শিব শংকর পরিচয়ে ভারতে লুকিয়ে ছিলেন পি কে হালদার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতে শিব শংকর হালদার পরিচয়ে লুকিয়ে ছিলেন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার।

শনিবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অশোক নগরের একটি বাড়ি থেকে পি কে হালদারসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে ভারতের অর্থসংক্রান্ত গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

গ্রেফতারের পর ইডির কর্মকর্তারা জানান, পি কে হালদার নিজেকে শিব শংকর হালদার পরিচয় দিতেন। সেখানে অবস্থানকালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রেশন কার্ড, ভারতের ভোটার পরিচয়পত্র, আয়কর দফতরের পরিচয়পত্র, নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র ইত্যাদি। পি কে হালদারের অন্যান্য সহযোগীরাও একই কৌশলে এসব সরকারি কাগজ যোগাড় করেছিলেন।

এ বিষয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইডি আরও জানায়, এসব ভুয়া পরিচয়ের মাধ্যমে তারা পশ্চিমবঙ্গে বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছিলেন। এছাড়া কলকাতার অভিজাত এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়ি ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় জমিও কিনেছিলেন পি কে। এছাড়া পি কে হালদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আত্মীয়স্বজনের নামে আরও বেশ কয়েকটি বাড়ির সন্ধান পায় ইডি।

২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ইডি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে, মূলত উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা এবং কলকাতাতে পি কে হালদারের বিভিন্ন সম্পত্তিতে অভিযান চালাচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত ক্রমেই এগোবে বলেও জানিয়েছে ইডি।

নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ শুরু



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী ‘নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২২। নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সচেতনতা বাড়াতে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে চলবে ২৫ মে পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) বিকাল ৩টায় সদরঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌ নিরাপত্তা দিবসের উদ্বোধন করবেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

এবারের নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘প্রশিক্ষিত জনবল ও নিরাপদ জলযান, নৌ নিরাপত্তায় রাখবে অবদান।

নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেছেন, নৌ-যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পরিবহন নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের বিকাশমান অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’। বর্তমান সরকারের শাসনামলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, কূটনৈতিক সাফল্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ প্রতিটি সেক্টরে আমরা নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যাপক উন্নয়ন করেছি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার নৌ সেক্টরের উন্নয়নের লক্ষ্যে নৌপথের সংরক্ষণ ও নৌপরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের সকল নদীকে দখলমুক্ত করা এবং নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন নদীবন্দর স্থাপনসহ সকল নদীবন্দরকে আধুনিকীকরণ, নদীবন্দরের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা, নৌ পথের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, পটুয়াখালী জেলায় তৃতীয় সমুদ্রবন্দর স্থাপন, উপকূলীয় দুর্গম পথে যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা চালুকরণ, কন্টেইনার টার্মিনাল স্থাপন, স্থলবন্দরের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নসহ আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন ও কুতুবদিয়ায় অবস্থিত লাইট হাউজসমূহ আধুনিকীকরণ এবং নিঝুম দ্বীপ, ঢালচর, দুবলারচর ও কুয়াকাটায় নতুন লাইটহাউজ ও কোস্টাল রেডিও স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে মেরিটাইম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় এলাকায় দুর্ঘটনা কবলিত সকল ধরনের নৌযান উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করা যাবে।

সরকার প্রধান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই পঞ্চাশের দশক থেকে নদী ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ভাবতেন। তিনি সদ্য স্বাধীন মাতৃভূমির শাসনভার হাতে নিয়েই নদীমাতৃক বাংলাদেশের নৌচলাচল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নৌপথের পলি অপসারণ ও নদী খননের জন্য স্বাধীন দেশে ৭টি ড্রেজার আমদানির মতো সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নদীর প্রতি তাঁর ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নৌ সেক্টরের গুরুত্ব অনুধাবন করে উন্নয়নের যে ধারা শুরু করেছিলেন, তা অনুসরণ করে বর্তমান সরকার নৌ পরিবহণের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রেখেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা নৌপথের উন্নয়নে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করেছি। বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হতে চলেছে। সরকার বিশ্বে প্রথম শত বছরের ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, নদীবেষ্টিত বাংলাদেশে নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালনের গুরুত্ব অপরিসীম। অন্যান্য পরিবহনের তুলনায় নৌপথ অধিকতর সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। সরকার নৌ পথের উন্নয়ন ও চলাচল উপযোগী রাখতে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে নৌপথের নাব্যতা রক্ষায় খনন কাজ পরিচালনা, নৌযানের চলাচল নিরাপদ ও দুর্ঘটনামুক্ত করতে আধুনিক নৌযান এ লক্ষ্যে নৌপথের নাব্যতা রক্ষায় খনন কাজ পরিচালনা, নৌযানের চলাচল নিরাপদ ও দুর্ঘটনামুক্ত করতে আধুনিক নৌযান তৈরি ও তাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ নদী বন্দরসমূহ আধুনিকীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নৌপথের নিরাপত্তা বিধানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরিতে এগিয়ে আসার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, নৌপরিবহন নিরাপদ ও আধুনিক করতে নদীপথে চলাচলকারী লঞ্চ মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীসাধারণকে আরো অধিক সচেতন হতে হবে। নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌযানে পর্যাপ্ত সংখ্যক জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম সংরক্ষণ, ধারণ ক্ষমতার অধিক যাত্রী ও মালামাল পরিবহণ রোধসহ নৌপরিবহণ সংক্রান্ত আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ খুবই জরুরি। আমি আশা করি, কালবৈশাখী ও বর্ষা মৌসুমসহ বছরব্যাপী নৌপথে চলাচলকারী সকল যাত্রী ও নৌযানসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে নৌ নিরাপত্তা পালন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

;

বাংলাদেশের সঙ্গে কার্যকর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র: হাস



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেছেন, তার দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে কার্যকর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী।

এ বছর ওয়াশিংটন ও ঢাকার মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি বুধবার (১৮ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

হাস বলেন, কিভাবে আমরা আমাদের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে পারি এবং কিভাবে আমরা কার্যকর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি- তা নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে তাদের মধ্যে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ইস্যু এবং সেগুলো কিভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়- তা নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বিগত দুই মাসে দু’দেশের মধ্যে যে সব বিষয় নিয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে, তারা সেসব ইস্যু নিয়েও আলোচনা করেছেন। এছাড়া তাদের মধ্যে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র উচ্চ পর্যায়ের অর্থনৈতিক ফোরামের ব্যাপারেও আলোচনা হয়।

বর্তমানে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য নবম প্রতিরক্ষা সংলাপ হচ্ছে। দু’দেশই পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে ইচ্ছুক।
বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিবেশ, দু’দেশের সৈন্যদের যৌথ মহড়া, সশস্ত্র বাহিনী আধুনিকায়ন, জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট (জিএসওএমআইএ), সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, মানবিক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গুরুত্ব পায়।

;

বিশ্বকাপ: বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে আগ্রহী কাতার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে কাতার।

বুধবার (১৮ মে) কাতারে বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদের সঙ্গে কাতারের শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সামিখ আল মাররির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে ইমরান আহমদ দেশটিতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রয়োজনীয় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে জানালে আল মাররির নিরাপত্তা, হসপিটালিটি ও ট্রান্সপোর্ট খাতে বাংলাদেশ থেকে প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে আশ্বাস দেন।

মন্ত্রী ইমরান বলেন, মুসলিম দেশ কাতার বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২২ এর আয়োজক দেশ হওয়াতে বাংলাদেশ আনন্দিত এবং বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে কোন ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মদক্ষতার প্রশংসার পাশাপাশি কর্মীদের কাতারের আইন মেনে চলার উপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকায় কাতারি বিনিয়োগ এবং কাতারি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গ উপস্থাপন করেন। কাতারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো.জসীম উদ্দিনও বৈঠকে ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে ঢাকায় ষষ্ঠ যৌথ কমিটির সভা অনুষ্ঠানের বিষয়ে আলোচনা হয়।

 

;

চেয়ারম্যানের শিশু পুত্রকে খুনের পর আত্মহত্যা করল ঘাতক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফরিদপুর
চেয়ারম্যানের শিশু পুত্রকে খুনের পর আত্মহত্যা করল ঘাতক

চেয়ারম্যানের শিশু পুত্রকে খুনের পর আত্মহত্যা করল ঘাতক

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমানের শিশুপুত্র আল রাফসানকে (৯) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ঘাতক এরশাদ মোল্লা (৩৫) মোবাইল ফোনের টাওয়ার থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তার ভাইকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে নিহত শিশুর স্বজনরা।

বুধবার (১৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদরপুরের আটরশি এলাকায় টাওয়ার থেকে ঝাঁপ দেন এরশাদ মোল্লা।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. জামাল পাশা জানান, ঢেউখালী এলাকার মো. ছানু মোল্যার ছেলে এরশাদ মোল্লা বিকেল চারটার দিকে সদরপুর উপজেলার সাতরশি গ্রামের ঋষিবাড়ীর মোড়ের একটি বাড়িতে হামলা করে। ওই বাড়িতে ঘরের মধ্যে বিছানায় শুয়ে থাকা চেয়ারম্যানের শিশুপুত্র আফসান ও স্ত্রী দিলজাহান রত্নাকে কুপিয়ে জখম করে। এতে রাফসানের মৃত্যু হয়। গুরুত্বর আহত রত্নাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ওই শিশুর লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা প্রশমনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলায় নেতৃত্বদানকারী হিসেবে অভিযুক্ত এরশাদ মোল্লা উপজেলার আটরশি এলাকায় টিএন্ডটির মোবাইল টাওয়ারের উপরে উঠে থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েকদিন পুর্বে স্বামী-স্ত্রীর বিবাদের একটি সালিশ বৈঠকে রায় দেয়াকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের ওপর ক্ষুব্ধ হয় এরশাদ, এর জেরে এরশাদ চেয়ারম্যানের পরিবারের ওপর হামলা চালায় বলে দাবি তাদের।

জানা গেছে, এরশাদ সম্প্রতি তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে গত সোমবার (১৬ মে) উপজেলা পরিষদে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিজনুর রহমান সিকদারের মধ্যস্থতায় সালিস হয়। ওই বৈঠকে ঢেউখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে এরশাদকে  স্ত্রীকে তালাক দেওয়া থেকে বিরত থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এরশাদ এ প্রস্তার নাকচ করলে স্ত্রীকে মোহরানা বাবদ সাড়ে তিন লাখ টাকা বুধবারের (১৮ মে) মধ্যে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

;