জনগণের টাকায় আমাদের সংসার চলে: ডিসিদের রাষ্ট্রপতি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, মনে রাখতে হবে জনগণের টাকায় আমাদের সংসার চলে। তাই সেবা পাওয়াটা জনগণের অধিকার। জনগণকে সেবাদান কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য বা বদান্যতার বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকার ওসামানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বঙ্গভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

ডিসিদের তিনি বলেন, আপনারা মাঠ পর্যায়ে সরকারের বিভিন্নমুখী কার্যক্রমের সমন্বয় ও তত্ত্বাবধানকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

রাষ্ট্রপতি জনগণের সেবক হিসেবে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সবার ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার উপদেশ দিয়ে বলেন, আমরা ও আপনারা জনগণের সেবক। তাই জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন। জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেবেন।

তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি একটি কার্যকর মাধ্যম। এ সকল কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের দরিদ্র মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং জনগণের বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ডিসিদেরকে কার্যকর নেতৃত্ব প্রদান করতে হবে।

মাঠ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ।

রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, দুর্নীতি উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অন্তরায়। দুর্নীতির কারণে টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই মাঠ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিটি স্তরে দায়িত্ব ও ক্ষমতা অর্পণ করা হয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দায়িত্ব সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ অত্যাবশ্যক, কিন্তু ক্ষমতার যাতে অপপ্রয়োগ না হয় তা নিশ্চিত করা আরও বেশি জরুরি।

তিনি বলেন, এ সকল কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের দরিদ্র মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং জনগণের বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ডিসিদেরকে কার্যকর নেতৃত্ব প্রদান করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রকৃত দরিদ্ররা যেন এই কর্মসূচির সুফল ভোগ করতে পারে সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকদেরকে সচেষ্ট হতে হবে।

তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব গ্রামোন্নয়নের দিকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে, যা বিগত বছরগুলো থেকে আলাদা। শহরের ন্যায় গ্রামগুলোতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। মফস্বল এলাকাগুলোতে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ডিসিদেরকে আবাসন, শিক্ষা, কৃষি নির্ভর শিল্পের প্রসার, চিকিৎসা সেবা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানীয় জল ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে উপজেলা সদর ও বর্ধিষ্ণু শিল্পকেন্দ্রগুলোকে আধুনিক শহর-উপশহর হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগী হতে হবে।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারতের সম্মতি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জল, রেল ও সড়কপথে আঞ্চলিক প্রকল্পের পাশাপাশি জ্বালানি, পর্যটন ও টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্ত করার বিষয়ে একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

শনিবার আসামের গুয়াহাটিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর 'এনএডিআই কনক্লেভ' শীর্ষক ২ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নদী বিষয়ক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থার ওপর আঘাত হানায় জীবন ও জীবিকাকে যে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল, সেই পরিপ্রেক্ষিতে আঞ্চলিক একীকরণ এবং সহযোগিতার বিষয়টি আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তারা।

;

কলকাতা-বেনাপোল-খুলনা রুটে রোববার থেকে চলবে 'বন্ধন এক্সপ্রেস'



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বেনাপোল (যশোর)
কলকাতা-বেনাপোল-খুলনা রুটে রোববার থেকে চলবে 'বন্ধন এক্সপ্রেস'

কলকাতা-বেনাপোল-খুলনা রুটে রোববার থেকে চলবে 'বন্ধন এক্সপ্রেস'

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের কারণে দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আবারও আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হচ্ছে। রোববার (২৯ মে) থেকে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী 'বন্ধন এক্সপ্রেস' চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে।

বেনাপোল রেল স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২৯ মে সকালে ৪৫৬ আসনের 'বন্ধন এক্সপ্রেস' সকাল ৭টা ১০ মিনিটে কলকাতা থেকে যাত্রী নিয়ে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে বেনাপোল স্টেশনে পৌঁছাবে। পরে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে পৌঁছাবে ১২টা ৩০ মিনিটে। খুলনা থেকে আবার যাত্রী নিয়ে দুপুর দেড় টায় রওনা দিয়ে বেনাপোল পৌঁছাবে বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে। পরে বেনাপোলে রেলওয়ে ইমিগ্রেশনে পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে রওনা দিয়ে কলকাতা পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে।

এসিতে খুলনা থেকে কলকাতা ভ্রমণ করসহ প্রত্যেক যাত্রীর ভাড়া ১ হাজার ৫৩৫ টাকা। আর কেবিনে ভাড়া নির্ধারণ হয়েছে ২ হাজার ৫৭ টাকা। ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ৫০ শতাংশ ছাড় প্রযোজ্য হবে। তবে তা নির্ধারিত হবে পাসপোর্ট অনুযায়ী। খুলনা, যশোর ও বেনাপোল স্টেশনে যাত্রীদের উঠা-নামা করার সুযোগ থাকবে।

বেনাপোল রেলস্টেশন ইমিগ্রেশন ওসি মো: রাজু জানান, যাত্রীদের পাসপোর্ট আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণের জন্য ইতিমধ্যে তারা সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।

পাসপোর্ট যাত্রী খুলনার অনিমেষ বলেন, বন্ধন চালুতে তারা সড়ক পথের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে। ৮ ঘণ্টার রাস্তা তারা মাত্র সাড়ে ৪ ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারবেন।

পাসপোর্ট যাত্রী যশোরের উত্তম জানান, যশোর থেকে ভ্রমণ করসহ সাড়ে ৭০০ টাকা খরচ হয় সড়ক পথে কলকাতা যেতে। এক্ষেত্রে বন্ধনে ১ হাজার ৫৩৫ টাকা বেশি হয়ে যায়। 

রেলের সূত্রে জানা যায়, করোনা সংক্রমণ কমে আসায় যাত্রীরা দাবি তোলেন বন্ধন রেল চালুর। এতে দুই দেশের মধ্যে ট্রেন চালুর জন্য বাংলাদেশ থেকে ভারত সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল রেলপথ মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর খুলনা-কলকাতা পথে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ চলাচল শুরু হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কলকাতার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এই ট্রেন সার্ভিসের উদ্বোধন করেন। প্রাথমিকভাবে একদিন করে চালু হলেও পরে বাড়ানো হয় উভয় ট্রেনের ট্রিপ।

 

;

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সময়োপযোগী কারিকুলাম প্রণয়নের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সময়োপযোগী কারিকুলাম প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

শনিবার সন্ধ্যায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস  বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বাসসকে জানান, প্রথমে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সামসুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে  একটি প্রতিনিধিদল এবং পরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এয়ার ভাইস মার্শাল মো. নজরুল ইসলাম।

প্রেস সচিব জানান, সাক্ষাৎকালে উপাচার্যগণ তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ সার্বিক কর্মকান্ড সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, বিশ্বায়নের এই যুগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি।

তিনি বলেন  বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে এবং বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে দেশের নতুন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে।

গতানুগতিক কারিকুলামে বর্তমান যুগের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয় উল্লেখ রাষ্ট্রপতি বলেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে  সময়োপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন করতে হবে।

এছাড়া, গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি সকল স্তরে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধের নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এবং সচিব (সংযুক্ত) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

;

‘বৈধ না অবৈধ সেটা আমরা বুঝব, এটা পলিটিক্যাল সিট’



রাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শহীদ হবিবুর রহমান হলের ২৩৪ নাম্বার কক্ষের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে তার বৈধ সিট থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান অপুর বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (২৭ মে) রাত সাড়ে ১০টায় অপু সেই কক্ষে গিয়ে ভুক্তভোগীকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি এক অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে ভুক্তভোগীর সিটে তুলে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম তুষার চন্দ্র রায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এবং শহীদ হবিবুর রহমান হলের ২৩৪ নাম্বার কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী। অপরদিকে হল শাখা সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক তুলে দেওয়া শিক্ষার্থীর নাম নাসির হোসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এবং ওই হলের অনাবাসিক শিক্ষার্থী।

জানতে চাইলে ভুক্তভোগী তুষার চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমি হলে ২০১৯ সালে আবাসিকতা পাই। কিন্তু হলে উঠতে না পারায় করোনা পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় খুললে হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলি। প্রাধ্যক্ষ আমাকে হলের ২৩৪ নাম্বার কক্ষে সিট বরাদ্দ দেয় এবং উঠতে বলে। ঈদের আগে ওই সিটে অবস্থান করা বড়ভাই বাড়ি চলে যায়, তখন থেকে আমি সেখানে থাকা শুরু করি। এর মাঝে একদিন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান অপুর দুই ছেলে এসে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নাসির নামের এক অনাবাসিক ছেলেকে আমার সিটে তুলে দেয়। তারপর থেকে নাসির আমার সিটে ডাবলিং করে থাকে।’

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘এরপর শুক্রবার (২৭ মে) রাত সাড়ে ১০টায় অপুসহ কয়েকজন আমার কক্ষে আসে এবং আমায় সিট থেকে নেমে যেতে বলে নতুবা নিচে ফ্লোরিং করে থাকতে বলে। আমি ফ্লোরিং করে থাকতে না চাওয়াতে সেদিন রাত সাড়ে ১২টায় হল শাখা সাধারণ সম্পাদকের পাঠানো তিনজন ছেলে এসে আমাকে শাসায় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। শাসানোর একটি অডিও রেকর্ড আছে আমার কাছে। এমতাবস্থায় আমি আমার বৈধ সিট পেতে হল প্রশাসন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

শাসানোর সেই অডিও রেকর্ডটি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। রেকর্ডটিতে সেই তিনজন ছেলে নিজেদের ছাত্রলীগ বলতে শোনা গেছে। ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, এদের তিনজনের মধ্যে দুজনের নাম অনিম এবং অমিত। ভুক্তভোগী এর বেশি তাদের পরিচয় জানাতে পারেননি। আর খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, শহীদ হবিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতেও এসব নামে কেউ নেই। তবে অনেকের ভাষ্যমতে, তারা শাখা ছাত্রলীগের কর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী।

রেকর্ডটিতে ভুক্তভোগী তুষারকে বলতে শোনা যায়, ‘এটা আমার বৈধ সিট, এখানে আমি থাকব। এটা কি ওর (নাসির) বৈধ সিট? এর জবাবে অপুর পাঠানো ছাত্রলীগ কর্মীরা বলেন, ‘বৈধ না অবৈধ সেটা আমরা বুঝব, এটা পলিটিক্যাল সিট, এটা অবশ্যই পলিটিক্যাল সিট।’ এসময় ভুক্তভোগী তাদের গলা নামিয়ে কথা বলতে বললে ছাত্রলীগ কর্মীরা বলেন, ‘আববার গলাবে নামাবে কে! একদম...।’

শনিবার দুপুরে সেই হলে গিয়ে কথা হয় সেই সিটের অনাবাসিক শিক্ষার্থী নাসির হোসেন এবং পূর্বে সেই সিটে থাকা শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামানের সঙ্গে।

আবাসিকতা না থাকা সত্ত্বেও সেই সিটে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে নাসির হোসেন বলেন, ‘এই সিটে আমাকে হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অপু ভাই থাকতে বলেছেন। এটা আগে থেকেই পলিটিক্যাল সিট।’

তবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না বলে জানায় সেই সিটে পূর্বে থাকা শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘এটা কোনো পলিটিক্যাল সিট না।’

সিট থেকে নামিয়ে দেওয়ার হুমকি এবং নিজের কর্মীদের দ্বারা শাসানোর কারণ জানতে হল শাখা সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান অপুর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার মুঠোফোনে এসএমএস করা হলেও তিনি কোনো রিপ্লাই দেয়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরীয়া বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এখন খোঁজ নিব। যদি এমনকিছু করে থাকে, তাহলে অপুকে সাংগঠনিকভাবে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।

শহীদ হবিবুর রহমান হল প্রাধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, আমরা বিকেলে বসব। সিট বরাদ্দ দিবে হল প্রশাসন। যাকে দিবে সেই ছেলেই উঠবে। এটিই স্বাভাবিক।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূর বলেন, ‘হল প্রাধ্যক্ষ আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। আমরা বিকেলে বসব এবং বৈধ ছেলেটিকে ওই সিটে রাখার ব্যবস্থা করব।’

;