বাঙালি নদী গিলে খাচ্ছে ঘরবাড়ি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, গাইবান্ধা
বাঙালি নদী গিলে খাচ্ছে ঘরবাড়ি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবর

বাঙালি নদী গিলে খাচ্ছে ঘরবাড়ি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবর

  • Font increase
  • Font Decrease

গাইবান্ধার গোবিন্দড়ঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে বাঙালি নদী। সম্প্রতি দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বাপ-দাদার ঘরবাড়ি ও ভিটেমাটি। একই সঙ্গে নদী গিলে খেয়েছে একই পরিবারের দুই বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর।

সোমবার (১৬ মে) উপজেলার বাঙালি নদীর কোলঘেষে বামনহাজরা গ্রামে দেখা যায় ভয়াবহ ভাঙনের দৃশ্য। বন্যা না আসতেই হঠাৎ এই ভাঙনে দিশেহারা গ্রামবাসী।

এ সময় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রেজাউর রহমান, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম প্রধান ভাঙন কবলিত এলাকাটি পরিদর্শন করেন।

মহিমাগঞ্জ রেলস্টেশনের উত্তরে দেওয়ানতলা রেলসেতুর পূর্বপাশের ওই গ্রামে কখনও নদী ভাঙনের আশঙ্কা ছিল না। রেলসেতুটিই ছিল তাদের গ্রাম রক্ষাবাঁধ। কিন্তু কয়েক বছর আগে রেলসেতুর কিছুটা উজানে দেওয়ান তলা সড়ক সেতু নির্মাণ করা হয়। এই সেতুটির কারণে কয়েক বছর ধরে বামনহাজরা গ্রামে নদী ভাঙনের সূত্রপাত হয়। কিন্তু কয়েক বছর ধরে নদীর ওই এলাকায় বালুদস্যুরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। এ বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই বিশালাকৃতির ড্রেজার দিয়ে নদী খননের কারণে নদীর অপর পাড়ের ডান তীরে খননের কাজ শুরু হতেই বিপর্যের শুরু হয় এখানে। গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে বালুর স্তুপ ও ড্রেজার এক ধরনের বাঁধে রূপ নিয়ে উল্টো দিকের এই গ্রামে তীব্র ভাঙনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান জানান, গত বছরের বর্ষা মৌসুমে এ গ্রামের একই পরিবারের ৪ মুক্তিযোদ্ধার ২ জনের কবরই তলিয়ে গেছে বাঙালি নদীর গর্ভে। প্রশাসনের কাছে অনেক আবেদন করেও গ্রামটির ভাঙন প্রতিরোধে কোন সাড়া পাওয়া যায় নি। এ বছর বর্ষা আসার আগেই বামনহাজরা গ্রামের বাসিন্দাদের ৮-১০টি বাড়ি নদীতে তলিয়ে গেছে। কিছুটা স্বচ্ছল পরিবারগুলো অন্যত্র বাড়ি সরিয়ে নিলেও অসচ্ছল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ভিটেমাটি হারিয়ে একরকম পথে বসেছে।

তিনি আরও বলেন, ভাঙনরোধে বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে গ্রামটির পাশাপাশি দেওয়ানতলা রেলসেতুটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রেল যোগাযোগ বিঘ্ন হতে পারে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ হোসেন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রাথমিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ বাঁচাতে পারে দৃষ্টিশক্তি



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অন্ধত্ব এড়াতে এবং প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করতে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বেশি মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তারা ডায়াবেটিস এবং ব্যক্তি, পরিবার ও জাতীয় অর্থনীতিতে এ রোগের সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পরামর্শ দেন এবং বলেন, বাংলাদেশ যে স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে তুলেছে সচেতনতা ছাড়া তা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দিবে না।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে “সমন্বিত ডায়াবেটিস মেলিটাস ও ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি সেবা: যাদের কাছে পৌঁছানো যায়নি, তাদের কাছে যাওয়া” শীর্ষক নীতিগত সংলাপে তারা এ পরামর্শ দেন।

বিএমসি হেলথ সার্ভিসেস’র বিভিন্ন গবেষণা প্রকাশনার উদ্ধৃতি দিয়ে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বিএডিএএস) অধীনে পরিচালিত সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথ রিসার্চের প্রকল্প পরিচালক ড. বিশ্বজিৎ ভৌমিক বলেন, “সামগ্রিকভাবে, একজনের ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা গেলে বছরে ২৯৭ মার্কিন ডলার সাশ্রয় হতে পারে “

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিকিৎসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ এইচ এম এনায়েত হোসেন বলেন, যেসব মানুষের কাছে এখনো পৌঁছেনো যাযনি তাদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত বাধাসহ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তিনি চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখে স্বাস্থ্য কর্মসূচি গ্রহণের পরামর্শ দেন যাতে সেগুলো আরও কার্যকর হয় এবং কাঙ্খিত ফল পাওয়া যায়। অধ্যাপক এনায়েত ডায়াবেটিসকে আরও ভালোভাবে মোকাবেলার জন্য স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে ডায়াবেটিসকে অন্তর্ভূক্ত করার ওপর জোর দেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক সংস্থা অরবিস ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ এ সংলাপের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলেন, রোগ প্রতিরোধে যথাযথ মনোযোগ দিতে পারলে বাংলাদেশ বিশ্বে স্বাস্থ্যসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

বাংলাদেশ স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর উন্নয়নে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে – একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবকাঠামোর পূর্ণ ব্যবহারে তৃণমূলের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে যাওয়ার জন্য চিকিৎসক সম্প্রদায়কে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আজাদ বলেন, “চিকিৎসকরা অভিযোগ করেন যে, মানুষ সেবা গ্রহণ করতে আসে না। এটা সত্য নয়। সমস্যা হলো আমরা (চিকিৎসকরা) জানি না কোন ভাষা ব্যবহার করলে তারা সেবা পেতে অনুপ্রাণিত হবে।”

অরবিস ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ সংলাপে সঞ্চালনা করেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিডিসি’র লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক রোবেদ আমিন এবং সিবিএইচসি’র লাইন ডিরেক্টর ডা. মাসুদ রেজা কবির, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিকেল অফিসার (এনসিডি) সাধনা ভাগবত, অরবিস ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম, ময়মনসিংহ ডা. কে জামান বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সমন্বয়ক সাইফুজ্জামান পরাগ এবং বাংলাদেশ পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক শিয়াবুর রহমান শিহাব। এছাড়াও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. মুনির আরও কার্যকর উপায়ে ডায়াবেটিস মোকাবিলায় অসংক্রামক রোগের সেবাগুলোর মধ্যে ডায়াবেটিস মেলিটাস এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি সেবাগুলোকে অন্তর্ভূক্ত করার পরামর্শ দেন।

অধ্যাপক রোবেদ আমিন আরও ভালোভাবে সেবা দিতে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। বেসরকারী সংস্থাগুলের উদ্দেশে তিনি বলেন, "আমাদেরকে ভুল বুঝবেন না যে আমরা আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে যাচ্ছি। একটি সমন্বিত উপায়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে আমরা আপনাদের প্রচেষ্টায় সাহায্য করতে চাই।”

;

সিরাজগঞ্জে কৃষক হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে কৃষক হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জে কৃষক হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন

  • Font increase
  • Font Decrease

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় কৃষক জেলহক মণ্ডল হত্যা মামলায় ৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক বেগম সালমা খাতুন সোমবার দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন।

সোমবার (২৭ জুন) বিকালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের অতিরিক্ত পিপি ওয়াছ করোনী লকেট ও এপিপি শামসুল আলম এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জেলার কাজীপুর উপজেলার মাজনাবাড়ি গ্রামের মোকসেদ আলীর ছেলে আব্দুস সাত্তার, মকবুল সরকারের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার, গেন্দা মণ্ডলের ছেলে শফিকুল ইসলাম, শালগ্রামের হযরত মণ্ডলের ছেলে সুরুত আলী, জয়েন উদ্দিনের ছেলে হায়দার আলী, মোকসেদ আলীর ছেলে আমজাদ হোসেন ও জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি এলাকার আবুল সরকারের ছেলে মনির হোসেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার, আব্দুল মান্নান ও শফিকুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। বাকি ২৭ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, কাজীপুর উপজেলার মাজনাবাড়ি গ্রামের জেলহক মণ্ডলের সাথে একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল।

১৯৯৬ সালের ১৭ মার্চ বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান কাটতে যায় আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার ও তার লোকজন। ধানকাটার সংবাদ পেয়ে জেলহকের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে রাজ্জাক মাস্টারের লোকজন দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোটা নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়।

হামলায় জেলহক মণ্ডল ঘটনাস্থলে নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আব্দুর রহিম ৩৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ৩৫ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আদালত আজ এ রায় প্রদান করেন।

;

হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের বিক্ষোভ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের বিক্ষোভ

ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের বিক্ষোভ

  • Font increase
  • Font Decrease

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ব্যবস্থাপত্রের ছবি তোলার অপরাধে ওষুধ কোম্পানির কয়েকজন প্রতিনিধির কোমরে রশি দিয়ে তাদের বেঁধে রাখার ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে সোমবার ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা বিক্ষোভ-মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।

রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে সোমবার (২৭ জুন) সকাল ১০টার দিকে এই সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশ চলে বেলা ১১টা পর্যন্ত। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন। বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যাসোসিয়েশনের (ফারিয়া) রাজশাহী জেলা ও মহানগর শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর কমিটির আহ্বায়ক নাজমুল সাকিব। এতে শতাধিক মেডিকেল প্রোমোটিং এক্সিকিউটিভ (এমপিই) অংশগ্রহণ করেন।

বক্তব্য রাখেন- ফারিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, নির্বাহী সভাপতি শফিউর রহমান শফি, ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল খান, ওরিয়ন ফার্মার প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। তাঁরা বলেন, দেশে চাহিদার ৯৮ শতাংশ ওষুধের যোগান দেয় দেশীয় ওষুধ কোম্পানি। এখানে ২৫ হাজার কোটি টাকার বাজার। ওষুধখাত বিপুল পরিমাণ রাজস্ব দেয়। তা দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন হয়। কিন্তু রামেক হাসপাতালের পরিচালক প্রজাতন্ত্রের গোলাম হয়ে মালিকের কোমরে রশি বেঁধেছেন। তিনি সব ওষুধ কোম্পানিকে অপমান করেছেন। দেশের ১৫ লাখ এমপিইকে বেঁধেছেন।

এখন থেকে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দেখে লাঠি নিয়ে তেড়ে এলে সেই লাঠি ভেঙে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, ওষুধ কোম্পানির তিন প্রতিনিধিকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখার ঘটনায় রামেক হাসপাতালের পরিচালককে ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে প্রথমে রাজশাহীতে এবং পরে সারাদেশে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। তখন চিকিৎসা কীভাবে চলে তাঁরা সেটি দেখবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাঁরাই এসে ক্ষমা চাইবে। ভুল ওরা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ইন্টার্নি ডাক্তারদের প্যাড, খাতা-কলম বা এ ধরনের গিফট-টিফট দেয়। এর বিনিময়ে তাঁরা তাঁদের কোম্পানির ওষুধ লিখতে চাপ দেয়। তাই কেউ কেউ সরকারি সাপ্লাই থাকা স্বত্ত্বেও ওই কোম্পানির ওষুধ লেখে। দামি এসব ওষুধ কিনতে গরীব রোগীদের খুব কষ্ট হয়। কোম্পানির প্রতিনিধিরা আবার হাসপাতালে এসে দেখে ডাক্তার কোন ওষুধ লিখছেন। তাঁরা রোগীকে আটকে প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলেন। এমনভাবে তাঁরা দাঁড়ান কোন রোগীর পাশ কাটিয়ে যাওয়ার উপায় নেই।’

পরিচালক বলেন, ‘এই সমস্যাগুলো আমরা জানি। সিসি ক্যামেরায় সবই দেখতে পাই। নতুন ওষুধ সম্পর্কে জানার জন্য ডাক্তারদেরও কোম্পানির প্রতিনিধিদের দরকার। সে জন্য আমরা সপ্তাহে দুইদিন সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। কিন্তু ওরা আসে সবদিন, সবসময়। ওই ছবি তোলার একই কাজ করে। আমি চিঠি দিয়ে তাঁদের সতর্ক করেছি। ওদের বড় অফিসাররা বলেছিলেন এ রকম হবে না। কিন্তু লাভ হয়নি। ওরাও ছবি তোলার জন্য চাপ দেন।’

তবে রশি দিয়ে বাঁধা ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় আমি রেগে গিয়ে আনসারদের বলি- এই ওদের ধরো, বাধো। এ রকম। অতি উৎসাহী দু’একজন আবার এই কাজটা করে ফেলেছে। এটা ঠিক হয়নি।’

উল্লেখ্য, রোগীদের আটকে ব্যবস্থাপত্রের ছবি তোলার কারণে রোববার সকালে ওষুধ কোম্পানির তিন প্রতিনিধিকে একসঙ্গে রশি দিয়ে বেধে রাখার ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের আনসার সদস্যরা এই কাণ্ড ঘটান। কিছুক্ষণ পর মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

;

‘উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার সারাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করছে, কারণ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

তিনি বলেন, ‘আমরা রেল যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত ও নতুন নতুন রেলপথ স্থাপন এবং সেতু নির্মাণের পাশাপাশি ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীগুলো খনন করছি। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করে এবং বাণিজ্য ও ব্যবসা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।’

সোমবার (২৭ জুন) সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান কতৃর্ক প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাঁর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুদান গ্রহণ করেন।

সমগ্র বাংলাদেশেই তাঁর সরকার, ব্রিজ এবং উন্নত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলে যোগাযোগের একটা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এসবের পাশাপাশি নদীগুলো ড্রেজিং করে নৌপথ ও আমরা সচল করেছি। আমাদের পূববর্তী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায়ই বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা সেটা আবার নতুন করে চালুর পাশাপাশি নতুন নতুন রেল লাইনও করে দিচ্ছি। যার ফলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাও বাড়ছে।

তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যকে আমরা আরো গতিশীল করার জন্য বিরাট সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছি।

নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের সাফল্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশেরই এক ব্যক্তির প্ররোচণায় বিশ্ব ব্যাংক যখন পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়, পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগিরাও সরে দাঁড়ায়, তখন আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করবো। তখন দেশের জনগণের পাশাপাশি আপনারাও অনেকে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে সবধরনের সহযোগিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে জন্য আমি আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।

দেশের জনগণই তাঁর ‘সবচেয়ে বড় শক্তি’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের সাহস এবং সহযোগিতা এবং তারা পাশে থাকাতে আমরা আমাদের নিজস্ব টাকায় এই পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল অঞ্চল যেটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল সেখানে এখন শিল্পায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই অঞ্চলের মানুষের আর্থিক উন্নতি হবে। সেখানেও আপনাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাত করার একটি ক্ষেত্র তৈরি হবে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে এবং এই অঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়ে যাবে।

প্রথমবার সরকারের আসার পর তাঁর সরকার যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু নির্মাণ করেছিল যেখানে বিদ্যুৎ, রেল এবং গ্যাস সংযোগও প্রদান করা হয়। পদ্মা সেতুটাও সেভাবেই করা হয়েছে, মাল্টিপারপাস। সেখানেও গ্যাস, বিদ্যুৎ, রেল সংযোগের সঙ্গে অত্যাধুনিক ওয়াইফাই সু্বিধাও থাকবে।

৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মোট ৩০৪ কোটি ৪১ লাখ টাকার অনুদান প্রদান করে।

এগুলো হচ্ছে-সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রুপালী ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বিডিবিএল, ইডকল, বিআইএফএফএল, এক্সিম ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক, ইষ্টার্ন ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, যমুনা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সোসাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেট বিভাগে পর পর তিনবার বন্যা হলো। সেখানে যেমন ফসলের ক্ষতি হয়েছে তেমনি ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাটের ও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তেমনি পানি যখন নেমে আসছে তখন নেত্রকোনা, কুড়িগ্রাম লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

তিনি এ দেশের যে কোন দুর্যোগ ও দুর্বিপাকে মানবিক সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসায় এবং মাসুষের পাশে দাঁড়ানোয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা আমাদেরকে একটি স্বাধীন দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন এবং এদেশে শোষিত বঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য তাঁর সারাটি জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বলেই আজকে নিজেরাই আমাদের শিক্ষা-দীক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা বা ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যবস্থা করতে পারছি।

সরকার প্রধান বলেন, আমাদের প্রচেষ্টাই হচ্ছে দেশের জনগণের দারিদ্র বিমোচনের মাধ্যমে ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং সেই সাথে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তোলা। যাতে বিশ্ব দরবারে আমরা মাথা উঁচু করে সম্মানের সাথে চলতে পারি।

তিনি দেশে ১শ’টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, আমাদের উন্নয়নও করতে হবে আবার মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। সে জন্য যততত্র শিল্প যাতে গড়ে না ওঠে এবং কৃষিজমি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি এলএনজি আমদানী করে শিল্প কলকারকানা চলমান রাখারও উদ্যোগ নিয়েছে।

করোনাকালিন তাঁর সরকার যেমন সকল জনগণের জন্য বিনামূল্যে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করেছে তেমনি চলমান বিশ্ব মন্দার মধ্যে শিল্প কলকারখানা চলমান রাখতে নানারকম আর্থিক প্রণোদণাও প্রদান করেছে। কোনভাবেই যাতে অর্থনীতির গতি ব্যহত না হয়ে পড়ে সে জন্য কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষসহ সকলকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যেই আবার ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় এর প্রভাবটাও অর্থনীতির ওপর পড়েছে। আবার এসেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা।

তিনি বলেন, সমস্যা আসবে এবং সেই সমস্যা মোকাবিলা করেই আমাদের পথ চলতে হবে। আজকে আপনারা বন্যা কবলিত মানুষকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছেন। আর আপনারা যখন মানুষের পাশে দাঁড়ান, তখন আর আমাদের চিন্তা থাকেনা। আমরা মনে করি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো এবং বিশ^ দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারবো। এ ব্যাপারে সকলেই সচেতন থাকবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি এ সময় পণ্য রপ্তানীর পরিমান বৃদ্ধি এবং রপ্তানীর পণ্য সম্ভারে নতুন নতুন পণ্য সংযোজন এবং নতুন বাজার খুঁজে বের করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। কেবল রপ্তানী নয় দেশের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সৃষ্টির জন্য তাঁর সরকার অর্থনৈতিক কর্মকান্ড একেবারে তৃণমুল পর্যায় থেকে পরিচালিত করছে।

তিনি বলেন, ’৭১ এ মহান বিজয়ের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশ যে ভাবমূতি অর্জন করেছিল তা ’৭৫ এর বিয়োগান্তক অধ্যায় এবং অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর নষ্ট হয় এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রার গতিও থেমে যায়।

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসায় সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই তহবিল থেকে কেবল বন্যা দুর্গত জনগণই নয়, পীড়িত ও দুঃস্থ জনগণকেও এখান থেকে সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করা হয়। যেখানে তাঁদের সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় করোনার প্রাদুর্ভাব পুনরায় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সকলকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলার এবং মাস্ক ব্যবহারের আহবান পুনর্ব্যক্ত করেন।

;