জয়পুরহাটে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ১



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, জয়পুরহাট
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে শরিফুল ইসলাম (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন।

শুক্রবার (১৩ মে) সকালে জয়পুরহাট-হিলি সড়কের বাগজানা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শরিফুল নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার নতুন বাবু পাড়ার আজিজার রহমানের ছেলে। আহতরা হলেন- হানিফ পরিবহনের ড্রাইভার জেলার কালাই উপজেলার নিচিন্তা গ্রামের নয়ন (৪৫), বাগজানা এলাকায় শোভন মহন্তের ছেলে জিৎ মহন্ত (১১) ও অজ্ঞাত আরও দু’জন রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাগামী হানিফ পরিবহন ও জয়পুরহাট থেকে আসা আম বোঝায় একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটলে পিকআপ চালক শরিফুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। এসময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি দোকান ঘরের ভিতর ঢুকে পড়ে। এতে আহত হয় চারজন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব এসব তথ্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

১১০ টাকায় ভোজ্যতেল বি‌ক্রির ঘোষণা স্থগিত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

টিসিবির স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এই কার্যক্রম সোমবার (১৬ মে) থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর ফলে ১১০ টাকা দরে ২ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রিও স্থগিত হলো।

তবে আগামী জুন থেকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এ কার্যক্রম চালু হবে বলে জানিয়েছে টিসিবি।

রোববার (১৫ মে) রাতে এক বি‌শেষ বিজ্ঞ‌প্তির মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির এ কার্যক্রম স্থ‌গিত ক‌রা হ‌য়ে‌ছে জানায় সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিক্রয় কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীর কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সরকার নীতিগতভাবে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য (ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, চিনি) বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ঢাকা (উত্তর ও দক্ষিণ) ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে ফ্যামিলি কার্ড প্রণয়ন ও বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর শুধুমাত্র ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমেই টিসিবির পণ্য সামগ্রীর বিক্রয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তাই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য চলতি মাসের ১৬ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত স্বল্প পরিসরে সাধারণ ট্রাকসেল কার্যক্রম স্থগিত করা হল।

আগামী জুন মাসে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এক কোটি নিম্ন আয়ের পরিবারের নিকট টিসিবি কর্তৃক ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য (ভোজ্য তেল, মশুর ডাল, চিনি) বিক্রয় করা হবে।

এর আগে গত ১১ মে টিসিবি জানিয়েছিল বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে সারা দেশে সব মহানগরী জেলা ও উপজেলায় ২৫০-৩০০টি খোলা ট্রাকের মাধ্যমে আগামী ১৬ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত বিক্রি কার্যক্রম চলবে। ট্রাক থেকে একজন ক্রেতা ৫৫ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ দুই কেজি চিনি, ৬৫ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ দুই কেজি মসুর ডাল, ১১০ টাকা দরে ২ লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারবেন। কিন্তু হঠাৎ করেই এ সিদ্ধান্ত স্থগিত করল টিসিবি।

;

আইসিইউতে মঈন খান



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আইসিইউতে মঈন খান

আইসিইউতে মঈন খান

  • Font increase
  • Font Decrease

আইসিইউতে ভর্তি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

রোববার (১৫ মে) বিকালে তাকে হাসপাতলে ভর্তি করা হয় বলে বার্তা২৪.কমকে নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।

তিনি বলেন, রোববার ড. মঈন খান তার নিজ এলাকা পলাশ উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত জিন্দা পার্কে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা করেন। এ সময় তিনি দীর্ঘসময় বক্তব্য রাখেন। পরে দুপুরে লাঞ্চ ব্রেকে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরলে তাৎক্ষণিক তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। তার শারিরিক অবস্থা কেমন আছে তা পরে জানানো হবে।

;

বিলে জলাবদ্ধতা, ফসল নিয়ে কৃষকদের দুঃশ্চিন্তা



কল্লোল রায়, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুড়িগ্রাম
বিলে জলাবদ্ধতা, ফসল নিয়ে কৃষকদের দুঃশ্চিন্তা

বিলে জলাবদ্ধতা, ফসল নিয়ে কৃষকদের দুঃশ্চিন্তা

  • Font increase
  • Font Decrease

টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার মাদাইডাঙ্গা বিল পানিতে টইটুম্বুর। হাজার হেক্টরেরও বেশি আয়তনের এ বিলে আবাদ করা বোরো ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। পানি নিষ্কাশনের সুবিধা না থাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় হাজারো কৃষক। বিলের পানি নিষ্কাশনে স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ও শৌলমারী ইউনিয়নের বিশাল এলাকা জুড়ে মাদাইডাঙ্গা বিল। বিলটি এক ফসলি। এ বিলে প্রায় দেড় হাজার কৃষকের এক হাজার হেক্টরেরও জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ হেক্টর জমিতে সারা বছর পানি থাকে। বাকি প্রায় ৭শ হেক্টরেরও বেশি আয়তনের জমিতে বোরো চাষ হয়। তবে নিষ্কাশনের সুবিধা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে ধান নষ্ট হয়ে যায়। বিলটি শৌলমারী ইউনিয়নের বড়াইকান্দির পুড়ারচর গ্রাম থেকে উত্তরে গোবরারগ্রাম পর্যন্ত চার কিলোমিটার দীর্ঘ এবং দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ঝগড়ারচর গ্রাম থেকে বংশীরচর গ্রাম পর্যন্ত সাড়ে ৩ কিলোমিটার প্রশস্ত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদাইডাঙ্গা বিলের কিছু অংশে মাছের ঘের। বেশিরভাগ জমিতে চাষ করা হয়েছে বোরা ধান। বৃষ্টির পানিতে বিলের অনেক জায়গায় বোরো ক্ষেত ডুবে গেছে। অনেকে বাধ্যৃ হয়ে ডুবন্ত ধান কেটে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। 

দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ঝগড়ারচর গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান জানান, বিলে তাদের ১০ বিঘা জমি রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে বোরো ধান ছাড়া অন্য ফসল চাষ করা যায় না। আবার বৃষ্টি হলে অনেক সময় ধান ঘরে তুলতে পারেন না, জমিতেই নষ্ট হয়ে যায়। এতে জমির ধান পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক সময় ধান ঘরে তুলতে পারলেও পানিতে নষ্ট হওয়ায় ফলন কম হয়।

গবরার গ্রামের কৃষক আবুল হাশেম বলেন, ওই বিলে আমাদের সাত বিঘা জমি রয়েছে। প্রায় সারা বছর পানি জমে থাকে। ওই জমিতে কেবল বোরো আবাদ হয়। কিন্তু বৃষ্টির পানি জমে গিয়ে সে আবাদও নষ্ট হয়ে যায়।'

শৌলমারী ইউনিয়নের ঝগড়ারচর মাঝিপাড়া এলাকার কৃষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ জানান,বিলটিতে তার ৩ হেক্টর জমি বছরের বেশির ভাগ সময় জলাবদ্ধ থাকে। বিলের পানি নিষ্কাশন করতে পারলে শস্যািবর্তনের মাধ্যেমে বছরে ২-৩ বার ফসল চাষ করা সম্ভব। পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের উদ্যোগ কামনা করেন তিনি।

মাদাইডাঙ্গা বিলে জমি আছে কৃষক কারু মিয়া, ময়েনউদ্দিন, শহিদুল ইসলাম, শাহালম, দীন মোহাম্মদ, রহিজ উদ্দিনসহ আব্দুর রহিম ও জাহিদুল ইসলামসহ অনেকেন। তাদের দাবি, বিলে বোরো চাষ করে জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে বিপাকে পড়ছেন তারা। ধান কাটার আগ মহূর্তে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তাদের ফসল তোলা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যিবস্থা নিলে ওই বিলে অন্তত দুইবার ধান আবাদ করা সম্ভব। এতে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন তেমনি ধানের উৎপাদনও বাড়বে।

বাসদ নেতা মহি উদ্দিন মহির বলেন,‘মাদাইডাঙ্গা বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্যন প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি ক্যানেল (খাল) তৈরি করা প্রয়োজন। এটি ঝগড়ারচর গ্রামের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে শুরু করে পুড়ারচর হয়ে টাপুরচর এলাকার সোনাভরী নদীতে গিয়ে পড়বে। তাহলে বিলের পুরো এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব হবে। এতে করে ওই বিলে থাকা জমির কৃষকদের অভাবনীয় উপকার হবে।’

দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, ‘ পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় যুগ যুগ ধরে জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদি থেকে যাচ্ছে বিলের জমি। বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেবেন।’

কৃষকদের দাবির সাথে একমত পোষন করে রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ' বিলটি এক ফসলি। তাও জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রন্থ হয়। বিলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করতে পারলে বোরো  ও আমন দুই মৌসুমেই আবাদ করা সম্ভব হবে।'

পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, 'এ কাজ আমাদের দপ্তরের নয়, উপজেলা পরিষদের সেচ ও পুনর্বাসন কমিটি এসকল কাজ করে থাকে। তবে ওই বিলের পানি নিষ্কাশন ব্যেবস্থার জন্যক বিশেষ প্রকল্প নিলে ভালো হয়। আগামী মাসিক সভায় বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের সামনে তুলে ধরা হবে।'

;

ডিসি সুলতানার বিরুদ্ধে মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুড়িগ্রাম
ডিসি সুলতানার বিরুদ্ধে মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ে

ডিসি সুলতানার বিরুদ্ধে মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ে

  • Font increase
  • Font Decrease

অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানকে মোবাইল কোর্টের নামে মধ্যরাতে বাড়ির দরজা ভেঙে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন ও জেলা প্রশাসনের সাবেক তিন নির্বাহী মেজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে করা ফৌজদারী মামলার তদন্তভার পুলিশের বিশেষ শাখা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআ্ই) এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার বাদী ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরিফের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দফতর মামলার কার্যক্রম পিবিআইয়ে হস্তান্তর করে। পিবিআই, রংপুরের পরিদর্শক ও মামলার নব নিযুক্ত তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাংবাদিক আরিফ বলেন, ‘ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট মামলায় পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা বিভিন্ন ভাবে মামলার তদন্ত কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। এজন্য মামলার সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের জন্য পিবিআই কর্তৃক তদন্ত চেয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক বরাবর আবেদন করেছিলাম। পুলিশ সদর দফতর আমার আবেদন মঞ্জুর করেছে। আমি আশা করছি পিবিআই সম্পুর্ণ প্রভাবমুক্ত থেকে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করবে এবং দ্রুততম সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পেশ করবে।’

`সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ এবং নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের সাথে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হওয়াও জরুরী। কারণ নির্যাতনের শিকার আমি সংবাদকর্মী নই, আবার শেষও নই। সাংবাদিকদের ওপর এ ধরণের নির্যাতন চিরতরে বন্ধ হওয়ার স্বার্থে এই মামলার বিচার সম্পন্ন করা প্রয়োজন বলে মনে করি।।’ যোগ করেন আরিফ।

সাংবাদিক আরিফের আইনজীবী, সাবেক সিনিয়র জুডিসিয়াল মেজিস্ট্রেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘ গুরুত্বপুর্ণ ও আলোচিত মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে পিবিআই অধিকতর স্বচ্ছ ও সক্ষমতা সম্পন্ন। ইতোমধ্যে সাংবাদিক আরিফের ওপর নির্যাতনের মেডিকেল সার্টিফিকেট (এমসি) জমা পড়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি আইনের শাসনের স্বার্থে পিবিআই সব ধরনের প্রভাবমুক্ত থেকে স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত কাজ শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেবে।’

মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন,‘ গত ৭ এপ্রিল কুড়িগ্রাম সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তার নিকট থেকে পিবিআই মামলার ফাইল গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে আমরা মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছি।’

প্রসঙ্গত, কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের নামে জেলা প্রশাসনের একটি পুকুরের নামকরণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে ২০২০ সালের ১৩ মার্চ দিবাগত মধ্যরাতে সাংবাদিক আরিফকে মোবাইল কোর্টের নামে তার নিজ বাড়ি থেকে ঘরের দরজা ভেঙে তুলে নিয়ে যায় জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট। তাকে ক্রসফায়ারে হত্যার ভয় দেখিয়ে জেলা শহরের ধরলা ব্রিজের পূর্ব পাড়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে বিবস্ত্র করে নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন ওই সময়ের আরডিসি নাজিম উদ্দিন, এনডিসি রাহাতুল ইসলাম ও মোবাইল কোর্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমাসহ জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা। আরিফের বাড়িতে কোনও তল্লাশি না চালালেও তার কাছ থেকে আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ এনে মোবাইল কোর্টের নামে সাজা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। মধ্যরাতে বাড়ি থেকে একজন সাংবাদিককে ধরে এনে সাজা দেওয়ার ঘটনায় দেশ জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। গণমাধ্যমে এ ঘটনা ফলাও করে প্রচার হলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় পরদিন ঘটনাস্থলে যান রংপুরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। তার প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন ও সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এসএম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।

১৫ মার্চ পরিবারের আবেদন ছাড়াই আরিফের জামিনের ব্যবস্থা করে জেলা প্রশাসন। কারামুক্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনসহ তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন সাংবাদিক আরিফ। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে সে বছর ৩১ মার্চ মামলা রেকর্ড করে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ। উচ্চ আদালতের নির্দেশে আরিফকে দেওয়া সাজা স্থগিত করা হয়।

;