বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হলো বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠতম অর্জন

  বিজয়ের ৫০ বছর



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে জাতিরাষ্ট্র ‘বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা হলো বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠতম অর্জন। এই অর্জনকে অর্থবহ করতে স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সবাইকে জানতে ও জানাতে হবে।

তিনি বলেন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমরা পৌঁছে দিবো- বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর এ মাহেন্দ্রক্ষণে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

প্রধানমন্ত্রী আজ মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে একথা বলেন। বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে তিনি দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতা, ত্রিশ লাখ শহীদ, সম্ভ্রমহারা দুই লাখ মা-বোন এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাঁদের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

তিনি কৃতজ্ঞতা জানান সেইসব দেশ ও ব্যক্তিবর্গের প্রতি যাঁরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সহায়তা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি হলো। আজ বাঙালি জাতির এক অনন্য গৌরবোজ্জ্বল দিন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দীর্ঘ ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের এই দিনে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে বাঙালি।

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বিভিন্ন বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিতে জনসমাগম এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব অনুষ্ঠানমালা উদ্যাপন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশকে ‘স্বল্পোন্নত’ দেশে উন্নীত করেন, আর আমরা মাতৃভূমিকে ‘উন্নয়নশীল’ দেশের কাতারে নিয়ে গেলাম ‘মুজিববর্ষ’ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এ শুভক্ষণে। স্বাধীনতার পর বিগত ৫০ বছরে আমাদের যা কিছু অর্জন তা জাতির পিতা এবং আওয়ামী লীগের হাত ধরেই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, আমাদের এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে পরিণত হবে ।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ১৯৪৮-’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬’র ছয়-দফা, ’৬৯’র এগার-দফা ও গণঅভুত্থ্যানের মাধ্যমে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠে। ’৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমগ্র পাকিস্তানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানিরা বাঙালি জাতিকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে দেয়নি। জাতির পিতা অনুধাবন করেছিলেন, স্বাধীনতা অর্জন ছাড়া বাঙালি জাতির ওপর অত্যাচার, নির্যাতন ও বঞ্চনার অবসান হবে না। তাই তিনি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ডাকে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। চলতে থাকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি। পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী ’৭১-এর ২৫ মার্চ কালোরাতে নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে। বীর মুক্তিযোদ্ধারা ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার এবং তাদের দোসর রাজাকার-আলবদর-আলশামস বাহিনীকে পরাজিত করে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেন। আমরা পাই লাল-সবুজের পতাকা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা মাত্র সাড়ে ৩ বছরে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করেন। ধ্বংস প্রাপ্ত রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, রেললাইন, পোর্ট সচল করে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করেন। মাত্র ১০ মাসে তাঁর নির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে আমাদের সংবিধান প্রণীত হয়। ১৯৭৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৯ শতাংশ অতিক্রম করে। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু ‘স্বল্পোন্নত’ দেশের কাতারে নিয়ে যান।

শেখ হাসিনা বলেন, সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যখন একটি শোষণ-বঞ্চনামুক্ত অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে তাঁকে পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যার পর থেমে যায় বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা। শুরু হয় হত্যা, ক্যু আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। ঘাতক এবং তাদের দোসররা ইতিহাসের এই জঘন্যতম হত্যাকান্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করতে জারি করে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ২১ বছর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে জনগণের ভোটে জয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়। আমরা দায়িত্ব নিয়েই বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রবর্তনের মাধ্যমে গরিব, প্রান্তিক মানুষদের সরকারি ভাতার আওতায় আনা হয়। কৃষি উৎপাদনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করি। পানির হিস্যা আদায়ে ১৯৯৬ সালে ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি সম্পাদন করি। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার কার্যক্রম শুরু করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সরকার গঠন করে গত ১৩ বছর ধরে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আজ জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করছি। খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা এখন পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে বিশাল এলাকার ওপর আমাদের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহলবাসীর দীর্ঘদিনের মানবেতর জীবনের অবসান হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচারের রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে জাতি গ্লানিমুক্ত হয়েছে। জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রয়েছে এবং বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০২১-২০৪১ মেয়াদি দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি এবং ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। আমরাই বিশ্বে প্রথম শত বছরের ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ বাস্তবায়ন শুরু করেছি। বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর সুবিধা আজ শহর থেকে প্রান্তিক গ্রাম পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিটি গ্রামে শহরের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দেশের সকল গৃহহীন-ভূমিহীনের জন্য ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের একটি মানুষও আর গৃহহীন থাকবে না।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারিতে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে আমরা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৬৪১ কোটি টাকার ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। ৯৯.৭৫ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। মাথাপিছু আয় ২০০৫-০৬ সালের ৫৪৩ মার্কিন ডলার হতে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২৫৫৪ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। আমরা দেশের প্রতিটি খাতে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছি। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, শিল্প ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বুকে ‘রোল মডেল’। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মর্যাদাশীল ‘উন্নয়নশীল’ দেশে উন্নীত হওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে।

  বিজয়ের ৫০ বছর

বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ দিল আইএমএফ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্বাহী বোর্ড সভায় বাংলাদেশের ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ঋণদাতা সংস্থাটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

২ দশমিক ২ শতাংশ সুদে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ আসবে সাত কিস্তিতে। ফেব্রুয়ারিতেই প্রথম কিস্তির ৩৫২ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলার ছাড় হওয়ার আশা করছে সরকার। শেষ কিস্তি আসবে ২০২৬ সালে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমরা অবশ্যই আইএমএফের প্রতি এই ঋণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষ করে আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) অ্যান্তইনেত মনসিও সায়েহ, মিশনপ্রধান রাহুল আনন্দসহ যে দলটি এই ঋণের বিষয়ে বাংলাদেশ সফর করেছিল, তাদের প্রতি জানাই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিনসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যারা এই ঋণ নিয়ে কাজ করেছেন, তাদের প্রতিও রইল আমার কৃতজ্ঞতা।

৪২ মাসের চুক্তিতে সরকারের নেওয়া ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিতে’ সহায়তা হিসেবে আইএমএফের এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ) এবং এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি থেকে ৩২০ কোটি ডলার ঋণ পাবে বাংলাদেশ। আর রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) আওতায় পাবে বাকি ১৩০ কোটি ডলার।

আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান্তইনেত মনসিও সায়েহ তার ঢাকা সফরের সময় ১৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেদিন তাদের মধ্যে ঋণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশকে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে গত নভেম্বরে ঢাকায় কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠকে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছে আইএমএফ। সেই ঋণচুক্তির শর্তসহ খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই বাংলাদেশ সফর করেন আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক। সে সময় এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঢাকার আলোচনায় এই ঋণ কর্মসূচির মূল বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, আরও দক্ষ একটি আর্থিক খাত গড়ে তোলার মতো দীর্ঘদিনের চালেঞ্জগুলো আলোচনায় এসেছে। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ ও রফতানি বহুমুখীকরণে উৎসাহ দিলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও সহনশীল করে তুলতে এবং দীর্ঘমেয়াদি, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই পবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা করবে।

  বিজয়ের ৫০ বছর

;

বাণিজ্য মেলার পর্দা নামছে আজ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শেষ হতে যাচ্ছে আজ। রাজধানীর পূর্বাচলে মেলার স্থয়ী ভেন্যু বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শন কেন্দ্রে এদিন সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজেন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ও বাণিজ্য মেলার পরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য মেলার সময় বাড়ানোর দাবি জানালেও বাড়ানো হচ্ছে না। ৩১ জানুয়ারি বিকাল ৪টায় সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের বাণিজ্য মেলা।

গত ২৪ জানুয়ারি ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কাছে সময়সীমা বাড়ানোর জন্য লিখিত আবেদন জানায়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন কারণে মেলায় বরাদ্দ নেয়া স্টল তৈরি করতে সাত দিনের বেশি সময় লেগেছে। কারণ শৈত্যপ্রবাহের জন্য রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি ও বৈদ্যুতিক মিস্ত্রির সংকট ছিল। সুতরাং স্টল সাজিয়ে ব্যবসা শুরু করতে সাত দিন সময় পেরিয়ে গেছে। ফলে মেলার সময় না বাড়ানো হলে তারা লোকসানে পড়বেন বলে উল্লেখ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

চলতি মাসে টঙ্গীতে দুই দফায় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, এতে দুইবার তিন দিন করে মোট ছয় দিন রাস্তায় প্রচণ্ড যানজট ছিল। যার কারণে মেলায় ক্রেতা দর্শনার্থীর উপস্থিতি কম ছিল।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, পূর্বাচল ৩০০ ফুট মহাসড়কে এক দিন ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনও ক্রেতা-দর্শনার্থীদের মেলায় উপস্থিতি কম ছিল।

ব্যবসায়ীদের দাবি, বাণিজ্য মেলার সময় না বাড়ানো হলে তাদের অনেক পণ্য অবিক্রিত থেকে যাবে। তাই লোকসান এড়াতে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে ৩১ জানুয়ারির পর আরও সাত দিন বিনা ভাড়ায় মেলায় বেচাকেনা করার আবেদন করেন ব্যবসায়ীরা।

মেলায় দেশি-বিদেশি ৩৩১ প্রতিষ্ঠানের স্টল রয়েছে। এরমধ্যে কয়েকটি প্যাভিলিয়ন ও মিনি প্যাভিলিয়ন রয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার ১০৬টি স্টল বেড়েছে। বিদেশি ১০ দেশের ১৭টি স্টল রয়েছে।

  বিজয়ের ৫০ বছর

;

পাঠ্যবইয়ে কেউ ইচ্ছাকৃত ভুল করে থাকলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগ সরকার কখনো ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু করেনি, করবেও না বলে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, নতুন পাঠ্যবইয়ে যা নেই, তা নিয়ে অপপ্রচার চলছে। তবে কোনো ভুলভ্রান্তি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।

অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চিলে কান নিয়েছে শুনে চিলের পেছনে না দৌড়ে নিজের কানে হাত দিয়ে দেখুন। কান নিজের কাছে আছে কিনা। তবে পাঠ্যবইয়ে কেউ ইচ্ছাকৃত ভুল করে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, যা ভুল হয়েছে তা সংশোধন করা হয়েছে। আরও করা হচ্ছে। এজন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি কাজ করছে। ওয়েবসাইটে গিয়েও কেউ মতামত দিতে পারেন। ভাষা বা তথ্যগত কোনো ভুল থাকলে অবশ্যই সংশোধন করা হবে। এছাড়া পাঠ্যবই প্রণয়নের সময় কেউ ইচ্ছাকৃত কোনো ভুল করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পরে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি অনুষদের ৫টি শিক্ষাবর্ষের স্মাতক ও ৬টি শিক্ষাবর্ষের স্মাতকোত্তর ১০৩ কৃতী শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক ও সনদপত্র দেন শিক্ষামন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার।

 

  বিজয়ের ৫০ বছর

;

ঢাকায় ২৭ ফেব্রুয়ারি চালু হচ্ছে আর্জেন্টিনার দূতাবাস



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকায় আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি চালু হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার দূতাবাস।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার দূতাবাস চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি দু’দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্তিয়াগো ক্যাফিয়েরো। ওই দিনই উদ্বোধন হতে পারে আর্জেন্টিনার দূতাবাস।

মূলত, বাংলাদেশে মেসি-ডি মারিয়াদের দেশের দূতাবাস চালু নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয় ফুটবল গত বিশ্বকাপের পরই। ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতি এ দেশের মানুষের ভালোবাসা ও শক্ত সমর্থন আলোচিত হয়েছিল গোটা বিশ্বে। একটি খেলার মাধ্যমে দু’দেশের মানুষের মধ্যে যে আবেগের সেতুবন্ধন সৃষ্টি হয়, তাকে আরও শক্ত করতে দু’দেশের শীর্ষ পর্যায় থেকেই শুরু হয় আলাপ-আলোচনা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশের মাটিতে খুলছে আর্জেন্টিনার দূতাবাস।

গত বছরের ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফুটবলের শিরোপা জয়ের পর অভিনন্দন জানিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজকে চিঠি পাঠান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই শুভেচ্ছা বার্তার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে লবার্তো ফার্নান্দেজও পাল্টা চিঠি দেন। সেই চিঠিতে ছিল এই দূতাবাস চালুর ইঙ্গিত।

  বিজয়ের ৫০ বছর

;