খাদ্য-আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠতে সু-সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
খাদ্য-বিদ্যুৎ-আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠতে সু-সমন্বিত প্রচেষ্টা আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

খাদ্য-বিদ্যুৎ-আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠতে সু-সমন্বিত প্রচেষ্টা আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী সংহতি জোরদার করার এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে খাদ্য, বিদ্যুত ও আর্থিক সংকট মোকাবেলায় সু-সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বৈশ্বিক সংকট কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে ৪টি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন যার জন্য দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের যুদ্ধ এমন এক সময়ে এসেছে যখন বিশ্ব কোভিড-১৯ মহামারী থেকে উদ্ধার পেতে লড়াই করে চলেছে। এ যুদ্ধ ইতিমধ্যে নাজুক বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুতর চাপ যুক্ত করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে যুক্ত হয়ে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে শুক্রবার (২০ মে) অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স গ্রুপ (জিসিআরজি) এর প্রথম উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে দেয়া ভাষণে একথা বলেন।

শেখ হাসিনা কার্যকরভাবে সংকট মোকাবিলায় উন্নত অর্থনীতি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত অস্থিতিশীল করে তুলেছে, যেখানে খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের স্বল্প সরবরাহ এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবনে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে। স্বল্পোন্নত দেশ এবং এসআইডিগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তাদের অবিলম্বে এবং লক্ষ্যমাত্রা ভিত্তিক সহায়তা ব্যবস্থার প্রয়োজন।

এ বিষয়ে তিনি উন্নত দেশসমূহ ও বহুপাক্ষিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুল্কমুক্ত-কোটামুক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার এবং আরও সহজলভ্য অর্থায়নের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে সৃষ্ট চলমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলার লক্ষ্যে এই গ্রুপটি গঠন করেছেন।

বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য চারটি প্রস্তাব রেখেছেন।

প্রথম প্রস্তাবে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, আমাদের অবশ্যই বিশ্বব্যাপী সংহতি জোরদার করতে হবে এবং একটি সু-সমন্বিত প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। জি-৭, জি-২০, ওইসিডি, এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই গ্রুপের স্টিয়ারিং কমিটি সব বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠন করায় তিনি খুশি।

তিনি বলেন, আমরা সংকট মোকাবেলায় কার্যকর সুপারিশ প্রণয়নের জন্য তাদের প্রচেষ্টায় আমাদের পূর্ণ সমর্থন দেব। দ্বিতীয়ত, অবিলম্বে বিশ্বব্যাপী লজিস্টিক এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধাগুলো মোকাবিলা করা প্রয়োজন। এ প্রয়াস পণ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্য নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশ ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলির বৈশ্বিক বাণিজ্য ও রপ্তানি আয় পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সমর্থনও থাকতে হবে। 

তিনি বলেন, উন্নত অর্থনীতি এবং বহুপাক্ষিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে এবং শুল্ক-মুক্ত-কোটা-মুক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার এবং আরও সহজলভ্য অর্থায়ন প্রদান করতে হবে।

তৃতীয় প্রস্তাবে, তিনি বলেন, কার্যকর খাদ্য সঞ্চয় ও বিতরণ ব্যবস্থার জন্য কৃষি খাতের জন্য প্রযুক্তি সহায়তা এবং বিনিয়োগের উপর আরও বেশি গুরুত্ব প্রদান করা অপরিহার্য। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে বিশেষ করে এলডিসিতে অনেক সম্ভাব্য ব্যবসার সুযোগ রয়েছে।

তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন, ‘এই এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে আমরা বিদ্যমান উত্তর-দক্ষিণ, দক্ষিণ-দক্ষিণ এবং ট্রায়াঙ্গুলার সহযোগিতার সুবিধা নিতে পারি। এই বিষয়ে বেসরকারি খাতের সাথে সম্পৃক্ততাও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হবে।’ 

পরিশেষে, তিনি ৪৮-সদস্যের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ফোরামের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করেন, আমরা অনেক এসআইডি এবং নিম্নাঞ্চলীয় জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। এসব দেশে কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা গুরুতর চাপের মধ্যে রয়েছে। 

বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ বহুপাক্ষিকতায় দৃঢ় বিশ্বাসী।

তিনি বলেন ‘আমরা সর্বদা বিশ্ব শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়েছি। এই গোষ্ঠীকে সমর্থন করার জন্য আমাদের প্রতিশ্রুতি সেই প্রত্যয় থেকে উদ্ভূত।’

জাতি হিসাবে আমরা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর চ্যালেঞ্জগুলির বিরুদ্ধে সহিষ্ণুতার জন্য পরিচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী তার সর্বশেষ উদাহরণ। মহামারী কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টায় জীবন ও জীবিকার সুরক্ষার মধ্যে সতর্ক ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে। আমরা আমাদের প্রচেষ্টায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার প্রদান করেছি। যারা সবচেয়ে পিছনে রয়েছে তাদের সহায়তা দেয়ার আমরা সামাজিক সুরক্ষার কভারেজ প্রসারিত করেছি।

তিনি উল্লেখ করেন, ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য সময়মত ব্যবস্থা গ্রহণ আমাদের একটি বড় স্বাস্থ্য সঙ্কট এড়াতে এবং জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছে।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের রপ্তানি খাত এবং এসএমইকে সমর্থন করার জন্য বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিয়েছি। ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করা হয়েছে। আর এই পদক্ষেপগুলি আমাদের গত অর্থবছরে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার অর্জনে সহায়তা করেছে। বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধি হিসাবে তিনি বলেন, ‘আমি এই সঙ্কটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ লাখ লাখ মানুষের কণ্ঠস্বর টেবিলে নিয়ে এসেছি। আমাদের জাতীয় উন্নয়ন যাত্রা অনেক উদ্ভাবনী জলবায়ু কর্মের নেতৃত্ব দিয়েছে। আমরা অন্যদের সুবিধার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন, জীব-বৈচিত্রের ক্ষতি এবং পরিবেশগত অবনতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের জ্ঞান, বোঝাপড়া এবং অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চাই।’

সমালোচকরা দেশের জনগণের সামর্থ্য জানে না: প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের সমালোচকরা আসলে দেশের জনগণের সামর্থ্য জানে না, বরং তারা জাতির সামর্থ্যকে সবসময় অবমূল্যায়ন করে।

তিনি বলেন,‘আমাদের সমালোচনাকারিরা দেশের মানুষের শক্তি, সাহস ও ক্ষমতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। নইলে তারা বার বার বাধা দেবে কেন? তারা আসলে জাতি হিসেবে আমাদের সক্ষমতাকে সবসময় অবমূল্যায়ন করে। হেয় প্রতিপন্ন করে। সবসময় যেন অন্যের কাছে হাত পেতে চলার মানসিকতায় ভোগে।’

প্রধানমন্ত্রী ও  সংসদ নেতা শেখ হাসিনা আজ  জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ ও ২০২২ সালের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন। এদিন সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট পাস করা হয়।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণ নিয়ে এখানে কতগুলো প্রশ্ন এসেছে, বিরোধী দলের সদস্যরা অনেক কথাই বলেছেন। প্রথম প্রাক্কলিত ব্যয় ১০ হাজার কোটি ধরা হলেও পরবর্তীতে ৩০ হাজার কোটি লাগার কার্যকরণ বিশ্লেষণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সেতু নির্মাণে তাঁর সরকারের বহুদিনের প্রচেষ্টা ছিল, যার ভিত্তিপ্রস্তরও তিনি ২০০১ সালে স্থাপন করে যান। যদিও পরবর্তী বিএনপি সরকার সেই নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। আর ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি ব্যয় প্রাক্কলন করে (১০ হাজার কোটি টাকা) যার কোন বাস্তব ভিত্তি যেমন ছিলনা তেমনি এরপর বহু যোজন বিয়োজন হয় প্রকল্পে।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আবারও রাষ্ট্র্রচালনার দায়িত্ব পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় এবং সরকারের দায়িত্ব নেয়ার ২২ দিনের মাথায় পদ্মা সেতুর পূর্ণাঙ্গ নকশা তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘মনসেল এইকম’কে নিয়োগ দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় রেল সুবিধা যুক্ত করে চূড়ান্ত নকশা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধান করেন তিনি। শুরুতে মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছিল ৫ দশমিক পাঁচ-আট কিলোমিটার। পরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৬ দশমিক এক-পাঁচ কিলোমিটার হয়। প্রথম ডিপিপিতে সেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে তিনটির নিচ দিয়ে নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা রেখে নকশা করা হয়েছিল। পরে ৩৭টি স্প্যানের নিচ দিয়ে নৌযান চলাচলের সুযোগ রাখার বিষয়টি যুক্ত করা হয়।

সংশোধিত ডিপিপিতে বেশি ভার বহনের ক্ষমতাসম্পন্ন রেল সংযোগ যুক্ত করা হয়। কংক্রিটের বদলে ইস্পাত বা স্টিলের অবকাঠামো যুক্ত হয়। সেতু নির্মাণে পাইলিংয়ের ক্ষেত্রেও বাড়তি গভীরতা ধরা হয়। বাড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ব্যয়ও।

সেতু নির্মাণকালিন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সে সময়কার দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক প্রতিশ্রুত অর্থ প্রত্যাহার করে নিলে অন্য উন্নয়ন সহযোগীরাও তখন সরে দাঁড়ায়। যদিও পরবর্তীতে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ কানাডার একটি আদালতে মিথ্যা বলেই প্রমাণিত হয়। আর নিজস্ব অর্থেই পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

সে সময় দেশের অনেক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তির বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, আমি জানি তখন আমাদের দেশের অনেক বিশেষজ্ঞ, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারি এমনকি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ভেবেছিলেন ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের টাকা ছাড়া এই সেতু নির্মাণ সম্ভব হবেনা, যে কথাটি আমাকে বার বার শুনতে হয়েছে। কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম নিজস্ব অর্থায়নে সেতু করতে পারলে তবেই করবো, কারো কাছে হাত পেতে করবো না এবং বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াবে ও নিজেই করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সেতু নির্মাণ করতে গেলে দেশিয় রিজার্ভের ওপর চাপ আশার যে আশংকা ছিল সেখানে তাঁর একটা হিসেবে ছিল যে সেতুটি নির্মাণে প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর সময় লাগতে পারে এবং সে সময়ে বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার করে যদি ব্যয় করা যায় তাহলে রিজার্ভে কোন চাপ পড়বে না।

নিজস্ব অর্থায়ণে তাঁর সেতু নির্মাণের ঘোষণায় দেশের জনগণের স্বতস্ফূর্ত ভাবে সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসার কথাও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কানাডার কোর্ট যখন বলে দিল পদ্মা সেতুতে কোন দুর্নীতি হয়নি তখন মানুষের মাঝে একটা অন্যরকম চেতনা আসলো। আর সেটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আর এক্ষেত্রে আমাদের পিছিয়ে যাওয়ার কোন পথ ছিলনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মাসেতু কেবল দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের ক্ষেত্রেই নয়, বাংলাদেশ যাতে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে তার স্বর্ণদুয়ারও উন্মোচন করেছে।

;

কোরবানির হাটে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
কোরবানির হাটে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

কোরবানির হাটে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) তথ্য বিবরণীতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কোরবানির হাটে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

  • হাট বসানোর জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা নির্বাচন করতে হবে। কোনো অবস্থায় বদ্ধ জায়গায় হাট বসানো যাবে না।
  • ইজারাদারের হাট বসানোর আগে মহামারি প্রতিরোধী সামগ্রী যেমন-মাস্ক, সাবান, জীবাণুমুক্তকরণ সামগ্রী ইত্যাদি সংগ্রহ করতে হবে। পরিষ্কার পানি সরবরাহ ও হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল সাবান/সাধারণ সাবানের ব্যবস্থা রাখতে হবে। নিরাপদ বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
  • কোরবানির হাটের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও হাট কমিটির সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। হাট কমিটির সবার ব্যক্তিগত সুরক্ষা জোরদার করা ও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
  • হাটের সঙ্গে জড়িত কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা দিতে হবে। জনস্বাস্থ্যের বিয়ষগুলো যেমন মাস্কের সঠিক ব্যবহার, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার, শারীরিক দূরত্ব, হাত ধোয়া, জীবাণুমুক্তকরণ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধিসমূহ সার্বক্ষণিক মাইকে প্রচার করতে হবে।
  • মাস্ক ছাড়া কোনো ক্রেতা-বিক্রেতা হাটের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। হাট কর্তৃপক্ষ চাইলে বিনামূল্যে মাস্ক সরবরাহ করতে পারেন বা এর মূল্য নির্ধারণ করে দিতে পারেন।
  • প্রতিটি হাটে সিটি করপোরেশনের ডিজিটাল পর্দায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি প্রচার করতে হবে।
  • কোরবানির হাটে প্রবেশের জন্য গেট (প্রবেশপথ ও বাহিরপথ) নির্দিষ্ট করতে হবে।
  • পর্যাপ্ত পানি ও ব্লিচিং পাউডার দিয়ে বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি করা যাবে না।
  • প্রতিটি হাটে সিটি করপোরেশন/পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদের এক বা একাধিক ভ্রাম্যমাণ স্বেচ্ছাসেবী মেডিকেল টিম গঠন করে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মেডিকেল টিমের কাছে শরীরের তাপমাত্রা মাপার জন্য ডিজিটাল থার্মোমিটার রাখা যেতে পারে, যাতে প্রয়োজনে হাটে আসা সন্দেহজনক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করা যায়। এছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে রোগীকে আলাদা করে রাখার জন্য প্রতিটি হাটে একটি আইসোলেশন ইউনিট (একটি আলাদা কক্ষ) রাখা যেতে পারে।
  • একটি পশুর থেকে আরেকটা পশু এমনভাবে রাখতে হবে যেন ক্রেতালা কমপক্ষে তিন ফুট বা দুই হাত দূরত্ব বজায় রেখে পশু কিনতে পারেন।
  • ভিড় এড়াতে মূল্য পরিশোধ ও হাসিল আদায় কাউন্টারের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
  • মূল্য পরিশোধের সময় সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়ানোর সময় যেন কম হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। লাইনে তিন ফুট বা কমপক্ষে দুই হাত দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে রেখা টেনে বা গোল চিহ্ন দিতে হবে।
  • সব পশু একত্রে হাটে প্রবেশ না করিয়ে, হাটের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী পশু প্রবেশ করাতে হবে।
  • হাটের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করা সম্ভব, এমন সংখ্যক ক্রেতাকে হাটে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। অবশিষ্ট ক্রেতারা হাটের বাইরে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অপেক্ষা করবেন। একটি পশু কেনার জন্য এক বা দুই জনের বেশি ক্রেতা হাটে প্রবেশ করবেন না।
  • অনলাইনে পশু কেনা-বেচার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করা যেতে পারে।
  • স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শ্রঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সব কাজ নিশ্চিত করতে হবে।
;

১ জুলাই থেকে বিআরটিসির ঈদের টিকেট বিক্রি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
১ জুলাই বিআরটিসির ঈদযাত্রার টিকেট

১ জুলাই বিআরটিসির ঈদযাত্রার টিকেট

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদুল আহজা উপলক্ষে ঈদযাত্রায় 'ঈদ স্পেশাল সার্ভিস' চালু করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।বিআরটিসির বিভিন্ন ডিপোতে আগামী ১ জুলাই থেকে ঈদযাত্রার টিকিট পাওয়া যাবে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) বিআরটিসি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঈদ উপলক্ষে আগামী ৪ জুলাই থেকে বিশেষ সার্ভিস চলবে। ঈদের পর ১২ জুলাই পর্যন্ত সেবা চালু থাকবে। ঢাকার মতিঝিল, জোয়ারসাহারা, কল্যাণপুর, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ি, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ বাস ডিপো থেকে ঈদের আগাম টিকেট পাওয়া যাবে।

মতিঝিল বাস ডিপো থেকে খুলনা, দাউদকান্দি, দিনাজপুর, রংপুর ও নেত্রকোণা রুটের টিকেট পাওয়া যাবে।

কল্যাণপুর বাস ডিপো থেকে মিলবে রংপুর, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নেত্রকোনা, রানিশংকৈল, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর রুটের টকেট পাওয়া যাবে।

গাবতলী ডিপো থেকে আরিচা, রংপুর, দিনাজপুর, আরিচা ও পাটুরিয়া, যশোর রুটের টিকেট পাওয়া যাবে।

জোয়ারসাহারা বাস ডিপো থেকে পয়সারহাট, বিশ্বরোড-পাঁচদোনা, রংপুর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও বগুড়া রুটের টিকেট পাওয়া যবে।

মিরপুর বাস ডিপো থেকে বরিশাল, রংপুর, কুষ্টিয়া, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ ও নওগাঁ রুটের টিকেট পাওয়া যাবে।

মোহাম্মদপুর বাস ডিপো থেকে শরিয়তপুর ফরিদপুর, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া ও নওগাঁ রুটের টিকেট পাওয়া যাবে।গাজীপুর বাস ডিপো থেকে বিশ্বরোড-পাঁচদোনা, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও কুড়িগ্রাম রুটের টিকেট পাওয়া যাবে। যাত্রাবাড়ি বাস ডিপো থেকে ঢাকা-রংপুর, শরিয়তপুর, রুটের টিকেট পাওয়া যাবে।

নারায়ণগঞ্জ বাস ডিপো থেকে ঢাকা-গোসাইরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, নওগাঁ, বগুড়া, গাইবান্ধা ও পাবনা রুটের টিকেট পাওয়া যাবে। কুমিল্লা বাস ডিপো থেকে ঢাকা-রংপুর রুটের টিকেট পাওয়া যাবে। নরসিংদী বাস ডিপো থেকে নরসিংদী-মাদারিপুর, চরমুগুরিয়া, রংপুর রুটের টিকেট পাওয়া যাবে।

;

নোয়াখালীতে উদ্বোধনের একদিন পর বিআরটিসির বাস চলাচল বন্ধ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
বিআরটিসির বাস চলাচল বন্ধ

বিআরটিসির বাস চলাচল বন্ধ

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) দ্বিতল বাস চালুর একদিন পর নোয়াখালীর সোনাপুর-চেয়ারম্যানঘাট সড়কে বন্ধ হয়ে গেছে বাস সার্ভিসটি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) পরিবহন মালিক সংগঠনের বাধার মুখে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) দ্বিতল বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এর আগে, গতকাল বুধবার ওই সড়কে এ বাস সার্ভিস চালু করা হয়।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য বৈঠক ডাকা হয়েছে। বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অপরদিকে, বিআরটিসির বাস বন্ধের প্রতিবাদে শুক্রবার (১ জুলাই) বেলা ১১টায় সুবর্ণচর উপজেলার হারিছ চৌধুরীর বাজার প্রধান সড়কে অবরোধের ডাক দিয়েছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে এই সড়কে মালিক সমিতির কোনো বাস চলতে দেবেন না স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর চেয়ারম্যানঘাট টু সোনাপুর সড়কে স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল বুধবার বিআরটিসির দ্বিতল সার্ভিসটির উদ্বোধন করেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান।

সোনাপুর শহর এলাকা থেকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে এক ঘণ্টা পরপর বাস ছেড়ে যাওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়। সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যানঘাট ভাড়া ধরা হয়েছে ৪০ টাকা,সোনাপুর থেকে আটকপালিয়ার বাজার ২০ টাকা।

;