি ভাটা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে তাদের আর্থিক জরিমানা করা হয়। একটি ইট ভাটার মালিক পলাতক থাকায় ভাটাটি সম্পূর্ণ ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। অনুমতি বিহীন ইট ভাটার বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

অভিযানকালে এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জহিরুল ইসলাম তালুকদার, সহকারী পরিচালক মোসাব্বের হোসেন রাজীব, অনিতা ঘোষ, পরিদর্শক ফাতেমাতুজ জহুরা, ক্যাশিয়ার উজ্জল বরুয়াসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

;

সিরাজগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিরাজগঞ্জ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মিরপুর মহল্লায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মুলকাত আলী (৬০) নামের একজন নিহত হয়েছেন। এঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিরপুর মহল্লার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের পাশে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত মুলকাত আলী মিরপুর মহল্লার মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, মুলকাত আলী গংদের সাথে কাদের চেয়ারম্যানের (সাবেক) গংদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে জমি নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মুলকাত মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাকে উদ্ধার করে শহরের আভিসিনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। এঘটনায় উভয় পক্ষে মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন যাবত তাদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দু’পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। এঘটনায় মুলকাত আলী নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। লাশ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যু সঠিক কারণ জানা যাবে। এঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পায়নি।

;

ট্রাকের চাকা বিস্ফোরণে প্রাণ গেল নারীর



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, যশোর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

যশোরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের চাকা বিস্ফোরিত হয়ে সুখজান (৪৫) নামের এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যশোর সদরের চুড়ামনকাঠি বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সুখজান যশোর সদর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের সদর গাজীর স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের চুড়ামনকাঠি বাজারে পার্কিং করা একটি ট্রাকের পাশ দিয়ে সুখজান হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ দাঁড়িয়ে থাকা ওই ট্রাকের চাকা বিস্ফোরণ হয়। এতে ওই নারী গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি মারা যান।

জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা.মুরসালীনূর রহমান সুখজানকে মৃত ঘোষণা করে লাশ মর্গে প্রেরণ করেছে।

;

বেনাপোলে দুই রেল যাত্রী গাজাসহ আটক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বেনাপোল (যশোর)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

যশোরের বেনাপোল সীমান্ত থেকে দুই যাত্রীকে ৪ কেজি গাজাসহ আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে বেনাপোল রেল ষ্টেশন থেকে রেল পুলিশের সদস্যরা তাদের আটক করে।
আটকরা হলেন, বেনাপোল বন্দর থানার বোয়ালিয়া গ্রামের গনি মিয়ার ছেলে লিটন(৩০) ও সাদিপুর গ্রামের সব্বত আলীর ছেলে মাহাবুব হাসান(১৬)।

বেনাপোল রেল ষ্টেশন পুলিশ ফাড়ির উপপরিদর্শক সেফাতুর রহমান জানান, তাদের কাছে গোপন খবর আসে মাদক পাচারকারীরা যাত্রী সেজে রেলে বেনাপোল থেকে যশোরের দিকে যাবে। পরে রেল ষ্টেশনে অভিযান চালিয়ে দুই জনকে ধরা হয়। এসময় তাদের শরীর তল্লাশী চালিয়ে কোমরে বাঁধা ৪ কেজি গাজা পাওয়া যায়। আটকদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে বেনাপোল বন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

;