রংপুরে শীতের তীব্রতার সঙ্গে বাড়ছে অগ্নিদগ্ধের ঘটনা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

 

রংপুরে দিনদিন বাড়ছে শীতের তীব্রতা। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত অনুভূত হচ্ছে হাড় কাঁপানো শীত। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে নিম্ন আয়ের মানুষরা কাহিল হয়ে পড়ছে। তাই খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের উত্তাপ পেতে ঝুঁকছে শীতার্তরা। আর এতে বাড়ছে অগ্নিদগ্ধের ঘটনা। গত এক সপ্তাহে সাত শিশু অগ্নিদগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছে। তাদের বেশীর ভাগের শরীরের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। বুধবার (১ ডিসেম্বর) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. আব্দুল হামিদ পলাশ।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, শীতের তীব্রতা বাড়ায় রংপুর অঞ্চলে আগুন পোহাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধের ঘটনা বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে অগ্নিদগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে সাত শিশু। বর্তমানে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১২ জন রোগী। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন সাত শিশুর শরীরের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এদের সকলের বয়স ১৫ বছরের নিচে। গত বছর শীত মৌসুমে আগুনের উত্তাপ নিতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন ১৭ জন। চলতি শীত মৌসুমে অগ্নিদগ্ধ হয়ে এখনও কোনো রোগীর মৃত্যু না হলেও শৈত্য প্রবাহ শুরু হলে অগ্নিদগ্ধের সংখ্যা ও মৃত্যু বাড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। তারা বলেছেন, শীতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু রোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে রমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. আব্দুল হামিদ পলাশ জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১২ জনের মধ্যে সাত জনই শিশু। আগুন পোহাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত তারা দগ্ধ হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শীত নিবারণে আগুন পোহাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধের ঘটনা থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই।

এদিকে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক হাজার ৩শ রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে বৃদ্ধ ও শিশুর সংখ্যায় বেশি। নগর থেকে একটু দূরে গ্রামে থাকা ছিন্নমূল, অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা নাকাল। আগাম শীতের প্রকোপ মোকাবিলায় প্রস্তুতি না থাকায় অনেকেই কষ্টে আছেন। অন্যদিকে শীতের কারণে নগরীর অভিজাত বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে বাড়ছে শীতার্ত মানুষের ভিড়।

পীরগাছা উপজেলার শিবদেব চরের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, চরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। কুয়াশার পাশাপাশি হিমেল বাতাশে কাহিল হয়ে পড়েছে অনেকে। শীতবস্ত্রের অভাবে খড় কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা।

রমেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. এস এম নুরুন্নবী বলেন, রংপুর অঞ্চলে শীতের প্রকোপ বেশী। তাই শীতকালে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায়। শীতজনিত রোগ প্রতিরোধে শিশুদের চিকিৎসার পাশাপাশি গরম কাপড় ও উষ্ণতা জরুরী।

স্থানীয় আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলে কয়েকটি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে রংপুরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা কমার পাশাপাশি বাড়বে শীতের তীব্রতা। এছাড়াও মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

 

রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোর নিহত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোর নিহত

রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোর নিহত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ট্রাকের সাথে বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই এক কিশোর নিহত হয়েছে। তার নাম আলী আহসান (১৪)। সে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চর অনুপনগর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে। আলী আহসান নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

সোমবার দুপুরে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কে গোদাগাড়ীর অভয়া ব্রীজে এই দুর্ঘটনা ঘটে। গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে পাথর নিয়ে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে আলী আহসানের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ওসি জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক-হেলপার পালিয়েছেন। তবে ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।#

;

পেঁয়াজ চাষি মরছে আমদানিতে আর পোয়াবারো পুঁজিপতিদের



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মেহেরপুর
পেঁয়াজ চাষি মরেছে আমদানীতে আর পোয়া বারো পুঁজিপতিদের

পেঁয়াজ চাষি মরেছে আমদানীতে আর পোয়া বারো পুঁজিপতিদের

  • Font increase
  • Font Decrease

মেহেরপুর জেলায় কৃষকের ঘরে পেঁয়াজ নেই। পেঁয়াজ তোলার সাথে সাথেই চাষিদের ৮০ ভাগের উপরে পেঁয়াজ বিক্রি করে থাকেন। বিত্তবান চাষিদের ঘরে কিছু পেঁয়াজ থাকলেও তার পরিমাণ খুব বেশি নয়। পেঁয়াজ সংরক্ষণকারী ব্যবসায়ীদের হাতে রয়েছে পেঁয়াজ। ফলে পেঁয়াজের দর বৃদ্ধির সুবিধা পাচ্ছেন সংরক্ষণকারীরা। অপরদিকে পেঁয়াজ তেলার ভরা মৌসূমে পেঁয়াজ আমদানী করায় লোকসান গুনতে হয়েছে  চাষিদের।

জানা গেছে, ভরা মৌসূমে অথাৎ মার্চের শুরুতে পেঁয়াজ আমদানির ফলে পেঁয়াদের দর পতন হয়। ফেব্রুয়ারীর শেষ সপ্তাহ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পেঁয়াজ তোলার ভরা মৌসূম। এসময় পাইকারীতে ১৭-১৯ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন চাষিরা। আমদানী বন্ধ হওয়ায় এখন পেঁয়াজের দর বেড়েছে।  মেহেরপুর জেলায় পাইকারীতে ৩২-৩৩ টাকা এবং খুচরা ৪০-৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে এর সুফল পাচ্ছেন না পেঁয়াজ উৎপাদনকারী চাষিরা। দরিদ্র চাষিদের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনে যারা সংরক্ষণ করেছেন তারাই মূলত বেশি দরের সুবিধা পাচ্ছেন।

গাংনীর গোপালনগর গ্রামের বর্গা চাষি আব্দুল জাব্বার এ মৌসূমে ৪ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। এবার তার বড় ধরনের লোকজন হয়েছে বলে জানান এই পেঁয়াজ চাষি।

তিনি জানান, জমি লিজ থেকে শুরু করে পেঁয়াজ ঘরে তোলা পর্যন্ত বিঘায় খরচ প্রায় ৩০ হাজার টাকা। বিঘায় এবার ফলন ছিল প্রায় ৮০ মণ। পেঁয়াজ তোলার সাথে সাথেই বিক্রি করেছেন ১৭ টাকা কেজি। ফলে প্রতি বিঘায় তার লোকসানের পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার টাকা। 

নওপাড়া গ্রামের পেঁয়াজ চাষি রুবেল হোসেন জানান, তিনি ৬ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। তার ঘরে দুই বিঘা জমির পেঁয়াজ রয়েছে। চাষের খরচ জোগানোর জন্য তিনি কিছু বিক্রি করেছেন। আর বাড়তি দরের আশায় কিছু পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেন।

রুবেল হোসেন বলেন, পেঁয়াজ বীজ, সার ও কীটনাশক বাকিতে কেনা হয়। ফলে পেঁয়াজ তোলা শুরু হলেই বাকি পরিশোধ করা হয়ে থাকে। যার কারণে চাষিরা পেঁয়াজ সংরক্ষণে রাখতে পারে না।

পেঁয়াজ আমদানী বন্ধের পর হঠাৎ দর বৃদ্ধি পেলেও তা স্থীতিশীল। দুই সপ্তাহ আগে দর বৃদ্ধির পর ৪০ টাকার নিচে রয়েছে পাইকারী দর।

চাষিরা জানান, গেল বছর পেঁয়াজের দর বেশি থাকায় চাষিরা আবাদ বৃদ্ধি  করেছেন। প্রতি বছর কতো উৎপাদন আর চাহিদা সেই হিসেবে করে আমদানী করতে হবে। আর কখন আমদানী করতে হবে সেই বিষয়টিও মূখ্য। দেশের চাষিরা সুযোগ পেলে পেঁয়াজে স্বংসম্পূর্ণতা অর্জন করা সম্ভভ বলে মনে করেন চাষিরা।

;

হাতে মেহেদী না শুকাতেই বিষ পানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
হাতে মেহেদী না শুকাতেই বিষ পানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

হাতে মেহেদী না শুকাতেই বিষ পানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

হাতের মেহেদী না শুকাতেই বিয়ের তিন মাস পর ময়মনসিংহের সদর উপজেলায় বিষপানে স্বামী-স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ভাটি দাপুনিয়ায় নবদম্পতি রনি মিয়া (২২) এবং সেতু আক্তার (১৯) গতকাল (২২ মে) রোববার  মধ্যরাতে নিজ বাড়িতে বিষ পান করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এমন আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানিয়েছেন নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিন মাস আগে ময়মনসিংহ নগরীর বলাশপুর কসাইপাড়ার তারা মিয়ার মেয়ের সাথে ভাটি দাপুনিয়া গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে রনি মিয়ার বিয়ে হয়। রনি মিয়া রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

;

নোয়াখালীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আবুল বাশার বসু (৫৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৩ মে) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের খিলপাড়া এলাকার চন্দ্রগঞ্জ-চাটখিল সড়কের বড়পোল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আবুল বাশার বসু উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শ্রী হাটি গ্রামের মৃত মহরম আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত বসু মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। সোমবার দুপুরের দিকে চন্দ্রগঞ্জ-চাটখিল সড়কের বড়পোল সংলগ্ন পোল হয়ে বাড়ি ফিরছিল। তখন বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দত্তেরবাগ ওয়াহাব তৈয়বা মেমোরিয়াল হসপিটালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টিি নিশ্চিত করেন চাটখিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ন কবির। তিনি জানান, মোটরসাইকেল চালককে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে আটক করতে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

;