বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দরে এলপি গ্যাস মিলছেনা অনেক জায়গাতেই। বরগুনা, বরিশাল, বগুড়া ও রাজশাহীতে বাড়তি দরে বিক্রি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারদর কমে যাওয়ায় আমদানি নির্ভর এই জ্বালানির দাম কমিয়ে নির্ধারণ করে বিইআরসি। নভেম্বর মাসে সিলিন্ডার প্রতি (১২ কেজি) ১ হাজার ৩১৩ টাকা থাকলে ২ ডিসেম্বর কমিয়ে ১ হাজার ২২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। নভেম্বর মাসে সৌদি সিপি ছিল প্রোপেন ৮৭০ ডলার ও বিউটেন ৮৩০ ডলার। যা চলতি মাসে কমে টন প্রতি হয়েছে ৭৯৫ ও ৭৫০ ডলার। 

বিইআরসি ঘোষিত সেই দর খুব একটা কার্যকর হতে দেখা যাচ্ছে না। এখনও বিক্রেতারা খেয়ালখুশি মতো দর আদায় করছেন বলে খবর দিয়েছেন বার্তা২৪.কম এর প্রতিনিধিরা।

উপকূলীয় জেলা বরগুনার ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট জেলা সদর ও তালতলী উপজেলা ঘুরে বেশি দরে বিক্রির কথা জানিয়েছেন। জেলা সদরের জননী টেলিকমে বসুন্ধরা এলপি গ্যাস ১ হাজার ২৭০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে অন্যান্য কোম্পানির সিলিন্ডার ১ হাজার ১৮০ থেকে ১২’শ টাকা দরে বিক্রি করছেন বলে জানিয়েছেন জননী টেলিকমের মালিক নাসির উদ্দিন। অপরূপা টেলিকমেও একই দরে বেচা কেনা হতে দেখা গেছে। তালতলী উপজেলা সদরের ডিলার মল্লিক ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল মান্না মল্লিক বার্তা২৪.কমকে জানিয়েছেন, পাইকারি ক্ষেত্রে বসুন্ধরার সিলিন্ডার ১ হাজার ২৫০ টাকা ও অন্যান্য কোম্পানির ১ হাজার ১২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, যে দরে পেয়েছি সেভাবে বিক্রি করছি আমরা। নতুন দর পেলে নিশ্চয় কমে বিক্রি করা হবে।

বার্তা২৪.কম এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (বগুড়া) গণেশ দাস জানিয়েছেন, বগুড়াতে শনিবার (৪ ডিসেম্বর) পর্যন্ত ১২ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৩২০ টাকা দরে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন দাম কমেছে তবে তাদের আগের দামে কেনা থাকায় ১ হাজার ২২৮ টাকার স্থলে ১ হাজার ২৫০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। শহরের বউ বাজার এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুদী দোকানদার বলেন গ্রাহকের বাড়ি ফোন করার ১০ মিনিটের মধ্যে সিলিন্ডার পৌছে দিয়ে থাকি। একারনে সরকারি নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে ৫০ টাকা বেশী নেয়া হয়।

বগুড়া শহরের উপশহর এলাকার শুভ সেনেটারির মালিক আবু ওবায়েদ বলেন তার দোকানে  যমুনা ১ হাজার ২৩০ টাকা, বসুন্ধরা ১ হাজার ২৫০ টাকা, ওমেরা ১ হাজার ২৫০ টাকা, বেঙ্গল ১ হাজার ২৩০ টাকা, জেএমআই ১ হাজার ২৩০ টাকা, ফ্রেশ ১ হাজার ২৩০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। শহরের খান্দার এলাকার মাহবুব চাউল এন্ড এলপি গ্যাস ঘরের মালিক মাসুদুর রহমান বলেন পুর্বে ১ হাজার ৩২০ টাকা করে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করলেও শনিবার থেকে তারা নির্ধারিত মুল্যে বিক্রি করছেন।

বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে সরকার নির্ধারিত মূল্যে মিলছে না এলপি গ্যাস। পাইকাররাই বিক্রি করছে সরকার নির্ধারিত খুচরা দর। আর খুচরা বিক্রেতারা আরও বেশি দর আদায় করছেন। নগরীতে বসুন্ধরা ও ওমেরা এলপি গ্যাসের ১২ কেজির মূল্য ১ হাজার ২৬০ টাকা, বিএম ১ হাজার ২৩০ টাকা, যমুনা, লাফস ও বেক্সিমো ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বেঙ্গল হার্ডওয়্যারের কর্ণধার মো. মামুন বলেন, আমরাই ১ হাজার ২২৮ টাকায় কিনছি, পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে আরও অন্যান্য খরচ আছে। তাই ওই দামে ভোক্তাকে দেওয়া সম্ভব নয়। ওমেরা গ্যাসের পরিবেশক আকাশ সাহা বলেন, ‘আমরা পাইকারি হিসেবে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ১ হাজার ২২৮ টাকায় গ্যাস বিক্রি করছি। খুচরা বিক্রেতারা কত টাকায় বিক্রি করছেন তা জানি না, সেটা আমাদের জানার দরকারও নেই। পটুয়াখালী ও বরিশাল থেকেও বাড়তি দরে বিক্রির খবর পাওয়া গেছে।

তবে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে রংপুর জেলায় খোঁজ নিয়ে। জেলার খালাশপীর বাজারে বিইআরসির নির্ধারিত দরের চেয়ে কিছুটা কম দরেই বেচাকেনা হচ্ছে। এখানে ১ হাজার ১৮০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

গত ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এলপি গ্যাসের দর ঘোষণা করে বিইআরসি। তখন বলা হয়েছিল আমদানি নির্ভর এই পণ্যটির সৌদি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি আরামকো ঘোষিত দরকে প্রতি মাসের ভিত্তি মূল্য গণ্য হবে। সিপি উঠা-নামা করলে এলপিজির মূল্য উঠা-নামা করবে। আমদানিকারকের অন্যান্য কমিশন ও খরচ অপরিবর্তিত থাকবে।

বিইআরসি ঘোষিত কমিশনের বিষয়ে আমদানিকারকদের আপত্তির মুখে অক্টোবরে কমিশন বাড়িয়ে করা হয় ৪৪১ টাকা করা হয়েছে। ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন বাড়িয়ে যথাক্রমে ৩৪ ও ৩৮ টাকা করা হয়। আর এই ৩৮ টাকা নিজের পকেটে রেখে অনেক জায়গায় বিক্রি করছেন ডিলাররা। 

বিইআরসি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বার্তা২৪.কমকে বলেন, দর মনিটরিং করার জন্য সরকারের বিভিন্ন এজেন্সিকে বলা হয়েছে। বিইআরসি একার পক্ষে মনিটরিং করা সম্ভব না। বেশি দরে বিক্রি করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

তিনি আরও বলেন, কোনো নিউজ হলে ডিসি এবং ভোক্তা অধিদফতরকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিইআরসির কোনো কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। কোনো অবস্থাতেই বেশি দর আদায় করতে দেওয়া হবে না। 

ফরিদপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফরিদপুর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুরে ট্রাকচাপায় এক মোটরসাইকেল আরোহী যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে শহরের টেপাখোলা লেকপাড়ের শিশু সদনের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম ফারহান (২৫)। নিহত ফারহান শহরের পিয়ন কলোনির কমলাপুরের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের সিএন্ড‌বি ঘাট অভিমুখে যাওয়ার পথে টেপাখোলা লেকপাড়ের শিশু সদনের সামনে একটি ট্রাক মোটরসাইকেল আরোহী ফারহানকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এসময় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী আকাশ (২০) গুরুতর হন। পরে তাকে আহতাবস্থায় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল জানান, মরদেহ ও মোটরসাইকেলটি কোতয়ালী থানা পু‌লিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত বিষয়গুলো প্রক্রিয়াধীন।

;

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনে মলদ্বারের নাড়ি কেটে ফেললেন চিকিৎসক!



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফরিদপুর
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অস্ত্রোপচার করার সময় এক গৃহবধূর মলদ্বারের নাড়ি কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই গৃহবধূ বর্তমানে বিএসএমএমসি হাসপাতালের নতুন ভবনের পাঁচতলায় নারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম উৎপল নাগ। তিনি ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ (বিএসএমএমসি) হাসপাতালের চিকিৎসক। এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী আব্দুল মান্নান ব্যাপারী।

অভিযোগ সূত্র থেকে জানা গেছে, স্ত্রী হাসনা বেগম পেটে ব্যথা অনুভব করলে গত ২২ ডিসেম্বর ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে গাইনি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান আব্দুল মান্নান। তাকে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ডা. উৎপল নাগের কাছে রেফার করা হয়। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে বলে জানান এবং দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে রোগীকে বাঁচানো যাবে না বলে মত দেন।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ডা. নাগ তাদের বলেন, বিএসএমএমসি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করাতে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হবে এবং এই সরকারি হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। পরে তিনি তার ভিজিটিং কার্ড দিয়ে তাদের শহরের রথখোলায় পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত পিয়ারলেস হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি আরও জানান, একটু পরেই তিনি ওই হাসপাতালে যাবেন।

ভুক্তভোগী রোগীর পিতা হাশেম মল্লিক জানান, ডা. উৎপল নাগের কথামতো তার মেয়ে হাসনাকে পিয়ারলেস প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেয়া হয়। সেখানে তিনটি পরীক্ষা করা হয়। এতে খরচ হয় ২৬০০ টাকা। ওইদিন সন্ধ্যায় অস্ত্রোপচার করা হবে বলে জানানো হয়। পরে ২৬ হাজার টাকা খরচে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অস্ত্রোপচার করান ডা. নাগ।

তিনি আরও বলেন, অস্ত্রোপচারের চারদিন পর হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়ার সময় হাসনা বেগমের সেলাই কেটে ড্রেসিং করার সময় মলদ্বার দিয়ে মল বের হতে থাকে। বিষয়টি ডা. উৎপল নাগকে জানানোর পর তিনি ফের অস্ত্রোপচার করার কথা বলেন। এজন্য আরও এক লাখ টাকা লাগবে বলেও জানান তিনি। এরপর অসুস্থ হাসনা বেগমকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করে জানান, হাসনা বেগম দিন দিন শীর্ণকায় হয়ে যাচ্ছেন। স্ত্রীর চিকিৎসার পেছনে ছুটতে গিয়ে আয়ও বন্ধ মান্নান ব্যাপারীর। এ অবস্থায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারটির।

এ ব্যাপারে জানতে ডা. উৎপল নাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাসনা বেগমকে বিএসএমএমসি হাসপাতাল থেকে ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করানোর পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। সেই সঙ্গে ফের অস্ত্রোপচার করাতে এক লাখ টাকা দাবির অভিযোগও অস্বীকার করেন।

ডা. উৎপল নাগ জানান, ওই রোগীর অ্যাপেন্ডিসাইটিস পেকে গিয়েছিল। সৃষ্টিকর্তা তার হাত দিয়ে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। এখন তারা কী কারণে এসব অভিযোগ করছে, তা বুঝতে পারছেন না তিনি।

এ ব্যাপারে বিএসএমএমসি হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে ওই রোগীর খোঁজ নিয়েছি। তার চিকিৎসার কোনো ত্রুটি হবে না। তিনি বলেন, ডা. উৎপল নাগের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

;

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির নতুন কমিটি



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কক্সবাজার
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেষ্ট হাউস মালিক সমিতির নতুন কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিতে সর্বসম্মতিক্রমে আবুল কাশেম সিকদারকে সভাপতি ও সেলিম নেওয়াজকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের কলাতলীর একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিলো সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা, কার্যকরী কমিটি ঘোষণা, সম্মাননা প্রদান, কার্যকরী কমিটি ও উপদেষ্টা কমিটি গঠন। পরে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি ও ৫ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়।

উপদেষ্টা কমিটিতে ওমর সুলতানকে প্রধান উপদেষ্টা করে নুরুচ্ছফা, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ দেলোয়ার ও মোহাম্মদ ফারুককে উপদেষ্টা মনোনীত করা হয়।

কার্যকরী কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি সরওয়ার কামাল, সহ-সভাপতি ফোরকান মাহমুদ, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাহীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বজল আহমদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক এড. মো. ইসহাক, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান লাভলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জিয়া উদ্দিন জিয়া, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মহসিন, পর্যটন উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ রুবেল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নুরুল আবছার, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক সাইদুল ইসলাম শিবু, নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে- হাবিবুর রহমান, শাহজাহান ছিদ্দিকী মার্শাল, মমতাজ আহমদ, আরিফুল ইসলাম আরিফ, আবদুল হক ও আসলাম খান।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন হোটেল মোটেল গেষ্ট হাউস অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ। এর আগে সংগঠনের পক্ষ থেকে আলহাজ্ব ওমর সুলতান ও মরহুম আলহাজ্ব শফিকুর রহমানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

;

বিষ খাইয়ে কৃষককে হত্যা, দুই স্ত্রীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফরিদপুর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিষপানে হিরু মাতুব্বর (৫০) নামে এক কৃষক মারা গেছেন। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গত শনিবার (২২ জানুয়ারি) দিবগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ডাংগী ইউনিয়নের রাজকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হিরু মাতুব্বরকে জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার ভাই সোহরাব মাতুব্বরের। তবে কে বা কারা হিরু মাতুব্বরকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে, সে ব্যাপারে হিরুর প্রথম স্ত্রী ও দ্বিতীয় স্ত্রী পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।

একই গ্রামের আবদুল ছাত্তার মাতুব্বরের ছেলে সামন মাতুব্বর বলেন, রাজকান্দা গ্রামের মৃত ওহাব মাতুব্বরের ছেলে হিরু মাতুব্বরকে শনিবার সন্ধ্যায় তার বাড়ির পাশে বাগানে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পাই। এসময় হিরু মাতুব্বরের ছেলে হোসাইন মাতুব্বর সেখানে আসেন।

‌‘ওই সময় আহত হিরু মাতুব্বরের কাছে ঘটনা জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, পাশের শ্রীরামদিয়া গ্রামের ৫-৬ জন লোক তাকে ঘাসমারা ওষুধ (কীটনাশক) জোর করে খাইয়ে বাগানে ফেলে রেখে গেছে। তিনি এসময় কয়েকজনের নামও বললে আমি তা মোবাইলে রেকর্ড করে রাখি। সেই ভিডিও ইতোমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।’

হিরু মাতুব্বরের ভাই সোহরাব মাতুব্বর বলেন, হিরুকে বিষ খাওয়ানো হয়েছে, এটা জানতে পেরে আমরা তাকে শ্রীরামদিয়া গ্রামে তার দ্বিতীয় স্ত্রী রানু বেগমের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসি। কারণ হিরু দুইমাস আগে শ্রীরামদিয়া গ্রামের জাফর মাতুব্বরের মেয়ে রানু বেগমকে বিয়ে করে সেই বাড়িতেই থাকতেন।’

স্থানীয়রা জানান, অসুস্থ হিরু মাতুব্বরকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী রানু বেগম উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হিরু মারা যান। হিরু দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল।

এ নিয়ে হিরুর প্রথম স্ত্রী হায়াতুন্নেছা বলেন, দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে সে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে থাকে। আমাদের কোনো খোঁজ-খবর নিতেন না। সেই বাড়ির লোকজন তাকে বিষ খাইয়ে, আমাদের বাড়ির পাশের বাগানে রেখে যায়। তাই আমরা তাকে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে রেখে আসি।

হিরু মাতুব্বরের দ্বিতীয় স্ত্রী রানু বেগমকে তার বাড়িতে পাওয়া না গেলেও তার বাবার বাড়ির লোকজনের দাবি, প্রথম স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজন এ মৃত্যুর জন্য দায়ী।

নগরকান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সুমিনুর রহমান বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে। হিরু মাতুব্বরের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তার মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

;