‘নির্বাচন কমিশন গঠনের খসড়া আইনে অপূর্ণতা আছে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ.টি.এম. শামসুল হুদা

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ.টি.এম. শামসুল হুদা

  • Font increase
  • Font Decrease

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ.টি.এম. শামসুল হুদা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য প্রস্তাবিত খসড়া আইনে মনে হচ্ছে অনেক অপূর্ণতা রয়েছে। আপাতত দৃষ্টিতে মনে হয় এটি শুধু সার্চ কমিটি গঠনের জন্য। সত্যিকার অর্থে বর্তমান সংসদে জনপ্রতিনিধিত্ব নেই, তাই প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সকলের মতামতের ভিত্তিতে খসড়া আইনটি চূড়ান্ত করা উচিত।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন আইনটি যাতে জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্য হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। একটি ভালো আইনের জন্য প্রয়োজনে সময় নেওয়া যেতে পারে। তাড়াহুড়া করে ত্রুটিপূর্ণ আইন প্রণয়ন কারো জন্যই কল্যাণকর হবে না।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে এফডিসিতে ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি নির্বাচনকালীন সরকারে অন্তর্ভূক্তির জন্য অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাইয়িদ এবং ড. এ.টি.এম. শামসুল হুদার নাম প্রস্তাব করেন।

ড. এ.টি.এম. শামসুল হুদা বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও অযগ্যোতা সুস্পষ্ট রূপরেখা থাকতে হবে। যাদের সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে তাদেরকে বিবেচনায় না নেওয়া উচিত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনাররা কোন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে তাদের আইনানুগ বিচার হওয়া উচিত। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, তাই কোন বিশেষ পদধারী ব্যক্তির অপরাধের বিচারের জন্য ইনডেমনিটি থাকা উচিত নয়। বর্তমান নির্বাচন কমিশন সদিচ্ছা থাকলে ভালো নির্বাচন করতে পারতো। তাদের পারফরমেন্স সন্তোষজনক নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য সুখকর না হলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন অধিকতর গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন খুবই জরুরি। রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে গত ৫০ বছরে দেশে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য কোন আইন তৈরি হয়নি। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে সুশাসন ব্যাহত হয়। দুর্নীতির কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তির ঘটনা খুবই কম। অথচ পাকিস্তান আমলেও সিভিল সার্ভিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তি হতো।

প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনলোজির বিতার্কিকদের পরাজিত করে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ট্রফি ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

দেশ টিভিকে পূর্ণতা দিতে জন্মদিনে প্রত্যয়দীপ্ত আরিফ হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
দেশ টিভিকে পূর্ণতা দিতে জন্মদিনে প্রত্যয়দীপ্ত আরিফ হাসান

দেশ টিভিকে পূর্ণতা দিতে জন্মদিনে প্রত্যয়দীপ্ত আরিফ হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

১৪ বছরে পদার্পনকারী দেশ টেলিভিশনকে নতুন করে সাজানো শুরু হয়েছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মাত্রা যুক্ত হচ্ছে এই টেলিভিশনে। সর্বশেষ পদ্মা সেতু উদ্বোধনকে ঘিরে মাসব্যাপি নানা আয়োজন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী বিভিন্ন আয়োজন দর্শক-শ্রোতারা প্রত্যক্ষ করেছেন। সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে বিশেষ আলোচনা ছাড়াও বিভিন্নমুখি উদ্যোগে নতুন নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে এই টেলিভিশনে। দেশ টিভিকে আরো গুছিয়ে ও পরিপূর্ণ করে তুলতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের জন্য সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে । বার্তা বিভাগসহ সব বিভাগে দেশ টিভি তারুণ্যের মেধাকে সঙ্গে নিয়ে আরো এগোতে চায় সামনে দিকে।

২৭ জুন (সোমবার) দেশ টেলিভিশন লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ হাসানের শুভ জন্ম দিন। এই জন্মদিন উপলক্ষে দেশ টিভি নিয়ে তাঁর প্রত্যয় আরো দীপ্ত ও দীপ্র। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৬ মার্চ দেশ টিভির যাত্রা শুরু হয়েছিল। ওই দিনে মহান স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশ টিভি গত ২৬ মার্চ ১৪ তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। এই অতিক্রান্ত সময়ে বছর, ঘণ্টা, মিনিট, সেকেন্ড হিসাব করলে অনেক সময়। প্রতি সেকেন্ড যেন দর্শকের মন জয় করতে পারে, সে চ্যালেঞ্জ থাকে টেলিভিশনের। দেশ টিভিও সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে পথ চলছে। তার মতে, প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের এই সময়েও টেলিভিশন কেবল তার অবস্থান ধরেই রাখেনি বরং দিন দিন সম্প্রসারিত হয়েছে এর আবেদন। এই মাধ্যমকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে সৃজনশীল, শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান। উদীয়মান অর্থনীতি ও শিল্পায়নের এই সময়ে পণ্যের পরিচিতি ও ব্র্যান্ড তৈরিতে টেলিভিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দেশ টিভিকে নতুন করে সাজানোর বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আরিফ হাসান বলেন, গণমাধ্যম জাতির বিবেক, সমাজের দর্পণ। দেশের সংস্কৃতি ও চরিত্রের ধারক, পরিচায়ক ও মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে টেলিভিশন চ্যানেল। দেশ টিভি শুরু থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে বিভিন্ন অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচার করে আসছে। গণমানুষের বঞ্চনা ও চাওয়া-পাওয়ার কথা তুলে ধরে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশ টিভি সব সময় সচেষ্ট। সে প্রচেষ্টা আরও ত্বরান্বিত করতে চায় এই চ্যানেল। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, নির্মল বিনোদন ও শিক্ষামুলক অনুষ্ঠান প্রচারে দেশ টিভি তার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। সকল বিভাগে নতুন জনবল নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশ টিভি পথ চলা শুরু করেছে ১৩ বছর আগে। পথ চলতে চলতে , চলার অভিজ্ঞতা থেকে নতুন পরিকল্পনা চলে আসে। পূর্ণতার শেষ নেই, পরিকল্পনার শেষ নেই। নতুনভাবে পথ চলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই আমি আরো জনবল নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি আমরা। যোগ্য ও মেধাবীদের যুক্ত করতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন করা হবে।

জন্মদিনে নতুন প্রত্যয় ও আশা ব্যক্ত করে আরিফ হাসান বলেন, আমি দর্শক-শ্রোতাদের বলবো-দেশের সঙ্গে থাকুন, দেশকে এগিয়ে রাখুন।

পাকিস্তানি হায়েনার কাছে বন্দি হওয়ার আগে একাত্তরের ২৬ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বাঙালি জাতির স্বাধীন ভূখণ্ডে যাত্রা শুরুর এমন মহান দিনটিতেই নিজের যাত্রাও শুরু করেছিল দেশ টিভি। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তাই দেশ টিভি তার প্রতিটি আয়োজনে, সম্প্রচারে, বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করে চলেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সেই আলোকেই প্রণীত হয়েছে দেশ টিভির প্রতিটি অনুষ্ঠান। বাউল সংহতি থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ, নজরুলসহ পঞ্চকবির গান, ঐতিহ্যের পুতুল নাচ, যাত্রা, কবির গান-পালা বা কিংবদন্তিদের শ্রদ্ধা জানিয়ে ট্রিবিউট টু  লিজেন্ড ও কনসার্ট ফর বাংলাদেশ- সংস্কৃতির সব আঙিনা থেকেই বাঙালির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চেয়েছে দেশ টিভি। সরাসরি সম্প্রচারিত কল-এর গান বা প্রিয়জনের গান জনপ্রিয়তা পেয়ে চলেছে বছরের পর বছর।

২০১১তে দেশব্যাপী আলোচিত ছিল দেশ টেলিভিশনের ‘কে হতে চায় কোটিপতি’র আয়োজন। এবার দেশ টিভি প্রবেশ করতে চায়, জনগণের কাছে তথ্য সেবার আরো প্রসারিত দরজা নিয়ে, পুরো দায়বদ্ধতায়। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের ফলে টেলিভিশন সম্প্রচারে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সেই অগ্রযাত্রায় দেশ টিভি আরো গোছানো হচ্ছে বলে জানান দেশ টেলিভিশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ হাসান।

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, নির্মল বিনোদন ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান প্রচারে দেশ টিভি তার প্রয়াস চালিয়ে যাবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

;

বন্যায় ৭ কোটি টাকার বেশি নগদ বরাদ্দ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক বন্যায় তাৎক্ষণিকভাবে মানবিক সহায়তা হিসেবে ১৪টি জেলায় জেলা প্রশাসকগণের অনুকূলে ১ এপ্রিল থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত ৭ কোটি ১১ লাখ নগদ টাকা বরাদ্দ প্রদান করেছে।

এছাড়াও ৫ হাজার ৮২০ মেট্রিক টন চাল, এক লাখ ২৩ হাজার ২০০ প্যাকেট/বস্তা শুকনো ও অন্যান্য খাবার, শিশু খাদ্য ক্রয় বাবদ ৪০ লাখ টাকা এবং গো-খাদ্য ক্রয় বাবদ ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

বরাদ্দকৃত জেলাসমূহের মধ্যে সিলেট জেলায় ২ হাজার মেট্রিক টন চাল, ২ কোটি ১৫ লাখ নগদ টাকা, ৪৩ হাজার প্যাকেট/বস্তা শুকনো ও অন্যান্য খাবার, শিশু-খাদ্য ক্রয় বাবদ ১০ লাখ টাকা এবং গো-খাদ্য ক্রয় বাবদ ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলায় ১ হাজার ৩২০ মেট্রিক টন চাল, ২ কোটি ৮ লাখ নগদ টাকা, ৩৮ হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট/বস্তা,শিশু-খাদ্য ক্রয় বাবদ ১০ লাখ টাকা এবং গো-খাদ্য ক্রয় বাবদ ১০ লাখ টাকা, নেত্রকোনা জেলায় ৪০০ মেট্রিক টন চাল,৮০ লাখ নগদ টাকা, ৯ হাজার প্যাকেট/বস্তা শুকনো ও অন্যান্য খাবার, শিশু-খাদ্য ক্রয় বাবদ ১০ লাখ টাকা এবং গো-খাদ্য ক্রয় বাবদ ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রংপুর জেলায় ৩ হাজার ৫০০ প্যাকেট/বস্তা শুকনো ও অন্যান্য খাবার, নীলফামারী জেলায় ৫ লাখ নগদ টাকা এবং ৩ হাজার প্যাকেট/বস্তা শুকনো ও অন্যান্য খাবার, কুড়িগ্রাম জেলায় ২০০ মেট্রিক টন চাল, ৩০ লাখ নগদ টাকা এবং ১ হাজার প্যাকেট/বস্তা শুকনো ও অন্যান্য খাবার, হবিগঞ্জ জেলায় ১০০ মেট্রিক টন চাল, ৩০ লাখ নগদ টাকা এবং ৪ হাজার প্যাকেট/বস্তা শুকনো ও অন্যান্য খাবার, মৌলভীবাজার জেলায় ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ৬২ লাখ ৫০ হাজার নগদ টাকা,২ হাজার প্যাকেট/বস্তা শুকনো ও অন্যান্য খাবার, শিশু-খাদ্য ক্রয় বাবদ ১০ লাখ টাকা এবং গো-খাদ্য ক্রয় বাবদ ১০ লাখ টাকা, শেরপুর জেলায় ১৫০ মেট্রিক টন চাল, ১১ লাখ নগদ টাকা এবং ৪ প্যাকেট/বস্তা শুকনো ও অন্যান্য খাবার, জামালপুর জেলায় ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ২২ লাখ নগদ টাকা এবং ৮ প্যাকেট/ স্তা শুকনো ও অন্যান্য খাবার, কিশোরগঞ্জ জেলায় ১০০ মেট্রিক টন চাল, ১০ লাখ নগদ টাকা এবং ৪ হাজার প্যাকেট/বস্তা শুকনো ও অন্যান্য খাবার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ৪০০ মেট্রিক টন চাল, ১১ লাখ ৫০ হাজার নগদ টাকা এবং ২ হাজার প্যাকেট/বস্তা শুকনো ও অন্যান্য খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলায় ৩৫০ মেট্রিক টন চাল এবং ৯ লাখ নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা জেলায় ২০০ মেট্রিক টন চাল, ১৭ লাখ নগদ টাকা এবং ১ হাজার ৭০০ প্যাকেট/বস্তা শুকনো ও অন্যান্য খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

;

সোনাইমুড়ীতে আ.লীগের দু'গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৯



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
সোনাইমুড়ীতে আ.লীগের দু'গ্রুপের সংঘর্ষ

সোনাইমুড়ীতে আ.লীগের দু'গ্রুপের সংঘর্ষ

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন।

রোববার (২৬ জুন) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চাষীরহাট ইউনিয়নের পোরকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- রবিউল হাসান (২৭), ইয়াছিন আরাফাত বাদশা (২৬),সাব্বির (১৮),রাকিব (২০),শামিম (২০)সাইফুল (২৪), মোখলেছ (২৬) সহ ৯ জন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে ব্যালটের মাধ্যমে চাষীরহাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন চলছিল। এ সময় ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী মহসিন মেম্বারের অনুসারীদের সাথে আরেক সভাপতি পদপ্রার্থী মুনাফের অনুসারীদের ব্যালট নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয় প্রার্থীর অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে উভয় পক্ষের ৯ জন আহত হয় এবং চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে হামলাকারীরা। খবর পেয়ে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে জানতে উভয় প্রার্থীর মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেন নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) হারুন অর রশিদ জানান, ব্যালটের মাধ্যমে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন চলছিল। ওই সময় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে উভয় পক্ষের ৩-৪ জন আহত হয়। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষ থানায় লিখিত কোন অভিযোগ দায়ের করেনি।

;

পদ্মা সেতু: নবযুগের ঊষার উন্মেষে বাংলাদেশ

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার



ড. মাহফুজ পারভেজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বপ্নের দ্বার উন্মোচিত হলো শনিবার (২৫ জুন) মধ্যাহ্নে। আর সঙ্গে সঙ্গে পদ্মা পেরিয়ে নতুন ইতিহাস বিনির্মাণের যাত্রারম্ভ করলো সমগ্র জাতির। হাজার বছরের চরম প্রতিবন্ধকতার অবসানে প্রমত্তা পদ্মার দুই তীর রাখিবন্ধনে একাকার আজ থেকে। নবযুগের ঊষার অরুণালোকে উদ্ভাসিত বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির সামনে অপেক্ষমাণ সম্ভাবনার অপার সমুদ্র আর অবারিত বিশ্ব।

পদ্মা সেতু বাঙালির সম্মিলিত স্বপ্নের সফলতার প্রাণস্পন্দনে আগামীর পথে পুনরুত্থিত করেছে বাংলা, বাঙালিকে। বহু সাধনায় নির্মিত অপরাজিত জাতির গর্ব ও অহং স্মারক হয়ে পদ্মা সেতু বিশ্বের বুকে আরও সমুন্নত করেছে বাংলা ও বাঙালি জাতিসত্তাকে। উন্মুক্ত করেছে দখিনা দুয়ার, যার মাধ্যমে সমুদ্র হয়ে বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে সুযোগ ও সম্ভাবনার দুনিয়ায়।  

পদ্মা সেতুর ফলে বদলে গেছে জীবনের গতিপথ। উত্তরের হিমেল বায়ু যেমন থেমে গিয়ে আসে দক্ষিণে নাতিশীতোষ্ণ কোমল হাওয়া, তেমনি বাংলাদেশের উন্মুক্ত হয়েছে দক্ষিণের সমুদ্রগামী পথ, যা পৌঁছে ইন্দো-প্যাসিফিক হয়ে তাবৎ দুনিয়ায়। আর খুলে দেবে সমুদ্র-সংশ্লিষ্ট 'ব্লু ইকোনমি'র অবারিত সিংহদরজা।

বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমশই গুরুত্বপূর্ণ রূপে উদ্ভাসিত 'ইন্দো-প্যাসিফিক' শুধু দুই মহাসাগরকে এককার করেনি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সমৃদ্ধির দোলা জাগিয়েছে বিশ্বব্যাপীই।  বঙ্গোপসাগর হলো 'ইন্দো-প্যাসিফিক'-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সংযোগ নিবিড় করেছে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে। শুধু চট্টগ্রাম বন্দরের উপর চাপ কমাই নয়, মঙ্গলা, পায়রা বন্দরের বিকাশ হবে দ্রুতলয়ে। টেকনাফ থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত প্রলম্বিত সমুদ্রতট বাণিজ্য ও মানুষের ভাগ্যের গতি 

দখিনা বাতাস মন ও প্রাণে লাগার মতোই দখিনা দুয়ার উন্মোচনকারী পদ্মা সেতুর কারণ এই বর্ষাতেও অনুভব করা যাচ্ছে বসন্তের ছোঁয়া। পদ্মার দুই তীর ছাড়িয়ে বাংলাদেশের সর্বত্র এখন বাসন্তী শিহরণ। শীতের আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠার মতো নবযুগের নতুন প্রাণপ্রবাহে জেগেছে বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি।

পদ্মা সেতুর কারণে জাতীয় জীবনে একটি তাৎক্ষণিক অর্জনের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হলে এর সুদূরপ্রসারী অবদান সম্পর্কে আঁচ করা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু চালুর মধ্য দিয়ে ৯৩ কিলোমিটার কমছে বেনাপোল-ঢাকার দূরত্ব। এতে সময় বাঁচবে চার ঘণ্টা। একইসঙ্গে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বাড়বে। হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং প্রবৃদ্ধি। বন্দর থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাক দ্রুত সময়ে পৌঁছে যাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ফলে একদিকে যেমন পরিবহন খরচ কমবে, অন্যদিকে বাজারে পণ্যের দাম কমবে। এমনই অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে বেনাপোল থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া হয়ে ঢাকার দূরত্ব ২৭৮ কিলোমিটার। এই পথে ঢাকায় যেতে সময় লাগছে আট-নয় ঘণ্টা। মাঝে মধ্যে এর চেয়ে বেশি সময় লাগে। দুর্যোগকালীন ফেরি না পাওয়ায় নদীর পাড়ে কেটে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ফলে আমদানি পণ্য নষ্ট হয়ে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন ব্যবসায়ীরা। বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে আসা বিদেশি পণ্য সঠিক সময়ে ঢাকায় পৌঁছাতে না পারায় বাজারে সংকট তৈরি হয়। সেই সঙ্গে বেড়ে যায় দাম।

পদ্মা সেতু চালুর পর মাওয়া দিয়ে ঢাকার দূরত্ব হবে ১৮৫ কিলোমিটার। ঢাকায় যেতে সময় লাগবে চার-পাঁচ ঘণ্টা। ফলে এ অঞ্চলের মানুষ ও পণ্যবাহী যানবাহন ফরিদপুর ও ভাঙ্গা হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে সহজে ঢাকায় পৌঁছাবে। এছাড়া পচনশীল দ্রব্য; যেমন শাকসবজি, রেণুপোনা দ্রুত সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে, এমনকি বিদেশেও পাঠানো সম্ভব হবে। কৃষক, ফুল ও মাছ চাষিদের জন্যও আশীর্বাদ হবে পদ্মা সেতু।

উদাহরণস্বরূপ, দেশের সিংহভাগ কলকারখানা ও গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির ৮০ শতাংশ কাঁচামাল বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়। বন্দর থেকে খালাস করা কাঁচামাল দ্রুত সময়ে শিল্প ও কলকারখানায় পৌঁছে গেলে পরিবহন খরচ কমে যাবে। শিল্প ও কলকারখানা প্রসারিত হবে। কৃষিপণ্যের বাজার প্রসারিত হবে।

এই হলো মাত্র একটি দিক। আরও বহু সম্ভাবনা দেশ ও জাতির সামনে অঙ্কুর থেকে বিকশিত হবে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে। ফলে পদ্মা পেরিয়ে নবযুগের ঊষার উন্মেষের সামনে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ, বাঙালি। স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবে রূপায়িত হয়ে বহুমাত্রিক সম্ভাবনার ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে এনে দিয়েছে হাতের মুঠোর মধ্যে। এখন সম্মিলিত কর্তব্য হলো পদ্মা সেতুর মাধ্যমে উন্মোচিত অযুত সম্ভাবনাকে দেশ, জাতি ও মানুষের স্বার্থে ও কল্যাণে কাজে লাগানো।

ড. মাহফুজ পারভেজ,  প্রফেসর, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম।

;