স্বপ্নের পদ্মা সেতু

বাংলাদেশের সভাপতিত্বকালেই সিভিএফ ন্যায্য কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ)’ বাংলাদেশের সভাপতিত্বকালেই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য একটি যথার্থ কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি এটি প্যারিস চুক্তির অধীনে উন্নত দেশগুলোকে তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করতে চাপ অব্যাহত রাখতে পারবে। আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিমন্ডলে এখন সিভিএফ’র একটি উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য বৈধ কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশের সভাপতিত্বে সিভিএফ এর সদস্যপদ বৃদ্ধিই তার প্রমাণ।’ 

 

বুধবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে বাংলাদেশ থেকে ঘানার কাছে সিভিএফ সভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি দেয়া ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সভাপতিত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায় হবে ঝুঁকিপূর্ণ সমস্যাকে জলবায়ু দুর্বলতা থেকে স্থিতিস্থাপকতা এবং সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করা। বাংলাদেশে আমরা আমাদের ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ তৈরি করছি। আমরা বিশ্বাস করি এটি অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য তাদের নিজস্ব প্রেক্ষাপটে একটি দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারে।’

সিভিএফ সদস্য দেশগুলিতে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মানুষ জলবায়ু জরুরি পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও, আমরা বিশ্বকে আশংকাজনক জলবায়ু সংকট থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে দিতে পারি না। উন্নত দেশগুলোকে প্যারিস চুক্তির অধীনে অর্থায়ন ও প্রযুক্তির বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ঘানার নেতৃত্বে, আমরা সিভিএফ-এর ট্রেডমার্ক নৈতিক শক্তি এবং যুক্তিপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে আমাদের যেসব দাবি পূরণ হয়নি, সেগুলোর জন্য চাপ দিতে থাকব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ঘানার নিকট সিভিএফ প্রেসিডেন্সি হস্তান্তর করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। এই অনুষ্ঠানে তাঁর সদয় উপস্থিতির জন্য আমি রাষ্ট্রপতি নানা আকুফো-আডোকে ধন্যবাদ জানাই। আমি ঘানা’র প্রেসিডেন্সির সার্বিক সাফল্য কামনা করি।’

২০২০ সালে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো সিভিএফ-এর সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেও ফোরামের কাজ পরিচালনা করতে পেরেছি। আমরা স্বস্তি বোধ করি যে, আমরা আমাদের বেশিরভাগ উদ্দেশ্যসহ আরও অনেক কিছু অর্জন করতে পেরেছি। শুরু থেকেই, আমাদের প্রেসিডেন্সি কপ২৬ ফলাফলের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেছিল।’ তিনি বলেন, মহামারী থাকা সত্ত্বেও, আমরা জলবায়ু সংকটের দিকে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি এবং দেশগুলির জন্য তাদের জলবায়ু উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাড়াতে মিডনাইট সারভাইভাল ডেডলাইন চালু করেছি।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ এর মধ্যে তাদের এনডিসি জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। প্রায় ৭০টি দেশ আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। আমরা সিভিএফ-ভি২০ জয়েন্ট মাল্টি-ডোনার ফান্ডও তৈরি করেছি, যাতে সদস্যদের জলবায়ু সংক্রান্ত পদক্ষেপে সহায়তা করা যায়। বাংলাদেশ এবং মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ যাতে সীডমানি প্রদান করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন যে, তারা ২০২১ সালে ক্লাইমেট ভালনারেবলস ফাইন্যান্স সামিট আয়োজন করেছিলেন, যা পরবর্তী পাঁচ বছরে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জলবায়ু অর্থায়নের জন্য একটি ডেলিভারি পরিকল্পনার জন্য চাপ দেয়। তিনি বলেন, ‘আমরা গ্লাসগোতে এটি উপলব্ধি করেছি যে, ঢাকা-গ্লাসগো ঘোষণা প্রকৃতপক্ষে সিভিএফ-এরই মূল দাবি এবং প্রতিশ্রুতির সারসংক্ষেপ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (অনধিক নিঃসরণ) প্রতিশ্রুতি বাঁচিয়ে রাখার এবং বার্ষিক তাদের জলবায়ু উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাড়াতে উচ্চ নির্গমনকারী দেশগুলির প্রতি আমাদের আহ্বান পুণর্ব্যক্ত করেছি। আমরা বর্ধিত অভিযোজন অর্থায়ন এবং ক্ষতি ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংলাপের জন্য প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের মেয়াদে নিযুক্ত সিভিএফ-এর পাঁচজন থিম্যাটিক অ্যাম্বাসেডরের কাজের জন্য তারা গর্বিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানবাধিকারের জন্য ম্যান্ডেট-ধারকের কাছে আমাদের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুতি এবং অভিবাসনের বিষয়ে আমাদের অগ্রগতি বজায় রাখব। সিভিএফ- ভি২০ পার্লামেন্টারি গ্রুপের জলবায়ু কর্মের জন্য জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে সিভিএফ নেতৃত্ব শক্ত হাতে থাকবে প্রেসিডেন্ট আকুফো-আডোর অধীনে এবং ট্রোইকার সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ ঘানাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের প্রাক্তন মহাসচিব প্রয়াত কফি আনানের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে তিনি বাংলাদেশ ও ঘানার মধ্যে সিভিএফের মাধ্যমে এই সংযোগ দেখে খুশি হতেন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের প্রোসিডেন্সি কালিন অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য আমরা সিভিএফ এবং জিসিএ সচিবালয়ের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আমরা ট্রোইকা সদস্য, ইথিওপিয়া এবং মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের আমাদের উপর আস্থা রাখাকে স্বীকার করি। সিভিএফকে পর্যাপ্ত জায়গা দেওয়ার জন্য আমরা কপ২৬ প্রেসিডেন্সির কাছে ঋণী।’

প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সহকর্মী এবং তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু সংসদ সদস্য এবং একাডেমিক বিশেষজ্ঞদের দেওয়া সমর্থনকেও আমি স্বীকার করি। আমি বিশেষভাবে আমার সিভিএফ বিশেষ দূতকে সফল ভাবে কাজ সম্পন্নের জন্যও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ থেকে ঘানার কাছে সিভিএফ এর সভাপতিত্ব হস্তান্তর করেন। ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আদ্দো, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, পরিবেন, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী শার্লি আয়োর্কোর বোচওয়ে, গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন বান-কি মুনও ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

সিভিএফ এর থিমেটিক অ্যাম্বাসেডর ও বাংলাদেশের ন্যাশনাল অ্যাডভাইসরি কমিটি ফর অটিজম অ্যান্ড নিউরোডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডার্স এর চেয়ারপার্সন সাইমা ওয়াজেদ অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও বার্তা প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সিভিএফ প্রায়োরিটিজ বিষয়ক বিশেষ দূত আবুল কালাম আজাদ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে সিভিএফ প্রেসিডেন্সি রিপোর্ট উপস্থাপন করেন।

এ সময় সিভিএফ এর বাংলাদেশের সভাপতিত্ব থাকাকালীন দুই বছর মেয়াদকালের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়।

হেলিকপ্টারযোগে পদ্মা সেতুর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

আর কিছুক্ষণ পরই স্বপ্ন রূপ নিতে যাচ্ছে বাস্তবে। উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের গর্ব ও অহংকার স্বপ্নের পদ্মা সেতু। ইতিমধ্যে পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভাস্থল লোকে লোকারণ্য। স্বপ্নের সেতু উদ্বোধন করতে এরই মধ্যে পদ্মার মাওয়া প্রান্তের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দর থেকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। এসময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন।

সেতুটির জমকালো উদ্বোধন উপলক্ষে বিশেষ করে যোগাযোগের সরাসরি সুবিধা লাভ করবে এমন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোসহ সারাদেশে একটি উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

সকাল ১০টায় মুন্সীগঞ্জের মাওয়া পয়েন্টে পদ্মা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের বৃহত্তম স্ব-অর্থায়নকৃত মেগা প্রকল্পের জমকালো উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির সময়সূচী অনুযায়ী মাওয়া পয়েন্টে সকাল ১১টায় তিনি স্মারক ডাকটিকিট, স্যুভেনির শীট, উদ্বোধনী খাম এবং বিশেষ সিলমোহর উন্মোচন করবেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে ১.২ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত জিডিপি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সকাল ১১টা ১২ মিনিটে মাওয়া পয়েন্টে টোল পরিশোধের পর উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-১ উন্মোচনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে মোনাজাতেও যোগ দেবেন।

তিনি সকাল ১১টা ২৩ মিনিটে মাওয়া পয়েন্ট থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন। প্রধানমন্ত্রী সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে জাজিরা পয়েন্টে পৌঁছে সেতু ও ম্যুরাল-২ এর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন। সেখানে মোনাজাতেও যোগ দেবেন তিনি।

দুপুর ১২টায় মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়িতে সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত দলের জনসভায় যোগ দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বিকেল সাড়ে ৫টায় হেলিকপ্টারে জাজিরা পয়েন্ট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

;

৯ মামলার পলাতক আসামি পিচ্চি রাসেল গ্রেফতার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
৯ মামলার পলাতক আসামি পিচ্চি রাসেল গ্রেফতার

৯ মামলার পলাতক আসামি পিচ্চি রাসেল গ্রেফতার

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালী সদর উপজেলায় ৯ মামলার পলাতক আসামি মো. রাসেল ওরফে পিচ্চি রাসেলকে (২২) আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত রাসেল নোয়াখালী পৌরসভার মাস্টার পাড়া এলাকার পাটোয়ারী বাড়ির মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে একটি দেশিয় তৈরি এলজি বন্দুকসহ পিচ্চি রাসেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিকে আজ নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।

;

খুলছে স্বপ্নের দুয়ার, উৎসবে দেশ!

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার



মানসুরা চামেলী, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু

  • Font increase
  • Font Decrease

আজ দেশে উৎসব। স্বপ্ন জয়ের উৎসব। বাধা পেরিয়ে উত্তাল পদ্মা জয়ের উৎসব। ‘নিজেদের অর্থায়নে করব পদ্মা সেতু’- এই দৃঢ় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উৎসব। দীর্ঘ চ্যালেঞ্জ আর প্রতিকূলতা পেরিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিল জাতি আজ তা বাস্তব; তার জয়োৎসব।

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা; এর পদ্মা বুকে গৌরবের প্রতীক পদ্মা সেতুর দুয়ার খুলে যাবে। এই স্বপ্নের দুয়ার খোলার সঙ্গে সঙ্গে গোটা দেশ মেতে উঠতে উৎসবে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মহেন্দ্রক্ষণকে রাঙাতে ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ আসছে পদ্মার পাড়ে। সেতুর দ্বার উন্মোচনের পর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভার মঞ্চ তৈরি হয়েছে সেতুর আদলেই। প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ হবে সেখানে। ভোর থেকেই সেখানে জড়ো হচ্ছেন মানুষ।


পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে আজকের এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে পুরো দেশ। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দিনে সারা দেশ উৎসব, আনন্দ, উল্লাসে মেতে উঠেছে। বর্ণিল সাজে সেজেছে পুরো দেশ। জেলায় জেলায় সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ নানা আয়োজন করেছেন এই দিনে।

উচ্ছ্বাসে ভাসছেন পদ্মাপারের মানুষ থেকে শুরু করে দক্ষিণের ২১ জেলার মানুষ। পথে-ঘাটে, চায়ের কাপে, আড্ডায়-আলোচনায় সেই আনন্দেরই অনুরণন। চোখেমুখে স্বপ্নপূরণের আলোকছটা। সোশ্যাল মিডিয়ার টাইমলাইন আজকে পদ্মা সেতুতে সয়লাব। পরিবর্তন হচ্ছে কভার ফটো, প্রোফাইল। স্ট্যাটাস ও পোস্ট করে এই গৌরবের সাক্ষী হচ্ছেন সবাই। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে তার সাহসী ও দৃঢ় সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।


পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর বদলে যাবে দেশের অর্থনীতি এমনটাই ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা। এই সুফলের অপেক্ষায় দিন গুণছেন মানুষ। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক হারে শিল্পায়ন হবে এবং লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

কৃষিতে খুলে যাবে ব্যবসার নতুন দ্বার। কৃষকরা সেই রঙিন স্বপ্ন দেখছেন। তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য দ্রুত পরিবহনের ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যাবে।

উন্নয়নের হাওয়া লাগবে গোটা দেশে। প্রতি বছর দারিদ্র্য নিরসন হবে ০ দশমিক ৮৪ ভাগ। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রায় ছয় কোটি মানুষের। 

যোগাযোগ সেক্টরে হবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ঘাটে বসে ভোগান্তির অপেক্ষার দিন শেষ হবে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সারা জীবনের কষ্ট লাঘব হবে এই সেতুর কারণে। তাই তো পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ক্ষণটি তাদের কাছে চির স্মরণীয় এক মুহূর্ত।


 

পর্যটক বৃদ্ধির ফলে বাড়তে থাকবে এ অঞ্চলের জিডিপি। সুন্দরবন ও কুয়াকাটা, কুষ্টিয়ায় লালন শাহের মাজার ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি, গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর সমাধী, মেহেরপুরের মুজিবনগর, বরিশালে নদী পর্যটনসহ বেশ কয়েকটি গন্তব্যে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার বদৌলতে পর্যটক বাড়ার সম্ভাবনা থাকছে।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু নির্মাণে কাজ ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর শুরু করে সরকার। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

;

জিতে গেল বাংলাদেশ

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার



সোহেল মিয়া, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজবাড়ী
পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু

  • Font increase
  • Font Decrease

অপেক্ষার প্রহর শেষ। স্বপ্ন এখন বাস্তব। সমালোচক আর ষড়যন্ত্রকারীদের মুখে ছাঁই ঢেলে দিয়ে নির্মাণ হয়ে গেল পদ্মা সেতু। এই পদ্মা সেতু নির্মাণের পিছনে রয়েছে এক আত্নপ্রত্যায়ী মহিয়সী নারীর দৃঢ় সাহসিকতার গল্প। সেই গল্প যেন রুপকথার মতো। দেখতে দেখতে কেটে গেল কয়েকটি বছর। তারপর অবশেষে গল্প হলো সত্য।

দেশী-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের সমালোচনার মুখে যখন পদ্মা সেতু নির্মাণ অবাস্তব সেই সময়েও নিজের জায়গা থেকে দৃঢ় সাহসিকতা আর মনোবল নিয়ে অটুট ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা। কড়া সমালোচনার মধ্যেই তিনি ঘোষণা দিলেন ‘ নিজস্ব অর্থায়নেই হবে পদ্মা সেতু’। হয়েছেও তাও। সব কিছু পিছনে ফেলে সগৌরবে মাথা উচুঁ করে খরস্রোতা পদ্মার বুকে দাঁড়িয়ে আছে কোটি মানুষের স্বপ্ন। হেরে গিয়েছে ওরা; জিতেছে বাংলাদেশ।

একটি সেতুকে কেন্দ্র করে যত আলোচনা-সমালোচনা হলো পৃথিবীতে অন্য আর কোন সেতু নিয়ে এতো আলোচনা হয়েছে কিনা সন্দেহ আছে। একটি গোষ্ঠি স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের শুরু থেকেই ষড়যন্ত্র আর মিথ্যাচার করে আসছিল। কিন্তু তাদের সেই মিথ্যাচার আজ ধরা পড়েছে। তারা এখন কোটি কোটি বাঙালির কাছে ঘৃণার পাত্র।

ষঢ়যন্ত্রকারীরা বুঝতে পারেনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্নবিশ্বাস পাহাড় সমান। ঠুনকো অভিযোগে শেখ হাসিনাকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। শত বাধা-বিপত্তি আর প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও দৃঢ় সাহসিকতার সাথে নিজেকে অটল রেখেছিলেন পদ্মা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে। সব কিছু ভেদ করে এখন বিজয়ের হাতছানি দিচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। বিশ্বকে জানান দেওয়া হচ্ছে বাঙলির সক্ষমতার কথা। বাঙালি জাতি মাথা নত করার নয় সেটা আবারও পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে প্রমাণ করে দিলেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা।


দুর্নীতি চেষ্টার ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংকের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, রাজনৈতিক মতভেদ, গুজব, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা প্রতিবন্ধকতা জয় করে প্রমত্তা পদ্মার বুকে এখন মাথা উচুঁ করে সগৌরবে দাঁড়িয়ে রয়েছে দেশের ইতিহাসের দীর্ঘতম সেতু। এই সেতুই প্রমাণ করে দেয় বাঙালিরা কখনো হারতে জানেনা। বাঙালিদের ইতিহাস সমৃদ্ধে ভরা গৌরবের ইতিহাস। বাঙালি ও বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে নতুন এক সফল সংগ্রামের নাম।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের দীর্ঘ এই পদ্মা সেতু নির্মাণ করে শেখ হাসিনা বিশ্বকে জানিয়ে দিলেন আমাদের সক্ষতার কথা। এই সেতুর উদ্বোধনের মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে এখন দেশে চলছে আনন্দের বন্যা। দেশ জুড়ে চলছে উৎসব। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হচ্ছে খুবই জমকালো। সারা দেশের মানুষ যাতে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখতে পারেন সেজন্য দেশের প্রতিটি জেলায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রিয় শিক্ষার্থীদেরও দেখানো হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সারা বিশ্বের আজ চোখ থাকবে বাংলাদেশে। তারা দেখবে বাংলাদেশের নতুন জয়ের জমকালো চোখ ধাঁধাঁনো মহাযজ্ঞ।

;