ওমিক্রন আতঙ্ক!



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বাড়ছে ওমিক্রন আতঙ্ক।

বাড়ছে ওমিক্রন আতঙ্ক।

  • Font increase
  • Font Decrease

পাশের দেশ ভারতে এসে গেছে কোভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন। কর্নাটক প্রদেশে বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় বলা হয়েছে, ওমিক্রনে আক্রান্তদের মধ্যে একজন ৬৬ বছর বয়স্ক পুরুষ এবং অন্য জন ৪৬ বছর বয়স্ক নারী। তবে তাদের অন্য কোনো পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। জানানো হয়েছে, আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখাসহ কনটাক্ট ট্রেসিং করে সতর্কতামূলক সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২৯ দেশে এই ভ্যারিয়েন্ট ধরা পড়েছে। এই ভ্যারিয়েন্টটি শরীরের উপরে অন্য ভ্যারিয়েন্টের থেকে কঠিন প্রভাব ফেলে কিনা তা নিয়ে গবেষণা চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, আগামি কয়েক দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে।

এমন পরিস্থিতিতে করোনার প্রাদুর্ভাবের দুই বছরের মাথায় নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন গোটা দুনিয়া। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল অন্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগে বিধিনিষেধ ও কড়াকড়ি আরোপ করেছে। কারণ, যারা আগে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছে, তারা আবারো ওমিক্রন আক্রান্ত হতে পারেন। যদিও এই ভ্যারিয়েন্ট কতটা সংক্রামক তা এখনো স্পষ্ট নয়। আরটি-পিসিআর পরীক্ষা এই ভ্যারিয়েন্টকে দ্রুত ধরতে সক্ষম বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই ভাইরাসের উপর কোভিড ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কতটা তা জানার জন্য গবেষণা চলছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে ।

প্রসঙ্গত, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস নতুন নতুন ধরণ বা স্ট্রেন তৈরি করছে নিজের দুই বছর বয়স হওয়ার আগেই। ডিসেম্বরে দ্বিতীয় জন্মদিনের প্রাক্কালে করোনার অতি নতুন ধরণ ওমিক্রন আবারো পুরো পৃথিবীকে আচ্ছন্ন করেছে ব্যাপক সংক্রমণের ভয়াবহ চাদরে।

কোভিডের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের থেকেও দ্রুত সংক্রমিত হয় ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট। এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছেন মহামারি বিশেষজ্ঞরা। দক্ষিণ আফ্রিকায় ওমিক্রনের যে ধরণের সংক্রমণ দেখা গেছে, তার উপর গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে এমন ধারণাই পাওয়া গেছে। ফলে বিশ্বের দেশে দেশে চলছে সতর্কতা ও প্রস্তুতি।

বিপদের বহুমুখী প্রতাপের মতোই করোনার ধরণগুলোর রয়েছে নামের বাহার। খোদ করোনাভাইরাস নামটির উৎপত্তি লাতিন শব্দ করোনা থেকে, যার অর্থ মুকুট বা হার। করোনা শব্দটি নিজে গ্রিক থেকে এসেছে, যার অর্থ মালা বা হার। নামটি ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে ভিরিয়নের (ভাইরাসের সংক্রামক আকার) বৈশিষ্ট্যমূলক উপস্থিতিকে নির্দেশ করে। ভিরিয়নের বিশাল কন্দাকৃতি পৃষ্ঠ অভিক্ষেপযুক্ত প্রান্ত রয়েছে, যা মুকুটের স্মৃতি তৈরি করে। এর অঙ্গসংস্থান ভাইরাল স্পাইক পেপলোমিয়ার দ্বারা তৈরি হয়েছে, যেগুলো মূলত ভাইরাসের পৃষ্ঠে অবস্থিত প্রোটিন।

এদিকে সদ্যই গোটা বিশ্বে নতুন করে ত্রাস সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেন ওমিক্রন গত ২৫ নভেম্বর প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হয়েছিল। তার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই ইউরোপের একাধিক দেশ, হংকং, ইসরায়েল, এমনকি অস্ট্রেলিয়াতেও দ্রুততম গতিতে ছড়িয়ে পড়ে ঘাতক ভ্যারিয়েন্ট। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও নতুন আঘাতের সম্ভাব্য বিপদের কারণে রয়েছে প্রচণ্ড ঝুঁকির মুখে।

রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ বা এপিডেমিওলজিস্টদের মতে, এখনও পর্যন্ত পাওয়া কোভিড স্ট্রেনগুলোর মধ্যে ডেল্টার পর সবথেকে বেশি সংক্রামক ওমিক্রন (Omicron)। তবে এই নতুন ভ্যারিয়েন্টের নামকরণের পিছনেও লুকিয়ে রয়েছে সূক্ষ্ম রাজনীতি।

প্রাথমিকভাবে কোনো দেশ থেকে নতুন কোভিড ভ্যারিয়েন্টের সন্ধান মিললে, সেই দেশের নামেই নামকরণ করা হচ্ছিল ভ্যারিয়েন্টটির। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’-এর এই নামকরণ পদ্ধতি নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিস্তর বিতর্ক। আর তারপরেই নামকরণের বিকল্প পথে হাঁটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

প্রথমে গ্রিক অক্ষরমালার বর্ণ দিয়েই চিহ্নিত করা হচ্ছিল সদ্য আবিষ্কৃত স্ট্রেনগুলোকে। আলফা, বিটা, ডেল্টা, গামা- এভাবেই এগোচ্ছিল সেই তালিকা। এই নিয়ম মেনে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কলোম্বিয়ায় খুঁজে পাওয়া স্ট্রেনটির নাম রাখা হয় ‘মিউ’। যা পারতপক্ষে গ্রিক অক্ষরমালার দ্বাদশ বর্ণ। কিন্তু হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকায় সদ্য-আবিষ্কৃত ভ্যারিয়েন্টটির নাম হওয়া উচিত ছিল ত্রয়োদশ গ্রিক বর্ণ ‘নিউ’-এর অনুকরণে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রাপ্ত বি.১.১.৫২৯ ভ্যারিয়েন্টটির নামকরণে ‘নিউ’ এবং পরবর্তী বর্ণ ‘জি’ বা ‘শি’-কে বাদ দিয়ে পঞ্চদশ বর্ণ ওমিক্রন-কে বেছে নেয় হু।

কিন্তু কেন বাদ দেওয়া হল, এই বর্ণ দুটিকে? না, ‘নিউ’ বর্ণটির মধ্যে কোনো রাজনীতি লুকিয়ে নেই। বরং, ‘নিউ’ বা নতুনের সঙ্গে উচ্চারণগত মিল থাকায়, দ্বিমত তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় বাদ দেওয়া হয়েছে এই বর্ণটি। তবে পরবর্তী ‘শি’ বা ‘জি’ বর্ণটিকে বাদ দেওয়ার পিছনে রয়েছে স্পষ্ট রাজনৈতিক কারণ। বিষয়টি স্বীকারও করেছেন ভ্যারিয়েন্ট নামকরণ প্যানেলের শীর্ষ বিজ্ঞানী তথা এপিডেমিওলজিস্ট মার্টিন কুলডর্ফ। হ্যাঁ, চীনের রাষ্ট্রনেতা শি জিংপিং-এর নামের সঙ্গে মিল থাকার জন্যই এই বর্ণটি এড়িয়ে গেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

২০১৯ সালের শেষ লগ্নে করোনা মহামারির ‘জন্ম’ হয়েছিল চীনেই। তারপর গোটা পৃথিবীতে ধীরে ধীরে প্রকোপ বিস্তার করে মারণ ভাইরাস। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বলসোনারো-সহ একাধিক রাষ্ট্রপ্রধানই সেসময় অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন চীনের দিকে।

রোগতত্ত্বকে এড়িয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় করোনাভাইরাসকে অভিহিত করা হয়েছিল ‘চীনা ভাইরাস’ নামে। জৈবঅস্ত্র তৈরির পরীক্ষাগার থেকে ভাইরাসের সংক্রমণের তত্ত্বও উঠে এসেছিল একাধিকবার। বলা হয়েছিল, চীনের রাজনৈতিক অভিসন্ধির কথাও।

ফলে ভাইরাস নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হওয়ার পর বিশ্বজুড়েই সামাজিক হিংসার শিকার হয়েছেন এশীয় প্রবাসীরা। বিশেষত আমেরিকায় ভয়ঙ্করভাবে আক্রান্ত হতে থাকেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষেরা। সেই হিংস্রতা ঠেকাতেই এমন কৌশলী পদক্ষেপ নেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে বিজ্ঞানীমহলে হু-এর এই সিদ্ধান্ত সমাদৃত হলেও, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েই গেছে রাজনৈতিক মহলে। চীনকে প্রাধান্য দিয়ে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করছেন অনেকেই। কিন্তু রাজনৈতিক ও নেটিজেনদের একাংশের এই বিতর্কের সমাধানের থেকেও এই বিশেষ সংক্রামক ভ্যারিয়েন্টকে প্রতিরোধ করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ গোটা মানবজাতির।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বৈশ্বিক মহামারির মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে  করোনা নতুন ধরণগুলো গ্রিক হরফে চিহ্নিত করা শুরু করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত ৩১ মে নতুন এই নামকরণ পদ্ধতির ঘোষণা দেয়া হয় সংস্থাটির পক্ষে। যারই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া ধরণটির নাম হয়েছে 'আলফা'। দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত করোনার ধরল পরিচিতি পেয়েছে 'বেটা' নামে। ব্রাজিলে শনাক্ত হওয়া ভ্যারিয়েন্টটির নাম দেয়া হয়েছে 'গামা'। দ্বিতীয় ঢেউয়ে সমগ্র ভারতকে বিপর্যস্ত করে ফেলা করোনার ধরণের নামকরণ করা হয়েছে 'ডেল্টা'।

তবে এতেও বিতর্ক থামে নি। বরং গ্রিক বর্ণমালায় ২৪টি হরফ থাকায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, করোনার ২৪টির বেশি ধরণ শনাক্ত হলে নামকরণ কীভাবে হবে? যে কারণে, ভবিষ্যতে এমন হলে নামকরণের নতুন পদ্ধতি আনার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কারিগরি প্রধান মারিয়া ভ্যান কেরখোভ বলেছেন, ' রাজনীতি নয়, বরং নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তে কড়া নজরদারির পাশাপাশি গবেষণার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে তথ্য বিনিময় প্রয়োজন। এজন্য, করোনার ধরণ শনাক্ত করে তা রিপোর্ট করায় কোনো দেশের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করা উচিত নয়। নতুন নামগুলো বৈজ্ঞানিক নামে ব্যবহার হচ্ছে না। বরং বুঝতে সুবিধার জন্য নামকরণের এই সরল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। কেননা, উচ্চারণ কঠিন হওয়ায় নতুন ভ্যারিয়েন্টগুলোকে বৈজ্ঞানিক নামে ডাকলে ভুল হওয়ার শঙ্কা থাকে।

ফরিদপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফরিদপুর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুরে ট্রাকচাপায় এক মোটরসাইকেল আরোহী যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে শহরের টেপাখোলা লেকপাড়ের শিশু সদনের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম ফারহান (২৫)। নিহত ফারহান শহরের পিয়ন কলোনির কমলাপুরের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের সিএন্ড‌বি ঘাট অভিমুখে যাওয়ার পথে টেপাখোলা লেকপাড়ের শিশু সদনের সামনে একটি ট্রাক মোটরসাইকেল আরোহী ফারহানকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এসময় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী আকাশ (২০) গুরুতর হন। পরে তাকে আহতাবস্থায় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল জানান, মরদেহ ও মোটরসাইকেলটি কোতয়ালী থানা পু‌লিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত বিষয়গুলো প্রক্রিয়াধীন।

;

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনে মলদ্বারের নাড়ি কেটে ফেললেন চিকিৎসক!



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফরিদপুর
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অস্ত্রোপচার করার সময় এক গৃহবধূর মলদ্বারের নাড়ি কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই গৃহবধূ বর্তমানে বিএসএমএমসি হাসপাতালের নতুন ভবনের পাঁচতলায় নারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম উৎপল নাগ। তিনি ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ (বিএসএমএমসি) হাসপাতালের চিকিৎসক। এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী আব্দুল মান্নান ব্যাপারী।

অভিযোগ সূত্র থেকে জানা গেছে, স্ত্রী হাসনা বেগম পেটে ব্যথা অনুভব করলে গত ২২ ডিসেম্বর ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে গাইনি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান আব্দুল মান্নান। তাকে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ডা. উৎপল নাগের কাছে রেফার করা হয়। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে বলে জানান এবং দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে রোগীকে বাঁচানো যাবে না বলে মত দেন।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ডা. নাগ তাদের বলেন, বিএসএমএমসি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করাতে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হবে এবং এই সরকারি হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। পরে তিনি তার ভিজিটিং কার্ড দিয়ে তাদের শহরের রথখোলায় পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত পিয়ারলেস হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি আরও জানান, একটু পরেই তিনি ওই হাসপাতালে যাবেন।

ভুক্তভোগী রোগীর পিতা হাশেম মল্লিক জানান, ডা. উৎপল নাগের কথামতো তার মেয়ে হাসনাকে পিয়ারলেস প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেয়া হয়। সেখানে তিনটি পরীক্ষা করা হয়। এতে খরচ হয় ২৬০০ টাকা। ওইদিন সন্ধ্যায় অস্ত্রোপচার করা হবে বলে জানানো হয়। পরে ২৬ হাজার টাকা খরচে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অস্ত্রোপচার করান ডা. নাগ।

তিনি আরও বলেন, অস্ত্রোপচারের চারদিন পর হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়ার সময় হাসনা বেগমের সেলাই কেটে ড্রেসিং করার সময় মলদ্বার দিয়ে মল বের হতে থাকে। বিষয়টি ডা. উৎপল নাগকে জানানোর পর তিনি ফের অস্ত্রোপচার করার কথা বলেন। এজন্য আরও এক লাখ টাকা লাগবে বলেও জানান তিনি। এরপর অসুস্থ হাসনা বেগমকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করে জানান, হাসনা বেগম দিন দিন শীর্ণকায় হয়ে যাচ্ছেন। স্ত্রীর চিকিৎসার পেছনে ছুটতে গিয়ে আয়ও বন্ধ মান্নান ব্যাপারীর। এ অবস্থায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারটির।

এ ব্যাপারে জানতে ডা. উৎপল নাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাসনা বেগমকে বিএসএমএমসি হাসপাতাল থেকে ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করানোর পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। সেই সঙ্গে ফের অস্ত্রোপচার করাতে এক লাখ টাকা দাবির অভিযোগও অস্বীকার করেন।

ডা. উৎপল নাগ জানান, ওই রোগীর অ্যাপেন্ডিসাইটিস পেকে গিয়েছিল। সৃষ্টিকর্তা তার হাত দিয়ে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। এখন তারা কী কারণে এসব অভিযোগ করছে, তা বুঝতে পারছেন না তিনি।

এ ব্যাপারে বিএসএমএমসি হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে ওই রোগীর খোঁজ নিয়েছি। তার চিকিৎসার কোনো ত্রুটি হবে না। তিনি বলেন, ডা. উৎপল নাগের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

;

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির নতুন কমিটি



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কক্সবাজার
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেষ্ট হাউস মালিক সমিতির নতুন কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিতে সর্বসম্মতিক্রমে আবুল কাশেম সিকদারকে সভাপতি ও সেলিম নেওয়াজকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের কলাতলীর একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিলো সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা, কার্যকরী কমিটি ঘোষণা, সম্মাননা প্রদান, কার্যকরী কমিটি ও উপদেষ্টা কমিটি গঠন। পরে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি ও ৫ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়।

উপদেষ্টা কমিটিতে ওমর সুলতানকে প্রধান উপদেষ্টা করে নুরুচ্ছফা, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ দেলোয়ার ও মোহাম্মদ ফারুককে উপদেষ্টা মনোনীত করা হয়।

কার্যকরী কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি সরওয়ার কামাল, সহ-সভাপতি ফোরকান মাহমুদ, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাহীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বজল আহমদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক এড. মো. ইসহাক, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান লাভলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জিয়া উদ্দিন জিয়া, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মহসিন, পর্যটন উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ রুবেল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নুরুল আবছার, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক সাইদুল ইসলাম শিবু, নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে- হাবিবুর রহমান, শাহজাহান ছিদ্দিকী মার্শাল, মমতাজ আহমদ, আরিফুল ইসলাম আরিফ, আবদুল হক ও আসলাম খান।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন হোটেল মোটেল গেষ্ট হাউস অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ। এর আগে সংগঠনের পক্ষ থেকে আলহাজ্ব ওমর সুলতান ও মরহুম আলহাজ্ব শফিকুর রহমানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

;

বিষ খাইয়ে কৃষককে হত্যা, দুই স্ত্রীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফরিদপুর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিষপানে হিরু মাতুব্বর (৫০) নামে এক কৃষক মারা গেছেন। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গত শনিবার (২২ জানুয়ারি) দিবগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ডাংগী ইউনিয়নের রাজকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হিরু মাতুব্বরকে জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার ভাই সোহরাব মাতুব্বরের। তবে কে বা কারা হিরু মাতুব্বরকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে, সে ব্যাপারে হিরুর প্রথম স্ত্রী ও দ্বিতীয় স্ত্রী পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।

একই গ্রামের আবদুল ছাত্তার মাতুব্বরের ছেলে সামন মাতুব্বর বলেন, রাজকান্দা গ্রামের মৃত ওহাব মাতুব্বরের ছেলে হিরু মাতুব্বরকে শনিবার সন্ধ্যায় তার বাড়ির পাশে বাগানে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পাই। এসময় হিরু মাতুব্বরের ছেলে হোসাইন মাতুব্বর সেখানে আসেন।

‌‘ওই সময় আহত হিরু মাতুব্বরের কাছে ঘটনা জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, পাশের শ্রীরামদিয়া গ্রামের ৫-৬ জন লোক তাকে ঘাসমারা ওষুধ (কীটনাশক) জোর করে খাইয়ে বাগানে ফেলে রেখে গেছে। তিনি এসময় কয়েকজনের নামও বললে আমি তা মোবাইলে রেকর্ড করে রাখি। সেই ভিডিও ইতোমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।’

হিরু মাতুব্বরের ভাই সোহরাব মাতুব্বর বলেন, হিরুকে বিষ খাওয়ানো হয়েছে, এটা জানতে পেরে আমরা তাকে শ্রীরামদিয়া গ্রামে তার দ্বিতীয় স্ত্রী রানু বেগমের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসি। কারণ হিরু দুইমাস আগে শ্রীরামদিয়া গ্রামের জাফর মাতুব্বরের মেয়ে রানু বেগমকে বিয়ে করে সেই বাড়িতেই থাকতেন।’

স্থানীয়রা জানান, অসুস্থ হিরু মাতুব্বরকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী রানু বেগম উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হিরু মারা যান। হিরু দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল।

এ নিয়ে হিরুর প্রথম স্ত্রী হায়াতুন্নেছা বলেন, দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে সে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে থাকে। আমাদের কোনো খোঁজ-খবর নিতেন না। সেই বাড়ির লোকজন তাকে বিষ খাইয়ে, আমাদের বাড়ির পাশের বাগানে রেখে যায়। তাই আমরা তাকে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে রেখে আসি।

হিরু মাতুব্বরের দ্বিতীয় স্ত্রী রানু বেগমকে তার বাড়িতে পাওয়া না গেলেও তার বাবার বাড়ির লোকজনের দাবি, প্রথম স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজন এ মৃত্যুর জন্য দায়ী।

নগরকান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সুমিনুর রহমান বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে। হিরু মাতুব্বরের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তার মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

;