মোটরসাইকেল আরোহী আহত, প্রজাপতি বাসের চালক আটক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রজাপতি বাসের চালক আটক

প্রজাপতি বাসের চালক আটক

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর মিরপুর কালশী বাসস্ট্যান্ডে এক মোটরসাইকেল আরোহীকে চাপা দেয় প্রজাপতি বাস। এতে আরোহীর অণ্ডকোষ বের হয়ে গেলে পথচারীরা আশঙ্কজনক অবস্থায় দ্রুত পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করান। এসময় চালককে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন পথচারীরা।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) বিকালে কালশি বাসস্ট্যান্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বার্তা২৪.কম-কে বলেন, বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে কালশি বাসস্ট্যান্ডে ঘটনাটি ঘটে। এখনও মোটরসাইকেল আরোহীর পরিচয় জানা যায়নি।

নেদারল্যান্ডসে প্রশিক্ষণে গিয়ে দুই কনস্টেবল লাপাত্তা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
নেদারল্যান্ডসে প্রশিক্ষণে গিয়ে দুই কনস্টেবল লাপাত্তা

নেদারল্যান্ডসে প্রশিক্ষণে গিয়ে দুই কনস্টেবল লাপাত্তা

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের আট সদস্যের একটি দল নেদারল্যান্ডসে প্রশিক্ষণে গিয়েছিল গত ৯ মে। কিন্তু প্রশিক্ষণ শেষ করে ফিরে আসার আগের দিন ২২ মে থেকে দুই কনস্টেবলের খোঁজ মিলছে না। বাকি ছয় সদস্যের দলটি প্রশিক্ষণ শেষ করে গত ২৪ মে দেশে ফিরেছে।

শুক্রবার (২৭ মে) সকালে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) আমির জাফর। নিখোঁজ কনস্টেবলরা হলেন, শাহ আলম ও রাসেল চন্দ্র দে।

তিনি বলেন, গত ৯ মে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ৮ সদস্যের একটি দল কুকুরের ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ শীর্ষক ১৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশ নিতে নেদারল্যান্ডসে যায়। কিন্তু দেশে আসার আগের দিন দুইজন কনস্টেবল ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাইরে যান। এরপর থেকে তাদের খোঁজ মিলছে না। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে পালিয়ে গেছেন না কি কোনো বিপদে পড়েছেন, তা এখনও জানা যায়নি। তবে জানার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, আমরা পুলিশ সদর দপ্তর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করছি। নিখোঁজ হওয়া দুজনই পুলিশ কনস্টেবল। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কাউন্টার-টেররিজম ইউনিটের অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ ডগ স্কোয়াড ইউনিট খোলা হচ্ছে। আর সেই ইউনিটের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ৮ সদস্যের দলটি গত ৯ মে বাংলাদেশ থেকে নেদারল্যান্ডসে যায়। ওই দলের বাকি ৬ সদস্য গত ২৪ মে দেশে ফেরেন।

;

টাঙ্গাইলে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

টাঙ্গাইলে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

  • Font increase
  • Font Decrease

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জহিরুল ইসলাম (৩২) নামের একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।

নিহত জহিরুল ইসলাম পাইকড়া ইউনিয়নের সিহরাইল উত্তরপাড়া গ্রামের ছাইদুল মিয়ার ছেলে।

শুক্রবার(২৭ মে ) দুপুরে উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাইকড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোপালপুর গ্রামের বারেকের চা দোকানে টিভি দেখা ও টিভির সাউন্ড বাড়ানো কমানো কে কেন্দ্র করে বাক বিতন্ডার সময় কয়েকজন বখাটের তার সাথে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পরে। এসময় তারা আজিজুল নামের একজনকে বেধরক মারপিট করে। এর জের ধরে আজ শুক্রবার দুপুরে সিহরাইল গ্রামের কয়েকজন মিলে গোপালপুর গ্রামে গিয়ে স্বানীয় ইউপি সদস্যসহ কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। খবর পেয়ে গ্রামের লোকজন তাদের উপর হামলা চালায়। এসময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে জহিরুল ইসলাম নিহত হন। এ ঘটনায় দুই পক্ষের ৫জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সিহরাইল গ্রামের জহিরুল ইসলাম (৩৪), তার আপন ভাই নুরু (৩৪), চাচা জিহাদ (৫০) এবং গোপালপুর গ্রামের মেম্বার ফরমান, পাভেল, আবুল, আজগর, জামান, হাসমতসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে খবর পেয়েছেন।

তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। পরে সংবাদ পান চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জহিরুলকে মৃত ঘোষণা করেন। এবং গুরুতর আহত নুরুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করেছেন। এছাড়াও অপর আহত জিহাদ (৫০) জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

এ ব্যাপারে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত ও পাঁচ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে নিহতের ছোট ভাই নুরুর (২৫) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও জানান তিনি।

;

‘নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্মাণ শেষ হবে মিত্রবাহিনীর সম্মানে স্মৃতিস্তম্ভ’



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আ,ক, ম মোজাম্মেল হক

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আ,ক, ম মোজাম্মেল হক

  • Font increase
  • Font Decrease

নির্ধারিত সময়ের আগেই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ মিত্রবাহিনীর সদস্যদের সম্মানে নির্মাণাধীণ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে- মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় শহীদ মিত্র বাহিনীর সম্মানে আশুগঞ্জে নির্মাণাধীণ স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণ কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আ,ক, ম মোজাম্মেল হক এ কথা বলেন।

শুক্রবার (২৭ মে) বিকালে মন্ত্রী একটি রাষ্ট্রীয় সফরসুচি শেষে ঢাকা ফেরার পথে আকস্মিক ভাবে তিনি এ পরিদর্শন করেন।

এসময় মন্ত্রী বলেন, এটি দুই দেশের জন্য (বাংলাদেশ ও ভারত) একটি গুরুত্বপুর্ণ প্রকল্প এবং দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি আশা করেন নির্মাণ শেষে প্রধানমন্ত্রী সশরীরে প্রকল্পটি উদ্বোধন করবেন।

জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাঙালির রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ভারতীয় বাহিনীর সদস্যরাও 'মিত্র বাহিনী' গঠন করে পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে সশ্রস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তুলেছিলেন। যার ধারাবাহিকতায় মাত্র নয় মাসে স্বাধীনতার মুখ দেখেছিল বাংলার জনগণ। বাংলাদেশের কয়েক লাখ মুক্তিযোদ্ধার পাশাপাশি ভারতীয় বাহিনীর ১৬৬১ জন সদস্য শহীদ হন এবং শুধুমাত্র আশুগঞ্জে-ই এ সংখ্যা তিনশ। মিত্র বাহিনীর সে-ই সব শহীদের  সম্মানে ২০১৭ সনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে 'স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক ভাবে ২০১৭ সনে একনেকে পাস হওয়া প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ কেটি ৩০ লক্ষ টাকা। প্রকল্পটি ২০১৯ সনের মধ্যে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা থাকলেও  স্থান নির্বাচন ও ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া-ই শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর। পরে ২০২০ এর ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সনের জুন পর্যন্ত  বাড়িয়ে এবং প্রকল্প ব্যয় ৪৫ কোটি টাকার বেশি (৪৫ কোটি ২০ লক্ষ  ২৩ হাজার) নির্ধারিত হয়। তবে মাটি ভরাট ও পুর্ত কাজের (সিভিল) কাজে প্রকল্প ব্যয় ৩৪ কোটি ২০ লক্ষ টাকা।

চলতি মেয়াদে গত বছর (২০২১) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনা অনুসারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন উপজেলার বাহাদুর পুর ও বাসুতারা মৌজার তিন দশমিক ৬৯ একর ভুমি অধিগ্রহণ ও দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অধিগ্রহণকৃত স্থানে দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য,  শিশুদের বিনোদন পার্কসহ মুক্তিযুদ্ধের তথ্যভিত্তিক স্থাপত্য নির্মাণ করা হবে।

পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর সাথে ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম (শিউলি আজাদ), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মোঃ শহীদুল ইসলাম, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারি কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু, আশুগঞ্জের ইউএনও অরবিন্দ বিশ্বাস, সহকারি কমিশনার ভুমি আশরাফুল হক, থানার ওসি আজাদ রহমান, মুক্তিযুদ্ধকালীন সাব-সেক্টর কমান্ডর বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ জসিম, আশুগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি কমান্ডর আবুল হাসেম আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃকরিম প্রমুখ।

;

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদার সাথে ফেরত পাঠাতে হবে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান এবং ও ওইসিডি’র দেশগুলোর প্রতি বাংলাদেশকে সহজে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে অন্তত ২০২৯ সাল পর্যন্ত অগ্রাধিকারমূলক সুবিধাগুলো অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ থাকবো যদি জাপান এবং অন্যান্য ওসিডি’র দেশগুলো কমপক্ষে ২০২৯ সাল পর্যন্ত অগ্রাধিকার সুবিধাগুলো প্রসারিত করে। যাতে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের সর্বোচ্চ লক্ষ্য অর্জন আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়।’

এশিয়ার ভবিষ্যত বিষয়ক ২৭তম আন্তর্জাতিক নিক্কেই সম্মেলনে শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

দুই দিনব্যাপী সম্মেলনটি জাপানের রাজধানী টোকিওতে স্ট্রিমিং এবং অন-সাইট উপস্থিতি উভয় ক্ষেত্রেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কারণ অনুষ্ঠানটি এই বছরের সম্মেলনের সাথে একটি হাইব্রিড বিন্যাসে হচ্ছে, যার শিরোনাম হচ্ছে ‘বিভক্ত বিশ্বে এশিয়ার ভূমিকা পর্যালোচনা করা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার স্নাতক অর্জন করে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ইতিমধ্যে সুষ্ঠুভাবে স্নাতক অর্জনে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বন্ধুদেশ ও অংশীদারদের প্রতি ২০২৬ সালের পরও বর্ধিত সময়ের জন্য বাংলাদেশকে অগ্রাধিকারমূলক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কথা বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি দেশের সাথে এফটিএ নিয়ে আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে এবং জাপানসহ অন্যান্য দেশের সাথে এফটিএ এবং সিইপিএ নিয়ে আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আতিথ্য দিচ্ছে এবং তাদের অবশ্যই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিজ বাসভূমে নিরাপদ, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সাথে ফেরত পাঠাতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই সংকটের একটি গ্রহণযোগ্য মীমাংসা খুঁজে পেতে অবদান রাখতে এবং আমাদের সাহায্য করার জন্য আপনাদের সকলকে অনুরোধ করছি।’

এশিয়াকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও জনবহুল মহাদেশ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এখানে বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ বাস করে। এটি বিশ্বের অধিকাংশ দরিদ্র মানুষেরও আবাসস্থল।

‘অতএব, আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মিটিয়ে বিরোধপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে শান্তি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। শুধুমাত্র শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ সৃষ্টি করেই এশিয়ার দেশগুলো জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পররাষ্ট্র নীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ পন্থা অনুসরণ করে।

তিনি বলেন, এটি জাতিসংঘের একটি প্রস্তাব দ্বারা স্বীকৃত, ‘শান্তির সংস্কৃতি’ যা ১৯৯৯ সালে গৃহীত হয়েছে এবং এর পর থেকে প্রতি বছর এটাকে স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে।

এশিয়ার দেশের সরকার হিসেবে তিনি বলেন, তাঁরা এই বছরের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘এশিয়ার ভবিষ্যত’কে সম্বোধন করায় তাদের দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করতে এখানে জড়ো হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যৎ এশিয়া গড়ার জন্য সম্মেলনে পাঁচটি ধারণা শেয়ার করে বলেন, ‘আপনাদের প্রতিফলনের জন্য কিছু ধারণা আপনাদের সাথে শেয়ার করে শেষ করছি।’

শেখ হাসিনা তাঁর প্রথম প্রস্তাবে বলেন, এশিয়ার দেশগুলোকে একে অপরের প্রতি বন্ধুত্ব, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে এবং বিভাজন মোকাবেলায় সংহতি প্রচার করতে হবে।

দ্বিতীয় এবং তৃতীয় প্রস্তাবে, তিনি বলেন, কীভাবে আইসিটি’র সফ্ট পাওয়ারকে আমাদের দেশ এবং এশীয় দেশগুলো ন্যায্যতা, সম্মান, ন্যায়বিচার, অন্তর্ভুক্তি এবং অন্তর্ভুক্তি রক্ষার প্রয়োজনীয়তার মধ্যকার ব্যবধান পূরণের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করতে পারে। আমাদের কাজের মধ্যে সমতা আনয়ন করতে পারে এবং তারা তা অন্বেষণ করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর চতুর্থ এবং পঞ্চম ধারনার বর্ননা করার সময় অভিমত ব্যক্ত করেন যে এশিয়ার ভবিষ্যত নির্ভর করবে টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার উন্নতি এবং উভয় পক্ষের জন্য সুবিধাজনক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপনের উপর এবং এশিয়ার দেশগুলির অভিন্ন উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং তাদের তা ঐক্যবদ্ধভাবে এবং সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করা উচিত।

তিনি বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাহায্য করার জন্য ভালো অনুশীলন, জ্ঞান ও প্রযুক্তি ভাগ করে নিতে আমাদের বাহিনীকে একত্রিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, টেকসই বিশ্ব এবং আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে একটি শান্তিপূর্ণ, টেকসই ও সমৃদ্ধ এশিয়া নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সব বন্ধু ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সবে মাত্র তার স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন সম্পন্ন করেছে।

১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্কুল-শিশুসহ জাপান ও সে দেশের জনগণের অমূল্য সমর্থন ও অবদানের জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়া দেশগুলোর অন্যতম জাপান, তারা ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি এই স্বীকৃতি প্রদান করে।

তাঁরা বাংলাদেশে গত ১৩ বছরে উন্নয়নকে জনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্ঞানভিত্তিক, সমৃদ্ধ ও আধুনিক জাতি গঠনের লক্ষ্যে নেতৃত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে যেতে আমরা আমাদের আর্থ-সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পুননির্ধারণ করেছি।

তিনি বলেন, ‘যেমন, আমরা ভিশন ২০২১ এবং ভিশন ২০৪১ এর পরে ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ প্রণয়ন করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৃহত্তর অর্থনীতির একটিতে পরিণত হয়েছে। এই যাত্রা জাপান এবং আমাদের বন্ধু এবং অংশীদারদের দ্বারা সমর্থিত।’

বিশ্বের অন্যান্য অংশের মতো বাংলাদেশও চলমান কোভিড-১৯ দ্বারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৯ সালে মহামারির আগে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। ২০২০ সালে এটি ৩ দশমিক ৫১ এবং  ২০২১ সালে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

তিনি বলেন,‘আমরা চলতি অর্থবছরে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির হার অর্জনের আশা করছি।’

তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টা ২০২২ সালের এপ্রিলের জন্য নিক্কেই-এর কোভিড-১৯ পুনরুদ্ধার সূচকে স্বীকৃত হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশ ১২১টি দেশের মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে এবং কোভিড ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা পারফরম্যান্সকারী দেশ হয়েছে।’

;