সবাই মিলে ঢাকাকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে হবে: মেয়র আতিক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, সবাই মিলে ঢাকাকে দখল ও দূষণমুক্ত করে সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকায় রূপান্তরিত করতে হবে।  

রোববার (৫ ডিসেম্বর) গুলশানের নগর ভবনের হলরুমে আয়োজিত ডিএনসিসি মেয়র'স কাপ-২০২১ এর ফিক্সচার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। 

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণায় প্রথমবারের মতো এই টুর্ণামেন্টের আয়োজন করায় ডিএনসিসি পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত।

মেয়র বলেন, ফুটবল, ভলিবল ও ক্রিকেট এই তিনটি ইভেন্ট নিয়ে আয়োজিত টুর্নামেন্টটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে "খেলাধুলায় ব্যাস্ত থাকি, মাদককে দূরে রাখি" যা সময়োপযোগী ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।     

তিনি বলেন, আগামী ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে ফুটবল দিয়েই এই টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন হবে।

মো. আতিকুল ইসলাম এর উপস্থিতিতেই অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে লটারী ড্রয়ের মাধ্যমে ফুটবল ও ক্রিকেট এই দুটি ইভেন্টের জন্য ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডের ৫৪ জন সাধারণ কাউন্সিলরের তত্ত্বাবধানে গঠিত ৫৪টি পৃথক দলকে ১৮টি গ্রুপে এবং ভলিবলের জন্য সরক্ষিত ১৮ জন নারী কাউন্সিলরের তত্ত্বাবধানে গঠিত ১৮টি দলকে ৩টি গ্রুপে বিভক্ত করা হয়।

 

দেশে ‘গোল্ড ব‍্যাংক’ স্থাপনের বিষয়ে ভাবা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি

  • Font increase
  • Font Decrease

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাংলাদেশ এক সময় মসলিনের জন‍্য বিশ্বে পরিচিত ছিল। দেশে গোল্ড রিফাইনারি ফ্যাক্টরি হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে স্বর্ণ রফতানি করা হবে। আমি মনে করি মসলিনের সুনাম স্বর্ণ দিয়ে পুনরুদ্ধার করতে পারব। আপনারা (বাজুস) দেশে গোল্ড ব‍্যাংক করার দাবি জানিয়েছেন আমরা এই বিষয়ে ভেবে দেখব। প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব গেলে তিনি রাজি হয়ে যাবেন বলে বিশ্বাস করি।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) কার্যালয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশে যারা স্বর্ণকার বা স্বর্ণ শিল্পী তাদের হাতের কাজ অনেক সুন্দর। বংশ পরস্পরায় তারা স্বর্ণের কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে স্বর্ণ রফতানি করা হবে। তাদের এই কাজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারেও খ‍্যাতি লাভ করা সম্ভব। এই শিল্পের মূল‍্য অনেক। অল্প একটু স্বর্ণের দাম লাখ লাখ টাকা। আমাদের রফতানিও অনেক বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, বলতে বাধা নাই সরকারের অফিসে কাজ বের করা অনেক কঠিন। সারাজীবন ব‍্যবসার সাথে ছিলাম তখন বুঝেছি এখন মন্ত্রী হয়েও আরেক অভিজ্ঞতা হলো। সবকিছু দেখছি সত্যিকার অর্থেই সবকিছু ভীষণ সমস্যা। পদে পদে বাধা তারপরও আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশটাকে এগিয়ে এনেছি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গোল্ড ব‍্যাংক করার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেলেই তিনি রাজি হয়ে যাবেন বলে আমার বিশ্বাস। আমরা এ বছর ৫১ বিলিয়ন ডলার রফতানির টার্গেট করেছি। ২০২৪ সালের মধ্যে ৮০ বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ‍্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই দেখি রফতানি লক্ষ্যমাত্রা কতটুকু পূরণ হয়েছে। আর কতটুকু বাকি। ব‍্যবসায়ীদের মাধ‍্যমেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে। আপনাদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে সরকার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে স্বর্ণের রিফাইনারি ফ‍‍্যাক্টরি হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বর্ণ শিল্পীরা সারা বিশ্বে বিখ্যাত। গার্মেন্টস শিল্পকে জুয়েলারি শিল্প ছাড়িয়ে যাবে। বিশ্বে স্বর্ণ রফতানি করলে টাকা রাখার জায়গা থাকবে না। কারণ স্বর্ণের দাম বিশ্বে অনেক।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছে। তবে দেশের জন‍্য বেশি কিছু করে যেতে পারেনি। তার আগেই সপরিবারে তাকে হত্যা করা হয়। তিনি বেঁচে থাকলে পঞ্চাশ বছর আগেই গোল্ড রিফাইনারি ফ‍্যাক্টরি হয়ে যেত।

বাজুসের সভাপতি ও বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া জুয়েলারি সমিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি আমাদের অভিভাবক সবসময় আমাদের পাশে থেকেছেন। আমরা এখন থেকে স্বর্ণ রফতানি করব। আমি দেশের বাইরে গেলে সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা বলেন, বাংলাদেশ একটি কারখানা করেন আমরা এসে কাজ করব। আমরা চাই দেশে এসে কাজ করতে। বাইরে কাজ করতে ভালো লাগে না।

;

গেম খেলার জন্য মোবাইল কিনে না দেওয়ায় স্কুল ছাত্রের আত্নহত্যা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, যশোর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

যশোরের ঝিকরগাছায় ফ্রি ফায়ার গেম খেলার জন্য মোবাইল কিনে না দেয়ায় বাবার উপর অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে তৌফিক হোসেন (১৪) নামের এক স্কুলছাত্র আত্মহত্যা করেছে।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত তৌফিক ওই গ্রামের জাকির হোসেনের একমাত্র ছেলে। সে উপজেলার কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয়রা জানায়, নিহত তৌফিক বেশ কিছুদিন ধরে ফ্রি ফায়ার গেম খেলার জন্য মোবাইল কিনতে তার বাবাকে চাপ দিচ্ছিলো। আজ দুপুরে তৌফিক বাড়ির পাশের একটি রেইন্ট্রি বাগানে বসে বন্ধুদের সাথে মোবাইলে গেম খেলছিল। এসময় তার পিতা জাকির হোসেন সেখানে গিয়ে ছেলেকে বকাঝকা করে। এক পর্যায়ে নিজ ঘরে আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে তৌফিক। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি দেখে ফেলেন। এর পর দ্রুত উদ্ধার করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তৌফিককে মৃত ঘোষণা করেন।

ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন ভক্ত জানান, নিহতের পরিবার দাবি করছে মোবাইল কিনে না দেয়ায় পিতার উপর অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে তৌফিক। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

;

অনশন ভাঙলেও ভিসি পতনের আন্দোলন চলবে



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভিসি ফরিদ উদ্দিন পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন থামবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর এলাকায় সাংবাদিকদের একথা জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে তারা দু'হাত তুলে একসাথে শপথ বাক্য পাঠ করেন। 

শিক্ষার্থীরা বলেন, ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে সরছি না। তারা বলেন, আমাদের সহপাঠীদের জীবন বাচাঁতে আমরা তাদেরকে অনশন ভাঙতে বলবো। যদি তারা অনশন ভাঙে তবুও আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমাদের একদফা দাবি ভিসিকে পদত্যাগ করতে হবে।

আন্দোলনকারীদের এক মুখপাত্র অভিযোগ করে বলেন, সোমবার (২৪ জানুয়ারি) রাত থেকে অনশনরত শিক্ষার্থীদের মেডিকেল সাপোর্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, 'অনশনরত শিক্ষার্থীদের সবার অবস্থার অবনতি হচ্ছে এবং তারা ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। তারা সবাই খিঁচুনি, ব্লাডে অক্সিজেন ও সুগার লেভেল কমে যাওয়া, ব্লাড প্রেশারসহ নানা শারীরিক জটিলতায় পড়ছেন। তারা অর্গান ড্যামেজের ঝুঁকিতে আছেন।

'তিনি আরও বলেন, 'অনশনকারীদের মেডিকেল রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে সিনিয়র চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, অনশন দীর্ঘায়িত হলে যেকোনো মুহূর্তে হার্ট ফেইলিওরসহ কোমায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় ২০ জন অনশনকারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৮ জন ক্যাম্পাসে অনশন করছে। তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে তারা অনশন ভাঙেনি বলে জানা গেছে।

এদিকে, শাবিপ্রবির সাবেক ৫ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে তাদেরকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আটক শিক্ষার্থীদের পরিবারের অভিযোগ, শাবি ভিসির পদত্যাগের দাবিতে শাবিপ্রবির চলমান আন্দোলনে কিছু অর্থ সহায়তা করায় তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার নিশারুল আরিফ বলেন, ‘পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির টিম ঢাকায় পাঁচজনকে আটক করেছে। তারা শাবির সাবেক শিক্ষার্থী বলে শুনেছি। তাদের সিলেটে নিয়ে আসা হচ্ছে। তবে কী কারণে তাদের আটক করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কিনা এসব বিস্তারিত জানি না। তারা এলে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

এদিকে, ভিসি ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে টানা ১৩ দিন থেকে উত্তাল শাবি ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের অহিংস আন্দোলন ক্রমেই সহিংসতার দিকে এগুচ্ছে। টানা সাত দিন থেকে আমরণ অনশন পালন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গত শনিবার থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। অবরুদ্ধ রাখা অবস্থায় আন্দোলনের এক পর্যায়ে ভিসির বাসভবনের বিদ্যুত লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সোমাবার রাতে পরে আবার বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়।

গত রোববার বিকেল থেকে ভিসির বাসভবনের মুল ফটকে মানবপ্রাচীর তৈরি করে রেখেছে আন্দোলনকারীরা। এর থেকে ভিসির বাসভবনে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। মঙ্গলবার দুপুরে ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সাথে খাবার নিয়ে আসলে তাদেরকে ভেতরে যেতে দেয়নি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ এক ঘন্টা অপেক্ষা করে ফিরে যেতে হয়েছে তাদেরকে। তবে ভিসির সাথে নিয়ে আসা চাল ডালসহ শুকনো খাবার পুলিশের মাধ্যমে ভেতরে পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের। অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। শনিবার সন্ধ্যার দিকে হলের ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। রোববার ছাত্রীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে ভিসিকে মুক্ত করে। এতে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি উঠে।

;

ভেঙে ফেলা হল আরও একটি ঢোপকল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

এখন থেকে প্রায় ৮০ বছর আগে রাজশাহীতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল ঢোপকলের মাধ্যমে। সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল শহরের ৯৯টি ঢোপকল। এ কালে এসে শহরের রাস্তা সম্প্রসারণের কারণে ঢোপকলগুলোর উচ্ছেদ চলছে।

সবশেষ গত সোমবার (২৪ জানুয়ারি) নগরীর ফুদকিপাড়া এলাকা সুরেশ স্মৃতি সড়কের পাশের ঢোপকলটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই ঢোপকলটি এখনও সচল ছিল। পাইপলাইনের মাধ্যমে রাজশাহী পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ওয়াসা) পানি আসত। এভাবে একের পর এক ভেঙে ফেলায় শহরে ঢোপকলের সংখ্যা কমে প্রায় ১৫টিতে নেমেছে।

জানা গেছে, রায় ডিএন দাশগুপ্ত ১৯৩৪ সালে রাজশাহী পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। তখন ডায়রিয়া ও কলেরায় রাজশাহীতে অনেকের মৃত্যু হচ্ছিল। এই সংকট সমাধানে চেয়ারম্যান শহরে পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়ার কাজে হাত দেন। এতে সহায়তা করে ‘রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশন’ নামের একটি জনকল্যাণমূলক সংগঠন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সংগঠনটি রাজশাহীর দানশীল ধর্নাঢ্য ব্যক্তিদের সহায়তার আহ্বান জানায়। সে সময় রাজশাহীর পুঠিয়ার মহারাণী ছিলেন হেমন্তকুমারী। উদ্যোগের কথা শুনে মহারাণী একাই দান করেন ৬৫ হাজার টাকা।

স্থাপন করা হয় একটি পানি শোধনাগার। এখান থেকে তখনকার ছোট্ট শহরটির মোড়ে মোড়ে পানি পৌঁছে দিতে পশ্চিমে কোর্ট, পূর্বে রামচন্দ্রপুর, পদ্মার পাড় এবং গৌরহাঙ্গা পর্যন্ত এলাকায় স্থাপন করা হয় ৯৯টি ঢোপকল। উড়িষ্যা থেকে রাজমিস্ত্রি এনে নগরীর পাঁচআনী মাঠে তৈরি করা হয় সিমেন্টের ঢোপকলগুলো। প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিসপত্র আনা হয়েছিল ইংল্যান্ড থেকে। ঢোপকলগুলোর উচ্চতা ১২ ফুট, ব্যস চার ফুট। পানির ধারণক্ষমতা ৪৭০ গ্যালন। ঢোপকলগুলোর প্রতিটিই ছিল একটি ‘রাফিং ফিল্টার’। স্থাপনের সময় সারাদিনে মাত্র দুই ঘন্টা পানি সরবরাহ করা হত। এ জন্য প্রতিটি ঢোপকলকে পানি রিজার্ভ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হত। ফলে সারাদিনই পানি পাওয়া যেত।


আগের শোধনাগার ছেড়ে ঢোপকলগুলোকে ওয়াসার পাইপলাইনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু রাস্তা প্রশস্তকরণ ও বর্তমান পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সাথে খাপ না খাওয়ায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন এই ঢোপকলগুলির বেশির ভাগই ভেঙে ফেলেছে। পুরনো স্থান থেকে তুলে কিছু কিছু ‘মৃত’ ঢোপকল রাস্তার পাশে সাজিয়ে রাখা হয়েছে শুধু দেখার জন্য।

ফুদকিপাড়া এলাকার ঢোপকলটি ভেঙে ফেলার পর সেখানে গিয়ে দেখা যায়, এক সময় মহামারীতে জীবন রক্ষাকারী এই ঢোপকলের ওপরের অংশটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। নিচের অংশ এখনো রয়েছে। নিচের অংশ দিয়ে পানি বের হচ্ছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি বললেন, ঢোপকলটি এখনও সচল ছিল। মানুষ এখান থেকে পানি নিত। সেটা ভেঙে ফেলা হয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রাজশাহী শাখার সভাপতি আহমদ সফি উদ্দিন বলেন, ‘ঐতিহ্যের ঢোপকলগুলো ভেঙে ফেলা সাংস্কৃতিক অপরাধ। পৃথিবীর অন্যান্য শহরে এ ধরনের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য অর্থ খরচ করা হয়। রক্ষা করা হয়। আর আমরা ভাঙছি।’

তবে রাজশাহী ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ বলেন, ‘একটা সময় এটার প্রয়োজন ছিল। এখন নেই। এখনকার যুগের সাথে ঢোপকলগুলো আর চলে না।’

;