অশান্ত বিশ্বে মহামতি বুদ্ধের শান্তি ও কল্যাণের বার্তা



অধ্যাপক ড. উত্তম কুমার বড়ুয়া
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচয় বড় ধর্মীয় উৎসব শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা। প্রতিবছর ইংরেজি মে মাসের পূর্ণচন্দ্র দিনে বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা এই দিনটি পালন করে থাকেন। সেই সঙ্গে অনেক দেশে এই দিন জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিশ্বের ৮০টি দেশ মহাসমারোহে দিনটি পালন করে থাকে।

খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দিতে বৈশাখী পূর্ণিমাতিথিতে লুম্বিনী কাননে শালবৃক্ষের নীচে ভূমিষ্ঠ হয়ে এক মহাপ্রাণ সপ্তপদ্মে গমন করে তর্জনী তুলে সিংহনাদে ঘোষণা করলেন, ‘এ জগতে আমি অগ্র, আমিই জ্যেষ্ঠ; আমিই শ্রেষ্ঠ। এটাই আমার শেষ জন্ম, এর পর আমার আর জন্ম হবে না।’

অতঃপর, ৩৫ বছর বয়েসে নৈরঞ্জনা নদীর তীরে বোধিবৃক্ষমূলে সিদ্ধার্থ গৌতম ছয় বছর কঠোর সাধনা করে শুভ বৈশাখী পূর্ণিমাতিথিতে রাতের প্রথম যামে জাতিস্মর জ্ঞান লাভ করলেন, মধ্যম যামে দিব্যচক্ষু জ্ঞান এবং শেষ যামে আসর-ক্ষয় জ্ঞান ও প্রতীত্যসমুৎপাদ নীতি অধিগত হলেন; সম্যক সম্মুদ্ধ বুদ্ধত্ব লাভ করেন এবং আবিষ্কার করলেন মহান সত্য-চারি আর্যসত্য ও দুঃখ মুক্তির পথ আর্য্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ। সুদীর্ঘ পয়তাল্লিশ বছর বুদ্ধের সকল জীবের দুঃখ মুক্তির ধর্ম প্রচার করে অশীতি বয়েসে বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে কুশীনারার উপবর্তনে যুগ্মশাল তরুমূলে চিরনির্বাপিত হলেন মহামানব জগজ্জ্যোতি, পরিনির্বান লাভ করলেন, অনিচ্চা বত সংখ্যারা। তাই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ত্রিস্মৃতি বিজড়িত বৈশাখী পূর্ণিমা বা বৌদ্ধ পূর্ণিমা দিনে চেতনা প্রবাহে ধর্মের পবিত্র অবগাহনে সারাদিন মেতে উঠেন।

আর বুদ্ধ পূর্ণিমার এই পবিত্র দিনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ নিবেদনে বলেন, ‘আমি যাকে অন্তরের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব বলে উপলব্ধি করি, আজ এই বৈশাখী পূর্ণিমায় তার জন্ম উৎসবে আমার প্রণাম নিবেদন করতে এসেছি। এ কোন বিশেষ অনুষ্ঠানের উপকরণগত অলঙ্করণ নয়, একান্তে নিভৃতে যা তাকে বার বার সমর্পণ করেছি সেই অর্ঘ্যই আজ এখানে উৎসর্গ করি।’

এই দিনকে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে বলা হয়ে থাকে। নেপাল, ভারত, বাংলাদেশ-বুদ্ধ পূর্ণিমা/বৈশাখী পূর্ণিমা বা বুদ্ধ জয়ন্তী হিসেবে পালন করে থাকে। লাওসে বিশাখ পূজা, ইন্দোনেশিয়ায় বৈসাক ডে, মালয়েশিয়ায় বেসাক ডে, মিয়ানমারে কাসন পূর্ণিমা, সিঙ্গাপুরে বেশাখ ডে, বুদ্ধ ডে, ওয়াসাক ডে, তিব্বতে সাকা দাওয়া, থাইল্যান্ডে বিশাখ বুচা ডে, ভিয়েতনামে ফাত ড্যান, মঙ্গোলিয়ায় ওদোর, কোরিয়ায় হানজা, জাপানে হানমাতসূরী/কানবুতসু, চীনে পিনইন, রাশিয়ায় গৌতমী বাড্ডি, ম্যাকাও, হংকং, শ্রীলঙ্কা, ফ্রান্স, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপে বেশাখ ডে’ হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে।

১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব জাভিয়ার পেরেজ দ্য-কুয়েলার বলেন, ‘মানবতার সেবার প্রতি তার দেওয়া শিক্ষা, সহানুভূতি; সকল জীবের মঙ্গল কামনা ও নিষ্ঠার বার্তা উদযাপন সত্যি একটি সম্মানজনক সুযোগ। বুদ্ধের শান্তির বার্তা বর্তমান অশান্ত পৃথিবীতে আগের চেয়ে সম্ভবত আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।’

১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে শ্রীলঙ্কার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী লক্ষণ কাদির গামা মহামতি বুদ্ধের মানবতার, মৈত্রীর, সাম্য ও শান্তির দর্শনের জন্য, সকল জীবের কল্যাণের জন্য বুদ্ধের ত্রিস্মৃতি বিজড়িত বৈশাখী পূর্ণিমাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি, পালন ও দিবস ঘোষণার প্রস্তাব করা হলে সর্বসম্মতি ক্রমে-জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৫৪/১১৫, রেজুলেশন গৃহীত হয় এবং এই দিনকে আন্তর্জাতিক ‘Vesak Day’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও শান্তিকামী মানুষের জন্য এই সিদ্ধান্ত বিরল সম্মান বয়ে আনে।

ইউনেস্কা’র সদর দফতরে, ফ্রান্সে প্রতিবছর ঝাঁকজমকপূর্ণ ভাবে মহাসমারোহে মে মাসের পূর্ণচন্দ্রতে বেশাখ ডে উদযাপন করা হয়ে থাকে। এই লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কার স্থায়ী প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি যোগ দেন। প্রতি বছর বেশাখ ডে উপলক্ষে ইউনেস্কো স্লোগান নির্ধারণ করে থাকে।

যেমন-২০১৪ সালের স্লোগান ছিল, ‘Inter Faith and inter cultural awareness towards peace’, ২০১৫ সালের স্লোগান ছিল, ‘Fostering world peace through cultural education’, ২০১৬ সালের থিম স্লোগান ছিল, ‘Prayer for peace’, ২০১৭ সালের স্লোগান ছিলো, ‘peac Buddist teaching for social and sustainable world peace’; ২০১৮ সালের থিম ছিলো, ‘Promotion of peace and Non-Violence: Buddha’s way of life’, ২০১৯ সালে থিম ছিলো, ‘Reflects the UN’s 17 sustainable development goals’, ২০২০ সালের থিম ‘To practice love, peace and harmony as taught by the Buddha’.

২০২০ সালের জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘On the Day of Vesak, Let us celebrate Lord Buddha’s wisdom by talking actions for others with compassion and solidarity and renewing our commitment to build a peaceful world’.

বাংলাদেশে বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে বুদ্ধ পূর্ণিমা যথাযোগ্য মর্যাদায় আনন্দের সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা অন্যান্য দেশের মতো পালন করে থাকলেও জাতিসংঘ ঘোষিত ‘বেশাখ ডে’ বাংলাদেশি বৌদ্ধরা গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি তুলে ধরেননি। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানের উদ্যোগে বেশাখ ডে অফ ইউএন নিয়ে ভাবা হচ্ছে, কেউ কেউ আলোচনার টেবিলে ঝড় তুলছেন। তবু কেন জানি এই নামকরণকে সঠিকভাবে উপস্থান করতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি।

আমাদের দেশ অসাম্প্রদায়িক। সরকার প্রধান শেখ হাসিনা বার বারই বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।’ তাই যদি হয়, তবে ঈদ, দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা, বড় দিনের উৎসব সবার। হাজার বছর ধরে এই বাংলায় তাইতো আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির চর্চা মেধা-মনন মানসিকতার সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। আমাদের প্রস্তাব, বুদ্ধ পূর্ণিমা সমারোহে পালন করা হোক যথানিয়মে, আবার ‘বেশাখ ডে অব ইউএন’ এর মোড়কে প্রতি বছর ইউনেস্কোর প্রতিনিধিসহ সকল ধর্মের অংশগ্রহণেও পালন করা হোক।

পরিশেষে, আমাদের প্রার্থনা-আমরা যেন অবিদ্যাকে জয় করে, তৃষ্ণাকে ক্ষয় করে; শীলে পরিশুদ্ধ হয়ে, কুশল কর্ম সম্পাদন করে লোক-দ্বেষ-মোহ মুক্তির জন্য নিজেকে প্রতিনিয়ত অনুশীলনের মাধ্যমে নির্বাণ সুখ কামনায় নিজেকে প্রস্তুত করি। সকল প্রাণী সুখী হোক, দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ করুক। বুদ্ধ পূর্ণিমা, বেশাখ ডে অব ইউএন সফল হোক, সার্থক হোক।

লেখক: বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচারসংঘের সহ-সভাপতি

মৌলভীবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় এসআই নিহত, আহত ৫ পুলিশ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মৌলভীবাজার
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মৌলভীবাজারের রাজনগরে আসামি ধরে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশের এক এসআই নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন পুলিশের আরও পাঁচ সদস্য।

শনিবার (২১ মে) ভোর ৫টায় মৌলভীবাজার-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের মহাসহস্র নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত পুলিশ সদস্য হলেন- রাজনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সমিরন চন্দ্র দাশ।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে রাজনগরের মহাসহস্র নামক এলাকায় আসামি ধরে ফেরার পথে পুলিশের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে রাজনগর থানার এসআই সমিরন, এস শওকত মাসুদ ভূইয়া, এসআই সোলেমান আহমদ, এএসআই জাহাঙ্গীর আলম, কনস্টেবল মাসুদ মিয়া, কনস্টেবল আজিজ হোসেন আহত হন। এসময় স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে পাঠান। পরে দায়িত্বরত চিকিৎসক পুলিশের এসআই সমিরন চন্দ্র দাশকে মৃত ঘোষণা করেন।

এসআই শওকত মাসুদ ভূইয়া, কনস্টেবল মাসুদ মিয়া ও কনস্টেবল আজিজ হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, রাজনগর থানার এসআই সমিরনসহ ছয় পুলিশ সদস্য আসামি নিয়ে ফেরার পথে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে পুলিশের এসআই সমিরন নিহত হয়েছেন। তিনজন গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

;

আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গ্যাস পাইপলাইনে জরুরি মেরামত কাজের জন্য আজ (২১ মে) রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। শনিবার (২১ মে) সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মোট ১২ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে গ্যাস সরবরাহ।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি কাজের জন্য আজ (২১ মে) সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মোট ১২ ঘণ্টা রাজধানীর মিরপুর ১, ২, ৬, ৭, ১০, ১১, ১২, ১৩, ইস্টার্ন হাউজিং, রূপনগর, আরামবাগ, আলুবদি, মিরপুর ডিওএসএইচ পর্যন্ত এলাকায় সব শ্রেণির গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। সেই সঙ্গে আশপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্প চাপ থাকতে পারে।

গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।

;

অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন চায় ইইউ, মানবাধিকারে উদ্বেগ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য তাগিদ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। পাশাপাশি মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইইউ।

শুক্রবার (২০ মে) ব্রাসেলসে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যৌথ কমিশনের দশম বৈঠকে ইইউর পক্ষ থেকে এমন উদ্বেগ জানানো হয়। বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও ইইউর বৈদেশিক সম্পর্ক বিভাগের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা প্যাম্পোলোনি।

ইইউয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী জাতীয় নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ যে অবস্থান নিয়েছে তাকে স্বাগত জানিয়েছে ইইউ।

বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল বলেছে, সরকার তার সংবিধানে বর্ণিত সবার মানবাধিকারের নিশ্চয়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সন্ত্রাস ও সহিংস চরমপন্থার বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য সাফল্য তুলে ধরেছে।

সহযোগিতা চুক্তির আওতায় ইইউ ও বাংলাদেশের গৃহীত প্রতিশ্রুতি অনুসারে যৌথ কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকের আগে গত মঙ্গলবার উন্নয়ন সহযোগিতা, বুধবার সুশাসন ও মানবাধিকার এবং বৃহস্পতিবার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাবিষয়ক সাবগ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ১৩ থেকে ১৭ মার্চ ইইউয়ের জিএসপি ইবিএ ‘ফলোআপ মিশন’ও যৌথ কমিশনকে প্রতিবেদন দিয়েছে।

ইইউ গতকালের বৈঠকে জোর দিয়ে বলেছে, সক্রিয় নাগরিক সমাজ গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ইইউ বাংলাদেশে মানবাধিকারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইইউ বিশেষ করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রতিবেদনে এবং এ ধরনের লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইইউ বাংলাদেশে নাগরিকদের সুযোগ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের উদ্দেশ্য ডিজিটাল অপরাধ মোকাবেলা এবং এই আইন আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হওয়ার ওপর ইইউ জোর দিয়েছে।

ইইউয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যৌথ কমিশন উভয় পক্ষের রাজনৈতিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের গুরুত্বসহ গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও সুশাসনের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছে। বাংলাদেশ ও ইইউ সংখ্যালঘুদের অধিকারের অগ্রগতি, নারী ও শিশুদের অধিকার এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে মানবাধিকারের বিষয়ে সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।

ইইউ তার ‘এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ)’-এর আওতায় অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য ব্যবস্থার (জিএসপি) সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হিসেবে বাংলাদেশের অব্যাহত সাফল্যের প্রশংসা করেছে। এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে শ্রম অধিকারসহ মানবাধিকারের শর্তের কথা ইইউ স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। ইইউ বলেছে, বাংলাদেশে শ্রম অধিকারের মানদণ্ডের টেকসই সংস্কার এবং আইন ও বিধানগুলো আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সনদের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে ইইউ শ্রম খাতে বাংলাদেশের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্তকরণ ও প্রকাশকে স্বাগত জানিয়েছে। এর পাশাপাশি ইইউ বাংলাদেশের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী বড় পরিসরে বাস্তবায়ন, অগ্রগতি বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় পর পর তথ্য জানানো এবং রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে প্রযোজ্য শ্রম আইন সংশোধন করার সময়সীমা এগিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ ও সবুজ কারখানায় বিনিয়োগের জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষ একটি পূর্বাভাসযোগ্য এবং টেকসই ব্যাবসায়িক পরিবেশ সৃষ্টির গুরুত্বের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ইইউয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পূর্বাভাসযোগ্য এবং টেকসই ব্যাবসায়িক পরিবেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহজ হবে, বাজারে প্রবেশের বাধা দূর করবে এবং এর অর্থনীতির টেকসই বহুমুখীকরণ উৎসাহিত করবে। এই লক্ষ্যে, ইইউ ও বাংলাদেশ ব্যবসা পরিবেশ নিয়ে সংলাপ চালিয়ে যেতে এবং আরো জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

যৌথ কমিশন ইউরোপে অনিয়মিত হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে ইইউ-বাংলাদেশ ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতির’ প্রেক্ষাপটে যৌথ প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছে। ইইউ ওই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে এবং ইইউতে থাকার অযোগ্য বাংলাদেশিদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে আরো দৃঢ় ফলাফল অর্জনে বাংলাদেশকে উৎসাহিত করেছে।

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে ইইউ। এর পাশাপাশি তারা রোহিঙ্গাদের, বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবিকার সুযোগের ওপর গুরুত্ব দেয়। উভয় পক্ষই মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তন এবং প্রয়োজনীয় সাহায্য, সহযোগিতা ও পরিষেবা অব্যাহত রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।

বৈঠকে উভয় পক্ষ এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন ও জাতিসংঘ ফোরামের মধ্যে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছে। এ ছাড়া ইইউতে ‘দক্ষতা ও প্রতিভা’ প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ইইউ এ ক্ষেত্রে অংশীদারির জন্য বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্তির কথা জানিয়ে বলেছে, এটি আইনসম্মত অভিবাসনের বিষয়ে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে একটি নতুন এবং আরো কৌশলগত সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

;

স্বর্ণ উদ্ধার করে চেপে যাওয়ায় চাকরি হারালেন এসপি আলতাফ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
স্বর্ণ উদ্ধার করে চেপে যাওয়ায় চাকরি হারালেন এসপি আলতাফ

স্বর্ণ উদ্ধার করে চেপে যাওয়ায় চাকরি হারালেন এসপি আলতাফ

  • Font increase
  • Font Decrease

১২০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধারের পর বিষয়টি চেপে গিয়ে স্বর্ণ কারবারির বিরুদ্ধে মাদকের মামলা করেছিল পুলিশ। সাড়ে পাঁচ বছর আগে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার এ ঘটনায় চাকরি হারিয়েছেন পুলিশ সুপার (এসপি) আলতাফ হোসেন।

বুধবার ট্যুরিস্ট পুলিশের সিলেট অঞ্চলে দায়িত্বরত আলতাফ হোসেনকে চাকরি থেকে অপসারণের তথ্য জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ।

আলতাফ হোসেন ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই থেকে পরের বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার ছিলেন। তার দায়িত্ব পালনের সময় ২০১৬ সালের ৬ অক্টোবর বিপ্লব চ্যাটার্জি নামে এক স্বর্ণ চোরাকারবারি আটক হন। তার কাছ থেকে ১২০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছিল। পাটকেলঘাটা থানায় উদ্ধার করা সোনার জব্দ তালিকাও করা হয়েছিল। কিন্তু সোনা চোরাচালানের মামলা না হয়ে এ ঘটনায় মাদকের মামলা রেকর্ড করা হয়।

বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেনের সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর (খ) অনুযায়ী আনীত ‘অসদাচরণের’ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এই বিধিমালার ৪(৩) গ বিধি মোতাবেক গুরুতর দণ্ড হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেনকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হলো।

পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় ২০১৯ সালে আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর আলতাফ হোসেনের ব্যাখ্যাও নেওয়া হয়। পরে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করেন। সেখানে আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় আলতাফ হোসেনের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

;