‘বাংলাদেশ -ভারতের যৌথ প্রচেষ্টায় অমিমাংসিত বিষয়ের সমাধান হবে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ-ভারত সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থা বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয় দেশের অমিমাংসিত বিষয়সমূহ অচিরেই সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বুধবার (০৮ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, খুলনায় বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার, ঢাকা ভারতীয় হাই কমিশন, ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন, খুলনা, বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে মুজিববর্ষ, মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশতজন্মবর্ষ এবং ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে দুই দেশের সরকারের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ও মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও কর্ম নিয়ে এ প্রদর্শনী আয়োজন করা হচ্ছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এমন জগলুল হায়দার অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন।

ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার রাজেশ কুমার রাইনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। খুলনার জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার, খুলনা বিএল কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ আতিকুজ্জামান প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ভারত বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। দুই দেশের কিছু অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। অভিন্ন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আদর্শের ক্ষেত্রে দুদেশের অনেক ভালো অবস্থান রয়েছে। আমাদের এক কোটি জনগণকে আশ্রয় দেয়া, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয়াসহ অন্যান্য সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের জনগণ অসাধারণ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। শুধু তাই নয় আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন রক্ষার্থে ভারতের তৎকালীন সরকার প্রধান ইন্দিরা গান্ধী বিশ্ব পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যতদিন থাকবে ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব কোনভাবেই বিনষ্ট হবে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি আমি দুদেশের কিছু অমিমাংসিত বিষয় উল্লেখ করতে চাই। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিসহ দুদেশের মধ্যে অন্যান্য অমিমাংসিত বিষয় আমরা অবশ্যই সমাধান করতে পারবো। ইতিমধ্যে আমরা দুদেশের স্থলসীমান্ত সমস্যা, সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত সমস্যা সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, বাঙালি জাতির ইতিহাসের সম্পদ হচ্ছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর ভারতবর্ষের ইতিহাসের মহানায়ক মহাত্মা গান্ধী। উভয়ের মধ্যে অসাধারণ সাদৃশ্য রয়েছে। মহাত্মা গান্ধী অহিংস আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন, দেশ মাতৃকাকে স্বাধীন-সার্বভৌম করার জন্য ভূমিকা রেখেছিলেন। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে স্বাধীন-সার্বভৌম জাতিতে পরিণত করার জন্য আইনানুগ প্রক্রিয়ায় লড়াই করেছেন।জনপ্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেছেন। অন্যথায় যার যা কিছু আছে তা নিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার কথা তিনি বলেছেন। অপরদিকে মহাত্মা গান্ধী আফ্রিকা থেকে শুরু করে সারাবিশ্বে অহিংস বাণীর কথা যেভাবে প্রচার করেছিলেন, সে দর্শন ছিল বিস্ময়কর। তাই বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনীত শুধু ছবি দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গভীরে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর জীবনালেখ্য জানতে হবে, বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শন ও দেশপ্রেমের কথা বুঝতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আজ ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক একটা অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ভারত অসাম্প্রদায়িকতা প্রাধান্য দেয়। বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম বিষয় হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতা। মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনার কথা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, আজকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার সরকার একই উচ্চারণ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববন্ধু বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন বঙ্গবন্ধুর মতো নিপীড়িতের কণ্ঠস্বর এ উপমহাদেশের জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে।

আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর যে লক্ষ্য ছিল, যে দর্শন ছিল, যে বিশ্বাস ছিল, মানবকল্যাণে আত্মোৎসর্গের জন্য তাদের যে রাজনীতি ছিল সে রাজনীতি হোক আমাদের পাথেয়। আর যখনই বাংলাদেশ কিংবা ভারত প্রান্তে সাম্প্রদায়িকতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, শান্তির পৃথিবী নির্মাণের জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করে আমরা তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবো-বলেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশের উন্নয়নসহ সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ভারতের চমৎকার ভূমিকার কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা পরস্পরের সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণ করবো। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিসহ অভিন্ন সীমান্ত, অভিন্ন পানি আমরা সম্মিলিতভাবে ব্যবহার করছি। এই ধারা অব্যাহত রেখে ভারত ও বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে হবে। শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয় বরং সমগ্র বিশ্বে যৌথভাবে নেতৃত্বের আসনে উভয় দেশকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

পরে মন্ত্রী জেলা শিল্পকলা একাডেমি খুলনায় বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনীর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বারোপ সেনাপ্রধানের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সেনাপ্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ

সেনাপ্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ

  • Font increase
  • Font Decrease

অসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার(২০ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় সেনা প্রধান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের প্রচলিত যে দায়িত্বগুলো পালন করে সেগুলো পালনের ক্ষেত্রে অসামরিক প্রশাসনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি নিজেই এখানে এসেছি, এটা ইনডিকেট করে যে, আমি এটাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছি। আমরা সোনার বাংলা গড়ার যে অভীষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি, সেখানে সামরিক প্রশাসনের সঙ্গে অসামরিক প্রশাসন একসঙ্গে কাজ না করলে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না।

ডিসিদের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব এসেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বলতে সেরকম কোনো প্রস্তাব নেই। কিন্তু আমাদের যেসব সিভিল মিলিটারি রিলেশন বাড়ানোর ক্ষেত্র আছে, সেগুলো আমরা আলোচনা করেছি। কিছু কিছু প্রস্তাব আছে যেগুলো এখনই বললে প্রিম্যাচিউরড হয়ে যাবে। আমরা আরও একটু আলোচনা করে দেখবো, তারপর ওটাকে বাস্তবায়ন করা যাবে।

জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, সমন্ত কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেই আমরা দেখেছি যে, অসামরিক প্রশাসনের সহায়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অসামরিক প্রশাসন যখনই মনে করবে যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের পাশে দায়িত্ব পালন করতে পারবে আমরা তখনই তাদের ডাকে সাড়া দিব এবং তাদের পাশে বসে দায়িত্ব পালন করব।

সেনা প্রধান আরও বলেন, আমার তরফ থেকে যেকোনো কাজ একসঙ্গে করার জন্য একটা পরিবেশ খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভালো পরিবেশের জন্য ভালো সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। আমি ফোকাস করেছি যেন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ে। যত কমিউনিকেশন হবে, কমিউনিকেশন গ্যাপ তত কম হবে। কমিউনিকেশন গ্যাপ যত কম হবে, তত আমাদের কাজ করার সুবিধা বাড়বে। এই কথাটা অন্যান্য বক্তব্যের সঙ্গে বলেছি।

;

স্বপ্নের সেতুতে গাড়ি নিয়ে উঠতে আর ৪ শতাংশের অপেক্ষা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মুন্সিগঞ্জ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বপ্নের পদ্মাসেতু ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নপূরণ হতে অপেক্ষা আর অল্পদিনের। দেশের মানুষের ভাগ্যবদলে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে এই পদ্মাসেতুটি। একই সাথে খুলছে অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের দ্বার।

সেতুটি চালু হলে আরও সহজ হবে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির চাকা ঘোরার পাশাপাশি সেতুর উভয় প্রান্তে মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় এবং শরীয়তপুরের জাজিরার মানুষের বাড়বে কর্মসংস্থান।

প্রায় তিন মাস আগে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্ত থেকে শুরু হওয়া পিচ ঢালাইয়ের কাজ সহ সকল কাজ মিলিয়ে এখন স্বপ্নের সেতুতে গাড়ি নিয়ে ওঠার উপযোগী হতে  আর ৪ শতাংশের কাজের অপেক্ষা।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে কার্পেটিংসহ খুঁটিনাটি কাজ। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সেতুর দুই পাড়ে তৈরি হচ্ছে সড়ক নেটওয়ার্ক।

এগিয়ে চলছে নদীশাসন কাজও। সব মিলিয়ে বর্তমানে আজ পর্যন্ত মূল সেতুর অগ্রগতি প্রায় ৯৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে । দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে দেওয়ার পদ্মা সেতু চালু হচ্ছে চলতি বছরেই।

তাই সেতুর জৌলুস ছড়াচ্ছে চারদিকে। প্রথম থেকে প্রমত্তা পদ্মাসেতুর উপর চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) দ্রুতগতিতে সেতুর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

গেল সময়গুলোতে মহামারী করোনা বিস্তার এবং নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে এখন শুধু স্বপ্নধরার হাতছানি। এবছরের উদ্বোধন কে কেন্দ্র করে বিশেষ উদ্যমে চলছে সেতুর শেষ পর্যায়ের কাজ। সেতুটি খুলে দেওয়ার আশায় এখন দিন গুনছেন পদ্মা পাড়ের মানুষ।

যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সড়ক নেটওয়ার্ক তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে। কার্পেটিংসহ খুঁটিনাটি কাজের পাশাপাশি নদীশাসনের কাজও দ্রুত এগোচ্ছে।

পদ্মাসেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আবদুল কাদের বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেতু উদ্বোধন করা হবে। এখন পিচ ঢালাই, কিছু জায়গায় প্যারাপেট ওয়াল এবং সংযোগ সড়কের কাজ চলছে। সেটা শেষ হলেই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

সেতুর মাধ্যমে দুই পারের গ্যাস পাইপলাইনের কাজের অগ্রগতি ৭২ শতাংশ। আর ৪০০ কেভি টিএল প্ল্যাটফর্মের অগ্রগতি ৬৮ শতাংশের বেশি।

;

চুরির অপবাদ দিয়ে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম,রংপুর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুর নগরীতে চুরির অপবাদ দিয়ে হাবিব আক্তার নামে ১২ বছরের এক শিশুকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে নির্যাতনের শিকার শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) নগরীর কেরানীপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে শিশুটির মায়ের দেওয়া অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

হাবিবা আক্তার উক্ত মহল্লার বাসিন্দা ভ্যানচালক হামিদুল ইসলামের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

হাবিবার বাবা অভিযোগ প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার তিনি ভ্যান নিয়ে বাইরে ছিলেন। আর তার স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজে ছিলেন। এদিন বিকেলে প্রতিবেশী ওষুধ ব্যবসায়ী আব্দুল বারী ও তার স্ত্রী শিশু হাবিবাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে বেধরক মারপিট করে।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু হাবিবা জানায়, দরজা বন্ধ করে তাকে মারপিট করা হয়েছে। তার বান্ধবী লাবিবার মা দুই হাত চেপে ধরেন আর লাবিবার বাবা দুই পায়ের ওপর উঠে মারপিট করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জায়ান হক জানান, হাবিবার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থা আগের চেয়ে একটু ভালো। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্দুল বারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলা চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-সহকারী কমিশনার (ডিবি ও মিডিয়া) সাজ্জাদ হোসেন জানান, এ ব্যাপারে শিশুটির মা আসমা বেগম একটি অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

;

দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ঢাকা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ঢাকা

দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ঢাকা

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে রাজধানী ঢাকা। গতকাল সকাল ১০টা ১১ মিনিটে ঢাকার বাতাসের মান সূচক (একিউআই) ২৬৯ রেকর্ড করা হয়েছে। যার অর্থ হলো জনবহুল এ শহরের বাতাসের মান 'অস্বাস্থ্যকর' পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া চীনের উহান ও ভারতের নয়াদিল্লি যথাক্রমে ২৫২ ও ২১৪ একিউআই স্কোর নিয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

সাধারণত ১০০ থেকে ২০০-এর মধ্যে একিউআই সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়। একইভাবে একিউআই ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে সংশ্লিষ্ট শহরের পরিবেশ বসবাসের জন্য খারাপ এবং ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকলে বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত হয়।

বাতাসের মান নির্ণয়ের জন্য একিউআই একটি সূচক। সরকারি সংস্থাগুলো একটি নির্দিষ্ট শহরের বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত ও এজন্য মানব স্বাস্থ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বা তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে কিনা তা জানতে সূচকটি ব্যবহার করে থাকে।

বাংলাদেশের সামগ্রিক একিউআই পাঁচটি দূষণকারী মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে নির্ণয় করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে কণা পদার্থ (পিএম১০ এবং পিএম২.৫), কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও ওজোন।

ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণ সমস্যায় জর্জরিত। ঢাকার বাতাসের গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে উন্নত হয়।

এর আগে গত বছরের ২৩ অক্টোবর ঢাকার বাতাসের গুণমান সূচক (একিউআই) ১৫৯ রেকর্ড করা হয়েছিল। তখন ঢাকাকে বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। 

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকার বায়ু দূষণের ৩টি প্রধান উৎস হলো, ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলো।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জন দূষিত বাতাসে শ্বাস নেন এবং বায়ু দূষণের কারণে প্রতি বছর প্রধানত নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে।

;