আমাগো জিগান ক্যান, মেম্বার-চেয়ারম্যান গো জিগান গা



আব্দুল্লাহ আল নোমান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাভার (ঢাকা)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের সবচেয়ে জনবহুল এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া। এখানে অনেক শিল্প কারখানা গড়ে ওঠায় অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এখানকার রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন শিল্প কারখানার শ্রমিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

আশুলিয়ার ডিইপিজেড সংলগ্ন ডিইপিজেড-ভাদাইল সড়কটি দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াই কিলোমিটার। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির বেহাল দশা দীর্ঘ ১২ বছর ধরে। বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন হাঁটু পানি ভেঙ্গে কর্মস্থলে যেতে হয় লাখো মানুষকে। পোহাতে হয় অসহনীয় দুর্ভোগ। স্থানীয় এলাকাবাসী নানা জায়গায় এসকল ভোগান্তির কথা জানিয়েও পায়নি কোন প্রতিকার। তবে এবার আশার কথা, নতুন সড়ক নির্মাণে দরপত্র পাস হয়ে ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছে। কাজ শুরু হবে আগামী মাসে।

রোববার (১৫ মে) সকাল থেকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার ভাদাইল সড়ক প্রায় ২০ ফুট প্রস্থ। সড়কটির বেশিরভাগ স্থানে পানি জমে আছে। বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও ভাঙাচোড়া। রিকশা বা মোটরসাইকেলে যাতায়াত করলেও ময়লা পানি শরীরে ছিটকে পড়ছে। অনেকে হেঁটে চরম দুর্ভোগ নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। আবার বাবা ভিজে শিশু শিক্ষার্থী সন্তানকে কোলে নিয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে বাড়ি ফিরছেন। এখানে বসবাসকারী প্রায় লাখো মানুষ নিম্ন আয়ের পোশাক শ্রমিক। রাস্তার বেহাল দশার কারণে পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে নেই বেচা-বিক্রি। তাদের সবার প্রশ্ন কেন সড়কটির কাজ হচ্ছে না। ভুক্তভোগীরা সড়কটির দীর্ঘ বেহাল দশায় ক্ষোভ আর আক্ষেপ জানাতেও ভুলে গেছেন। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা এখন বর্ষাকাল। ময়লা পানিই যেন এখন তাদের অপ্রিয় আপনজন।

কত দিন যাবৎ রাস্তার এই অবস্থা? এক দোকানিকে জিজ্ঞেস করতেই রেগে বললেন, আমাগো জিগান ক্যান, মেম্বার-চেয়ারম্যান গো জিগান গা। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর রাস্তার এমন বেহাল দশায় কোনো প্রতিকার না পেয়ে ক্লান্ত-বিরক্ত মানুষগুলো এ ব্যাপারে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। রেগে যাচ্ছেন কেন? বললে দোকানি বলেন, কতজনই আসে, জানতে চায়। কোনো সমাধান তো নাই। এক পথযাত্রী জয়নাল আবেদীন আক্ষেপ নিয়ে বলেন, কী আর বলব ভাই, কাকেই বা বলব। ১২ বছর ধরে রাস্তাটির এমন বেহাল দশা। দেখার যেনো কেউ নেই। রপ্তানিতে চাকরি করি। প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে চলতে হয়। এ রাস্তায় আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। রাস্তাটি চওড়া করা না গেলেও যদি ঠিকমতো পিচ ঢালাই করা হতো আমরা বেঁচে যেতাম।

স্থানীয় বাসিন্দা কুদরত আলী বলেন, এর আগে সড়কটির কাজ করা হয়েছে। তবে আমাদের এলাকার প্রধান সমস্যা হলো নিষ্কাশন ব্যবস্থা। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বারবার সড়কটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে এমন ভোগান্তির মধ্যে আমরা চলাচল করছি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাভার উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিইপিজেড-ভাদাইল সড়কটি প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ। দুই বছর আগে ভাদাইল মোড় থেকে পাবনার টেকের অংশ কাজ করেছে। তবে পরের অংশ ভাদাইল মোড় থেকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের মুখ পর্যন্ত কাজটি বাকি ছিল। বাকি অংশটুকুর দৈর্ঘ্য প্রায় এক হাজার ২০০ মিটার ও প্রস্থ পাঁচ দশমিক পাঁচ মিটার। ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের আবেদনের ভিত্তিতে সড়কের কাজের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ড্রেন লাইন নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে এলজিইডি থেকে টেন্ডার হয়েছে ও ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। এ মাসের শেষের দিকে বা আগামী মাসের (জুন) শুরুর দিকে সড়কটির কাজ শুরু হবে। প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দে সড়কটি করা হচ্ছে।

ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ দুই বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রায় ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার কাজ করা হয়েছিল। বাজেট স্বল্পতার কারণে এতো বড় সড়কের কাজ করা পরিষদের জন্য সম্ভব হয়নি। তবে বিভিন্ন সময়ে পরিষদের পক্ষ থেকে সড়কটিতে সংস্কার কাজ করা হয়। মূলত এই এলাকায় আবাসিক এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সড়কে পানি জমে থাকে। বার বার সংস্কার করলেও পানি জমে সড়ক নষ্ট হয়ে যায়। তবে এলজিইডি সড়কের কাজ দ্রুত শুরু করবে। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ থেকে করা হবে। এ বিষয়ে সাভার উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সালেহ হাসান প্রামানিক বলেন, সড়কটি এলজিইডির অধীনে। দুই বছর আগে সড়কটির একটি অংশে কাজ করা হয়েছে। মাঝখানে করোনার দুই বছর কোনো ধরনের প্রকল্প পাস হয়নি। প্রস্তাবনা আগেই দেওয়া ছিল। তবে এখন মহাসড়ক থেকে ভাদাইল মোড় পর্যন্ত এক হাজার ২০০ মিটার আরসিসি সড়ক করা হবে। টেন্ডার পাস হয়ে গত ১০ মে ওয়ার্ক অর্ডার হাতে পেয়েছি। আমরা দ্রুতই ঠিকাদারকে সড়ক বুঝিয়ে দেব। আশা করি এ মাসের শেষের দিকে বা জুন মাসের শুরুতেই কাজ শুরু হবে। তবে কেন এত বছরেও কাজ হয়নি? এমন প্রশ্নের জবাবে সালেহ হাসান প্রামানিক বলেন, আড়াই বছর হয়েছে আমি সাভারে যোগ দিয়েছি। ফলে এর আগে কেন হয়নি তা বলা মুশকিল।

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল

  • Font increase
  • Font Decrease

কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি কমে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় বন্যায় দ্বিতীয় দফায় প্লাবিত এলাকাগুলোতে মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে।

শুক্রবার (০১ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ব্রহ্মপুত্র চিলমারী পয়েন্টে ৩৩ সেন্টিমিটার, নুন খাওয়া পয়েন্টে ৬৬ সেন্টিমিটার ও তিস্তা কাউনিয়া পয়েন্টে ৫২ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

থেমে থেমে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যায় আশ্রিত মানুষজনের দুর্ভোগ বেড়েই চলছে। বন্যা দীর্ঘ হওয়ায় বন্যাকবলিত এলাকার খেটে খাওয়া পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে।

প্রায় ১৭ দিন ধরে কোনো কাজকর্ম না থাকায় বেকার এ পরিবারগুলো সম্পূর্ণ ত্রাণের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ত্রাণ পেলে খাবার জোটে না পেলে উপোস কাটাতে হয়। এমন পরিস্থিতি নদী অববাহিকার সবগুলো চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর।

বাগুয়ার চরের কুবাত আলী জানান, ৫ দিন আগে ২ কেজি চাল, ১ কেজি আলু পাইছিলাম। ২ পোলা পান নিয়ে ৪ জন ২ দিন খাইছি। আত্মীয়ের বাড়ি থেকে চাল আইনা খাইলাম। ভাবছিলাম পানি কমলে কাজকর্ম পাইমু। কিন্তু আবার পানি বাইড়া গেল। এখন কি করমু ভাইবা পাইতাছি না। সোরাব আলীও এমন কথা শোনালেন।

সরকারিভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও ত্রাণ স্বল্পতার কারণে অনেকেই ত্রাণ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। এমন অনেক পরিবার দুর্গম চরাঞ্চলে অনাহার ও অর্ধাহারে রয়েছে।

এখনও স্বাভাবিক হয়নি জেলার চর ও নিম্নাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। এমন অবস্থায় নিজেদের খাদ্য সংকটের পাশাপাশি গবাদিপশুর খাদ্য সংকট নিয়েও চরম বিপাকে বানভাসি মানুষজন।

অপরদিকে বন্যাকবলিত এলাকার নদী তীরবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয়েছে ভাঙন। অনেকেই বসতবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। নদী ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর অধিকাংশই সহায় সম্বল হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে দিনাতিপাত করছে।

;

পাহাড়ে সন্ত্রাস দমনে এপিবিএন’র টহল শুরু



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাঙামাটি
পাহাড়ে সন্ত্রাস দমনে এপিবিএন’র টহল শুরু

পাহাড়ে সন্ত্রাস দমনে এপিবিএন’র টহল শুরু

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছরের ২৬ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের ঘোষণার ৩৫ দিন পর আজ শুক্রবার (১ জুলাই) থেকে পার্বত্য রাঙামাটি জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে টহল কার্যক্রম শুরু করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এপিবিএন কর্তৃপক্ষ।

প্রায় দুইশো সদস্য নিয়ে শুক্রবার (১ জুলাই) থেকে রাঙামাটি শহরে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এপিবিএন ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (১) ফজলুর করিম। আজ সারাদিনই রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকায় এপিবিএনের গাড়ি টহল দিতে দেখা গেছে।

রাঙামাটির দায়িত্বে থাকা এপিবিএন এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলুর করিম জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শুক্রবার থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাঙামাটি শহরে কাজ শুরু করেছে এপিবিএনের রাঙামাটি ইউনিট। দুটি টহল দল শহর এলাকায় কাজ করবে। জনবল ও প্রয়োজনীয় গাড়িসহ আনুসাঙ্গিক সরঞ্জাম পাওয়ার পর পুরোদমে কাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যেই শহরে কাজ করার মতো সরঞ্জামাদি তারা পেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমরা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতোই টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবো। যদি কোনো ফৌজদারি অপরাধ আমাদের নজরে আসে সেক্ষেত্রে পুলিশের মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পার্বত্য শান্তি চুক্তির পরে শর্তানুসারে ইতিমধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর ২৩৮টি ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু এরপরেও পার্বত্য চট্টগ্রামে খুন, গুম, অপহরণ, চাঁদাবাজি, বন্ধ না হওয়ায় পাহাড়ে অব্যাহত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তৎপরতা কমাতে এবং চাঁদাবাজি, সংঘাত নিরসনসহ স্থানীয় জনসাধারনের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীগোষ্ঠির অপতৎপরতা বন্ধে পাহাড়ে প্রত্যাহারকৃত সেনা ক্যাম্পগুলোতে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যদের দিয়ে ক্যাম্প পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ মে রাঙামাটি পুলিশ লাইন্সে এপিবিএনের বিভিন্ন কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন অনুষ্ঠানে শান্তিচুক্তি অনুযায়ী সেনাবাহিনী যেসব ক্যাম্প ছেড়ে এসেছে, সেসব জায়গায় এপিবিএন মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

;

এক কলেজের ১৬ শিক্ষার্থী বুয়েটে



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নীলফামারী
সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ

সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ

  • Font increase
  • Font Decrease

নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থী বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) রাতে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফলফলে ওই প্রতিষ্ঠানের ১৬ জন শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এর আগে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ৩৯ জন শিক্ষার্থী মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে।

এ বছর বুয়েটে ভর্তি সুযোগ পাওয়া ১৬ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাহিদ হোসেন রিদম ৫ম তম কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে, সঞ্জয় -১৬১, ইমন ইসলাম ৪৪৪তম হয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে , আরাফাত আফ্রিদি রোমান ৫২৬ তম হয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে,আবু সায়েম-৫৩০, সজীব -৫৭০, তাহমিদ আহমেদ তনয় ৬৩৯ হয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে, মাহমুদুল -৬৪০, মাহবুব -৭৬২, আজম-৭৬৬, নবদ্বীপ -৮০৮, সিয়াম মাহিম-৯৫৩, সুদীপ্ত কেলভিন -৯৮৯, এম এ এইচ কে লাবিব ১০৮৬ তম হয়ে বস্তু ও ধাতবকৌশল বিভাগে , শাফিন-১১১৬, জাকিয়া সুলতানা জীম ১২০৩ তম হয়ে নেভাল আর্কিটেকচার বা নেভাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

এক সঙ্গে এত শিক্ষার্থী বুয়েটে ভর্তি সুযাগ পাওয়ায় উচ্ছ্বাস ও আনন্দে ভাসছে শিক্ষার্থীরা, খুশি শিক্ষক ও অভিভাবকগণ।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেরিট লিষ্টে ৫ম তম হয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তির সুযোগ পাওয়া নাহিদ হোসেন রিদম বলেন, প্রতিটা শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে যে বুয়েট বা মেডিকেলে ভর্তির, তেমনি আমার ও ছিল। আল্লাহর রহমত, বাবা মায়ের দোয়া আর শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ আমি ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। এটা আমার জন্য যে কত টা সুখের আনন্দের সে ভাষা আমার জানা নাই।

আর্কিটেকচার বা লেভাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া জাকিয়া সুলতানা মিম জানায়, দিন রাত পরিশ্রম করে আজ এই পর্যায়ে সে ৷ এই স্থানে আসার জন্য সব থেকে বেশি যেটা সাহায্য করে সেটি কলেজের পরিবেশ ও স্যারদের প্রচেষ্টা। এই ফলাফলে বাবা-মাও অনেক খুশি বলে জানায় সে।

সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম আহমেদ ফারুক বলেন, আমরা এখানে শিক্ষার্থীদের গ্রিন-ক্লিন লার্নিং পদ্ধতিতে পড়ানোর চেষ্টা করি। এতে সবার মাঝে প্রতিযোগিতা ও মননশীলতা বৃদ্ধি পায়। প্রতিবারই দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখান থেকে অনেক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। এ বছরেই ৩৯ জন মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। এসব সাফল্যের জন্য চলতি বছরের মার্চে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি আমাদের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। সব মিলিয়ে এমন সাফল্যে আমরা গর্বিত।

প্রতিষ্ঠানটিতে শুধুমাত্র বিজ্ঞান বিভাগেই পড়ার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা ক্লাস রুমেই সকল পাঠ শেষ করার চেষ্টা করি এবং সকল প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে ক্লাস পরিচালিত হয়। এছাড়াও অভিভাবকদের সাথে প্রতিষ্ঠানের একটি সেতু বন্ধন থাকে যাতে বাড়িতে শিক্ষার্থীরা ঠিক মত তাদের পড়াশুনো অব্যাহত রাখে।

উল্লেখ, ১৯৬৪ সালে দেশের চারটি শিল্পাঞ্চলে গড়ে ওঠে টেকনিক্যাল স্কুল। দেশের সর্ববৃহৎ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সুবাদে এখানে গড়ে ওঠে টেকনিক্যাল স্কুল। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার জন্য দক্ষ, কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষার্থী গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি কলেজে উন্নীত হয়। তবে কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষার্থী গড়ে তোলার লক্ষ্য হলেও প্রতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পান উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী। ২০১৯ সালে কলেজটিকে সরকারিকরণ করা হয় এবং পুর্বের নাম পরিবর্তন করে সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজ রাখা হয়।

;

দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবায় টিম গ্রুপের ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবায় টিম গ্রুপের ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিক

দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবায় টিম গ্রুপের ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিক

  • Font increase
  • Font Decrease

টঙ্গী বিসিক হাজীর মাজার এলাকায় স্থানীয় গরিব দুস্থ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে ‘ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিক’ চালু করেছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান টিম গ্রুপ। গতকাল শুক্রবার প্রথম দিনের এই কর্মসূচিতে চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে ওষুধও বিতরণ করা হয়।

টিম গ্রুপের এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান টিম এক্সেসরিজ লিমিটেড এর প্রাঙ্গণে এই ক্লিনিক চালু করতে সহযোগিতা দিচ্ছেন টংগী বিসিক হাজীর মাজার এলাকার কাউন্সিলর জনাব গিয়াস সরকার। প্রথম দিন এই ক্লিনিক থেকে স্থানীয় প্রায় ২শ’ ৫০ জন দরিদ্র ও দুস্থ মানুষ সেবা গ্রহণ করেন। ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ দানে নিয়োজিত ছিলেন স্পেশালাইজড ২ জন চিকিৎসক এবং ৪ জন নার্স। দিনব্যাপী এই কর্মসূচি চলাকালে টিম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান টিম ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষ থেকে রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়।


ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিক কার্যক্রমটি সমন্বয় করেন টিম গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক জনাব নূর-ই সাইফুল্লাহ ফয়সাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ হিল রাকিব, ব্যবস্থাপক তানভীর আহমেদ এবং স্থানীয় কাউন্সিলর জনাব গিয়াস সরকার। এসময় দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের কল্যাণে টিম গ্রুপের এমন সামাজিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান কাউন্সিলর গিয়াস সরকার এবং কার্যক্রমটি নিয়মিত রাখার দাবি জানান। কারণ এই সেবা কার্যক্রম নিয়মিত চললে তার এলাকার দরিদ্র মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।

এসময় দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য চালু হওয়া এই কার্যক্রম গাজীপুরের ওই অঞ্চলে প্রতি মাসে একবার করে নিয়মিত চলবে বলে জানান টিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ হিল রাকিব।

;