বেগম জিয়াকে কারাগারে ফেরত পাঠানোর দাবি ওঠেছে: তথ্যমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপিসহ যারা পদ্মা সেতু চায়নি, তাদের সমস্ত অপতৎপরতার পর যখন পদ্মা সেতু হয়েছে তখন লজ্জায় তাদের মুখে চুনকালি পড়েছে।

রোববার (২৯ মে) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

‘সমগ্র দেশের মানুষ আজকে উচ্ছ্বসিত, পদ্মা সেতু কখন উদ্বোধন হবে সেজন্য উদ্বেলিত এবং এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ দিলে সেতুর ৬ কিলোমিটার মানুষে ভর্তি হয়ে যাবে’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মুখে চুনকালি পড়ায় বিএনপি মানুষের এই উচ্ছ্বাস যাতে না থাকে সেজন্য দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়। মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিতে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, সুপ্রিম কোর্টের সামনে সন্ত্রাস করছে, বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশের নামে সন্ত্রাস, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। জনগণকে সাথে নিয়ে এই ধরণের বিশৃঙ্খলা, অগ্নিসন্ত্রাস, নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা কঠোর হস্তে প্রতিহত করা হবে।

ড. হাছান বলেন, দেশে বিএনপির নেতৃত্বে বিশৃঙ্খলা অগ্নিসন্ত্রাস, নৈরাজ্যের মতো ঘটনা ঘটলে তার দায় তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর তো বটেই, বেগম জিয়ার ওপরও বর্তায় এবং সেজন্যই প্রশ্ন এসেছে, বেগম জিয়াকে এভাবে বাইরে রাখার প্রয়োজন আছে কি না, তাকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানোর দাবি ওঠেছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ছাত্রদল নেতারা ছাত্রদের বাবার বয়সী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি ছাত্রদল-ছাত্রলীগ মুখোমুখি হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ছাত্রদলের উসকানিতেই এ ধরণের ঘটনা। তারা যখন বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে চায়, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্ররা বাধা দেবে এটা খুবই স্বাভাবিক। ছাত্রদল যারা করে তাদের বয়স কতো একটু ভাবেন। যারা ছাত্রদলের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি ওরা কি ছাত্র! বয়স ৪০ এর কোঠায়, ওরা তো ছাত্রের বাবা। সুতরাং ছাত্রদের বাবা স্থানীয় যারা ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের পক্ষ থেকে উসকানি এসেছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের ‘পদ্মা সেতুতে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে’ মন্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে যারা দেশকে পরপর পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিলো স্বাভাবিকভাবেই তারা এসমস্ত কথা বলবে। প্রতিবছর দু’কূল ভাঙা খরস্রোতা পদ্মা নদী এতো বিশাল যে, কোনো কোনো জায়গায় এর প্রস্থ ১৪ কিলোমিটারেরও বেশি। যেখানে পদ্মা সেতু করা হয়েছে সেখানে প্রস্থ অন্য জায়গার চেয়ে কম। এরকম বিশাল খরস্রোতা নদীতে সেতু করা দুরূহ কাজ। এবং এটি নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছে, নিজস্ব অর্থায়নে করতে কয়েক বছর সময় নষ্ট হওয়ায় ব্যয় বেড়েছে। এরপরও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যার কারণে সাশ্রয়ী ব্যয়ে সেতু হয়েছে।

ঢাকায় নির্মাণাধীন মেট্রোরেলে বেশি স্টেশন -বিএনপি মহাসচিবের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেব করোনাভাইরাসের প্রকোপ যখন বেশি ছিলো তখন ডাক্তারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন, এখন দেখা যাচ্ছে তিনি ইঞ্জিনিয়ারও হয়ে গেছেন। আমি প্যারিস, লন্ডন, ব্রাসেলসসহ বহু দেশের মেট্রোতে চড়েছি, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে এক কিলোমিটারের কম দূরত্বেও স্টেশন আছে। সেসব শহরের তুলনায় ঢাকায় মানুষের ঘনত্ব অনেক বেশি, যানজটও তুলনামূলকভাবে বেশি। সুতরাং এখানে ঘনঘন মেট্রোরেলের স্টেশন হওয়াই যৌক্তিক। তবে যেটি পরিকল্পনা করা হয়েছে সেটি কোনভাবেই প্যারিস, লন্ডনের তুলনায় বেশি ঘন নয়।

শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল, প্রাণহানি ২

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২ হাজার ১০১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৪ জনে। 

সোমবার (২৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মোট মারা যাওয়ার সংখ্যা বেড়ে ২৯ হাজার ১৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। মারা যাওয়া দুই জনই ঢাকার বাসিন্দা। এর মধ্যে একজন নারী, একজন পুরুষ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ৮২০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ২০ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৭৯ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৬ হাজার ৮৬৭ জন।

দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত (কোভিড-১৯) প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ২০১৯ সালের ৮ মার্চ। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

;

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ বাঁচাতে পারে দৃষ্টিশক্তি



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অন্ধত্ব এড়াতে এবং প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করতে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বেশি মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তারা ডায়াবেটিস এবং ব্যক্তি, পরিবার ও জাতীয় অর্থনীতিতে এ রোগের সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পরামর্শ দেন এবং বলেন, বাংলাদেশ যে স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে তুলেছে সচেতনতা ছাড়া তা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দিবে না।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে “সমন্বিত ডায়াবেটিস মেলিটাস ও ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি সেবা: যাদের কাছে পৌঁছানো যায়নি, তাদের কাছে যাওয়া” শীর্ষক নীতিগত সংলাপে তারা এ পরামর্শ দেন।

বিএমসি হেলথ সার্ভিসেস’র বিভিন্ন গবেষণা প্রকাশনার উদ্ধৃতি দিয়ে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বিএডিএএস) অধীনে পরিচালিত সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথ রিসার্চের প্রকল্প পরিচালক ড. বিশ্বজিৎ ভৌমিক বলেন, “সামগ্রিকভাবে, একজনের ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা গেলে বছরে ২৯৭ মার্কিন ডলার সাশ্রয় হতে পারে “

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিকিৎসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ এইচ এম এনায়েত হোসেন বলেন, যেসব মানুষের কাছে এখনো পৌঁছেনো যাযনি তাদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত বাধাসহ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তিনি চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখে স্বাস্থ্য কর্মসূচি গ্রহণের পরামর্শ দেন যাতে সেগুলো আরও কার্যকর হয় এবং কাঙ্খিত ফল পাওয়া যায়। অধ্যাপক এনায়েত ডায়াবেটিসকে আরও ভালোভাবে মোকাবেলার জন্য স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে ডায়াবেটিসকে অন্তর্ভূক্ত করার ওপর জোর দেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক সংস্থা অরবিস ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ এ সংলাপের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলেন, রোগ প্রতিরোধে যথাযথ মনোযোগ দিতে পারলে বাংলাদেশ বিশ্বে স্বাস্থ্যসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

বাংলাদেশ স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর উন্নয়নে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে – একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবকাঠামোর পূর্ণ ব্যবহারে তৃণমূলের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে যাওয়ার জন্য চিকিৎসক সম্প্রদায়কে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আজাদ বলেন, “চিকিৎসকরা অভিযোগ করেন যে, মানুষ সেবা গ্রহণ করতে আসে না। এটা সত্য নয়। সমস্যা হলো আমরা (চিকিৎসকরা) জানি না কোন ভাষা ব্যবহার করলে তারা সেবা পেতে অনুপ্রাণিত হবে।”

অরবিস ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ সংলাপে সঞ্চালনা করেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিডিসি’র লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক রোবেদ আমিন এবং সিবিএইচসি’র লাইন ডিরেক্টর ডা. মাসুদ রেজা কবির, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিকেল অফিসার (এনসিডি) সাধনা ভাগবত, অরবিস ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম, ময়মনসিংহ ডা. কে জামান বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সমন্বয়ক সাইফুজ্জামান পরাগ এবং বাংলাদেশ পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক শিয়াবুর রহমান শিহাব। এছাড়াও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. মুনির আরও কার্যকর উপায়ে ডায়াবেটিস মোকাবিলায় অসংক্রামক রোগের সেবাগুলোর মধ্যে ডায়াবেটিস মেলিটাস এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি সেবাগুলোকে অন্তর্ভূক্ত করার পরামর্শ দেন।

অধ্যাপক রোবেদ আমিন আরও ভালোভাবে সেবা দিতে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। বেসরকারী সংস্থাগুলের উদ্দেশে তিনি বলেন, "আমাদেরকে ভুল বুঝবেন না যে আমরা আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে যাচ্ছি। একটি সমন্বিত উপায়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে আমরা আপনাদের প্রচেষ্টায় সাহায্য করতে চাই।”

;

সিরাজগঞ্জে কৃষক হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে কৃষক হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জে কৃষক হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন

  • Font increase
  • Font Decrease

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় কৃষক জেলহক মণ্ডল হত্যা মামলায় ৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক বেগম সালমা খাতুন সোমবার দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন।

সোমবার (২৭ জুন) বিকালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের অতিরিক্ত পিপি ওয়াছ করোনী লকেট ও এপিপি শামসুল আলম এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জেলার কাজীপুর উপজেলার মাজনাবাড়ি গ্রামের মোকসেদ আলীর ছেলে আব্দুস সাত্তার, মকবুল সরকারের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার, গেন্দা মণ্ডলের ছেলে শফিকুল ইসলাম, শালগ্রামের হযরত মণ্ডলের ছেলে সুরুত আলী, জয়েন উদ্দিনের ছেলে হায়দার আলী, মোকসেদ আলীর ছেলে আমজাদ হোসেন ও জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি এলাকার আবুল সরকারের ছেলে মনির হোসেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার, আব্দুল মান্নান ও শফিকুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। বাকি ২৭ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, কাজীপুর উপজেলার মাজনাবাড়ি গ্রামের জেলহক মণ্ডলের সাথে একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল।

১৯৯৬ সালের ১৭ মার্চ বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান কাটতে যায় আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার ও তার লোকজন। ধানকাটার সংবাদ পেয়ে জেলহকের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে রাজ্জাক মাস্টারের লোকজন দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোটা নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়।

হামলায় জেলহক মণ্ডল ঘটনাস্থলে নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আব্দুর রহিম ৩৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ৩৫ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আদালত আজ এ রায় প্রদান করেন।

;

হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের বিক্ষোভ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের বিক্ষোভ

ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের বিক্ষোভ

  • Font increase
  • Font Decrease

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ব্যবস্থাপত্রের ছবি তোলার অপরাধে ওষুধ কোম্পানির কয়েকজন প্রতিনিধির কোমরে রশি দিয়ে তাদের বেঁধে রাখার ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে সোমবার ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা বিক্ষোভ-মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।

রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে সোমবার (২৭ জুন) সকাল ১০টার দিকে এই সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশ চলে বেলা ১১টা পর্যন্ত। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন। বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যাসোসিয়েশনের (ফারিয়া) রাজশাহী জেলা ও মহানগর শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর কমিটির আহ্বায়ক নাজমুল সাকিব। এতে শতাধিক মেডিকেল প্রোমোটিং এক্সিকিউটিভ (এমপিই) অংশগ্রহণ করেন।

বক্তব্য রাখেন- ফারিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, নির্বাহী সভাপতি শফিউর রহমান শফি, ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল খান, ওরিয়ন ফার্মার প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। তাঁরা বলেন, দেশে চাহিদার ৯৮ শতাংশ ওষুধের যোগান দেয় দেশীয় ওষুধ কোম্পানি। এখানে ২৫ হাজার কোটি টাকার বাজার। ওষুধখাত বিপুল পরিমাণ রাজস্ব দেয়। তা দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন হয়। কিন্তু রামেক হাসপাতালের পরিচালক প্রজাতন্ত্রের গোলাম হয়ে মালিকের কোমরে রশি বেঁধেছেন। তিনি সব ওষুধ কোম্পানিকে অপমান করেছেন। দেশের ১৫ লাখ এমপিইকে বেঁধেছেন।

এখন থেকে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দেখে লাঠি নিয়ে তেড়ে এলে সেই লাঠি ভেঙে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, ওষুধ কোম্পানির তিন প্রতিনিধিকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখার ঘটনায় রামেক হাসপাতালের পরিচালককে ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে প্রথমে রাজশাহীতে এবং পরে সারাদেশে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। তখন চিকিৎসা কীভাবে চলে তাঁরা সেটি দেখবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাঁরাই এসে ক্ষমা চাইবে। ভুল ওরা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ইন্টার্নি ডাক্তারদের প্যাড, খাতা-কলম বা এ ধরনের গিফট-টিফট দেয়। এর বিনিময়ে তাঁরা তাঁদের কোম্পানির ওষুধ লিখতে চাপ দেয়। তাই কেউ কেউ সরকারি সাপ্লাই থাকা স্বত্ত্বেও ওই কোম্পানির ওষুধ লেখে। দামি এসব ওষুধ কিনতে গরীব রোগীদের খুব কষ্ট হয়। কোম্পানির প্রতিনিধিরা আবার হাসপাতালে এসে দেখে ডাক্তার কোন ওষুধ লিখছেন। তাঁরা রোগীকে আটকে প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলেন। এমনভাবে তাঁরা দাঁড়ান কোন রোগীর পাশ কাটিয়ে যাওয়ার উপায় নেই।’

পরিচালক বলেন, ‘এই সমস্যাগুলো আমরা জানি। সিসি ক্যামেরায় সবই দেখতে পাই। নতুন ওষুধ সম্পর্কে জানার জন্য ডাক্তারদেরও কোম্পানির প্রতিনিধিদের দরকার। সে জন্য আমরা সপ্তাহে দুইদিন সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। কিন্তু ওরা আসে সবদিন, সবসময়। ওই ছবি তোলার একই কাজ করে। আমি চিঠি দিয়ে তাঁদের সতর্ক করেছি। ওদের বড় অফিসাররা বলেছিলেন এ রকম হবে না। কিন্তু লাভ হয়নি। ওরাও ছবি তোলার জন্য চাপ দেন।’

তবে রশি দিয়ে বাঁধা ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় আমি রেগে গিয়ে আনসারদের বলি- এই ওদের ধরো, বাধো। এ রকম। অতি উৎসাহী দু’একজন আবার এই কাজটা করে ফেলেছে। এটা ঠিক হয়নি।’

উল্লেখ্য, রোগীদের আটকে ব্যবস্থাপত্রের ছবি তোলার কারণে রোববার সকালে ওষুধ কোম্পানির তিন প্রতিনিধিকে একসঙ্গে রশি দিয়ে বেধে রাখার ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের আনসার সদস্যরা এই কাণ্ড ঘটান। কিছুক্ষণ পর মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

;