কেমন হলো নির্বাচন কমিশন?



মানসুরা চামেলী, স্পেশাল করেসপডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সংলাপ; নির্বাচন কমিশন গঠন আইন এবং সার্চ কমিটি গঠন- সবকিছু নিয়ে শুরু থেকে ছিল নানা জল্পনা-কল্পনা ও বিতর্ক। অবশেষে সমাপ্ত হলো কয়েক মাস ধরে চলা সেই জল্পনা-কল্পনার। সার্চ কমিটির প্রস্তাবিত ১০ জন থেকে রাষ্ট্রপতি আমলা, বিচারপতি ও সাবেক সেনা সদস্য নিয়ে গঠন করেছেন নতুন পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন- কেমন হলো নির্বাচন কমিশন?

যদিও দায়িত্ব পেয়েই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হাবিবুল আউয়াল জানিয়েছেন, তাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো- গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা, বিএনপিসহ বড় দলগুলোকে নির্বাচনে আনতে আস্থায় আনা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন নতুন হলেও তাদের চ্যালেঞ্জগুলো পুরনো। বিএনপির নির্বাচন বিমুখতা, কমিশনের প্রতি আস্থাহীনতা তো রয়েছে। এছাড়া জনগণের মধ্যেও নির্বাচন কমিশন নিয়ে আস্থাহীনতা পরিলক্ষিত হয়েছে। নতুন কমিশনের সামনে বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে- এখন দেখা যাক তাদের দীর্ঘদিনের কর্ম অভিজ্ঞতা দিয়ে কিভাবে বিশাল কর্মযজ্ঞের এই দায়িত্ব সামাল দেয়।

সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পাঁচজনকে নিয়োগ দিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করেছেন। বিকালে  নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়।

সাবেক সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল ত্রয়োদশ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন- অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর ও আনিছুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ রাশেদা সুলতানা এমিলি এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবীব খান। এই কমিশনের পরিচালনায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে।

নতুন নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান বলেন, নতুন গঠিত ইসি নিয়ে এই মুহূর্তে বলা কঠিন। তাদের কাজ কর্ম দেখেই মন্তব্য করা উচিত হবে। তার আগে কিছু বলা যাবে না। এমনকি নির্বাচন কমিশন গঠন গ্রহণযোগ্য হয়নি, এটা বলা উচিত হবে না।

সাবেক এই আমলা যোগ করেন- বিশেষ করে এই কমিশনের তিনজনকে আমি চিনি। সিইসি হাবিবুল আউয়াল আইন সচিব ছিলেন, পরে প্রতিরক্ষা সচিব হন। তিনি পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। যতদূর জানি সৎ ও যোগ্য মানুষ। নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমানও  যোগ্য এবং পেশাদার মনোভাবের মানুষ। আলমগীর সাহেব নির্বাচন কমিশনের সচিব ছিলেন। এখন কথা হচ্ছে -‘বৃক্ষ তোমার নাম কী ফলে পরিচয়’।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ যে চারজনের কমিশনারের নাম এসেছে- এসব নাম গেজেট হওয়ার আগে প্রকাশ হলে ভালো হত বলে মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক।

এই আইনজীবী বলেন, নতুন কমিশন নিয়ে শুরুতে মূল্যায়ন করা কঠিন কাজ। যারা নিয়োগ পেয়েছেন সবাই আমার সমসাময়িক হবেন। সত্যি কথা বলতে কি- তাদের সম্পর্কে ভালো শুনেছি বলে মনে হয় না। এখন তাদের নামে গেজেট হয়ে গেছে; এখন সমালোচনা করা উচিত না। নামগুলো গেজেট হওয়ার আগে আসলে মূল্যায়ন করতে পারতাম। এখন তো মূল্যায়ন অর্থহীন। কারণ তারা তো কালকে শপথ নেবেন। আমাদের মূল্য উদ্দেশ্য হচ্ছে- আস্থাভাজন নির্বাচন কমিশন গঠন করা। তারা যদি সংসদ নির্বাচনের আগে আসন্ন কিছু নির্বাচন করে নিজের পরিচয় দিতে পারে; এর অন্য কথা। জেনে শুনে মন্তব্য করতে পারলে আরো উত্তম হয়।

শাহদীন মালিক আরো যোগ করেন- নির্বাচন একটা বড় কর্মযজ্ঞ। সিনিয়র আমলা ছাড়া কোনভাবে সম্ভব হয় না নির্বাচন কমিশন গঠন করা। তবে পুলিশের কোন সদস্য থাকলে ভালো হত।

নতুন নির্বাচন কমিশন ‘দেশবাসীর প্রত্যাশা’ পূরণ করতে পারবে বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বর্তমান সরকারের মতো এত স্বচ্ছতার ভিত্তিতে দেশে কখনও নির্বাচন কমিশন গঠন হয়নি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনে তিন জন সাবেক সচিব রেখেছেন। আমরা যতদূর জেনেছি তারা সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি। বর্তমান সরকারের আমলে অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন গঠনে এর চাইতে স্বচ্ছতা আর কতটুকু হতে পারে আমার জানা নেই। অতীতে অনেক সরকার কারো সঙ্গে আলোচনা না করে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছিল। এবার তো ৩২৯ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এই ১০ জনের নাম সার্চ কমিটির কৌশলতগত কারণে প্রকাশ করেনি।  

নতুন কমিশনকে আওয়ামী লীগ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে জানান সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন।

ইসি নিয়োগের পর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কাজী হাবিবুল আউয়ালের নাম আমি প্রস্তাব করেছিলাম। নাম প্রস্তাব করার আগে তার সঙ্গে আমার কোনো আলাপ হয়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে চিনি। তিনি একজন সৎ লোক। তিনি খারাপ করবেন না। আমি আশা করব- উনি (সিইসি) নির্বাচনে কারো কথা শুনবেন না। উনাকে এখন সবার সমর্থন দেওয়া দরকার। আমি মনে করি, বহুদিন পরে আমরা একজন সহাসী লোক পেয়েছি।

নতুন সিইসি হাবিবুল আউয়াল

দেশের ১৩তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সরকারের সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল। ৬৬ বছর বয়সী হাবিবুল আউয়াল পাঁচ বছর আগে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেন। এরপর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগে শিক্ষকতা করছিলেন তিনি। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে অবসরে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু পিআরএল বাতিল করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে তাকে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেয় সরকার। ওই চুক্তির মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হলে জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে ২০১৭ সালে অবসরে যান তিনি।

বিসিএস ১৯৮১ ব্যাচের এই কর্মকর্তা সরকারি চাকরি শুরু করেন সহকারী জজ হিসেবে। তিন মেয়ের জনক হাবিবুল আউয়ালের স্ত্রীর নাম সাহানা আক্তার খানম। তার আত্মজীবনীমূলক একাধিক গ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে। কাজী হাবিবুল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৬ সালের ২১  জানুয়ারি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে এলএলবি ও ১৯৭৮ সালে অর্জন করেন এলএলএম ডিগ্রি।

দীর্ঘ ৩৪ বছরের সরকারি চাকরি জীবনে কাজী হাবিবুল আউয়াল দেশে-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নেন। ভ্রমণ করেন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, চেক রিপাবলিক, পাকিস্তান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড, নেপাল, কানাডা, জাপান, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন, ঘানা, সাউথ কোরিয়া, ফিলিপিন ও হংকং।

চাঁদাবাজি রোধে পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠোর বার্তা দিলেন আইজিপি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ

পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ

  • Font increase
  • Font Decrease

পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, কোরবানির পশু পরিবহনে রাস্তাঘাটে কোথাও কোন ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। তিনি এক্ষেত্রে সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাগণকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শনের জন্যও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

বুধবার (৬ জুলাই) বিকালে রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে দুই দিনব্যাপী (০৫-০৬ জুলাই) ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার শেষ দিনে সভাপতির বক্তব্যে এ নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।

আইজিপি বলেন, কোন সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কোরবানির পশুবাহী যানবাহন থামানো বা চেক করা যাবে না।

পশুর হাটে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেন আইজিপি।

আইজিপি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে হবে।মহাসড়কে করিমন, নসিমন, ভটভটি ইত্যাদি যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। দূরবর্তী স্থানে মোটর সাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন আইজিপি।

পুলিশ প্রধান বলেন, মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে তদারকি বাড়াতে হবে। মামলা তদন্ত দ্রুততম সময়ে শেষ করতে হবে। তদন্তের মান বাড়াতে হবে। নিবিড় তদারকির মাধ্যমে মামলা তদন্তের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।

আইজিপি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশের অব্যবহৃত জমিতে ফসল উৎপাদন এবং জলাশয়ে মাছ চাষ করার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাগণের প্রতি আহবান জানান।

সভায় বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিগণ, সকল রেঞ্জের ডিআইজিগণ, মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারগণ ও জেলার পুলিশ সুপারগণসহ অন্যান্য ইউনিটের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভার প্রথম দিন (০৫ জুলাই) অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এম খুরশীদ হোসেন স্বাগত বক্তব্য রাখেন। পরে ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) এ ওয়াই এম বেলালুর রহমান   এপ্রিল-জুন ২০২২ কোয়ার্টারের খুন, ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি, ছিনতাইসহ সামগ্রিক অপরাধ চিত্র তুলে ধরেন। পরে পুলিশ কর্মকর্তাগণ অপরাধের গতিপ্রকৃতি নিয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।

সভায় জানানো হয়, এপ্রিল-জুন ২০২২ সময়ে জানুয়ারি-মার্চ ২০২২ সময়ের তুলনায় ডাকাতি মামলা হ্রাস পেয়েছে। আবার, এপ্রিল-জুন ২০২২ সময়ে এপ্রিল-জুন ২০২১ সময়ের তুলনায় খুন, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা হ্রাস পেয়েছে।

সভায় কোরবানির পশু পরিবহন ও পশুর হাটের নিরাপত্তা; শপিংমল, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা; বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেল স্টেশনের নিরাপত্তা; ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা কবলিত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

দ্বিতীয় দিনে পুলিশের সকল ইউনিটের সাথে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর প্রেজেন্টেশন দেন টেলিকম অ্যান্ড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট (টিঅ্যান্ডআইএম) ইউনিটের ডিআইজি এ কে এম শহীদুর রহমান। উল্লেখ্য, পুলিশ সদস্যগণ সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে যে কোন স্হান থেকে কাঙ্ক্ষিত স্থানে যোগাযোগ করতে পারবেন।

 ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মোহম্মদ আলী মিয়া ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রমের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন।

;

কালুরঘাট সেতু হবে পদ্মা সেতুর আদলে, ব্যয় ৬৩৪১ কোটি টাকা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
কালুরঘাট সেতু হবে পদ্মা সেতুর আদলে, ব্যয় ৬৩৪১ কোটি টাকা

কালুরঘাট সেতু হবে পদ্মা সেতুর আদলে, ব্যয় ৬৩৪১ কোটি টাকা

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতু। নাম শুনলেই যেন অপেক্ষা আর শঙ্কার কথা মনে এসে যায়। চোখে ভাসে দীর্ঘ লাইনের সারি সারি গাড়ি। আবার ট্রেন আসলে থমকে যায় লাশবহণকারী গাড়িও। অবশেষে এতসব শঙ্কা ও অপেক্ষার বিদায় দিয়ে আলোর মুখ দেখছে শতবর্ষী এই সেতু।

৬ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা সেতুর আদলে তৈরি হবে কালুরঘাট সেতু। ২০২৩ সালের প্রথম দিকে শুরু হতে পারে এই সেতুর কাজ। ৭৮০ মিটারের সেতুটির নির্মাণে সময় লাগবে ৪ বছর। পদ্মাসেতুর মতো এ সেতুর ওপরে চলবে গাড়ি আর নিচে ট্রেন। দুটুই চলবে দুই লাইনে। অর্থাৎ ট্রেন-গাড়ি একই সময়ে আসা যাওয়া করতে পারবে।

বুধবার (৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর সিআরবিতে কালুরঘাট রেল কাম সড়ক সেতুর অগ্রগতি নিয়ে বৈঠকে নতুন সেতুর প্রস্তাবিত নকশা, টেন্ডার, ব্যয় ও নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বৈঠক শেষে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কালুরঘাট সেতু নিয়ে কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক ফিজিবিলিটি স্টাডি করছে। আমাদের যেটা জানানো হয়েছে সেটি হচ্ছে, ব্রিজের ওপরের ডেকে থাকবে সড়ক আর নিচের ডেকে থাকবে রেললাইন। দুটুই দুই লাইনের হবে। প্রাথমিকভাবে ব্রিজের দৈর্ঘ্য আমাদের বলা হয়েছে ৭৮০ মিটার, ভায়াডাক্ট ৫ দশমিক ৬২ মিটার। স্পেন হবে ১০০ মিটার। ব্রিজের উচ্চতা হবে ১২ দশমিক ২ মিটার। আগামী আগস্ট মাসে ফাইনাল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের রিপোর্ট জমা দেবে। এরপর টেন্ডার হবে। আমাদের বলা হয়েছে টেন্ডারের পর নির্মাণকাল প্রায় ৪ বছর। আমাদের টেন্ডার শেষ করতে প্রায় ৬-৮ মাস সময় লাগবে। তারপর ইডিসিএফ ফান্ড দেবে। ফান্ড দিলে কাজ শুরু হবে। সে ক্ষেত্রে ৬ হাজার ৩৪১ কোটি টাকার মতো মোট খরচ হবে বলে আমাদের বলা হয়েছে।


বৈঠক শেষে সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোছলেম উদ্দিন আহমেদ বলেন, কালুরঘাট নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ২০১০ সালে কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু যখন উদ্বোধন করতে এসেছিলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। সেদিন আমরা সিডিএ'র মাঠে একটা জনসভা করেছিলাম। সেখানে তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, কালুরঘাটেও নতুন একটি সেতু নির্মাণ করে দিবেন। যেটাতে একসাড়ে গাড়ি এবং ট্রেন চলতে পারবে।

কিন্তু দীর্ঘ এগারো বছর সময় গিয়ে আমার আগেও যিনি এমপি ছিলেন তিনিও চেষ্টা করেছিলেন, হয়নি। এবং দুর্ভাগ্য হচ্ছে বিভিন্ন জটিলতার কারণে এটি একনেকে গিয়েও ফেরত আসছে। তখন কিন্তু খরচও অনেক কম ছিল। যা হউক শেষ পর্যন্ত আমি দায়িত্বে আসার পর এটি নিয়ে যখন আবার কাজ শুরু করলাম। পরে এটি নকশার জন্য টেন্ডার হলো। মধ্য দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একনেকের মিটিংয়ে বললেন এটি আবার রিভাইস করে আনার জন্য। মধ্যদিয়ে কিছু ভুল বুঝাবুঝি হয়ে লেখা হয়েছিল যে দুইটা সেতু করার জন্য। একটা রেলসেতু আরেকটা সকড়সেতু।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে এরা আবার ওইটা নকশা করে যখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যায়। তখন তিনি বলেন, আমি তো এরকম বলিনি। একটি সেতু হবে। সেটিতে সড়ক ও ট্রেনসেতু থাকবে। প্রধানমন্ত্রী অগ্রাধিকার প্রকল্পের এক নম্বরে দিয়েছেন, এক্সজিম ব্যাংক ফান্ড দেবেন। এবং সরকারের সাথে তাদের কয়েকবার বৈঠকও হয়েছে।

মোছলেম উদ্দিন বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে করোনাকালিন সংকটের মধ্যেও প্রতিনিয়ত প্রন্ত্রণালয় ও স্থানীয় রিসোর্ট ডিভিশন, যারা অর্থায়নের জন্য বিদেশের সাথে কথা বলেছিল। তাদের সাথে সচিব, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী মিলে বারবার কথা বলার পরে পুনরায় টেন্ডার হয়েছে। ভাগ্যভাল ওই টেন্ডারে আগে যারা স্টাডি করেছিল তারাই আবার কাজটি পেয়েছে। ফলে খুব কম সময়ে ডিজাইনটা সাবমিট করছে। তবে এর আগে রেলসহ অন্যান্যদের সাথে আলাপ করে আরও সুন্দর ও পরিপুষ্টভাবে তৈরি করে সরকারের কাছে জমা দেওয়ার জন্য তারা কিছু সময় নিয়েছে। আগামী আগাস্টে তারা সেটি জমা দিবেন। এই জন্য আজকে রেলের সাথে একটি চূড়ান্ত বৈঠক হয়েছে।

তাদেরকে আমরা আরেকটা প্রস্তাব দিলাম, দুই পাশে গাড়ি ওঠা নামার জন্য তারা যে স্থানটি ঠিক করেছে। এটি সরজমিনে দেখে রেলের আরও জায়গা আমাদের মতে মানুষে দখলে আছে সেগুলো সহ নিয়ে এটি করার জন্য তাদেরকে একটি সুপারিশমালা দিয়েছি। এ জন্য আগামীতে হয় তো আরেকবার কালুরঘাটে বা জানালি হাটের ওইদিকে একটি বৈঠক হবে। এটি পদ্মাসেতুর আদলে ব্রিজটা হচ্ছে। নিচ দিয়ে রেললাইন যাবে। তবে আসা যাওয়ার জন্য রেললাইন দুইটা থাকবে। খুবই সুন্দর একটা ডিজাইন করছে। কিন্তু প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার মতো খরচ বেড়েছে।

তবে নতুন সেতুটি আগের স্থান থেকে আরেকটু আগের দিকে অর্থাৎ হালদা নদীর ৭০ মিটার উজানের দিকে হবে বলেও জানান এই সংসদ সদস্য।

;

মেট্রোরেলের ৬টি কোচ ও ২টি ইঞ্জিন মোংলা বন্দরে



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বাগেরহাট
মেট্রোরেলের ৬টি কোচ ও ২টি ইঞ্জিন নিয়ে মোংলা বন্দরে

মেট্রোরেলের ৬টি কোচ ও ২টি ইঞ্জিন নিয়ে মোংলা বন্দরে

  • Font increase
  • Font Decrease

জাপানের কোবে বন্দর থেকে মেট্রোরেলের দশম চালানের ৬টি কোচ, ২ ইঞ্জিন ও ৪৮ প্যাকেজ মেশিনারী পণ্য নিয়ে ছেড়ে আসা বিদেশি জাহাজ এমভি এসপিএম ব্যাংকক মোংলা বন্দরের ৭ নম্বর জেটিতে ভিড়েছে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাহাজ মোংলা বন্দরে জেটিতে ভিড়েছে।

রাতে জাহাজ থেকে শুধু মেশিনারী প্যাকেজ পণ্য নামানো হবে। আর কোচ ও ইঞ্জিন বৃহস্পতিবার ভোর ৬ থেকে নামানো হবে বলে জানিয়েছেন জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট।

বিদেশি জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট এনশিয়েন্ট স্টিম শিপ কোম্পানীর ব্যবস্থাপক মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, বুধবার বিকেল সাড়ে ৬টায় ৬টি কোচ ও ২টি ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন ধরণের মেশিনারী পণ্যের ৪৮টি প্যাকেজ নিয়ে জাপান থেকে গত ৩ জুন ছেড়ে আসা এসপিএম ব্যাংকক জাহাজ মোংলা বন্দরে ভিড়েছে। বন্দরের ৭ নম্বর জেটিতে অবস্থান নেয়া এ জাহাজ হতে সন্ধ্যা থেকে রাতভর শুধু মেশিনারী পণ্যের প্যাকেজ নামানো হবে। আর বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে সাবধানে গুরুত্বপূর্ণ ভারী ও মূল্যবান কোচ এবং ইঞ্জিন নামানো হবে।

এসব মালামাল নামিয়ে দিয়ে বিদেশি জাহাজটি বৃহস্পতিবার বিকেলেই এ বন্দর ত্যাগ করবে। জাহাজ থেকে সরাসরি বার্জে (নৌযান) নামানো এসব মালামাল নদী পথেই ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ী ডিপোতে নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত মোংলা বন্দর দিয়ে মেট্রোরেলের ৬২টি কোচ ও ৩০টি ইঞ্জিন এসেছে। আগামী আগস্টে আরো ১২টি কোচ-ইঞ্জিন আসবে বলেও জানান তিনি।

;

সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকে আবেদন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকে আবেদন

সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকে আবেদন

  • Font increase
  • Font Decrease

গাজীপুরের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ থেকে আজীবন বহিষ্কৃত জাহাঙ্গীর আলম ও তার আত্মীয় পরিজনসহ ঘনিষ্ঠ সহচরদের দুর্নীতি-অনিয়মের অনুসন্ধানসহ তাদের সকলের সম্পদের হিসাব চেয়ে সঠিক অনুসন্ধান ও তদন্ত করে আইনের আওতায় এনে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন জমা দিয়েছেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

বুধবার (৬ জুলাই) দুদক কার্যালয়ে জমা দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে বলা হয়- দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডসহ অসংখ্য পরিবারকে সর্বশান্ত করে শত শত কোটি টাকা লুটপাটের মাস্টারমাইন্ড গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। সাবেক এই আওয়ামী লীগ নামধারী আজীবন বহিষ্কৃত নেতার অজানা উত্থানপতনের তথ্য-উপাত্ত জাতির সামনে তুলে ধরাসহ প্রশাসনের দৃষ্টিতে অনুসন্ধানের স্বার্থে আলোকপাত করছি।

জানা গেছে, দুদক ইতোমধ্যে একাধিক টিম দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম ও তার পরিবারসহ তাদের সাথে সম্পৃক্ত ও আত্মীয়-স্বজনদের আয়ের উৎস এবং সম্পদের হিসাব খুঁজতে কাজ শুরু করেছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা/কর্মচারী ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানী রির্পোটসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো ফাইলে পাওয়া সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠে এসেছে।

জানা গেছে, জাহাঙ্গীরের অর্থ আয়ের বড় খাত হলো গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকার বিভিন্ন গার্মেন্টসের ঝুট-সুতার কারবার এবং জমি বেচাকেনা ও কমিশন বাণিজ্য। এ ছাড়া গাজীপুর এলাকায় বিভিন্ন কারখানার লাইসেন্স আটকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জাহাঙ্গীর আলম ও তার সঙ্গী-সাথীদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হওয়ায় ‘কৌশলী’ জাহাঙ্গীরও থেমে নেই। নিজেকে বাঁচাতে এবং তার পদ-পদবি ফিরে পাওয়ার নেশায় মাঠে নেমেছেন।

উল্লেখিত তথ্যবহুল ঘটনা এবং দুর্নীতি আর অবৈধ কর্মকাণ্ডের মূলহোতা জাহাঙ্গীর আলম, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অসম্মান এবং প্রশ্নবিদ্ধ করার যে দুঃসাহস দেখিয়েছে; তার জন্য সে ও তার পরিবারসহ সহযোগী-দোসরদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ তাদের সকলের সম্পদের হিসাব নিয়ে অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে জাহাঙ্গীর আলমকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে তার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু এ বিষয়ে জানান, জাহাঙ্গীরের হাত অনেক লম্বা। হাইকমান্ডের আশীর্বাদ তার প্রতি আছে, অচিরেই দেখতে পাবেন। জাহাঙ্গীর আবার মেয়রের চেয়ারে বসবে এবং তার হাত দিয়েই গাজীপুর সিটির চার হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।

;