রাজশাহীতে বিপন্ন নির্মাণ শ্রমিকের জীবন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

এক দশক ধরে রাজশাহী শহরে পাল্লা দিয়ে হচ্ছে উঁচু উঁচু ভবন। বেশিরভাগ ভবন নির্মাণের সময়ই শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। ফলে বিপন্ন হয়ে উঠেছে শ্রমিকের জীবন। রাজশাহীতে মাঝে মাঝেই নির্মাণাধীন বহুতল ভবন থেকে পড়ে প্রাণ যাচ্ছে শ্রমিকের।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ব্যক্তিমালিকানাধীন কিংবা সরকারি ভবন- কোনটির ক্ষেত্রেই শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর কিংবা রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। শ্রমিক নিহত হচ্ছেন, কিন্তু মালিকপক্ষ আইনের আওতায় আসছেন না।

গত ১৯ ডিসেম্বর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ভেতর নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে মাথায় ইট পড়ে নাজিম উদ্দিন নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগ ঠিকাদারের মাধ্যমে এ ভবন নির্মাণ করছে। দুর্ঘটনার দিন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেছিলেন, নির্মাণকাজে সকল প্রকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও ঠিকাদারের লোকজন তা শোনেন নি।

গত ৮ জানুয়ারি আলেক নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)। রাবি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন সংস্কার কাজের সময় ছাদ থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে সম্প্রতি নগরীর দড়িখড়বোনা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি পাঁচতলা ভবন থেকে পড়ে পবা উপজেলার এক নির্মাণ শ্রমিক আহত হন। এর কয়দিন পর এ ভবনটির পাশেরই আরেকটি পাঁচতলা নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে আরেক নির্মাণ শ্রমিক আহত হন। শহরে এখন অসংখ্য ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে নিরাপত্তা বেষ্টনি ছাড়াই। চরম ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন শ্রমিকেরা।

দেশের আইন অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে কোন শ্রমিক দুর্ঘটনায় মারা গেলে আড়াই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে মালিকপক্ষকে। জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুযায়ী, কাজের সময় শ্রমিকের মাথায় হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক। কংক্রিটের কাজের শ্রমিকদের হাতে গ্লাভস ও চোখের জন্য ক্ষতিকর কাজ হলে শ্রমিকদের চশমা ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ভবনের ওপরে কাজ করার সময় শ্রমিকের নিরাপত্তায় বেল্ট ব্যবহারও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তবে ইমরাত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশের (ইনসাব) জেলা কমিটির কার্যকরী সভাপতি আজিজুল হক বাঙালী বলেন, ‘রাজশাহীতে শ্রমিকদের নিরাপত্তার অভাব খুব বেশি। বহুতল ভবনে মালিকেরা জোরপূর্বক কাজ করাচ্ছে নিরাপত্তা ছাড়াই। সাব- কন্ট্রাক্টরের সাথে মালিকপক্ষ চুক্তিই করে নিচ্ছে যে, নিরাপত্তা ছাড়াই খরচ কমিয়ে কাজ করতে হবে। দুর্ঘটনা ঘটলে মালিকের কোন দায় নেই। আমরা ভবনগুলোর নিরাপত্তা বেষ্টনি চাই’। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ছে বলেও মনে করেন তিনি।

জানতে চাইলে আরডিএ’র অথরাইজড অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা নকশা অনুমোদন দেওয়ার সময় বলেই দেই যে ভবন নির্মাণের সময় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সাইটের প্রকৌশলীকেও বিষয়টা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কেউ যদি নিরাপত্তা বেষ্টনী নিশ্চিত না করে তাহলে আমাদের ব্যবস্থা নেওয়ার কোন আইনগত বিধান নেই। এ ক্ষেত্রে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ ব্যবস্থা নিতে পারে।’

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের শ্রম পরিদর্শক (সেফটি) হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা আলাদা একটা কাজ নিয়ে খুব ব্যস্ত আছি। ভবনের নিরাপত্তার বিষয়টা এখন দেখা হচ্ছে না। তবে কোথাও শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পেলে আমরা তদন্ত করি। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেই।

মাঙ্কিপক্স: সব বন্দরে সতর্কতা জারি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বের ১২টি দেশে ছড়িয়ে পড়া নতুন ভাইরাস ‘মাঙ্কিপক্স’র  সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি বন্দরে সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। 

ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দেশের প্রায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষের দেহে এই সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন এই সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশের প্রত্যেক বন্দরে সতর্কতা জারি।

শনিবার (২১ মে) রাতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এয়ারপোর্ট, ল্যান্ড পোর্টসহ সমস্ত পোস্টগুলোকে আমরা সতর্ক থাকতে বলেছি। সন্দেহভাজন কেউ এলে যেন তাকে চিহ্নিত করা যায় এবং অতিদ্রুত যেন তাকে সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান মাঙ্কিপক্স আক্রান্তের ঘটনা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। ভাইরাল সংক্রমণজনিত রোগটি পশ্চিম এবং মধ্য আফ্রিকায় সাধারণত সবচেয়ে বেশি দেখা গেলেও এবার সেই গণ্ডি পেরিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও)  তথ্যমতে, শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ৮০ জনের মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ১১টি দেশে আরও ৫০ জনের এই ভাইরাসে আক্রান্তের ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে।

;

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গম ও সয়াবিনের দাম বেড়েছে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বে গম ও সয়াবিনের দাম বেড়েছে। বর্তমানে ইউক্রেন ও রাশিয়ার থেকে সব ধরেন পণ্য  আমদানি বন্ধ আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ।

শনিবার সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।

সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, 'ওই ২টি দেশের সংকট কবে কাটবে তা আমাদের জানা নেই। ওই ২ দেশ থেকে আমদানি যতদিন বন্ধ থাকবে ততদিন পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা নেই। এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সারা বিশ্বের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'আমাদের গম ও সূর্যমুখী তেল আমদানির ক্ষেত্রে রাশিয়া কিংবা ইউক্রেনের ওপর নির্ভর করতে হয়। ওই ২টি দেশের সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমাদের বাজারে তেল, গম ও সারের ওপর প্রভাব পড়তে থাকবে। এজন্য এখন থেকেই সকলের মিতব্যয়ী ও বিকল্প পণ্যের দিকে এগোতে হবে।'

সচিব বলেন, 'ইন্দোনেশিয়ার পামওয়েল তেল রপ্তানি শুরু করবে আগামী সোমবার থেকে। ওই তেল পেলে তেলের দাম কিছুটা কমবে। তবে, এজন্য আমাদের আরও ১৫দিন অপেক্ষা করতে হবে।'

'তবে দেশে সরিষা, তিল, তিসি চাষের ওপর আমরা জোর দিচ্ছি। আগামীতে এ শস্যের উৎপাদনের ওপর জোর দিতে হবে। তবে পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে আমাদের কৃষি জমির পরিমাণ সীমাবদ্ধ।'

বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, 'আমাদের পারস্পরিক দোষারোপ না করে যার যার অবস্থান থেকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তবেই আমাদের পক্ষে আসন্ন এ সংকট কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে।'

;

নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পূর্ব শক্রতার জের ধরে এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে গলায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক পুলিশ চৌমুহনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল হাই মিলনের ছেলে মো.পাভেল একই ওয়ার্ডের বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. রাকিব (২০) ও আজাদ মিয়ার ছেলে রিমনকে আটক করে।

নিহতের নাম মো.আইমন (২০) তিনি উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গণিপুর এলাকার নুরনবীল ছেলে।

শনিবার (২১ মে) রাত পৌনে ৮টার দিকে চৌমুহনী বাজারের ডিবি রোডের হোসেন সুপার মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) নাজমুল হাসান রাজিব জানান, নিহত আইমন চৌমুহনী বাজারে খোলা জায়গায় জুতার ব্যবসা করত। ঘাতক রাকিব তার সহযোগীদের নিয়ে তিন মাস আগে নিহত আইমনের কাছে চাঁদা দাবি করে। তখন আইমন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ আইমনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাকিবকে ইয়াবাসহ আটক করে কারাগারে পাঠায়। এরপর তিন মাস জেল খেটে রাকিব গত ১৯ মে বৃহস্পতিবার জামিনে বের হয়। জামিনে বের হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার  জন্য রাকিব ও তার সহযোগে পাভেল এবং রিমন শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে আইমনকে চৌমুহনী বাজারের ডিবি রোডের হোসেন মার্কেটের সামনে গতিরোধ করে। ওই সময় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তারা আইমনকে গলায় ছুরিকাঘাত করে গুরুত্বর আহত করে। সেখান থেকে স্থানীয় লোকজন তাকে লাইফ কেয়ার হসপিটালে নেওয়ার পথে আইমন মারা যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান রাজিব আরো জানায়, ঘটনার পরপরই তিন ঘাতক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ হত্যাকান্ডের আধাঘন্টার মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে একটি জায়গা থেকে তাদের আটক করে এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

;

হাতিয়ার মেঘনায় পাথর বোঝাই জাহাজডুবি



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
হাতিয়ার মেঘনায় পাথর বোঝাই জাহাজডুবি

হাতিয়ার মেঘনায় পাথর বোঝাই জাহাজডুবি

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা  হাতিয়ার মেঘনা নদীতে মক্কা-মদিনা নামে পাথর বোঝাই বাল্কহেড জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (২১মে) দুপুরে ঘূণিঝড়ের কবলে পড়ে নলচিরা ইউনিয়নের পাশে মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।  হাতিয়া নৌ পুলিশের সহযোগিতায় জাহাজটি উদ্ধারের চেষ্টা করা চলছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শরীফ উদ্দিন জানান,  ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে নলচিরা ইউনিয়নের পাশে মেঘনা নদীতে জাহাজটি ডুবে যায়। এ সময় জাহাজে থাকা লোকজন তীরে উঠে আসায় কোন হতাহত অথবা নিখোঁজের ঘটনা ঘটেনি।

জাহাজের চালক সুমন মিয়া জানান, এমবি মক্কা-মদিনা নামে জাহাজটি সিলেট থেকে পাথর বোঝাই করে সন্ধীপ যাচ্ছিলেন। আজ সকালে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া দেখে নলচিরার পাশে ঘাটে ভিড়ানোর চেষ্টা করে ছিলেন। বাতাসের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। পরে সাতরীয়ে জাহাজে থাকা ৭জন স্টাপ তীরে উঠে যান।

হাতিয়া নলচিরা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নাসির উদ্দিন বলেন, অধিক জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় জাহাজটি একেবারেই ডুবে গেছে। ভাটার সময় পানি কমে গেলে জাহাজটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।

;