হোটেল রয়েল টিউলিপ-৪২০



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
টিউলিপ সি পার্ল বীচ রিসোর্ট এন্ড স্প্যা

টিউলিপ সি পার্ল বীচ রিসোর্ট এন্ড স্প্যা

  • Font increase
  • Font Decrease

কক্সবাজার থেকে ফিরে: আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল শার্টলে হোটেল রয়েল টিউলিপে যাবো। কক্সবাজার এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে বেশ আনন্দ নিয়ে কোস্টারে (ট্যুরিস্ট কোচে) উঠলাম। গাড়িতে ওঠার পর জানানো হলো চাকা পাংচার হয়েছে আরেকটি বাস আসছে তাতে করে যেতে হবে।

রোদে দীর্ঘক্ষণ পার্কিংয়ে থাকায় কোচটিতে তেষ্টানো দায়। গরমে সেদ্ধ হওয়ার জোগাড় এসি চালু করার অনুরোধও প্রত্যাখ্যাত হলো। পরের বাস না আসা পর্যন্ত গরমের মধ্যেই অপেক্ষা। টিমের দ্বিতীয় ফ্লাইটের যাত্রীদের ক্ষেত্রে ঘটল ভিন্ন রকম বিপত্তি। ২টি আসন ফাঁকা থাকায় বাসটি ছাড়া হচ্ছে না। বলা হলো পরবর্তী ফ্লাইট এলে যাত্রী পূর্ণ হবে তারপর ছাড়বে। এদিকে গরমে যাত্রীদের ত্রাহী অবস্থা এবারও এসি ছাড়বার আবেদন নিষ্ফল হলো। তাদের সাফ কথা দাঁড়ানো অবস্থায় এসি চালানো নিষেধ রয়েছে। বাড়তি দুই আসনের ভাড়া দিতে চেয়েও কাজ হলো না। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণ নিয়ে মনের মধ্যে যে চনমনে ভাব ছিল তা মলিন হতে শুরু করলো কক্সবাজার নেমেই।

পরে চাকা গড়তে শুরু করলে কিছুটা স্বস্তি ফেরে এসির শীতল হাওয়া ও মেরিন ড্রাইভের নৈসর্গিক দৃশ্যে। সবাই তখন উদগ্রীব কতক্ষণে হোটেলে ঢুকবেন ড্রেস চেঞ্জ করে সমুদ্রে জলকেলি করবেন। মাত্র দুই দিনের সফরের একটি মুহূর্তও কেউ মিস করতে চান না। হোটেলে প্রবেশ করে আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। ঘড়ির কাঁটা তিনটা ছুঁই ছুঁই করছে প্রথম টিমের সদস্যরাই রুম পাননি। রিসিপশনে কথা বলেও কোনো সমাধান মিলল না। কখন রুম পাওয়া যাবে জানতে চাইলে বললেন, রুম রেডি হয়নি রেডি হলেই পাবেন। কখন পাবেন বলা সম্ভব না। এখানে বলে রাখা ভালো রিসিপশনে থাকা স্টাফদের কথাবার্তা ও আচরণ মোটেই পাঁচ তারকার সঙ্গে যায় না।

প্লাস্টিকের ওয়ানটাইম কাপে দেওয়া হচ্ছে ড্রিংকস

গ্রুপ ট্যুরের হওয়ায় পূর্বেই হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি করা হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী দুপুর ২টার মধ্যে রুম দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল দুপুর ১২টার মধ্যে রুম দেওয়া হবে। সে কথা মনে করে দিলে জবাব এলো, রুম ফাঁকা না হলে আমাদের কিছুই করার নেই। অনেক প্রশ্নের এক উত্তর রুম রেডি হলেই পেয়ে যাবেন। টিমের সদস্য বাসসের সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ শুক্কুর আলী শুভ প্রশ্ন তুললেন আপনাদের তো ওয়েলকাম ড্রিংকস দেওয়ার কথা। রিসিপশন থেকে লবির দক্ষিণ পশ্চিম কোণে ছোট্ট কফিশপ দেখিয়ে বললেন ওখান থেকে দেওয়া হয়। তাকে প্রশ্ন করা হলো এই ড্রিংকস কি গেস্টদের খুঁজে নিতে হয়, না আপনারা নিজে থেকে পরিবেশন করেন। কোনো উত্তর দিলেন না। এবার সেই কফিশপে গেলেন শুক্কুর আলী শুভ, সেখান থেকে জানানো হলো লবিতে বসেন আমরা নিয়ে আসছি। আমাদের টিমের সদস্য ৯০ জন, আরও অনেকে তখন রুমের অপেক্ষায়। ৫টি কাঁচের কাপ ও ৭টি ওয়ানটাইম কাপে করে জুস নিয়ে হাজির হলেন। ঠিক যেমন কয়েক দশক আগে এবাড়ি ওবাড়ি থেকে প্লেট গ্লাস ধার করে এনে বিয়ে শাদী সারানো হতো। প্লাস্টিকের ওয়ানটাইম কাপ নিয়ে অনেকেই হাসাহাসি করলেন। ছেলেটি জানালেন গ্লাস কমতো তাই ওয়ানটাইম কাপে করে দেওয়া হয়েছে। দুপুরে রেস্টুরেন্টেও একই হাল পানি খাওয়ার জন্য কাচের গ্লাসের পাশে প্লাস্টিকের ওয়ানটাইম কফি কাপ সাজানো।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চলেছে ওয়েলকাম ড্রিংকসে কি ক্ষুধা মরে। বাধ্য হয়ে ব্যাগপোটলা নিয়ে দুপুরের খাবারে অংশ নিতে হলো। চলতে থাকল ভূড়িভোজ, এবার পিলে চমকানোর মতো অবস্থা, একজন অর্ধেক খাবার পর খাবারের মধ্যে মৃত মাছি আবিষ্কার করলেন। খাবার রেখে দ্রুত ছুটলেন বেসিনে। রেস্টুরেন্ট বয়কে দেখানো হলে খুব একটা অবাক হলেন বলে মনে হলো না, বললেন অনেক সময় মাছি উড়ে ঢুকে পড়ে। ছোট্ট করে বললেন সরি, কিন্তু সরিতে কি রুচি বাড়ে দুইবার বমি করে দুপুরে না খেয়ে উঠে পড়লেন তিনি।

পরদিন সকালের নাস্তায় বিজনেস ইনসাইডারের সাংবাদিক হাসান আজাদ আবিষ্কার করলেন খাবারের মধ্যে লম্বা চুল। এবারও বয়কে অবগত করা হলো, তিনি শুধু প্লেট বদলে দিয়ে দায় সারলেন। নাস্তা সেরে ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে গিয়ে আরেক দফায় বিড়ম্বনা। ট্যুরের চুক্তিতে ছিল প্রত্যেকে একদিন করে ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে আনলিমিটেড সময় উপভোগ করতে পারবেন। ডিউটি ম্যানেজারকে বলা হলো ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য। তিনি জানালেন সব বার্তা দেওয়া আছে আপনারা গেলেই উপভোগ করতে পারবেন।

ড্রিংকস দেওয়া জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে কফি কাপ ও কাচের গ্লাস

ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে গেলে বলা হলো আমাদের কাছে এমন কোনো বার্তা দেওয়া নেই। তখন চুক্তির কপি দেখালে বলেন, এমনটাতো দেওয়ার কথা না। কারণ ওয়াটার ওয়ার্ল্ড কমপ্লিমেন্টারি হয় না। কে চুক্তি করেছে আমাকে জানান তার বিরুদ্ধে আমি অভিযোগ করবো। আরও নানা রকম হম্বিতম্বি। চুক্তিতে তাদের পরিচালক (সেলস এন্ড মার্কেটিং) মাহমুদ রাসেলের স্বাক্ষর রয়েছে জানালে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে প্রবেশ করার সুযোগ দিলেন। এবার বললেন, রুম নম্বর বলতে হবে, এক রুমে দুটির বেশি রিস্টবেন্ড (এন্ট্রিপাস) দেওয়া সম্ভব না। তাকে জানানো হলো আমাদের রুম ৩৮টি আর ৮৮ পারসনের অনুমোদন রয়েছে। আপনি দিতে থাকেন, ৮৮ হয়ে গেলে আর দেবেন না। কাউন্টারে বসা স্টাফরা বললেন, এভাবে হবে না। হয় রুমের নামে দু’টি করে নিতে হবে, না হলে ৮৮টি দিয়ে দিচ্ছি আপনারা একজন দায়িত্ব নিয়ে বিতরণ করবেন, আবার ফেরার সময় গুণে বুঝিয়ে দেবেন। হারিয়ে গেলে প্রত্যেকটির জন্য ৩’শ টাকা করে জরিমানা দিতে হবে। ওয়ার্টার ওয়ার্ল্ডের ভেতরের কাহিনী লিখলে মহাকাব্য হয়ে যাবে। সেটি অন্য পর্বের জন্য রেখে দিলাম।

ওয়াটার ওয়ার্ল্ড থেকে একেকজন একেক সময়ে বের হওয়ার সময় রিস্টবেন্ড ফেরত দিতে চাইলে বলেন, এভাবে নিতে পারবো না। আপনারা ৮৮টি বুঝিয়ে দেবেন একবারে। বাধ্য হয়ে একজনের আনন্দ মাটি করে সারাদিন গেট পাহারা দিতে হলো রয়েল টিউলিপের গ্যাঁড়াকলে। মনে করেছিলাম এবার মনে হয় বিড়ম্বনার শেষ। পরদিন যেহেতু সকাল সকাল চেক আউট হতে হবে তাই বিল চাওয়া হলো। রাতে কম্পিউটারে প্রস্তুতকৃত একটি বিল দিলেন সিনিয়র ডিউটি ম্যানেজার সানাউল হক। তাকে বলা হলো পরদিন শার্টলের ভাড়া অগ্রিম নিয়ে নিতে। তিনি জানালেন, এটা আমাদের সিস্টেমে করা যাবে না। কালকে ব্যবহার করার পর আপডেট হবে। পিড়াপিড়ি করলে কম্পিউটার প্রিন্টের ওপর হাত দিয়ে লিখে দিলেন।

পরদিন সকালে বিল পরিশোধ করতে গেলে ডিউটি ম্যানেজার (নাইট ম্যানেজার) নাফিস মাহমুদ শাহরিয়ার নতুন করে বিল প্রিন্ট করলেন। তার দেওয়া বিলে টাকার অংকে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৭ টাকা বেশি। রাতের বিলটি দেখালে বললেন আপনি ঘুরে আসেন আমি দেখছি কোথায় সমস্যা। দুপুরে যখন চেক আউট হতে যাচ্ছিলাম তখনও নাফিস মাহমুদ শাহরিয়ার বললেন ক্যাশ কাউন্টারে চলে যান সব ঠিক করে দিয়েছি। কাউন্টারে গেলে আবার কম্পিউটারে বিল প্রিন্ট করলেন ক্যাশিয়ার মনির। ওই কপিতে নানান ধরনের অসঙ্গতি। বিলের ৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৯ টাকার একটি খরচ যোগ করে দেওয়া। তবে যোগফলে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৭ টাকা বেশি। তিনি ওই টাকা জমা দিতে বললেন। বিলে ভুল এবং পূর্বের দু’টি বিল তাকে দেখালে শুরু হয় ভুল সংশোধনের পালা, এবার মনির ও নাফিস মাহমুদ শাহরিয়ার মিলে গলদঘর্ম হতে থাকলেন। তারা বলতে চাইলেন রাতের বিলটিতে ভুল ছিল আমরা যে বিলটি দিয়েছি এটাই প্রকৃত বিল। এটাই পরিশোধ করতে হবে।

এবার তাদের কাছে প্রত্যেকটি খাতের আলাদা বিল চাওয়া হলে ভুলটি বেরিয়ে আসে। দেখা যায় ভেতরে একটি বিল ৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৯ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুরো অংকটি যোগ করা হয়নি। এবার ভুলটি ধরা পড়লেও তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা গেলো না। মনে হলো বিষয়টি খুবই স্বাভাবিক বিষয়। পুরো হোটেলটিতে ফন্ট অফিস ম্যানেজার নাজিম, স্টাফ রাজ্জাক ও রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার আশিককে কিছুটা পেশাদার মনে হয়েছে কথা কাজে আচরণে। তারা সার্ভিস দিতে না পারলেও অন্তত বিনয়ের সঙ্গে উত্তর দিয়েছেন। অন্যদের আচরণ কিংবা কথাবার্তা কোনটাই অন্ততপক্ষে পাঁচতারকার সঙ্গে যায় না। যেটা তারা দাবি করেন। খানিকটা ভাড়াটে গুন্ডার মতো বলা চলে দরাজ গলা, বেশি কথা বললেই বুঝি ঘাড় মটকে দেবে। রুম সার্ভিসকে পেতে ঘড়ি ধরে কয়েক ঘণ্টা সময় অপেক্ষা করতে হতে হয়েছে অনেককে। রুমের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বলাই বাহুল্য। বাথরুম যথাযথ না হলেও এ কথা ঠিক হোটেলটির রুমগুলোর পরিসর বেশ ভালো, প্রশস্ত লবি থাকলে দুই দিকে মাত্র একটি করে টয়লেট। একসঙ্গে একজনের বেশি ব্যবহার করার উপায় নেই।

সার্ভিস দুর্বল প্রশ্নে স্টাফদের কথা হচ্ছে আজকে (৭ জানুয়ারি) ৪২০টি রুমে গেস্ট রয়েছে তাই সার্ভিস দিতে একটু সমস্যা হচ্ছে। আর এই কথার সূত্র ধরেই একজনতো টিপ্পনি কেটে বললেন, সত্যিইতো তাই রয়েল টিউলিপ-৪২০ (ফোরটোয়েন্টি)। এখানে এরচেয়ে বেশি কি আশা করা ঠিক না। কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভে অবস্থিত হোটেলটি নাম রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট এন্ড স্পা লিমিটেড হলেও রয়েল টিউলিপ নামেই সর্বাধিক পরিচিত। সেবার মান নিয়ে বরাবরই অভিযোগ রয়েছে। একবার গেলে দ্বিতীয়বার যেতে চাচ্ছে না গ্রাহকরা। সে কারণে বিশাল পরিসরের এই রিসোর্টটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানায় হওয়ায় ট্যুরিস্ট পুলিশ কিংবা জেলা প্রশাসনও নাকি খুব একটা ঘাটাতে চান না। তাই তারা দিনদিন বেপরোয়া। আবার রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে দেশি বিদেশি এনজিও কর্মীদের অবস্থানের কারণে তাদের পোয়াবারো। ট্যুরিস্টদের সেবার প্রতি তাদের উদাসীনতা বড়ই দৃষ্টিকটু। সে কারণে অনেকেই মন্তব্য করলেন বিদেশি এনজিও কর্মীরা গেলে হোটেলটির ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

কথা বলার জন্য একাধিকবার ফোন দিলেই পরিচালক (সেলস এন্ড মার্কেটিং) মাহমুদ রাসেল ফোন রিসিভ করেন নি।

মাটি বোঝায় ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চালকের মৃত্যু



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নওগাঁ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় মাটি বোঝায় ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আব্দুল ওয়াহাব নামে এক চালকের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়নের এন্দোয়া নামক এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মৃত আব্দুল ওয়াহাব ওই এলাকার ইয়াসিন আলীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে ওই এলাকার মাঠ থেকে আব্দুল ওয়াহাব একটি ট্রলিতে করে নিজ বাড়িতে মাটি নিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ট্রলিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় এবং ট্রলিতে থাকা মাটির নিচে চাপা পড়ে চালক গুরত্বর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে এলাকার পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে ওই পল্লী চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম রাকিবুল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকলে মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

;

পাইকগাছায় ইট বোঝাই ট্রলিচাপায় বৃদ্ধের মৃত্যু



উপজেলা করেসপন্ডেন্ট , বার্সাতা২৪.কম, পাইকগাছা (খুলনা)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

খুলনার পাইকগাছায় বেপরোয়া গতির যান্ত্রিক দানব ইট বোঝাই ট্রলির ধাক্কায় অমূল্য রায় নামে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে লাশের সুরোতহাল রিপোর্ট শেষে পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার আনুমানিক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চাদঁখালীর গড়েরডাঙ্গা গ্রামের অমূল্য রায় (৬২) তার বাড়ীর সামনে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে রোদ পোহাচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় আ. মান্নান গাজীর ইটভাটা থেকে কালীদাশ পুরের মৃত. মোকছেদ গাজীর দু’ ছেলে ইউসুফ ও খানজাহান গাজী বেপরোয়া গতিতে ইট বোঝাই ট্রলি চালিয়ে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে ট্রলির তেমন কোন ব্রেক না থাকায় নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ষাটোর্ধ্ব ওই বৃদ্ধের গায়ের উপর দিয়ে উঠে গেলে তিনি মারাত্মকভাবে জখম হন। স্থানীয় ও বাড়ির লোকজন তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন দুপুর ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

সর্বশেষ এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রঞ্জন রায় বাদী হয়ে বেপরোয়া গতির যান্ত্রিক দানব ট্রলির চালক ইউসুফ ও সহোদর খানজাহান গাজীর বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ এর ৯৮/১০৫ ধারায় পাইকগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং-১১।

ইতোমধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোল্যা শাহাদাৎ ঘাতক ট্রলিটি জব্দ করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন শেষে ঘাতক ট্রলিটি জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে লাশের সুরোতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

সর্বশেষ বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের ছেলে রঞ্জন রায়ের দায়েরকৃত মামলায় আসামিদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

;

দেশের ৪৯ উপজেলায় বিলুপ্ত প্রজাতির ছোট মাছ চাষ



তরিকুল ইসলাম সুমন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগ্রহীত

ছবি: সংগ্রহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

এলাকা ভিত্তিক দেশীয় প্রজাতির বিলুপ্ত প্রায় মাছ চাষাবাদে উদ্বুদ্ধকরন, শামুক ও ঝিনুক সংরক্ষণ এবং মুক্তাচাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়। এরই ধারাবাহিকতায় মৎস্য অধিদফতর বাস্তাবয়ন করছে দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প।

দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের তিনটি বিভাগের ১০ জেলার ৪৯ টি উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। যা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য অধিদফতরের মাহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হক।

তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, পুষ্টি চাহিদা পূরণে দেশীয় ছোট মাছের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু এসব মাছ খাবার প্লেটে এখন আর খুব একটা দেখা যায় না। নানা প্রাকৃতিক কারণে আজ এসব মাছ বিলুপ্তির পথে। এসব মাছের প্রয়োজনীয়তা এবং পুষ্টিমানের বিষয়টি বিবেচনায় এনে আমরা এলাকা ভিত্তিক ছোট মাছ চাষাবাদ ও সম্প্রারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাছের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হবে। এছাড়াও এ প্রকল্পে আওতায় খাঁচায় মাছ চাষ, ধানক্ষেতে মাছ চাষ, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মৎস্যচাষ প্রশিক্ষণ, নিরাপদ মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্প এলাকায় ৩৯২ টি দেশীয় মাছ চাষ প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপন, ৩১৪ টি পেনে মাছ চাষ প্রদর্শনী স্থাপন, ১০০ ইউনিটে খাঁচায় মাছ চাষ প্রদর্শনী স্থাপন, ৪৯ টি ধানক্ষেতে মাছ চাষ প্রদর্শনী কেন্দ্রস্থাপন, ২০ টি শামুকের চাষ প্রদর্শনী স্থাপন, ১০০ টি ঝিনুকের চাষ প্রদর্শনী স্থাপন, ২০০ টি মুক্তা চাষ প্রদর্শনী স্থাপন করা হবে।

তিনি আশা করেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে দেশের মানুষ কিছুটা হলেও দেশী মাছের স্বাদ নিতে পারবেন। পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিও সৃদৃঢ় হবে।

সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক এসএম আশিকুর রহমান বার্তা২৪ কমকে জানান, ঢাকা, বরিশাল এবং খুলনা বিভাগের ১০ টি জেলার ৪৯ টি উপজেলা এটি বাস্তবায়ন হবে। এগুলো হলো- গোপালগঞ্জ জেলার গোপালগঞ্জ সদর, টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া, মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী উপজেলা, ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা ও সালথা উপজেলা, মাদারীপুর জেলার মাদারীপুর সদর, রাজৈর, শিবচর ও কালকিনি উপজেলা, শরীয়তপুরজেলার শরীয়তপুর সদর, ভেদরগঞ্জ, গোসাইরহাট, জাজিরা, নড়িয়া ও ডামুড্যা উপজেলা, বরিশাল জেলার বরিশাল সদর, আগৈলঝাড়া, বাবুগঞ্জ, হিজলা, বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া, উজিরপুর, মুলাদী, গৌরনদী ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা, ঝালকাঠি জেলার ঝালকাঠি সদর, রাজাপুর, নলছিটি ও কাঠালিয়া উপজেলা, পিরোজপুর জেলার পিরোজপুর সদর, মঠবাড়িয়া, নাজিরপুর, ইন্দুরকানি, নেছারাবাদ, ভান্ডারিয়া ও কাউখালি উপজেলা, বরগুনা জেলার বরগুনা সদর, আমতলী, পাথরঘাটা, তালতলী, বামনা ও বেতাগী উপজেলা, বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট ও ফকিরহাট উপজেলা এবং নড়াইল জেলার নড়াইল সদর, লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলা।

প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, প্রকল্পে মাধ্যমে ৪৯ টি উপজেলায় ৩০হাজার সুফলভোগী মৎস্যজীবী তৈরি করা। এদোর মধ্যমে সুবিধাভোগী ও জেলেদের নিয়ে ৬ হাজার গ্রুপ গঠন করা হবে। যাদের সরকারিভাবে বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে এই ছোটপ্রজাতির মাছকে টিকিয়ে রাখা হবে।

;

পুলিশের পিকআপ ভ্যানের চাকা ফেটে দুর্ঘটনা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফরিদপুর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে পুলিশের দায়িত্বরত একটি পিকআপ ভ্যান দুর্ঘটনার শিকার হয়। এসময় ভাঙ্গা থানা পুলিশের এক সদস্য আহত হয়েছেন।

জানা যায়, শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে সামনের ডান পাশের চাকা ফেটে হলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলিশের পিকআপ ভ্যান সামনে থাকা ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে হয়, এতে পিক-আপ ভ্যানের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায় ।

দুর্ঘটনার শিকার ফরিদপুরের ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর সোহানুর রহমান জানান, ভাঙ্গা থানা পুলিশের পিক-আপ ভ্যান টির সামনের ডান পাশের চাকা হঠাৎ ফেটে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এসময় রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা ট্রাকে গিয়ে সজোরে আঘাত করে। পিক-আপ ভ্যানটি সামনের অংশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও একজন পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হন। দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই ব্যাপারে ফরিদপুরের ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আরিফ জানান, ভাঙ্গা থানা পুলিশের একটি পিক-আপ ভ্যান দুর্ঘটনায় পরার সংবাদ পাওয়া মাত্রই আমদের একটি টিম পাঠাই। পরবর্তীতে পুলিশের পিকআপ ভ্যান টি উদ্ধার করে ফরিদপুর পুলিশ লাইনে পাঠিয়ে দেই এবং ক্ষতিগ্রস্থ ট্রাকটিকে তার মালিকের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই বিষয়ে ভাঙা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ সেলিম রেজা শনিবার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমাদের একটি পিক-আপ ভ্যান মনসুরাবাদ এলাকায় দুর্ঘটনায় পরে। আমাদের একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

;