আজ লক্ষ্মীপুর হানাদার মুক্ত দিবস



মীর ফরহাদ হোসেন সুমন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আজ ৪ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর পাক হানাদার বাহিনী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকার ও পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করে প্রকাশ্যে লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করেন লক্ষ্মীপুরে।

এর আগে ৯মাস যুদ্ধকালীন সময়ে পাক সেনারা রাজাকার আল বদর ও এ দেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় তৎকালীন নোয়াখালী জেলার বর্তমান লক্ষ্মীপুরের ৫টি উপজেলায় ব্যাপক অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ধর্ষণসহ হাজার হাজার নিরীহ জনসাধারণকে নৃশংস ভাবে হত্যা করে। মহান স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরেও এ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার পাননি অনেক পরিবার। সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের কাছে জেলা ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবী জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুরবাসী।

barta24

লক্ষ্মীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিবাহিনীর ১৯টি সম্মুখযুদ্ধসহ ২৯টি দুঃসাহসিক অভিযান চলে। এ সব যুদ্ধে সৈয়দ আবদুল হালীম বাসু, মনছুর আহমদ, আলী আহম্মদ (ইপিআর), আবু ছায়েদ, মেস্তাফিজুর রহমানসহ ৩৫জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

ওই সময়ে রাজাকারদের নেতৃত্ব দিয়েছেন, রাজাকার কমান্ডার সফিক উদ্দিন, মনিরুজ্জামান, লুৎফুর রহমান প্রকাশ লুতু কমান্ডার ও হারিছ মিয়া। এ সব রাজাকারদের সহযোগিতা নিয়ে পাক হানাদার বাহিনী আরও নাম জানা অজানা কয়েক হাজার মুক্তিকামী নারী-পুরুষকে নির্বিচারে হত্যা করে।

তাদের নির্যাতনে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অনেকে। লুটপাটসহ পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, মুক্তিকামী মানুষদের হাজার হাজার ঘরবাড়ি। পরবর্তীতে ৪ ডিসেম্বর প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হায়দার চৌধুরী ও প্রয়াত সুবেদার আবদুল মতিনের নেতৃত্বে দেড় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা একত্রিত হন। প্রত্যেকটি দলে ৮/১০ জন করে দল গঠন করে বিভক্ত হয়ে দালাল বাজার, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদি, শাখারী পাড়ার মিঠানীয়া খাল পাড়সহ বাগবাড়িস্থ রাজাকার ক্যাম্পে হামলা চালান দুঃসাহসিক এ সব মুক্তিযোদ্ধারা।

অভিযানে মুক্তিযোদ্ধারা ৭০/৮০জন সশস্ত্র রাজাকারকে আটক করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেন। সেদিনই বীর মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার বাহিনী মুক্ত করেন লক্ষ্মীপুরকে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে উত্তোলন করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের ‘লাল সবুজের পতাকা’। যুদ্ধকালিন সময়ে নারকীয় হত্যাযজ্ঞের আজও নীরব সাক্ষী হয়ে আছে, জেলা শহরের বাগবাড়িস্থ গণকবর, সারের গোডাউনে পরিত্যাক্ত টর্চারসেল, সার্কিট হাউজ সংলগ্ন মাদাম ব্রীজ বধ্যভুমি, পিয়ারাপুর ব্রীজ, বাসু-বাজার গনকবর, চন্দ্রগঞ্জ, রসুলগঞ্জ ও আবদুল্যাপুরে গণকবর এবং রামগঞ্জ থানা সংলগ্ন বধ্যভূমি। এ ছাড়া নানান স্থানে আরো অনেক বদ্যভূমি রয়েছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। আজো ওই সব বদ্যভমি সংরক্ষিত হয়নি।

তবে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল থেকে জানাানো হয়েছে, কেন্দ্রিয় দপ্তরে ওই সব তালিকা পাঠানো হয়েছে। মহান স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরেও ’৭১ এর এ নৃশংস হত্যাযজ্ঞের বিচার পাননি লক্ষ্মীপুরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার।

এ ধরণের এক পরিবার রয়েছে, লক্ষ্মীপুরের মজুপুর এলাকায়। নিজে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার কারনে পরিবারের ৬ সদস্যকে হত্যা, ৪ জনকে পঙ্গু ও বাড়ী ঘর জ্বালিয়ে দেয়া হলেও এখনো বিচার পাননি বলে অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী শহীদ পরিবারের সদস্য দ্বীন মোহাম্মদ। বর্তমান সরকারের কাছে প্রিয়জনকে হত্যার বিচার দাবী করে তিনি জেলায় ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবী জানান।

অভিযোগ করে তিনি জানান, তৎকালের কুখ্যাত খুনি মওলানা আব্দুল হাই আজো পলাতক রয়েছে। বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের স্বপেক্ষের সরকার সেই কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে অদ্যাবধি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন না করায় তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। একই দাবী জানান, প্রয়াত জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আনোয়ারুল হক মাস্টার, যুদ্ধকালীন মুজিব বাহিনীর ডিপুটি কমান্ডার প্রয়াত জয়নাল আবেদিন এর পরিবার।

তারা জানায়, এখানকার মুক্তিযোদ্ধারা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার গুলো এখনো সরকারের অনেক সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত। তাদেরকে সবাইকে পূনর্বাসনের দাবী জানিয়ে একই সঙ্গে কুখ্যাত খুনিদের বিচার দাবী তোলেন তারা।

এ দিনটি যথাযথভাবে পালনে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল থেকে দিন ব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে বলে জানা যায়।

ফরিদপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফরিদপুর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুরে ট্রাকচাপায় এক মোটরসাইকেল আরোহী যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে শহরের টেপাখোলা লেকপাড়ের শিশু সদনের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম ফারহান (২৫)। নিহত ফারহান শহরের পিয়ন কলোনির কমলাপুরের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের সিএন্ড‌বি ঘাট অভিমুখে যাওয়ার পথে টেপাখোলা লেকপাড়ের শিশু সদনের সামনে একটি ট্রাক মোটরসাইকেল আরোহী ফারহানকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এসময় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী আকাশ (২০) গুরুতর হন। পরে তাকে আহতাবস্থায় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল জানান, মরদেহ ও মোটরসাইকেলটি কোতয়ালী থানা পু‌লিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত বিষয়গুলো প্রক্রিয়াধীন।

;

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনে মলদ্বারের নাড়ি কেটে ফেললেন চিকিৎসক!



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফরিদপুর
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অস্ত্রোপচার করার সময় এক গৃহবধূর মলদ্বারের নাড়ি কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই গৃহবধূ বর্তমানে বিএসএমএমসি হাসপাতালের নতুন ভবনের পাঁচতলায় নারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম উৎপল নাগ। তিনি ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ (বিএসএমএমসি) হাসপাতালের চিকিৎসক। এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী আব্দুল মান্নান ব্যাপারী।

অভিযোগ সূত্র থেকে জানা গেছে, স্ত্রী হাসনা বেগম পেটে ব্যথা অনুভব করলে গত ২২ ডিসেম্বর ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে গাইনি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান আব্দুল মান্নান। তাকে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ডা. উৎপল নাগের কাছে রেফার করা হয়। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে বলে জানান এবং দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে রোগীকে বাঁচানো যাবে না বলে মত দেন।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ডা. নাগ তাদের বলেন, বিএসএমএমসি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করাতে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হবে এবং এই সরকারি হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। পরে তিনি তার ভিজিটিং কার্ড দিয়ে তাদের শহরের রথখোলায় পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত পিয়ারলেস হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি আরও জানান, একটু পরেই তিনি ওই হাসপাতালে যাবেন।

ভুক্তভোগী রোগীর পিতা হাশেম মল্লিক জানান, ডা. উৎপল নাগের কথামতো তার মেয়ে হাসনাকে পিয়ারলেস প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেয়া হয়। সেখানে তিনটি পরীক্ষা করা হয়। এতে খরচ হয় ২৬০০ টাকা। ওইদিন সন্ধ্যায় অস্ত্রোপচার করা হবে বলে জানানো হয়। পরে ২৬ হাজার টাকা খরচে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অস্ত্রোপচার করান ডা. নাগ।

তিনি আরও বলেন, অস্ত্রোপচারের চারদিন পর হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়ার সময় হাসনা বেগমের সেলাই কেটে ড্রেসিং করার সময় মলদ্বার দিয়ে মল বের হতে থাকে। বিষয়টি ডা. উৎপল নাগকে জানানোর পর তিনি ফের অস্ত্রোপচার করার কথা বলেন। এজন্য আরও এক লাখ টাকা লাগবে বলেও জানান তিনি। এরপর অসুস্থ হাসনা বেগমকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করে জানান, হাসনা বেগম দিন দিন শীর্ণকায় হয়ে যাচ্ছেন। স্ত্রীর চিকিৎসার পেছনে ছুটতে গিয়ে আয়ও বন্ধ মান্নান ব্যাপারীর। এ অবস্থায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারটির।

এ ব্যাপারে জানতে ডা. উৎপল নাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাসনা বেগমকে বিএসএমএমসি হাসপাতাল থেকে ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করানোর পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। সেই সঙ্গে ফের অস্ত্রোপচার করাতে এক লাখ টাকা দাবির অভিযোগও অস্বীকার করেন।

ডা. উৎপল নাগ জানান, ওই রোগীর অ্যাপেন্ডিসাইটিস পেকে গিয়েছিল। সৃষ্টিকর্তা তার হাত দিয়ে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। এখন তারা কী কারণে এসব অভিযোগ করছে, তা বুঝতে পারছেন না তিনি।

এ ব্যাপারে বিএসএমএমসি হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে ওই রোগীর খোঁজ নিয়েছি। তার চিকিৎসার কোনো ত্রুটি হবে না। তিনি বলেন, ডা. উৎপল নাগের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

;

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির নতুন কমিটি



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কক্সবাজার
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেষ্ট হাউস মালিক সমিতির নতুন কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিতে সর্বসম্মতিক্রমে আবুল কাশেম সিকদারকে সভাপতি ও সেলিম নেওয়াজকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের কলাতলীর একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিলো সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা, কার্যকরী কমিটি ঘোষণা, সম্মাননা প্রদান, কার্যকরী কমিটি ও উপদেষ্টা কমিটি গঠন। পরে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি ও ৫ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়।

উপদেষ্টা কমিটিতে ওমর সুলতানকে প্রধান উপদেষ্টা করে নুরুচ্ছফা, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ দেলোয়ার ও মোহাম্মদ ফারুককে উপদেষ্টা মনোনীত করা হয়।

কার্যকরী কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি সরওয়ার কামাল, সহ-সভাপতি ফোরকান মাহমুদ, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাহীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বজল আহমদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক এড. মো. ইসহাক, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান লাভলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জিয়া উদ্দিন জিয়া, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মহসিন, পর্যটন উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ রুবেল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নুরুল আবছার, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক সাইদুল ইসলাম শিবু, নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে- হাবিবুর রহমান, শাহজাহান ছিদ্দিকী মার্শাল, মমতাজ আহমদ, আরিফুল ইসলাম আরিফ, আবদুল হক ও আসলাম খান।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন হোটেল মোটেল গেষ্ট হাউস অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ। এর আগে সংগঠনের পক্ষ থেকে আলহাজ্ব ওমর সুলতান ও মরহুম আলহাজ্ব শফিকুর রহমানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

;

বিষ খাইয়ে কৃষককে হত্যা, দুই স্ত্রীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফরিদপুর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিষপানে হিরু মাতুব্বর (৫০) নামে এক কৃষক মারা গেছেন। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গত শনিবার (২২ জানুয়ারি) দিবগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ডাংগী ইউনিয়নের রাজকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হিরু মাতুব্বরকে জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার ভাই সোহরাব মাতুব্বরের। তবে কে বা কারা হিরু মাতুব্বরকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে, সে ব্যাপারে হিরুর প্রথম স্ত্রী ও দ্বিতীয় স্ত্রী পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।

একই গ্রামের আবদুল ছাত্তার মাতুব্বরের ছেলে সামন মাতুব্বর বলেন, রাজকান্দা গ্রামের মৃত ওহাব মাতুব্বরের ছেলে হিরু মাতুব্বরকে শনিবার সন্ধ্যায় তার বাড়ির পাশে বাগানে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পাই। এসময় হিরু মাতুব্বরের ছেলে হোসাইন মাতুব্বর সেখানে আসেন।

‌‘ওই সময় আহত হিরু মাতুব্বরের কাছে ঘটনা জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, পাশের শ্রীরামদিয়া গ্রামের ৫-৬ জন লোক তাকে ঘাসমারা ওষুধ (কীটনাশক) জোর করে খাইয়ে বাগানে ফেলে রেখে গেছে। তিনি এসময় কয়েকজনের নামও বললে আমি তা মোবাইলে রেকর্ড করে রাখি। সেই ভিডিও ইতোমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।’

হিরু মাতুব্বরের ভাই সোহরাব মাতুব্বর বলেন, হিরুকে বিষ খাওয়ানো হয়েছে, এটা জানতে পেরে আমরা তাকে শ্রীরামদিয়া গ্রামে তার দ্বিতীয় স্ত্রী রানু বেগমের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসি। কারণ হিরু দুইমাস আগে শ্রীরামদিয়া গ্রামের জাফর মাতুব্বরের মেয়ে রানু বেগমকে বিয়ে করে সেই বাড়িতেই থাকতেন।’

স্থানীয়রা জানান, অসুস্থ হিরু মাতুব্বরকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী রানু বেগম উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হিরু মারা যান। হিরু দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল।

এ নিয়ে হিরুর প্রথম স্ত্রী হায়াতুন্নেছা বলেন, দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে সে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে থাকে। আমাদের কোনো খোঁজ-খবর নিতেন না। সেই বাড়ির লোকজন তাকে বিষ খাইয়ে, আমাদের বাড়ির পাশের বাগানে রেখে যায়। তাই আমরা তাকে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে রেখে আসি।

হিরু মাতুব্বরের দ্বিতীয় স্ত্রী রানু বেগমকে তার বাড়িতে পাওয়া না গেলেও তার বাবার বাড়ির লোকজনের দাবি, প্রথম স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজন এ মৃত্যুর জন্য দায়ী।

নগরকান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সুমিনুর রহমান বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে। হিরু মাতুব্বরের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তার মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

;