অনিয়মের দায়ে চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফরিদপুর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুরের সরকারি ও বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বিতর্কিত কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে দেশজুড়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য নগরী হিসেবে ফরিদপুরকে দক্ষিণাঞ্চলের জেলা ধরা হলেও সেই স্বাস্থ্য নগরীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একেবারেই নাজুক।

স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি না থাকা এবং এ দফতরের কতিপয় কর্মকর্তার দুর্নীতির কারণে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু রহস্যজনক কারণে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোতে অভিযান না চালানোর কারণেই একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোতে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ফরিদপুরের নামকরা বেশ কয়েকটি হাসপাতালে রোগীর ভুল চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগ থাকলেও সেগুলোকে নানাভাবে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না রেখে আয়া নার্স দিয়ে অপারেশনের মতো কাজ চালানোর প্রমান মিলছে। ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীরা দূর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর সমালোচনা শুরু হলে নড়েচড়ে বসে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। এরই মধ্যে অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দুটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মনিরা নামের এক রোগীর অপারেশন করা হয় ২০২০ সালে। সেই সময় চিকিৎসকের ভুলে মনিরার পেটে কাঁচি রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল।

দীর্ঘ দুই বছর পর বিষয়টি ধরা পরার পর গত ১০ ডিসেম্বর অপারেশনের মাধ্যমে মনিরার পেট থেকে বড় আকারের একটি সার্জারী কাঁচি বের করা হয়। এ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ১৫ জানুয়ারি শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় অবস্থিত আল মদিনা নামের হাসপাতালে আয়া দিয়ে সিজার করতে গিয়ে এক প্রসূতির নবজাতকের কপাল কেটে ফেলা হয়। সেই নবজাতকের কপালে ৯টি সেলাই করেন সেই আয়া নিজেই। এ নিয়ে হাসপাতাল কতৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের নানা ভয়ভীতি দেখান বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য। পরে রোগীর স্বজনেরা জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকে অবহিত করলে সেখানে ছুটে যান সিভিল সার্জন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সেখানে গিয়ে তারা ঘটনার সত্যতা পান এবং  হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। মামলা দেওয়া হয় হাসপাতালটির পরিচালকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে হাসপাতালের পরিচালক, আয়াসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছেন।

এ ঘটনার পর শহরের আরামবাগ নামের আরেকটি প্রাইভেট হাসপাতালের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এক নবজাতকের হাত ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠে। নবজাতকের পিতা আরিফুল আলম সজল জানান, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর আরামবাগ হাসপাতালে তার স্ত্রীকে সিজারের জন্য নেওয়া হয়। সেই সময় চিকিৎসক শারমিন সুলতানা জুই নবজাতকের হাত ভেঙে ফেলে। বিষয়টি তারা তখন জানতে পারেননি। পরে শিশুটির হাতের অবস্থা খারাপ হলে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসককে দেখান এবং এক্সরে করলে হাত ভাঙার ঘটনাটি ধরা পড়ে। ঘটনাটি হাসপাতাল কতৃপক্ষকে জানালে তারা বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে ঘটনাটি চেপে যেতে বলেন। কিন্তু আরিফুল আলম সজল এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে হাসপাতালটিতে অভিযান চালায় স্বাস্থ্য বিভাগ। গত ১৯ জানুয়ারি আরামবাগ হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ডিগ্রিধারী চিকিৎসক ও বৈধ কাগজপত্র না থাকায় হাসপাতালটি বন্ধ করে দেন সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান।

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) ফরিদপুরে এক গৃহবধূকে প্রাইভেট ক্লিনিকে ভাগিয়ে নিয়ে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের সময় মলদ্বারের নাড়ি কেটে ফেলার ঘটনায় শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের পাশে অবস্থিত পিয়ারলেস হাসপাতালের দুই পরিচালককে সাত দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

ফরিদপুর জেলা সদর ছাড়াও ভাঙ্গায় একাধিক ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া বোয়ালমারী, মধুখালী, আলফাডাঙ্গা, চরভদ্রাসন উপজেলার বেশীরভাগ ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসাসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুর জেলা সদরে সরকারি দুটি হাসপাতাল রয়েছে। তাছাড়া ৯টি উপজেলায় রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এছাড়া ডায়াবেটিক হাসপাতাল, হার্ট ফাউন্ডেশন, শিশু হাসপাতালসহ ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় দুই শতাধিক প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোর বেশীর ভাগেরই নেই কোনো বৈধতা। বাড়ী ভাড়া নিয়ে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই চালানো হচ্ছে এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক। শহরের বেশ কয়েকজন নাগরিক অভিযোগ করে বলেন, জেলায় বড় দুটি সরকরি হাসপাতাল থাকলেও সেই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা হাসপাতালে না থেকে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে সময় দেন। আর ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। ফলে তেমন কোন চিকিৎসা সেবাই পাওয়া যায়না এই হাসপাতাল দুটিতে। 

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক পান্না বালা বলেন, জেলাজুড়ে যেসব প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলো রয়েছে তার বেশীর ভাগেরই কোন বৈধতা নেই। সব হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নাম লিখে রাখা হয়। যাতে রোগী ও তাদের স্বজনেরা প্রলুব্ধ হয়। আর এসব হাসপাতালে নেই কোন চিকিৎসা সরঞ্জাম। আয়া ও নার্স দিয়েই পরিচালিত হয় বেশীর ভাগ হাসপাতাল। এগুলো বন্ধ করতে হবে। নইলে ভুল চিকিৎসায় অকালে ঝড়ে যাবে মানুষের প্রান।

নারী নেত্রী শিপ্রা গোস্বামী বলেন, হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসা সেবা নেই বললেই চলে। সেখানে বিভিন্ন সাইনবোর্ড গুলোতে দেখা যায় অনেক চিকিৎসকের নাম। প্রায় প্রতিটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে একই চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করে থাকে। একজন চিকিৎসক একই সময়ে কয়টি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেবার জন্য থাকতে পারেন তা আমাদের বোধগম্য নয়।

সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান বলেন, ফরিদপুরে যেসব প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বৈধ কাগজপত্র এবং নিয়ম নীতির বাইরে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ বিষয়ে আমরা অভিযান শুরু করে দিয়েছি। এরই মধ্যে দুটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও দুটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোর বিরুদ্ধে এবার জিহাদে নেমেছি।

 

রাজশাহীতে কুরিয়ারে আসা ইয়াবা নিতে গিয়ে গ্রেফতার ২



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
কুরিয়ারে আসা ইয়াবা নিতে গিয়ে গ্রেফতার ২

কুরিয়ারে আসা ইয়াবা নিতে গিয়ে গ্রেফতার ২

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী মহানগরীতে কুরিয়ারে আসা এক হাজার পিস ইয়াবা বড়ি নিতে গিয়ে দুজন গ্রেফতার হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৭ মে) রাজশাহী নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এ তথ্য জানায়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার বালুটুঙ্গি গ্রামের মো. আহাদুজ্জামান (৩৭) ও ঘাইবাড়ি গ্রামের নুরুল ইসলাম (৩৭)।

রাজশাহী নগর ডিবি পুলিশের উপকমিশনার আরেফিন জুয়েল জানান, সোমবার সন্ধ্যায় রাজশাহীর উপশহরে কুরিয়ার সার্ভিসে আসা ইয়াবা নেওয়ার সময় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ব্যাপারে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

;

পঞ্চগড়ে দ্রুতযান এক্সপ্রেসের বগি থেকে মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ উদ্ধার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ে দ্রুতযান এক্সপ্রেসের বগি থেকে মুক্তিযোদ্ধা মৃতদেহ উদ্ধার

পঞ্চগড়ে দ্রুতযান এক্সপ্রেসের বগি থেকে মুক্তিযোদ্ধা মৃতদেহ উদ্ধার

  • Font increase
  • Font Decrease

পঞ্চগড়ে রেলের বগি থেকে আব্দুল আজিজ শেখ (৭৪) নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৭ মে) দুপুরে পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশনের দ্রুতযান এক্সপ্রেসের ঞ বগির টয়লেট থেকে ওই মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে সদর থানার পুলিশ ।

জানা গেছে,মৃত আব্দুল আজিজ শেখে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার লক্ষণদিয়া গ্রামের  মৃত আমীর উদ্দিন শেখের ছেলে।

পলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার রাত ৮ টায় ঢাকা থেকে দ্রুতযান এক্সপ্রেসে দিনাজপুরের ফুলবাড়ির উদ্যাশ্যে রওনা হয়েছিল আব্দুল আজিজ শেখ৷ মূলত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা সংক্রান্ত কাজের জন্য ফুলবাড়ি আসেন। সকালে পঞ্চগড় বীরমুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশনের ট্রেনটি পৌঁছালে রেল পুলিশ টয়লেটে ওই মুক্তিযোদ্ধার মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

রেল পুলিশের ধারণা, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওই মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে আব্দুল আজিজের ছেলে রাশেদ শেখ মিঠু ফোনে বলেন, তার বাবা সর্বশেষ দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে চাকরি করতেন। সেখান থেকে অবসর ভাতা তোলেন তিনি। এজন্য প্রায় সময় ঝিনাইদহের শৈলকুপা থেকে ফুলবাড়ী যেতে হয় তাকে।

দিনাজপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল হক ভূঁইয়া বলেন, মৃত আব্দুল আজিজের সঙ্গে থাকা ভোটার আইডি কার্ড দেখো তার পরিচয় আমরা শনাক্ত করেছি।

এদিকে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ মিয়া ট্রেন থেকে মৃতদের উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক  সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

;

উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনে ক্ষমতা কমল পরিকল্পনামন্ত্রীর



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান

  • Font increase
  • Font Decrease

উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিকল্পনামন্ত্রীর আর্থিক ক্ষমতা কমিয়ে নতুন পরিপত্র অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)।

মঙ্গলবার (১৭ মে) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় আগামী অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি পরিকল্পনা কমিশনের নতুন পরিপত্রের অনুমোদন দেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, কারিগরি প্রকল্পে হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত অনুমোদন করে দিতে পারতেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। কিন্তু এখন তিনি কারিগরি বা উন্নয়ন প্রকল্প যাই হোক ৫০ কোটি টাকার বেশি অনুমোদন দিতে পারবেন না। এনইসি সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান পরিকল্পনা সচিব।

সচিব আরও বলেন, আগে কারিগরি প্রকল্পে অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না। কিন্তু এখন ৫০ কোটি টাকার বেশি প্রকল্প হলে একনেক সভায় অনুমোদন নিতে হবে। তবে সচিবের বক্তব্যের পরপরই হাসির ছলে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমার ডানা কাটা হলো।

;

শিশুদের যক্ষা নির্মূলে সচেতনতামূলক পুতুল নাটক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
শিশুদের যক্ষা নির্মূলে সচেতনতামূলক পুতুল নাটক

শিশুদের যক্ষা নির্মূলে সচেতনতামূলক পুতুল নাটক

  • Font increase
  • Font Decrease

 

‘যক্ষা হলে নেইকো ভয়, সবাই মিলে করবো জয়’ এই স্লোগান নিয়ে রাজশাহীতে যক্ষা নির্মূলে সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পুতুল নাটক ও গম্ভিরা প্রদর্শনের মাধ্যমে জেলার ৯টি উপজেলায় ১৮ দিন ব্যাপি ৪৫টি প্রদর্শনীর মাধ্যমে চলবে এই কর্মসূচি। কর্মসূচির অনুষ্ঠানগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি হাটবাজারেও অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে সকলের মাঝে যক্ষা বিষয়ে নতুন করে সচেতন করে তোলা হবে।

তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার পবা উপজেলার ঘোলহাড়ীয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যক্ষা বিষয়ক সচেতনতা মূলক কর্মসূচিতে পুতুল নাটক ও গম্ভিরা প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্কুলটির শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। প্রদর্শনী কেন্দ্রের পাশে যক্ষার প্রাথমিক লক্ষণ নির্ণয়ে একটি ভ্রাম্যমান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।

আয়োজকদের দেয়া তথ্য মতে, যক্ষা বিষয়ক ভ্রান্ত ধারণা ও যক্ষা নির্মূলে নানা প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্দেশ্যে যক্ষা নিয়ন্ত্রন কর্মসূচির অধীনে আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত ইউএসএআইডি’স অ্যালায়েন্স ফর কমব্যাটিং টিবি ইন বাংলাদেশ (এসিটিবি) কার্যক্রমের আওতায় এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনটি বিশেষভাবে সজ্জিত গাড়ির মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ নাটক প্রর্দশন করা হয়। বিনোদনমূলক পরিবেশে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই রাজশাহীর জনপ্রিয় গম্ভীরা গানে নানা-নাতির খুনসুটির মাধম্যে পুতুল নাটকটি প্রর্দশন করা হয় । এর আগে স্বাস্থ্যবিধি মানতে শিশুদের মাস্ক দেওয়া হয় এবং তাদের মাঝে পুতুল রং করতে দেওয়া হয়।

জল পুতুল প্রকল্পের পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, বড়দের যক্ষার বিষয়টি মানুষ জানলেও শিশুদের বিষয়টি অনেকেই জানেন না; তাই শিশুদের যক্ষা নিমূর্লে সচেতন করতেই এই আয়োজন।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের আকৃষ্ট করা এবং বোঝার সুবিধার্থে পুতুল নাটকের মাধ্যমে প্রচরণা করা হচ্ছে এবং গম্ভীরা যেহেতু রাজশাহীর জনপ্রিয় গান তাই এই বিনোদনের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির এই উদ্যোগ।

উল্লেখ্য, যক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন ২০২১ অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট যক্ষা রোগীর ১০ শতাংশ শিশু। যার মধ্যে ২০২০ সালে বাংলাদেশ মাত্র ৪ শতাংশ সনাক্ত করতে সক্ষম হয় যাদের বয়স শূণ্য থেকে ১৪ বছর । এ রোগ শিশুদের মাঝে নীরবে বিস্তার লাভ করে ও অগোচরেই থেকে যায়, যা পরবর্তীতে মরণঘাতী ব্যাধি হিসেবে প্রকাশ পায়।

প্রচলিত ভুল ধারণার কারণে যক্ষা রোগে আক্রান্তের বিষয়টি গোপন ও অবহেলা করা যক্ষা পরিস্থিতিকে আরো খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে । যক্ষার লক্ষণ সনাক্ত ও চিকিৎসা পেতে এবং যক্ষা নিমূর্লে এই প্রচারণা গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখবে।

;