পুলিশ ক্যাম্প বসানো হবে পাহাড়ে প্রত্যাহারকৃত সেনাক্যাম্পগুলোতে



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাঙামাটি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি

  • Font increase
  • Font Decrease

পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় যে বাহিনী প্রয়োজন সে বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনতে র‌্যাবসহ আরো বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হবে। তিনি বলেন আমাদের পুলিশ অনেক সক্ষম পুলিশ এখন যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।

পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রত্যাহারকৃত সেনা ক্যাম্পগুলোতে আর্মড পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে এমন মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার আগে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় পুলিশের এপিবিএন হেডকোয়ার্টার স্থাপন করা হবে।পরবর্তীতে প্রত্যাহারকৃত সেনা ক্যাম্পগুলোতে এপিবিএন পুলিশের ক্যাম্প সম্প্রসারণের কাজ শুরু হবে।

পার্বত্য অঞ্চলের সন্ত্রাসীদের প্রতি ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা জলদুস্য ও চরমপন্থী মুক্ত করেছি, সেই জায়গায় এখানেও আমরা শান্তিশৃঙ্খলা সবার প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত করব, যেখানে যা প্রয়োজন হয় তা করা হবে, সরকার পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধ পরিকর বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বুধবার রাতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে তিন পার্বত্য জেলার আইন শৃংখলা সংক্রান্ত বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।রাত পৌনে ৮টার দিকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর ঊশৈসিং এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় সন্তু লারমা, খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি, খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য বাসন্তি চাকমা, মন্ত্রী পরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজির আহমেদ, র‌্যাবের মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ মামুন, ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানগণ, তিন পার্বত্য জেলা প্রশাসকগণসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তিন পার্বত্য জেলার প্রতিনিধি, সেনা, পুলিশ, বিজিবিরঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত উক্ত বিশেষ বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আরো বলেন, পাহাড়ে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে আমি ২ বছর আগে রাঙামাটিতে এসে হেডম্যান, কার্বারী, জনপ্রতিনিধি ও তিন পার্বত্য জেলার রাজা উনাদের নিয়ে আলাপ আলোচনা করেছি তাদের একটা অনুরোধ ছিলো এই এলাকার শান্তির জন্য, তারা নানান ধরণের সাজেশন দিয়েছিলেন, তাদের ভয়ংকর পরিস্থিতির কথা বলছিলেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী এবং দল উপদলের মারামারি কথা বলছিলেন। আমরা আজকে ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছি, তিন জেলায় তিনটি আর্মস পুলিশ ব্যাটালিয়ন আসবে, যার সদর দপ্তর হবে রাঙামাটি। এই তিন ব্যাটালিয়নের পুলিশ সদস্যরা ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত ক্যাম্পগুলোতে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবে। আপাতত আমরা ৩০টি অস্থায়ী ক্যাম্পে পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রথমধাপে তিনটি ক্যাম্প বসানো হবে, বৃহস্পতিবার এর ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হবে।

এর আগে রাঙামাটি সার্কিট হাউজে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেএসএস সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় সন্তু লারমার সাথে একান্ত বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন বৃহস্পতিবার



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন বৃহস্পতিবার

প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন বৃহস্পতিবার

  • Font increase
  • Font Decrease

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নতুন ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) এটির আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন। মঙ্গলবার ( ৫ জুলাই) বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন এই ভবন পরিদর্শনের সময় ভবনটি নির্মাণকাজের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনির্মিত ৮ তলা ভবন সম্পন্ন হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর, উইং ও  অন্যান্য শাখার জন্য স্থানসংকুলানের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ হবে এবং আধুনিক সুবিধাবিশিষ্ট কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে।

সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি ধন্যবাদ জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন ভবনটির নির্মাণ কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজের অগ্রগতি দেখতে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার আকস্মিক পরিদর্শন করেন এবং যথাসময়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্নের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন।

মঙ্গলবার ভবনটি পরিদর্শনের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (সাধারণ সেবা) মোহাম্মদ হজরত আলী খান, মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডি এম সালাহ উদ্দিন মাহমুদ এবং অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

;

ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন পাবে না



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন পাবে না

ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন পাবে না

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) জানিয়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কোনো মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন পাবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শীতাংশু শেখর বিশ্বাস।

মঙ্গলবার (৫ জুন) তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শেখর বিশ্বাস বলেন, 'মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়ার সময় গ্রাহকের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ১৪ জুনের এক বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।'

তিনি আরও বলেন, 'চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকার বিষয়টি রেজিস্টারিং অথরিটির নিশ্চিত করতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কোনো মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাবে না।'

এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

;

টাঙ্গাইলে ভিজিএফ’র চালে বড় বড় পাথর, ক্ষুব্ধ উপকারভোগীরা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলে ভিজিএফ’র চালে বড় বড় পাথর, ক্ষুব্ধ উপকারভোগীরা

টাঙ্গাইলে ভিজিএফ’র চালে বড় বড় পাথর, ক্ষুব্ধ উপকারভোগীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে হতদরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা দশ কেজি চালে বড় বড় পাথর পাওয়া গেছে। এতে চাল নিতে আসা উপকাভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) ভূঞাপুর পৌরসভায় ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণের সময় বেশ কিছু বস্তাতে পাথর পাওয়া যায়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে পাথরযুক্ত চালের বস্তাগুলো পরিবর্তনের আশ্বাস দেয়া হয়। এছাড়াও পোকা, দুর্গন্ধ ও নিম্নমানের চাল বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভূঞাপুর উপজেলা গোডাউন কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আব্দুল হালিম জানান, চালে পাথর পাওয়ার পরই বস্তাগুলো পরিবর্তনের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে চালে এমন পাথর থাকতেই পারে। চাল যে চাতালগুলোতে শুকানো হয়, চাতালের পাথরগুলোই উঠে চালে মিশেছে।

ভূঞাপুর উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক কাজী হামিদুল হক বলেন, হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওয়তায় ৬টি ইউনিয়নে ১০২ মেট্রিকটন এবং পৌরসভায় ৩০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই চালের বস্তাগুলো গত বছর গোডাউনে মজুদ করা হয়েছিল। এই মৌসুমটায় চালে পোকা ধরে। পোকা দমনে ওষুধ দেয়া হচ্ছে। 

মঙ্গলবার পৌরসভায় চালগুলো বিতরণের সময় বেশ কিছু বস্তাতে পাথর পাওয়া গেছে। সেগুলো পরিবর্তন করে দেয়া হবে।

ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ জানান, চাল বিতরণের সময় বেশ কিছু বস্তাতে পাথর পাওয়া যায়। পরে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। বস্তাগুলো পরিবর্তন করে দেয়ার কথা জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইশরাত জাহান জানান, পাথরযুক্ত চালের বস্তাগুলোতে পরিবর্তন করে দেয়ার জন্য খাদ্য পরিদর্শককে জানানো হয়েছে। কেন চালে পাথর পাওয়া গেলে সেটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

;

ইভিএম জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে: সুজন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ইভিএম জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে: সুজন

ইভিএম জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে: সুজন

  • Font increase
  • Font Decrease

ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনকে (ইভিএম) নিকৃষ্ট যন্ত্র আখ্যা দিয়ে জাতীয় নির্বাচনে এটি ব্যবহারের কোনো যৌক্তিকতা দেখছে না সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন।

সেই সঙ্গে সংগঠনটির সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারকুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন।

মঙ্গলবার (৫ জুন) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তথ্যের বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে সুজন। সংবাদ সম্মেলনে ইভিএম নিয়ে সুজনের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।

সুজন সম্পাদক বলেন, ২০১২ সালে কুমিল্লা নির্বাচনে ব্যবহৃত বায়োমেট্রিক ইভিএমে ভোট পড়েছিল প্রায় ৭৫ শতাংশ, ২০১৭ সালে পেপার ব্যালটে ভোট পড়েছিল ৬৪ শতাংশ। এবারে সেখানে ভোট পড়েছে ৫৯ শতাংশ। ইভিএমে ভোট দিতে গিয়ে, বায়োমেট্রিক ছাপ না মেলায় অনেকে বিরক্ত হয়ে চলে গেছে। এখানে ইভিএম মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। ইভিএম যদি মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে, সেই ইভিএম ব্যবহারের যৌক্তিকতা কী?

গত কয়েকটি নির্বাচনে ইভিএম দিয়ে ভোট পড়ার হার তুলনা করেছে সুজন। তাতে দেখা যাচ্ছে ইভিএমে তুলনামূলকভাবে কম ভোট পড়ছে।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন,গত জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহৃত হয়েছিল ৬টি আসনে আর ২৯৪টি আসনে নির্বাচন হয়েছিল পেপার ব্যালটে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ২৯৪ আসনে যেখানে পেপারব্যালটে ভোট হয়েছে, সেখানে ভোট পড়েছে ৮১ শতাংশ। অন্যদিকে যে ৬টি আসনে ইভিএমে ভোট হয়েছে সেখানে ভোট পড়েছিল ৫১ শতাংশ। অর্থাৎ ৩০ শতাংশ পার্থক্য। এর মানে যেখানে পেপার ব্যালটে ভোট হয়েছে সেখানে কারসাজি করা হয়েছে, না হয় যেখানে ইভিএমে ভোট হয়েছে, সেখানে মানুষকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বদিউল আলম মজুমদারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সুজন-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য রোবায়েত ফেরদৌস এবং সুজন জাতীয় কমিটির সদস্য একরাম হোসেন। লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন সুজন-এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

কুমিল্লা নির্বাচন সম্পর্কে সুজন-এর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, এই নির্বাচনে মূল আলোচিত ঘটনা ছিল কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি। তিনি এলাকা ছাড়ার ব্যাপারে ইসির নির্দেশ অমান্য করা সত্ত্বেও বিধিমালার ৩১ ও ৩২ ধারা অনুযায়ী শাস্তির বিধান প্রয়োগ না করায় কমিশন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। পরবর্তীতে কমিশন থেকে বলা হয় বাহাউদ্দিনকে এলাকা ছাড়ার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি কমিশনের মর্যাদাও ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে আমরা মনে করি।

তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি নির্বাচন কমিশনের ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা না ফিরলে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন কখনই সম্ভব নয়। তাই, নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা ফেরানোর প্রয়োজনেই কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যথাযথ তদন্ত পূর্বক এ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনকে তাদের স্বচ্ছতা প্রমাণ করতে হবে।

রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, কুমিল্লা নির্বাচন ছিল এই কমিশনের প্রথম পরীক্ষা। প্রথম পরীক্ষাতেই তারা অনেকগুলো প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ইভিএমে প্রিন্টআউট না থাকার কারণে পুনঃগণনার সুযোগ নেই। যারা ইভিএমে ভোট দিতে না পেরে ফেরত যান, তাদের জন্য বিকল্প ভোটের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। সরকারি লোকজন যদি সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে পদত্যাগ করার সাহস ও দৃঢ়তা দেখাতে হবে। কমিশন এই দৃঢ়তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।

;