রোদ উঠে গেছে, শীত এসে গেছে, আমাদের শহরে



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
নতুন কমলালেবু উল্লাস।

নতুন কমলালেবু উল্লাস।

  • Font increase
  • Font Decrease

শক্তি হারানো ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার আগে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে দিয়ে গেছে মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির ছোঁয়া। রোববার (৫ ডিসেম্বর) অপরাহ্ণে রোদের দেখা নেই। আলো এসে যেন থেমে গেছে দিগন্ত রেখায়। নিভে গেছে ঋতুচক্রের উজ্জ্বল অধ্যায়। নগরীর এভিনিউ ধরে পা বাড়াতেই প্রকৃতি কানে কানে বললো, শীত এসে গেছে, আমাদের শহরে।

শীতার্ত পথে চলতে চলতে মনে গুঞ্জরিত ‘শিরোনামহীন’ ব্যান্ডের ‘হাসিমুখ’ গানের মুখরা ‘তুমি চেয়ে আছ তাই, আমি পথে হেটে যাই/হেটে হেটে বহুদূর, বহুদূর যেতে চাই।’ গানের অন্তরায় তখন নস্টালজিয়ার টান, ‘রোদ উঠে গেছে তোমাদের নগরীতে/আলো এসে থেমে গেছে তোমাদের জানালায়/আনন্দ হাসিমুখ, চেনা চেনা সবখানে/এরই মাঝে চল মোরা হারিয়ে যাই।/তুমি চেয়ে আছ তাই, আমি পথে হেটে যাই/হেটে হেটে বহুদূর, বহুদূর যেতে চাই।’

barta24
দেখা মিললো শীতের পিঠার। ছবি: বার্তা২৪.কম

নগরের প্রাত্যহিক জীবনের বিবরের যান্ত্রিকতা ছেড়ে হেটে হেটে প্রিয়জন বা প্রিয় প্রকৃতিতে হারিয়ে যাওয়ার তীব্র প্রণোদনা জাগায় শীত। ভ্রমণের আদর্শ সময় ধরা হয় শীতকালকে। শীতকালে নগরের পথঘাটে পায়ে পায়ে হেটে বেড়ানোর উষ্ণ আমেজের তুলনা মেলাও ভার।

শীতের আমন্ত্রণ-মাখা আবেশে চট্টগ্রামের কাজির দেউরি মোড়ে দেখা পাওয়া গেলো নতুন কমলালেবু উল্লাস। দূরের স্কাইলাইনে ‘রেডিসন ব্লু’র আবয়ব। চারপাশে এখনও কিছু বৃক্ষরাজির উপস্থিতি। এরই মাঝে ফেনীর ছাগলনাইয়ার মোহন মিয়া ভ্যান ভর্তি কমলালেবুর পসরা সাজিয়েছেন। তার দাবি, 'এগুলো খাগড়াছড়িতে উৎপন্ন। শীতের শুরুতে এসেছে প্রথম চালান।’

barta24
গরম কাপড়ের সম্ভার। ছবি: বার্তা২৪.কম

দাম মোটামুটি সহনীয়, দেড়শ টাকা কেজি। করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধির কারণে মাস্ক ডিঙিয়ে পরখ করা গেলো না। বিশ্বাসের উপর ভরসা করে শীতের কমলালেবু নিয়ে ঘরে ফিরছেন কোনও কোনও নাগরিক।

খানিক এগিয়ে গিয়ে দামপাড়া-জিইসি মোড়ের আগে আগে দেখা মিললো শীতের পিঠার। গুড়ের মিষ্টিতে আর ঝাল মশলার পিঠার গরম আঁচ উতপ্ত করছে শীতের নগরবাসীদের। শীত আর পিঠার হাত ধরাধরি মিতালি বাংলাদেশের গ্রাম বা নগর সংস্কৃতির অনবদ্য অনুষঙ্গ।

নাসিরাবাদ রেলগেটের কাছে গরম কাপড়ের সম্ভার। একটি দুটি করে ভ্যান হাজির হচ্ছে। সন্ধ্যায় জমবে কাপড়ের ভাসমান হাট। ‘শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা বাড়ি ফেরার সময় কেনাকাটা করেন। রাতেই বিক্রি হয় বেশি’, বললেন দোকানি সুমন মিয়া।

কাঁচাবাজারগুলো ঝকঝক করছে বাহারী শীতের সবজিতে। লাল, সবুজ, হলুদ রঙে উদ্ভাসিত হচ্ছে চারপাশ। মৌসুমি ফলও বাজারে এসে গেছে। আসি আসি করে শীতও এসে যাচ্ছে শহরের আটপৌরে জীবনে।

প্রভাব খাটিয়ে পয়োনিষ্কাশনের জন্য সড়কের মাঝে গর্ত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাভার (ঢাকা)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর সাভারে পয়োনিষ্কাশনের পানি ফেলতে প্রভাব খাটিয়ে সড়কের মাঝে গর্ত খোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সাভার সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মিল্টন এলাকার। 

গর্ত খোঁড়ার সময় এলাকাবাসীর বাঁধা দিলে ওই সড়কের জায়গা তার পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবি করেন ওই নারী। তবে প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি সরকারি বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন বলেন, আমাদের এলাকার ওই সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় এক কিলোমিটার ও প্রস্থ ১২ ফুট। প্রতিদিন গার্মেন্টস শ্রমিকসহ প্রায় ৫০০ মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু রবিবার সড়ক থেকে একটু দূরের বাসিন্দা সুফিয়া বেগম তার বাসার বাথরুমের পানি ফেলার জন্য সড়কের মাঝে একটি গভীর কূপ করেন। এ সময় তাকে স্থানীয়রা বাঁধা দিলে তিনি বলেন তার পৈতৃক জমি থেকে সড়কের ওই জায়গা দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন।

সড়কের মাঝে এভাবে গভীর গর্ত খোঁড়ার কারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন অনেকে। বাসিন্দারা জনপ্রতিনিধিদের কাছে গেলে ওই নারী তাদের কাছে তিন-চার দিন সময় চেয়ে নেন। সড়কে খোঁড়া গর্তটি আপাতত টিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

অভিযুক্ত সুফিয়া বেগম বলেন, রাস্তাটা আমার বাড়ির সামনে এসেই শেষ হয়েছে। আর এই রাস্তার জমি আমরাই দিয়েছি। আমার বাড়ির ভেতরে ময়লা পানি রাখার কোনো জায়গা নেই। তাই রাস্তার ভেতরেই একটা গর্ত করেছি।

ওয়ার্ডটির সংরক্ষিত আসনের নারী মেম্বার মনোয়ারা বেগম বলেন, আজ চেয়ারম্যানের নির্দেশে ওই ওয়ার্ডের মেম্বার ও আমি সেখানে গিয়েছিলাম। সরকারি সড়কের মাঝে আমরা গর্ত খোঁড়া অবস্থায় দেখেছি। সুফিয়া বেগম নামে এক নারী তার বাসার পয়োনিষ্কাশনের জন্য গর্তটি করেছেন। তবে তাকে তিন দিন সময় দেয়া হয়েছে বিষয়টি মীমাংসার জন্য।

সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাজহারুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, মানুষের চলাচলের রাস্তার জায়গায় কারো মালিকানা হলেও কেউ বন্ধ করতে পারে না। জনগণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার অধিকার কারও নাই। এটি আইনসিদ্ধ নয়। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি সমাধান করার জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান সোহেল রানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে আমার সাথে কেউ যোগাযোগ করেনি।

স্থানীয় সাভার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা বার্তা২৪.কম-কে বলেন, আমি চেষ্টা করেছি সমস্যাটি সমাধান করার। সুফিয়া রাস্তার জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু তার প্রতিপক্ষের লোকজনের অসহযোগিতার কারণে সমস্যাটি সমাধান করা সম্ভব হয়নি।

;

দেশে ‘গোল্ড ব‍্যাংক’ স্থাপনের বিষয়ে ভাবা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি

  • Font increase
  • Font Decrease

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাংলাদেশ এক সময় মসলিনের জন‍্য বিশ্বে পরিচিত ছিল। দেশে গোল্ড রিফাইনারি ফ্যাক্টরি হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে স্বর্ণ রফতানি করা হবে। আমি মনে করি মসলিনের সুনাম স্বর্ণ দিয়ে পুনরুদ্ধার করতে পারব। আপনারা (বাজুস) দেশে গোল্ড ব‍্যাংক করার দাবি জানিয়েছেন আমরা এই বিষয়ে ভেবে দেখব। প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব গেলে তিনি রাজি হয়ে যাবেন বলে বিশ্বাস করি।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) কার্যালয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশে যারা স্বর্ণকার বা স্বর্ণ শিল্পী তাদের হাতের কাজ অনেক সুন্দর। বংশ পরস্পরায় তারা স্বর্ণের কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে স্বর্ণ রফতানি করা হবে। তাদের এই কাজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারেও খ‍্যাতি লাভ করা সম্ভব। এই শিল্পের মূল‍্য অনেক। অল্প একটু স্বর্ণের দাম লাখ লাখ টাকা। আমাদের রফতানিও অনেক বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, বলতে বাধা নাই সরকারের অফিসে কাজ বের করা অনেক কঠিন। সারাজীবন ব‍্যবসার সাথে ছিলাম তখন বুঝেছি এখন মন্ত্রী হয়েও আরেক অভিজ্ঞতা হলো। সবকিছু দেখছি সত্যিকার অর্থেই সবকিছু ভীষণ সমস্যা। পদে পদে বাধা তারপরও আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশটাকে এগিয়ে এনেছি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গোল্ড ব‍্যাংক করার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেলেই তিনি রাজি হয়ে যাবেন বলে আমার বিশ্বাস। আমরা এ বছর ৫১ বিলিয়ন ডলার রফতানির টার্গেট করেছি। ২০২৪ সালের মধ্যে ৮০ বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ‍্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই দেখি রফতানি লক্ষ্যমাত্রা কতটুকু পূরণ হয়েছে। আর কতটুকু বাকি। ব‍্যবসায়ীদের মাধ‍্যমেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে। আপনাদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে সরকার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে স্বর্ণের রিফাইনারি ফ‍‍্যাক্টরি হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বর্ণ শিল্পীরা সারা বিশ্বে বিখ্যাত। গার্মেন্টস শিল্পকে জুয়েলারি শিল্প ছাড়িয়ে যাবে। বিশ্বে স্বর্ণ রফতানি করলে টাকা রাখার জায়গা থাকবে না। কারণ স্বর্ণের দাম বিশ্বে অনেক।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছে। তবে দেশের জন‍্য বেশি কিছু করে যেতে পারেনি। তার আগেই সপরিবারে তাকে হত্যা করা হয়। তিনি বেঁচে থাকলে পঞ্চাশ বছর আগেই গোল্ড রিফাইনারি ফ‍্যাক্টরি হয়ে যেত।

বাজুসের সভাপতি ও বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া জুয়েলারি সমিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি আমাদের অভিভাবক সবসময় আমাদের পাশে থেকেছেন। আমরা এখন থেকে স্বর্ণ রফতানি করব। আমি দেশের বাইরে গেলে সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা বলেন, বাংলাদেশ একটি কারখানা করেন আমরা এসে কাজ করব। আমরা চাই দেশে এসে কাজ করতে। বাইরে কাজ করতে ভালো লাগে না।

;

গেম খেলার জন্য মোবাইল কিনে না দেওয়ায় স্কুল ছাত্রের আত্নহত্যা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, যশোর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

যশোরের ঝিকরগাছায় ফ্রি ফায়ার গেম খেলার জন্য মোবাইল কিনে না দেয়ায় বাবার উপর অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে তৌফিক হোসেন (১৪) নামের এক স্কুলছাত্র আত্মহত্যা করেছে।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত তৌফিক ওই গ্রামের জাকির হোসেনের একমাত্র ছেলে। সে উপজেলার কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয়রা জানায়, নিহত তৌফিক বেশ কিছুদিন ধরে ফ্রি ফায়ার গেম খেলার জন্য মোবাইল কিনতে তার বাবাকে চাপ দিচ্ছিলো। আজ দুপুরে তৌফিক বাড়ির পাশের একটি রেইন্ট্রি বাগানে বসে বন্ধুদের সাথে মোবাইলে গেম খেলছিল। এসময় তার পিতা জাকির হোসেন সেখানে গিয়ে ছেলেকে বকাঝকা করে। এক পর্যায়ে নিজ ঘরে আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে তৌফিক। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি দেখে ফেলেন। এর পর দ্রুত উদ্ধার করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তৌফিককে মৃত ঘোষণা করেন।

ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন ভক্ত জানান, নিহতের পরিবার দাবি করছে মোবাইল কিনে না দেয়ায় পিতার উপর অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে তৌফিক। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

;

অনশন ভাঙলেও ভিসি পতনের আন্দোলন চলবে



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভিসি ফরিদ উদ্দিন পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন থামবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর এলাকায় সাংবাদিকদের একথা জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে তারা দু'হাত তুলে একসাথে শপথ বাক্য পাঠ করেন। 

শিক্ষার্থীরা বলেন, ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে সরছি না। তারা বলেন, আমাদের সহপাঠীদের জীবন বাচাঁতে আমরা তাদেরকে অনশন ভাঙতে বলবো। যদি তারা অনশন ভাঙে তবুও আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমাদের একদফা দাবি ভিসিকে পদত্যাগ করতে হবে।

আন্দোলনকারীদের এক মুখপাত্র অভিযোগ করে বলেন, সোমবার (২৪ জানুয়ারি) রাত থেকে অনশনরত শিক্ষার্থীদের মেডিকেল সাপোর্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, 'অনশনরত শিক্ষার্থীদের সবার অবস্থার অবনতি হচ্ছে এবং তারা ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। তারা সবাই খিঁচুনি, ব্লাডে অক্সিজেন ও সুগার লেভেল কমে যাওয়া, ব্লাড প্রেশারসহ নানা শারীরিক জটিলতায় পড়ছেন। তারা অর্গান ড্যামেজের ঝুঁকিতে আছেন।

'তিনি আরও বলেন, 'অনশনকারীদের মেডিকেল রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে সিনিয়র চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, অনশন দীর্ঘায়িত হলে যেকোনো মুহূর্তে হার্ট ফেইলিওরসহ কোমায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় ২০ জন অনশনকারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৮ জন ক্যাম্পাসে অনশন করছে। তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে তারা অনশন ভাঙেনি বলে জানা গেছে।

এদিকে, শাবিপ্রবির সাবেক ৫ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে তাদেরকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আটক শিক্ষার্থীদের পরিবারের অভিযোগ, শাবি ভিসির পদত্যাগের দাবিতে শাবিপ্রবির চলমান আন্দোলনে কিছু অর্থ সহায়তা করায় তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার নিশারুল আরিফ বলেন, ‘পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির টিম ঢাকায় পাঁচজনকে আটক করেছে। তারা শাবির সাবেক শিক্ষার্থী বলে শুনেছি। তাদের সিলেটে নিয়ে আসা হচ্ছে। তবে কী কারণে তাদের আটক করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কিনা এসব বিস্তারিত জানি না। তারা এলে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

এদিকে, ভিসি ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে টানা ১৩ দিন থেকে উত্তাল শাবি ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের অহিংস আন্দোলন ক্রমেই সহিংসতার দিকে এগুচ্ছে। টানা সাত দিন থেকে আমরণ অনশন পালন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গত শনিবার থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। অবরুদ্ধ রাখা অবস্থায় আন্দোলনের এক পর্যায়ে ভিসির বাসভবনের বিদ্যুত লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সোমাবার রাতে পরে আবার বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়।

গত রোববার বিকেল থেকে ভিসির বাসভবনের মুল ফটকে মানবপ্রাচীর তৈরি করে রেখেছে আন্দোলনকারীরা। এর থেকে ভিসির বাসভবনে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। মঙ্গলবার দুপুরে ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সাথে খাবার নিয়ে আসলে তাদেরকে ভেতরে যেতে দেয়নি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ এক ঘন্টা অপেক্ষা করে ফিরে যেতে হয়েছে তাদেরকে। তবে ভিসির সাথে নিয়ে আসা চাল ডালসহ শুকনো খাবার পুলিশের মাধ্যমে ভেতরে পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের। অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। শনিবার সন্ধ্যার দিকে হলের ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। রোববার ছাত্রীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে ভিসিকে মুক্ত করে। এতে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি উঠে।

;