বগুড়ায় সেফটি ট্যাংক থেকে দুই নৈশ প্রহরীর মরদেহ উদ্ধার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
বগুড়ায় সেফটি ট্যাংক থেকে দুই নৈশ প্রহরীর মরদেহ উদ্ধার

বগুড়ায় সেফটি ট্যাংক থেকে দুই নৈশ প্রহরীর মরদেহ উদ্ধার

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ায় পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির পরেরদিন নিখোঁজ দুই নৈশ প্রহরীর মরদেহ তাদের কর্মস্থলের সেফটি ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫ টায় পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতরা হচ্ছেন- বগুড়া সদরের বড় সরলপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুল হান্নান (৪৫) ও শিবগঞ্জ উপজেলার প্রতাপবাজু গ্রামের মৃত হাসু আলীর ছেলে সামছুল হক।

নিহত দুইজনই বগুড়া শহরের বিসিক শিল্পনগরীর মাসু অ্যান্ড সন্স নামের ঢালাই ফ্যাক্টরির নৈশ প্রহরী ছিলেন।

নিহত হান্নানের চাচা নুরুল ইসলাম জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে ডিউটিতে যায় হান্নান। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে হান্নানের মোবাইল ফোন থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তার স্ত্রী হিরা খাতুনকে ফোন করে বলে তোমার স্বামীকে ফিরে পেতে হলে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। এদিকে সকাল ১০টা বাজলেও হান্নান বাড়ি না ফিরলে তার স্ত্রী স্বামীর কর্মস্থলে আসেন। সেখানে জানতে পারেন তার স্বামীর সাথে ডিউটিরত অপর নৈশ প্রহরী সামছুল হককে ও খুঁজে  পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ফ্যাক্টরির পরিচালক মোস্তফা আলীমুর রাজীবের কাছে ফোন করে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। বিষয়টি থানা পুলিশকে বৃহস্পতিবারেই জানানো হয়।

এদিকে শুক্রবার দুপুরের পর ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ রফিকুল নামের সাবেক এক নৈশ প্রহরীকে ডেকে এনে ফ্যক্টরির মধ্যে তল্লাশি করতে বলে। বিকেলের দিকে ফ্যাক্টরির পিছনে সেফটি ট্যাংকির মধ্যে থেকে দুই জনের মরদেহ সন্ধান পাওয়া যায়।

পরে থানায় সংবাদ দেয়া হলে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে নিয়ে যায়।

নিহত হান্নানের স্ত্রী হিরা খাতুন বলেন, অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করে বলেছে তোমার স্বামীর সাথে কোন শত্রুতা নাই, ফ্যাক্টরির মালিকের সাথে ঝামেলা আছে। এজন্য তোমার স্বামীকে আটকানো হয়েছে। ফ্যাক্টরির মালিক ৫ লাখ টাকা দিলে তোমার স্বামীকে ছেড়ে দিব।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি রহস্যজনক। বাহির থেকে ভিতরে প্রবেশের কোন আলামত পাওয়া যায়নি।  এছাড়াও ফ্যাক্টরির ভিতরে কোন মালামাল খোয়া যায় নি। রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে।

বগুড়ায় গর্তের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ার শেরপুরে গর্তের পানিতে পড়ে আব্দুল্লাহ হোসেন (৩) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় শেরপুর উপজেলার ভাটরা উত্তর পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আব্দুল্লাহ খানপুর ইউনিয়নের ভাটরা উত্তর পাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আলমগীর হোসেনের ছেলে।

আব্দুল্লাহর মা খাদিজা খাতুন জানান, আব্দুল্লাহর বাবা সকালে খাওয়া দাওয়া শেষ করে ভ্যান নিয়ে বাইরে চলে যায় । আমি বাড়ির ভিতরে কাজ করছিলাম। আব্দুল্লাহ বাড়ির পাশে খেলাধুলা করছিল। দীর্ঘ সময় আব্দুল্লাহকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ির পাশে গর্তের পানিতে তার জুতা ভাসতে দেখা যায়। পরে গর্তের পানি থেকে আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুস সালাম জানান, পরিবারের অভিযোগ না থাকায় মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। থানায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে।

;

বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে কুপিয়ে হত্যা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
পীরগাছা থানা

পীরগাছা থানা

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুরের পীরগাছায় দেলোয়ার হোসেন (৩৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার (২৮ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পীরগাছা থানার ওসি সরেস চন্দ্র। এর আগে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার কুড়ারপার ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দেলোয়ার হোসেন পীরগাছা সদর ইউনিয়নের কসাইটারী গ্রামের ছফুর উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সন্ধ্যার পর স্থানীয় বাজার থেকে বাড়িতে যান দেলোয়ার হোসেন। রাত ১১টার দিকে প্রতিবেশী ফারুক নামে এক যুবক তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তারা কুড়ারপার ব্রিজ এলাকায় রেল লাইনের কাছে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা দেলোয়ারকে কোপাতে থাকেন। এ সময় দেলোয়ারের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রাতেই প্রতিবেশী সবুজ নামে এক যুবকসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পীরগাছা থানার ওসি সরেস চন্দ্র বলেন, দেলোয়ার নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বর্তমানে তার মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

;

সিরাজগঞ্জে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে গৃহবধূ আটক



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে গৃহবধূ আটক

সিরাজগঞ্জে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে গৃহবধূ আটক

  • Font increase
  • Font Decrease

সিরাজগঞ্জে একটি বাসায় ১১ বছর বয়সী এক গৃহকর্মীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জুথি খাতুন নামে এক গৃহবধূকে আটক করেছে পুলিশ।

লিপি খাতুন কুড়িগ্রাম জেলার কচাকাটা উপজেলার পূর্বকেদার গ্রামের বাচ্চু মিয়া ও আমিনা খাতুন দম্পতির মেয়ে।

শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার সয়াধানগড়া মধ্যপাড়া গ্রামে এঘটনা ঘটে। আটক জুথি খাতুন সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার সয়াধানগড়া মধ্যপাড়া গ্রামের তারেক গোলামের স্ত্রী।

শনিবার (২৮ মে) সিরাজগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তদন্ত মো. সাজ্জাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মৃত হযরত আলীর ছেলে মো. আলি আজাহারের বাড়িতে লিপি খাতুন গত তিন বছর যাবৎ কাজ করে। প্রত্যেক দিন শিশুটিকে নির্যাতন করে গৃহবধূ জুথি খাতুন। যে কাজ বয়স্ক মানুষকে দিয়ে করানো উচিত, তা চাপিয়ে দেওয়া হতো লিপির ওপর।

এলাকাবাসী শুক্রবার এঘটনাটি পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ এসে লিপিকে উদ্ধার করে।

লিপি জানান, বিভিন্ন সময়ে লাঠি, গরম ইস্ত্রি দিয়ে ছ্যাকা ও কিল ঘুষি মারতো। আমি কাউকে কিছুই বলতে পারি না। কাউকে কিছু বললে আমাকে নানা ভাবে মেরে ফেলার হুমকি দিতো খালাম্মা।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে নির্যাতনের শিকার মেয়েটিকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার দেওয়া হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নির্যাতিত শিশুটির পরিবার থানায় অভিযোগ করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে গৃহবধূর নামে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলায় জুথি খাতুনকে আটক করা হয়েছে।

;

বগুড়ায় তাঁত বস্ত্র মেলায় চলছে লটারির নামে জুয়া!



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ায় মাসব্যাপী তাঁত বস্ত্র, কুটির শিল্প ও পণ্য মেলায় লটারির নামে চলছে জুয়া খেলা। মোটরসাইকেলসহ আকর্ষণীয় বিভিন্ন পণ্য লটারিতে পুরস্কার ঘোষণা করায় প্রতিদিন শহর ছাড়াও গ্রাম গঞ্জে লটারির টিকেট বিক্রি করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রকাশ্যে এসব অবৈধ লটারির টিকেট বিক্রি হলেও প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক।

গত সোমবার (২৩ মে) বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল মাঠে বগুড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন, বগুড়া কালেক্টরেট কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেড ও বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী পরিষদ জেলা প্রশাসক কার্যালয় বগুড়ার আয়োজনে মাসব্যাপী এই মেলা শুরু হয়।

মেলা উদ্বোধনের পরদিন থেকেই শুরু হয় লটারির টিকেট বিক্রি। মেলার গেট ছাড়াও শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে চেয়ার টেবিল বসিয়ে মেলার আয়োজক কমিটির লোকজন ২০ টাকা মূল্যের লটারির টিকেট বিক্রি করে আসছেন সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।

এছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে অটোরিকশা যোগে ঘুরে ঘুরে লটারির টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে। সারাদিন টিকেট বিক্রি শেষে রাত সাড়ে ১০টায় মেলা চত্বরে লটারি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন মোটরসাইকেল,ফ্রিজসহ আকর্ষণীয় পুরস্কার ঘোষণা করায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন টিকেট কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। রিকশা চালক ছাড়াও দিনমজুর শ্রেণির লোকজন যা আয় করছেন সেই টাকায় বাড়ির বাজার না করে লটারির টিকেট কিনে বাড়ি ফিরছেন। আবার অনেকেই মোটরসাইকেল পুরস্কার পাওয়ার আশায় প্রতিদিন অসংখ্য টিকেট কিনেও মোটরসাইকেল পাচ্ছেন না।

বগুড়া বারের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ পশারী বলেন, আকর্ষণীয় পুরস্কারের ফাঁদে ফেলে লটারির নামে জুয়া চলছে বগুড়ায়। অথচ বগুড়ার সুশীল সমাজ নিরব।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের আয়োজনে চলা মেলায় জুয়া চালানোর দায় জেলা প্রশাসন এড়াতে পারেন না। এভাবে প্রতিদিন লটারি চলতে থাকলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়বে।

মেলার নামে লটারি প্রসঙ্গে বগুড়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সুফিয়ান সফিক বলেন, আকর্ষণীয় পুরস্কারের প্রলোভন দিয়ে লটারির নামে জুয়া চলতে থাকলে সামাজিক অস্থিরতা বেড়ে যাবে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন নিঃস্ব হয়ে পড়লে চুরি ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে যাবে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, জেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের আয়োজনে চলমান মেলায় লটারির বিষয়টি নজরে এসেছে। এবিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

;