তালাকের প্রতিশোধ নিতেই সাব্বিরকে হত্যা করে সৎ বাবা!



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

তালাক দেওয়ার প্রতিশোধ নিতেই স্ত্রীর আগের পক্ষের সন্তান মাদরাসা ছাত্র সামিউল ইসলাম সাব্বিরকে (১০) হত্যা করে তারই সৎ বাবা ফজলুল হক (৩৫)। হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ ফজলুল হক ও তার সহযোগী অনিতা রানীকে গ্রেফতার করেছে।

বুধবার (১৮ মে) বেলা ১২টায় বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সংবাদ সম্মলনে এতথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার (১৭ মে) শাজাহানপুর থানার মানিকদীপা কমলা চাপড় গ্রামের একটি লাউ ক্ষেত থেকে অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশ জানতে পারে উদ্ধারকৃত মরদেহটি একই উপজেলার সাজাপুর পূর্ব দক্ষিণপাড়া তালিমুল কোরআন হাফেজিয়া মাদরাসার আবাসিক ছাত্র সামিউল ইসলাম সাব্বিরের।

শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর গ্রামের মৃত তালেব আলীর মেয়ে সালেহা বেগম তার সন্তান হিসেবে মরদেহ শনাক্তের পর পুলিশকে জানায়, ১২ বছর আগে মাঝিড়া কাগজিপাড়া গ্রামের মৃত মনছুর আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের সাথে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের সংসারে সাব্বির জন্মগ্রহণ করে। মাদক সেবনের কারণে সালেহা বেশ কিছুদিন আগে স্বামী জাহাঙ্গীরকে তালাক দেন। এরপর সন্তানকে সাথে রেখে ফজলুল হককে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ফজলুল হক সন্তানকে মেনে নেয় না। সালেহার সন্তানকে সরানোর জন্য বিভিন্ন ভাবে চাপ সৃষ্টি করে এবং সন্তানকে মারধর করে। বাধ্য হয়ে সালেহা গত ১১ মে ফজলুল হককে তালাক দেন এবং তার সন্তানকে মাদরাসায় রেখে আসেন।

ফজলুল হক গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশকে জানায়, তালাক দেওয়ার কারণে সাহেলার ওপর ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সালেহার সন্তানের কারণেই তাকে তালাক দেওয়ায় ফজলুল হক সাব্বিরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সেই অনুয়ায়ী সোমবার (১৬ মে) বিকেলে ফজলুল হক মাদরাসায় গিয়ে সাব্বিরকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। এসময় মাদরাসার আবাসিক শিক্ষক আবু মুছা জানিয়ে দেন মায়ের অনুমতি ছাড়া সাব্বিরকে তার কাছে দেওয়া যাবে না।

এসময় ফজলুল হক গ্রেফতারকৃত অনিতা রানীকে সাব্বিরের মা সাজিয়ে ফোন করেন। অনিতা রানী ফোনে সালেহা সেজে তার ছেলে সাব্বিরকে ফজলুল হকের কাছে দেওয়ার জন্য মাদরাসা শিক্ষককে অনুরোধ করেন। পরে সাব্বিরকে ফজলুল হকের সঙ্গে ছেড়ে দেয় মাদরাসা শিক্ষক। ফজলুল হক সাব্বিরকে সাথে নিয়ে খরনা ইউনিয়নের মানিকদীপা কলমা চাপড় গ্রামের মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে একটি লাউ ক্ষেতে রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর বাঁশের খুঁটির সাথে বেঁধে রেখে চলে যায়।

পুলিশ সুপার বলেন, মঙ্গলবার সকালে মরদেহ উদ্ধারের পর ডিবি ও থানা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামেন। পুলিশ পরিচয় মরদেহ শনাক্তের পর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিকেলের মধ্যেই ফজলুল হক ও তার সহযোগী অনিতা রানীকে গ্রেফতার করে।

ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

নির্বাচনের সময় জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ক্ষমতায় গিয়ে ভুলে যায়নি মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা একেবারে তৃণমূল থেকে। বিশেষ করে আমাদের লক্ষ্যটা হলো আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছি তা বাস্তবায়ন করতে চাই।

রোববার (০৩ ‍জুলাই) মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলোর ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর এবং ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন পুরস্কার ২০২২’ ও ‘শুদ্ধচার পুরস্কার ২০২২’ বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব বলেন তিনি।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, উন্নয়ন কাজের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনারা আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করেছেন বলেই আমরা কাজটা করতে পেরেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্যটা হলো আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছি সেটা আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা রাজনীতি করি, আমাদের দল আছে। আমরা যখন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় একটা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলো দেয়নি, আমরা বিনাপয়সায় সবাইকে করোনা টেস্ট ও ভ্যাকসিন দিয়েছি। বুস্টার ডোজও দেওয়া হচ্ছে। আমি আশা করি সবাই এ ভ্যাকসিন নেবেন।

এ সময় মুজিব বর্ষের গৃহনির্মাণ কর্মসূচির বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িতদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান সরকার প্রধান।

;

বিদেশ থেকে আনা ১৭ প্রাণী চিড়িয়াখানার দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার জন্য নতুন করে ১৭টি প্রাণী বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। কিন্তু কোয়ারেন্টাইন সময় ২১ দিন শেষ হওয়ার আগেই প্রাণীগুলো দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু নিয়মানুযায়ী কোয়ারেন্টাইন সময় পার হলেই দর্শনাথীদের জন্য উন্মুক্ত করতে হয়।

চিড়িয়াখানা সূত্র জানায়, দর্শনার্থীদের বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ করতে আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছে সিংহ, পেনিক্যান, লামা ও উইল্ড বিস্ট।

এ বিষয়ে চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মুজিবুর রহমান বার্তা২৪.কমকে জানান, আমরা সম্প্রতি বেশ কিছু প্রাণী হাতে পেয়েছি। তবে এগুলো এখন কোয়ারেন্টাইন সময় পার করছে। কিছু প্রাণী গ্রহণ করা হয়েছে। কিছু প্রাণী ঠিকাদারদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়নি। কোয়ারেন্টাইন সময়ে কোনও প্রাণি মারা গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নতুন প্রাণী সরবরাহ করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন প্রাণীকে নিজেদের হাসপাতালে নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রে না রেখে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা ঠিক হয়নি। এতে করে দর্শনার্থীরা বিরক্ত করলে নিজেদের মধ্যে মারামারিসহ অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ হতে পারে।

সূত্র আরও জানায়, গত ৩ জুন চার সিংহকে বুঝে নিয়েছে জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। আর তিনটি পেনিক্যান, চারটি লামা, দুটি ক্যাঙ্গারু ও তিনটি উইল্ডিবিস্টকে এখনেও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বুঝে নেওয়া হয়নি। গত ২৪ জুন এই প্রাণীগুলোকে শেডে দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এদের ২১ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এরমধ্যে কোনো ধরনের সমস্যা হলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এর দায়দায়িত্ব নেবে। ২১ দিন পর প্রাণীগুলোকে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বুঝে নেবে।

প্রতিটি লামা ৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকা, পেনিক্যাল ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, সিংহ ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ক্যাঙ্গারু ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা আর উইল্ডিবিস্ট ৬ লাখ টাকায় সরবরাহ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১২ সালের মে মাস থেকে আগস্ট পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফেলকন ইন্টারন্যাশনাল ঢাকা চিড়িয়াখানার জন্য ৩০ প্রজাতির ২৩০টি প্রাণী সরবরাহ করেছিল। তখন প্রায় ৫ কোটি টাকার প্রাণী সংগ্রহ করা হয়েছিল।

;

গলায় জুতার মালা পরে শিক্ষক হেনস্তা ও হত্যার প্রতিবাদ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
গলায় জুতার মালা পরে শিক্ষক হেনস্তা ও হত্যার প্রতিবাদ

গলায় জুতার মালা পরে শিক্ষক হেনস্তা ও হত্যার প্রতিবাদ

  • Font increase
  • Font Decrease

সাভারে আশুলিয়ায় শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা ও নড়াইলে পুলিশের সামনে শিক্ষককে হেনস্তার ঘটনায় গলায় জুতার মালা পরে প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রামের এক স্কুলশিক্ষক।

শনিবার (২ জুলাই) শহরের আন্দরকিল্লা মোড়ে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে তিনি এই প্রতিবাদ জানান।যদিও রোববার তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ছবিতে দেখা যায়, এক শিক্ষকের গলায় ঝুলানো ছিল কয়েকটি জুতা এবং ‘শিক্ষক শিক্ষাগুরু মনিষী কথন, শিক্ষক বিহনে শিক্ষা নহে কদাচন’ বাণী লেখা একটি ফেস্টুন।

ওই শিক্ষকের নাম শেখর ঘোষ। তিনি বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি রাউজানের (দক্ষিণ) যুগ্ম সম্পাদক ও রাউজান মহামুনি এংলো-পালি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

এমন ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ সম্পর্কে মোবাইল ফোন জাইতে চাইলে শিক্ষক শেখর ঘোষ বলেন, শিক্ষকদের জাতির বিবেক বলা হয়। বিভিন্ন থানায় ওসি, এসপি হিসেবে যারা আছেন তারাও কোনো না কোনো শিক্ষকের ছাত্র। তাদের সামনে যদি কোনো শিক্ষককে জুতার মালা পরানো হয়, এটা তো মেনে নেওয়া যায় না। এটা শিক্ষকের গলায় না, পুরো জাতির গলায় জুতার মালা পরানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আরেকজন শিক্ষককে তারই ছাত্র পিটিয়ে হত্যা করেছে। শিক্ষক হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই এসব আমি মেনে নিতে পারি না। আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এসব দেখে। তাই শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে গলায় জুতার মালা পরে আমার এই প্রতীকী প্রতিবাদ।

;

‘পাচার অর্থ ফেরাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন’



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চাঁদপুর
দুদক মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হোসাইন খান

দুদক মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হোসাইন খান

  • Font increase
  • Font Decrease

পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হোসাইন খান।

রোববার (০৩ জুলাই) সকালে দুদকের চাঁদপুর জেলার সমন্বিত কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

দুদক মহাপরিচালক বলেন, বিদেশে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে মানি লন্ডারিং আইন অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যেহেতু, অর্থগুলো দেশের বাইরে পাচার হচ্ছে, তার সঙ্গে বিদেশি রাষ্ট্রগুলো জড়িত, সে ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর কাছে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্টেন্স রিকুয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠাই। যদি বিদেশি রাষ্ট্রগুলো সঠিক তথ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করে, তাহলেই আমাদের পক্ষে সম্ভব এ টাকাগুলো উদ্ধারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আমরা সে চেষ্টাই করছি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, দুদকের চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জালাল উদ্দিন আহাম্মদ, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন প্রমুখ।

;