হোটেল রয়েল টিউলিপ-৪২০



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
টিউলিপ সি পার্ল বীচ রিসোর্ট এন্ড স্প্যা

টিউলিপ সি পার্ল বীচ রিসোর্ট এন্ড স্প্যা

  • Font increase
  • Font Decrease

কক্সবাজার থেকে ফিরে: আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল শার্টলে হোটেল রয়েল টিউলিপে যাবো। কক্সবাজার এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে বেশ আনন্দ নিয়ে কোস্টারে (ট্যুরিস্ট কোচে) উঠলাম। গাড়িতে ওঠার পর জানানো হলো চাকা পাংচার হয়েছে আরেকটি বাস আসছে তাতে করে যেতে হবে।

রোদে দীর্ঘক্ষণ পার্কিংয়ে থাকায় কোচটিতে তেষ্টানো দায়। গরমে সেদ্ধ হওয়ার জোগাড় এসি চালু করার অনুরোধও প্রত্যাখ্যাত হলো। পরের বাস না আসা পর্যন্ত গরমের মধ্যেই অপেক্ষা। টিমের দ্বিতীয় ফ্লাইটের যাত্রীদের ক্ষেত্রে ঘটল ভিন্ন রকম বিপত্তি। ২টি আসন ফাঁকা থাকায় বাসটি ছাড়া হচ্ছে না। বলা হলো পরবর্তী ফ্লাইট এলে যাত্রী পূর্ণ হবে তারপর ছাড়বে। এদিকে গরমে যাত্রীদের ত্রাহী অবস্থা এবারও এসি ছাড়বার আবেদন নিষ্ফল হলো। তাদের সাফ কথা দাঁড়ানো অবস্থায় এসি চালানো নিষেধ রয়েছে। বাড়তি দুই আসনের ভাড়া দিতে চেয়েও কাজ হলো না। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণ নিয়ে মনের মধ্যে যে চনমনে ভাব ছিল তা মলিন হতে শুরু করলো কক্সবাজার নেমেই।

পরে চাকা গড়তে শুরু করলে কিছুটা স্বস্তি ফেরে এসির শীতল হাওয়া ও মেরিন ড্রাইভের নৈসর্গিক দৃশ্যে। সবাই তখন উদগ্রীব কতক্ষণে হোটেলে ঢুকবেন ড্রেস চেঞ্জ করে সমুদ্রে জলকেলি করবেন। মাত্র দুই দিনের সফরের একটি মুহূর্তও কেউ মিস করতে চান না। হোটেলে প্রবেশ করে আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। ঘড়ির কাঁটা তিনটা ছুঁই ছুঁই করছে প্রথম টিমের সদস্যরাই রুম পাননি। রিসিপশনে কথা বলেও কোনো সমাধান মিলল না। কখন রুম পাওয়া যাবে জানতে চাইলে বললেন, রুম রেডি হয়নি রেডি হলেই পাবেন। কখন পাবেন বলা সম্ভব না। এখানে বলে রাখা ভালো রিসিপশনে থাকা স্টাফদের কথাবার্তা ও আচরণ মোটেই পাঁচ তারকার সঙ্গে যায় না।

প্লাস্টিকের ওয়ানটাইম কাপে দেওয়া হচ্ছে ড্রিংকস

গ্রুপ ট্যুরের হওয়ায় পূর্বেই হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি করা হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী দুপুর ২টার মধ্যে রুম দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল দুপুর ১২টার মধ্যে রুম দেওয়া হবে। সে কথা মনে করে দিলে জবাব এলো, রুম ফাঁকা না হলে আমাদের কিছুই করার নেই। অনেক প্রশ্নের এক উত্তর রুম রেডি হলেই পেয়ে যাবেন। টিমের সদস্য বাসসের সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ শুক্কুর আলী শুভ প্রশ্ন তুললেন আপনাদের তো ওয়েলকাম ড্রিংকস দেওয়ার কথা। রিসিপশন থেকে লবির দক্ষিণ পশ্চিম কোণে ছোট্ট কফিশপ দেখিয়ে বললেন ওখান থেকে দেওয়া হয়। তাকে প্রশ্ন করা হলো এই ড্রিংকস কি গেস্টদের খুঁজে নিতে হয়, না আপনারা নিজে থেকে পরিবেশন করেন। কোনো উত্তর দিলেন না। এবার সেই কফিশপে গেলেন শুক্কুর আলী শুভ, সেখান থেকে জানানো হলো লবিতে বসেন আমরা নিয়ে আসছি। আমাদের টিমের সদস্য ৯০ জন, আরও অনেকে তখন রুমের অপেক্ষায়। ৫টি কাঁচের কাপ ও ৭টি ওয়ানটাইম কাপে করে জুস নিয়ে হাজির হলেন। ঠিক যেমন কয়েক দশক আগে এবাড়ি ওবাড়ি থেকে প্লেট গ্লাস ধার করে এনে বিয়ে শাদী সারানো হতো। প্লাস্টিকের ওয়ানটাইম কাপ নিয়ে অনেকেই হাসাহাসি করলেন। ছেলেটি জানালেন গ্লাস কমতো তাই ওয়ানটাইম কাপে করে দেওয়া হয়েছে। দুপুরে রেস্টুরেন্টেও একই হাল পানি খাওয়ার জন্য কাচের গ্লাসের পাশে প্লাস্টিকের ওয়ানটাইম কফি কাপ সাজানো।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চলেছে ওয়েলকাম ড্রিংকসে কি ক্ষুধা মরে। বাধ্য হয়ে ব্যাগপোটলা নিয়ে দুপুরের খাবারে অংশ নিতে হলো। চলতে থাকল ভূড়িভোজ, এবার পিলে চমকানোর মতো অবস্থা, একজন অর্ধেক খাবার পর খাবারের মধ্যে মৃত মাছি আবিষ্কার করলেন। খাবার রেখে দ্রুত ছুটলেন বেসিনে। রেস্টুরেন্ট বয়কে দেখানো হলে খুব একটা অবাক হলেন বলে মনে হলো না, বললেন অনেক সময় মাছি উড়ে ঢুকে পড়ে। ছোট্ট করে বললেন সরি, কিন্তু সরিতে কি রুচি বাড়ে দুইবার বমি করে দুপুরে না খেয়ে উঠে পড়লেন তিনি।

পরদিন সকালের নাস্তায় বিজনেস ইনসাইডারের সাংবাদিক হাসান আজাদ আবিষ্কার করলেন খাবারের মধ্যে লম্বা চুল। এবারও বয়কে অবগত করা হলো, তিনি শুধু প্লেট বদলে দিয়ে দায় সারলেন। নাস্তা সেরে ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে গিয়ে আরেক দফায় বিড়ম্বনা। ট্যুরের চুক্তিতে ছিল প্রত্যেকে একদিন করে ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে আনলিমিটেড সময় উপভোগ করতে পারবেন। ডিউটি ম্যানেজারকে বলা হলো ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য। তিনি জানালেন সব বার্তা দেওয়া আছে আপনারা গেলেই উপভোগ করতে পারবেন।

ড্রিংকস দেওয়া জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে কফি কাপ ও কাচের গ্লাস

ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে গেলে বলা হলো আমাদের কাছে এমন কোনো বার্তা দেওয়া নেই। তখন চুক্তির কপি দেখালে বলেন, এমনটাতো দেওয়ার কথা না। কারণ ওয়াটার ওয়ার্ল্ড কমপ্লিমেন্টারি হয় না। কে চুক্তি করেছে আমাকে জানান তার বিরুদ্ধে আমি অভিযোগ করবো। আরও নানা রকম হম্বিতম্বি। চুক্তিতে তাদের পরিচালক (সেলস এন্ড মার্কেটিং) মাহমুদ রাসেলের স্বাক্ষর রয়েছে জানালে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে প্রবেশ করার সুযোগ দিলেন। এবার বললেন, রুম নম্বর বলতে হবে, এক রুমে দুটির বেশি রিস্টবেন্ড (এন্ট্রিপাস) দেওয়া সম্ভব না। তাকে জানানো হলো আমাদের রুম ৩৮টি আর ৮৮ পারসনের অনুমোদন রয়েছে। আপনি দিতে থাকেন, ৮৮ হয়ে গেলে আর দেবেন না। কাউন্টারে বসা স্টাফরা বললেন, এভাবে হবে না। হয় রুমের নামে দু’টি করে নিতে হবে, না হলে ৮৮টি দিয়ে দিচ্ছি আপনারা একজন দায়িত্ব নিয়ে বিতরণ করবেন, আবার ফেরার সময় গুণে বুঝিয়ে দেবেন। হারিয়ে গেলে প্রত্যেকটির জন্য ৩’শ টাকা করে জরিমানা দিতে হবে। ওয়ার্টার ওয়ার্ল্ডের ভেতরের কাহিনী লিখলে মহাকাব্য হয়ে যাবে। সেটি অন্য পর্বের জন্য রেখে দিলাম।

ওয়াটার ওয়ার্ল্ড থেকে একেকজন একেক সময়ে বের হওয়ার সময় রিস্টবেন্ড ফেরত দিতে চাইলে বলেন, এভাবে নিতে পারবো না। আপনারা ৮৮টি বুঝিয়ে দেবেন একবারে। বাধ্য হয়ে একজনের আনন্দ মাটি করে সারাদিন গেট পাহারা দিতে হলো রয়েল টিউলিপের গ্যাঁড়াকলে। মনে করেছিলাম এবার মনে হয় বিড়ম্বনার শেষ। পরদিন যেহেতু সকাল সকাল চেক আউট হতে হবে তাই বিল চাওয়া হলো। রাতে কম্পিউটারে প্রস্তুতকৃত একটি বিল দিলেন সিনিয়র ডিউটি ম্যানেজার সানাউল হক। তাকে বলা হলো পরদিন শার্টলের ভাড়া অগ্রিম নিয়ে নিতে। তিনি জানালেন, এটা আমাদের সিস্টেমে করা যাবে না। কালকে ব্যবহার করার পর আপডেট হবে। পিড়াপিড়ি করলে কম্পিউটার প্রিন্টের ওপর হাত দিয়ে লিখে দিলেন।

পরদিন সকালে বিল পরিশোধ করতে গেলে ডিউটি ম্যানেজার (নাইট ম্যানেজার) নাফিস মাহমুদ শাহরিয়ার নতুন করে বিল প্রিন্ট করলেন। তার দেওয়া বিলে টাকার অংকে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৭ টাকা বেশি। রাতের বিলটি দেখালে বললেন আপনি ঘুরে আসেন আমি দেখছি কোথায় সমস্যা। দুপুরে যখন চেক আউট হতে যাচ্ছিলাম তখনও নাফিস মাহমুদ শাহরিয়ার বললেন ক্যাশ কাউন্টারে চলে যান সব ঠিক করে দিয়েছি। কাউন্টারে গেলে আবার কম্পিউটারে বিল প্রিন্ট করলেন ক্যাশিয়ার মনির। ওই কপিতে নানান ধরনের অসঙ্গতি। বিলের ৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৯ টাকার একটি খরচ যোগ করে দেওয়া। তবে যোগফলে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৭ টাকা বেশি। তিনি ওই টাকা জমা দিতে বললেন। বিলে ভুল এবং পূর্বের দু’টি বিল তাকে দেখালে শুরু হয় ভুল সংশোধনের পালা, এবার মনির ও নাফিস মাহমুদ শাহরিয়ার মিলে গলদঘর্ম হতে থাকলেন। তারা বলতে চাইলেন রাতের বিলটিতে ভুল ছিল আমরা যে বিলটি দিয়েছি এটাই প্রকৃত বিল। এটাই পরিশোধ করতে হবে।

এবার তাদের কাছে প্রত্যেকটি খাতের আলাদা বিল চাওয়া হলে ভুলটি বেরিয়ে আসে। দেখা যায় ভেতরে একটি বিল ৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৯ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুরো অংকটি যোগ করা হয়নি। এবার ভুলটি ধরা পড়লেও তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা গেলো না। মনে হলো বিষয়টি খুবই স্বাভাবিক বিষয়। পুরো হোটেলটিতে ফন্ট অফিস ম্যানেজার নাজিম, স্টাফ রাজ্জাক ও রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার আশিককে কিছুটা পেশাদার মনে হয়েছে কথা কাজে আচরণে। তারা সার্ভিস দিতে না পারলেও অন্তত বিনয়ের সঙ্গে উত্তর দিয়েছেন। অন্যদের আচরণ কিংবা কথাবার্তা কোনটাই অন্ততপক্ষে পাঁচতারকার সঙ্গে যায় না। যেটা তারা দাবি করেন। খানিকটা ভাড়াটে গুন্ডার মতো বলা চলে দরাজ গলা, বেশি কথা বললেই বুঝি ঘাড় মটকে দেবে। রুম সার্ভিসকে পেতে ঘড়ি ধরে কয়েক ঘণ্টা সময় অপেক্ষা করতে হতে হয়েছে অনেককে। রুমের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বলাই বাহুল্য। বাথরুম যথাযথ না হলেও এ কথা ঠিক হোটেলটির রুমগুলোর পরিসর বেশ ভালো, প্রশস্ত লবি থাকলে দুই দিকে মাত্র একটি করে টয়লেট। একসঙ্গে একজনের বেশি ব্যবহার করার উপায় নেই।

সার্ভিস দুর্বল প্রশ্নে স্টাফদের কথা হচ্ছে আজকে (৭ জানুয়ারি) ৪২০টি রুমে গেস্ট রয়েছে তাই সার্ভিস দিতে একটু সমস্যা হচ্ছে। আর এই কথার সূত্র ধরেই একজনতো টিপ্পনি কেটে বললেন, সত্যিইতো তাই রয়েল টিউলিপ-৪২০ (ফোরটোয়েন্টি)। এখানে এরচেয়ে বেশি কি আশা করা ঠিক না। কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভে অবস্থিত হোটেলটি নাম রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট এন্ড স্পা লিমিটেড হলেও রয়েল টিউলিপ নামেই সর্বাধিক পরিচিত। সেবার মান নিয়ে বরাবরই অভিযোগ রয়েছে। একবার গেলে দ্বিতীয়বার যেতে চাচ্ছে না গ্রাহকরা। সে কারণে বিশাল পরিসরের এই রিসোর্টটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানায় হওয়ায় ট্যুরিস্ট পুলিশ কিংবা জেলা প্রশাসনও নাকি খুব একটা ঘাটাতে চান না। তাই তারা দিনদিন বেপরোয়া। আবার রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে দেশি বিদেশি এনজিও কর্মীদের অবস্থানের কারণে তাদের পোয়াবারো। ট্যুরিস্টদের সেবার প্রতি তাদের উদাসীনতা বড়ই দৃষ্টিকটু। সে কারণে অনেকেই মন্তব্য করলেন বিদেশি এনজিও কর্মীরা গেলে হোটেলটির ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

কথা বলার জন্য একাধিকবার ফোন দিলেই পরিচালক (সেলস এন্ড মার্কেটিং) মাহমুদ রাসেল ফোন রিসিভ করেন নি।

রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোর নিহত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোর নিহত

রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোর নিহত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ট্রাকের সাথে বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই এক কিশোর নিহত হয়েছে। তার নাম আলী আহসান (১৪)। সে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চর অনুপনগর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে। আলী আহসান নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

সোমবার দুপুরে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কে গোদাগাড়ীর অভয়া ব্রীজে এই দুর্ঘটনা ঘটে। গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে পাথর নিয়ে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে আলী আহসানের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ওসি জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক-হেলপার পালিয়েছেন। তবে ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।#

;

পেঁয়াজ চাষি মরছে আমদানিতে আর পোয়াবারো পুঁজিপতিদের



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মেহেরপুর
পেঁয়াজ চাষি মরেছে আমদানীতে আর পোয়া বারো পুঁজিপতিদের

পেঁয়াজ চাষি মরেছে আমদানীতে আর পোয়া বারো পুঁজিপতিদের

  • Font increase
  • Font Decrease

মেহেরপুর জেলায় কৃষকের ঘরে পেঁয়াজ নেই। পেঁয়াজ তোলার সাথে সাথেই চাষিদের ৮০ ভাগের উপরে পেঁয়াজ বিক্রি করে থাকেন। বিত্তবান চাষিদের ঘরে কিছু পেঁয়াজ থাকলেও তার পরিমাণ খুব বেশি নয়। পেঁয়াজ সংরক্ষণকারী ব্যবসায়ীদের হাতে রয়েছে পেঁয়াজ। ফলে পেঁয়াজের দর বৃদ্ধির সুবিধা পাচ্ছেন সংরক্ষণকারীরা। অপরদিকে পেঁয়াজ তেলার ভরা মৌসূমে পেঁয়াজ আমদানী করায় লোকসান গুনতে হয়েছে  চাষিদের।

জানা গেছে, ভরা মৌসূমে অথাৎ মার্চের শুরুতে পেঁয়াজ আমদানির ফলে পেঁয়াদের দর পতন হয়। ফেব্রুয়ারীর শেষ সপ্তাহ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পেঁয়াজ তোলার ভরা মৌসূম। এসময় পাইকারীতে ১৭-১৯ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন চাষিরা। আমদানী বন্ধ হওয়ায় এখন পেঁয়াজের দর বেড়েছে।  মেহেরপুর জেলায় পাইকারীতে ৩২-৩৩ টাকা এবং খুচরা ৪০-৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে এর সুফল পাচ্ছেন না পেঁয়াজ উৎপাদনকারী চাষিরা। দরিদ্র চাষিদের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনে যারা সংরক্ষণ করেছেন তারাই মূলত বেশি দরের সুবিধা পাচ্ছেন।

গাংনীর গোপালনগর গ্রামের বর্গা চাষি আব্দুল জাব্বার এ মৌসূমে ৪ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। এবার তার বড় ধরনের লোকজন হয়েছে বলে জানান এই পেঁয়াজ চাষি।

তিনি জানান, জমি লিজ থেকে শুরু করে পেঁয়াজ ঘরে তোলা পর্যন্ত বিঘায় খরচ প্রায় ৩০ হাজার টাকা। বিঘায় এবার ফলন ছিল প্রায় ৮০ মণ। পেঁয়াজ তোলার সাথে সাথেই বিক্রি করেছেন ১৭ টাকা কেজি। ফলে প্রতি বিঘায় তার লোকসানের পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার টাকা। 

নওপাড়া গ্রামের পেঁয়াজ চাষি রুবেল হোসেন জানান, তিনি ৬ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। তার ঘরে দুই বিঘা জমির পেঁয়াজ রয়েছে। চাষের খরচ জোগানোর জন্য তিনি কিছু বিক্রি করেছেন। আর বাড়তি দরের আশায় কিছু পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেন।

রুবেল হোসেন বলেন, পেঁয়াজ বীজ, সার ও কীটনাশক বাকিতে কেনা হয়। ফলে পেঁয়াজ তোলা শুরু হলেই বাকি পরিশোধ করা হয়ে থাকে। যার কারণে চাষিরা পেঁয়াজ সংরক্ষণে রাখতে পারে না।

পেঁয়াজ আমদানী বন্ধের পর হঠাৎ দর বৃদ্ধি পেলেও তা স্থীতিশীল। দুই সপ্তাহ আগে দর বৃদ্ধির পর ৪০ টাকার নিচে রয়েছে পাইকারী দর।

চাষিরা জানান, গেল বছর পেঁয়াজের দর বেশি থাকায় চাষিরা আবাদ বৃদ্ধি  করেছেন। প্রতি বছর কতো উৎপাদন আর চাহিদা সেই হিসেবে করে আমদানী করতে হবে। আর কখন আমদানী করতে হবে সেই বিষয়টিও মূখ্য। দেশের চাষিরা সুযোগ পেলে পেঁয়াজে স্বংসম্পূর্ণতা অর্জন করা সম্ভভ বলে মনে করেন চাষিরা।

;

হাতে মেহেদী না শুকাতেই বিষ পানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
হাতে মেহেদী না শুকাতেই বিষ পানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

হাতে মেহেদী না শুকাতেই বিষ পানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

হাতের মেহেদী না শুকাতেই বিয়ের তিন মাস পর ময়মনসিংহের সদর উপজেলায় বিষপানে স্বামী-স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ভাটি দাপুনিয়ায় নবদম্পতি রনি মিয়া (২২) এবং সেতু আক্তার (১৯) গতকাল (২২ মে) রোববার  মধ্যরাতে নিজ বাড়িতে বিষ পান করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এমন আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানিয়েছেন নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিন মাস আগে ময়মনসিংহ নগরীর বলাশপুর কসাইপাড়ার তারা মিয়ার মেয়ের সাথে ভাটি দাপুনিয়া গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে রনি মিয়ার বিয়ে হয়। রনি মিয়া রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

;

নোয়াখালীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আবুল বাশার বসু (৫৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৩ মে) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের খিলপাড়া এলাকার চন্দ্রগঞ্জ-চাটখিল সড়কের বড়পোল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আবুল বাশার বসু উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শ্রী হাটি গ্রামের মৃত মহরম আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত বসু মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। সোমবার দুপুরের দিকে চন্দ্রগঞ্জ-চাটখিল সড়কের বড়পোল সংলগ্ন পোল হয়ে বাড়ি ফিরছিল। তখন বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দত্তেরবাগ ওয়াহাব তৈয়বা মেমোরিয়াল হসপিটালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টিি নিশ্চিত করেন চাটখিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ন কবির। তিনি জানান, মোটরসাইকেল চালককে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে আটক করতে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

;