বাড়িতে বাবার লাশ রেখে পরীক্ষার হলে মেরাজ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুড়িগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাড়িতে বাবার লাশ রেখে চোখে অশ্রু নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন মেরাজ হক (১৭) নামের এক শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) সকালে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সাইফুর রহমান সরকারি কলেজ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।

পরীক্ষার্থী মেরাজ ফুলবাড়ি উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের সদ্য প্রয়াত শরিফুল হক মিল্টনের (৪৭) ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মেরাজ হকের বাবা বৃহস্পতিবার (০২ ডিসেম্বর) রাত ৩টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। রাত পোহালেই পরীক্ষা একদিকে টেনশন অন্যদিকে বাবাকে হারানো শোকে ভেঙে পড়েন মেরাজ। পরে স্বজনদের সান্ত্বনায় কাঁদতে কাঁদতে পরীক্ষা দিতে আসে মেরাজ। পরীক্ষা শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে তার বাবার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

বৃহস্পতিবার উপজেলার সাইফুর রহমান সরকারি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ৩ নম্বর কক্ষে বসে হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা দিচ্ছে মেরাজ হক। তার রোল নম্বর ৮৩১৪৪৪। এক হাতে চোখের পানি মুছে, অন্য হাতে পরীক্ষার খাতায় লিখে চলছে মেরাজ। আবার ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠছে মাঝে মধ্যে। তাকে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছে পাশের পরীক্ষার্থী সহপাঠিরা। পরীক্ষা শুরুর কিছু সময়ের মধ্যে তার বাবার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় পুরো কেন্দ্রে নেমে আসে শোকের ছায়া।

সাইফুর রহমান সরকারি কলেজর অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. রফিকুল ইসলাম জানান, পরীক্ষার্থী মেরাজ হকের বাবার মৃত্যুর বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে তাকে বিশেষ কোনো সুবিধা দেওয়া হয়নি। পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আমরা তাকে উৎসাহ দিয়েছি। সে সবার সাথে স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষা দিয়েছে।

মিতু হত্যায় পিতার মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিল পিবিআই



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
মাহমুদা খানম মিতু

মাহমুদা খানম মিতু

  • Font increase
  • Font Decrease

মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে করা মিতুর বাবার মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে তদন্ত সংস্থা পিবিআই। তবে ২০১৬ সালের ৬ জুন পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারের করা মামলাটির তদন্ত চলবে। বর্তমানে বাবুলের করা সেই মামলাতে গ্রেপ্তার রয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৫  জানুয়ারি) বিকেলে আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় এ প্রতিবেদন জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাঁচলাইশ থানার (জিআরও) এস আই শাহীন ভুঁইয়া। তিনি বলেন, ‘পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা মিতুর বাবার করা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন শাখায় জমা দিয়েছেন। আমরা সেটি কাল আদালতে জমা দেব। পরে আদালত সেটির ওপর শুনানি শেষে আদেশ দিবেন।’  

গত বছরের ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন মেয়ে হত্যায় জামাতা বাবুল আক্তারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। সেই মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছিল পিবিআই।

এদিকে গত ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল হালিম মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলায় তাকেই গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছিলেন। গত ৩০ ডিসেম্বর বাবুলকে তার করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনটি করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

মামলার তদন্ত সংস্থা বলছে, একই ঘটনায় দুটি মামলা চলার দরকার নেই। ইতিমধ্যে বাবুল আক্তারের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেকারণে মিতুর বাবার মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে আদালতের আদেশে প্রথম মামলাটির অধিকতর তদন্ত করা হবে।

২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় মিতুকে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার তখন চট্টগ্রাম থেকে বদলি হয়ে ঢাকা সদর দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রাম ফিরে তিনি পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছিলেন। এরপর নানা নাটকীয় ঘটনায় এক পর্যায়ে পুলিশের চাকরি ছাড়েন বাবুল।

ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পর তদন্ত করে বাবুলকেই স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে নিজেদের হেফাজতে নেয় পিবিআই। গত বছরের ১২ মে মিতুর বাবা মোশারফ হোসেন মেয়ে জামাইকে আসামি করে মামলা করেন। একই দিন সেই মামলায় আসামি বনে যান বাবুল আক্তার; তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয় পিবিআই। তারপর বাবুলের দায়ের করা মামলার ফাইনাল রির্পোট আদালতে জমা দেয় পিবিআই।

যদিও মিতু হত্যার ঘটনায় বাবুল আক্তার যে মামলাটি দায়ের করেছিলেন, সেটির তদন্ত শেষ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল পিবিআই। কিন্তু আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদন না নিয়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। মিতুর বাবার করা মামলাটিও তদন্ত করছিল পিবিআই। বাবুলের ও মিতুর বাবার দুই মামলা এক সাথে তদন্ত করছেন পিবিআই’র পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

স্ত্রী হত্যার আসামি হয়ে ২০২১ সালের ১৩ মে থেকে মিতুর বাবার করা মামলায় স্ত্রী হত্যার আসামি হয়ে আগে থেকে কারাগারে রয়েছেন বাবুল আক্তার৷ গত ২৯ মে থেকে বাবুল আক্তার ফেনী কারাগারে রয়েছেন।

;

অটোরিকশা চালক হত্যার রহস্য উদঘাটন



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহের নান্দাইলে আলোচিত অটোরিকশা চালক মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় চার ঘাতককে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ, গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. শাহজালাল শিকদার (২৪), মো. শান্ত মন্ডল (২০), মো. আশরাফুল ইসলাম মানিক (২৫) ও মনির উদ্দিন (২৬)।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রায়হানুল ইসলাম।

গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী , ঘটনার পর মূল ঘাতক মো. মনির হোসেন তার গেঞ্জি এবং মো. শান্ত মণ্ডলের পায়ের জুতা ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যান। সেই সূত্র ধরেই চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিরা ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। সোমবার রাতে তিনজনকে নান্দাইলের জাহাঙ্গীরপুর এবং পরে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে প্রধান ঘাতক মনির উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গত বছরের ২ নভেম্বর কিশোরগঞ্জ সদর থানাধীন বটতলা বাজারে অটোস্ট্যান্ডে যাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন মোশাররফ। রোগী বহনের কথা বলে রাত ৮টার দিকে গ্রেফতার চারজন মিলে মনির উদ্দিনের নেতৃত্বে ৩০০ টাকায় মোশারফের অটো ভাড়া নেন। পরে ময়মনসিংহের নান্দাইলের সেরাটি বাজারে এসে চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে অটো নিয়ে চলে যায়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনা টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া দিলে মনির হোসেনের গেঞ্জি এবং শান্ত মণ্ডল পায়ের জুতা ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এই আলামতের সূত্র ধরেই আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হযেছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

গত ৫ নভেম্বর ভিকটিমের বাবা সুলতান উদ্দিন সুলতু (৫৫) নান্দাইল থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলাটি তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ দেওয়া হয়।

নিহত মোশারফ হোসেন কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর থানাধীন গোবিন্দুপুর গ্রামের সুলতান উদ্দিন সুলতুর ছেলে। প্রধান ঘাতক মনির উদ্দিন এমবিএ পাশ করা বেকার যুবক। তিনি নান্দাইল রহিমপুর গ্রামের সোহরাব উদ্দিনের ছেলে। মূলত প্রধান পরিকল্পনাকারী মনির উদ্দিনসহ ঘাতকদের টাকার দরকার ছিল। তাই হঠাৎ অটো ছিনতাইয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের জন্য এই ঘটনাটি তারা ঘটিয়েছেন বলে জানান পুলিশ ।

;

‘প্রাণিজ পণ্যের বহুমুখীকরণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার’



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাণিজ পণ্যের বহুমুখীকরণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
‌‌
মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের এগ্রো বিজনেস প্ল্যানিং, টেকনোলজিস অ্যান্ড মার্কেটিং অ্যাডভাইস অ্যান্ড ইমপ্লিমেনটেশন সাপোর্ট বিষয়ক ইনসেপশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা জানান।

জার্মানিভিত্তক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এএফসি এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফিন্যান্স কনসালটেন্টস এবং তাদের বাংলাদেশ প্রতিনিধি সার্ভিসেস অ্যান্ড সলিউশনস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক হিসেবে নিযুক্ত রয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও উল্লিখিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এ কর্মশালা আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরণে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদিত সামগ্রী যাতে বিদেশে রফতানি করা যায় সেজন্য আমরা বিশ্বের উল্লেখযোগ্য দেশসমূহে বাজার সৃষ্টির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বেশ কয়েকটি দেশ আমাদের দেশ থেকে মাছ-মাংস আমদানির ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। প্রাণিজাত খাদ্য উৎপাদনের সাথে যারা জড়িত আছেন তাদের নিশ্চিত করতে চাই যে, বিশ্ববাজারে আপনাদের উৎপাদিত সামগ্রী ছড়িয়ে দিতে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, করোনাকালে খামারিদের উৎপাদিত সামগ্রী যাতে মুখ থুবড়ে না পড়ে সেজন্য দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমরা ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় ব্যবস্থার মাধ্যমে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম বিক্রির ব্যবস্থা করেছি। মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের কর্মকর্তাদের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত মাছের বা প্রাণীর খাবার বিমানবন্দর, নদীবন্দর বা সমুদ্রবন্দরে যাতে আটকে না থাকে সেজন্য আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করে মৎস্য ও প্রাণিজাত পণ্য সামগ্রীর পরিবহন স্বাভাবিক রেখেছি। লক্ষ্য ছিল উৎপাদনকারীরা যাতে বিপদে না পড়ে এবং উৎপাদিত সামগ্রী বিক্রি করতে পারে।

তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতে শুধু উৎপাদন বৃদ্ধিই নয় বরং উৎপাদিত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। বহুমুখীকরণ করতে না পারলে এ খাতকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। দুধ ও মাংস থেকে বহুমুখী ব্যবহার উপযোগী উপকরণ তৈরির সুযোগ রয়েছে। এ খাতে সম্পৃক্তরা এর বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে হবে, মাংস জাতীয় পণ্য তৈরির দিকে দৃষ্টি প্রসারিত করতে হবে। মাংস থেকে চিপস তৈরি হতে পারে, বিস্কুট তৈরি হতে পারে। শুধু মাংস বিক্রির মাধ্যমে এ খাতকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। এজন্য বহুমুখীকরণ ও ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।

তিনি আরও বলেন, দুধ উৎপাদন ও বিপণন সমস্যা সমাধানে প্রকল্পের আওতায় সরকার কুলিং সেন্টার করে দিচ্ছে, খামারিদের মিল্ক সেপারেটর মেশিন সরবরাহ করছে, উৎপাদিত দুধ সরবরাহের জন্য খামারিদের গ্রোথ সেন্টারের সাথে সংযুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে প্রাণিসম্পদ খাতে সম্পৃক্তদের সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকার ব্যাপক আকারে পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন ও বিস্তারে শুধু কাজ করলেই হবেনা, এর গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। এ খাতে গুণগত মানসম্পন্ন সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করতে হবে। উৎপাদিত মাংস যেন মানবদেহের জন্য উপযোগী হয়, মাংস থেকে অন্যান্য পণ্য উৎপাদন করলে সেটা যেন মানসম্পন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও আন্তর্জাতিক মানের হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে যে খাবার ব্যবহৃত হবে সেটাও মানসম্পন্ন হতে হবে, মাননিয়ন্ত্রণ গবেষণাগারে পরীক্ষাকৃত হতে হবে।

;

বাংলাদেশে ট্রেড মিশন পাঠাবে ডেনমার্ক



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাংলাদেশে ট্রেড মিশন পাঠাবে ডেনমার্ক

বাংলাদেশে ট্রেড মিশন পাঠাবে ডেনমার্ক

  • Font increase
  • Font Decrease

কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ট্রেড মিশন পাঠাবে ডেনমার্ক। এমন আশ্বাস দিয়েছেন ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এস্ট্রাপ পিটারসেন।

এছাড়া, কৃষিপণ্য ও খাদ্যের গুণগতমান উন্নয়নে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা দেবে ডেনমার্ক।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বিকালে সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ঢাকায় নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এস্ট্রাপ পিটারসেন (Winnie Estrup Petersen) এ সহযোগিতার কথা জানান।

বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনের অভাবনীয় সাফল্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, রফতানি ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। দেশের আম, আনারস, কলা, টমেটো, আলু ও শাকসবজি প্রভৃতি রফতানি ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সম্ভাবনা অনেক। এক্ষেত্রে ডেনমার্কের বিনিয়োগ ও উন্নত প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রয়োজন। উত্তম কৃষিচর্চা (জিএপি) মেনে খাদ্য উৎপাদনেও ডেনমার্কের সহযোগিতা দরকার। এছাড়া, পূর্বাচলের ২ একর জমিতে আধুনিক প্যাকিং হাউজ নির্মাণ ও আধুনিক টেস্টিং ল্যাব স্থাপনে ডেনমার্কের সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।

ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এস্ট্রাপ পিটারসেন কৃষিখাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের গুণগতমান উন্নয়নে ও এগ্রিবিজনেসে ডেনমার্ক সহযোগিতা করবে। কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি হলে ডেনমার্কের বিনিয়োগ ও ট্রেড মিশন পাঠানোর বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের কৃষিখাত, ডেইরি, নিরাপদ খাবার, খাদ্য অপচয় কমানো, ফুড ভ্যালু চেইন ও ল্যাব উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া, কৃষিখাতে সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের ব্যাপারেও দুই দেশ সম্মত হয়।

সাক্ষাৎকালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো.রুহুল আমিন তালুকদার, উপসচিব এসএম ইমরুল হাসান, ডেনমার্কের ঢাকা দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর আলি মুস্তাক বাট উপস্থিত ছিলেন।

;